Featured post

About Me

About Dr Sadequel Islam Talukder

Dr. Sadequel Islam Talukder

MBBS, M Phil (Pathology) from Dhaka University

Senior Consultant, Pathology and head, Department of Hospital Clinical Pathology, Community Based Medical College Hospital, Winnerpara, Mymensingh

Ex-Head, Department of Pathology, Mymensingh Medical College

Expert in:

  • Teaching Pathology
  • Practicing Pathology (histopathology and Cytopathology
  • Medical Journal Editing
  • Website development and mainanance
  • Digital Marketing

Jibito Uddhar

Mohilake Jibito Uddhar

মহিলাকে জীবিত উদ্ধার

(স্মৃতি কথা)

ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলাম লঞ্চে ১৯৮৮ সনে। রাতের খাবার খেয়ে ডেকে বিছানার চাদর বিছিয়ে ব্রিফকেস মাথায় দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গভীর রাতে যাত্রীদের কোলাহল শুনে ঘুম ভেঙে গেলে চমকে গেলাম। তখন মাঝে মাঝে লঞ্চে ডাকাতি হতো যাত্রীদের মাথায় হাতুড়ি পেটা করে। সেই ইঞ্জুরির চিকিৎসা চরামদ্দিতে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আমিই করেছিলাম। কি ভয়াবহ সেই হাতুড়ির আঘাত! তাই, ডাকাতির কথা মনে হলেই আমি আঁতকে উঠতাম। উঠে দাঁড়ালাম। না, এটা ডাকাতের ঘটনা নয়। দেখলাম সবাই লঞ্চের ডান কিনারে জড়ো হয়ে নদীর পানিতে কী যেনো দেখছে। আমিও দেখতে গেলাম। দেখলাম কেউ একজন শ্রোতোশ্বনি নদীর পানিতে ভেসে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে হাত উচু করে দেখাচ্ছে। দেখতে দেখতে সব যাত্রী যখন লঞ্চের ডান কিনারে জড়ো হলো লঞ্চ কাত হয়ে পানি প্রবেশের উপক্রম হলো। আমরা দৌড়ে এক যোগে বাম কিনারে চলে গেলাম। লঞ্চ বাম দিকে কাত হলো। ভয়ে দৌড়ে ডান কিনারে চলে গেলাম। এভাবে ডান-বাম খেলা চলো কয়েকবার। এবার মানুষটাকে লঞ্চের খালাসিরা নদী বক্ষ থেকে উঠাতে সমর্থ হলো। রাখা হলো ডেকের মাঝখানে। সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো। আমিও পেছন থেকে উকি দিয়ে দেখবার চেষ্টা করলাম। এক নজর দেখেই চোখ নত করে চলে এলাম। দেখলাম উদ্ধারকৃত মানুষটি একজন মধ্য বয়সি মহিলা, একজনে গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। মহিলা মৃত মানুষের মতো পড়েছিলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জীবন মরণ চেষ্টা করে বেচে ওঠা মানুষ উদ্ধার হবার পর এভাবেই সাধারণত অবসাদগ্রস্ত হয়ে নিস্তেজ পড়ে থাকে। সবাই যার যার বিছানায় ফিরে এসে নৌকাডুবি নিয়ে নানান কাহিনী বলতে লাগলো। শুনলাম মহিলা সুস্থ আছেন। এখান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার উজানে তারা নৌকাডুবির কবলে পড়েন। তারা এক নৌকা ভর্তি করে আটরশির পীরের খানেকায়ে যাচ্ছিলেন। সেই নৌকা পদ্মা নদী বক্ষে ডুবে যায়। শ্রোতের টানে মহিলা ভাসতে ভাসতে এপর্যন্ত এসে পড়েছেন। হালকা সাতার কেটে তিনি পানির উপর ভেসে থাকেন। পাহাড়ি মানুষ হলেও আমি সাতার কাটতে জানি। যেভাবে লঞ্চ একবার ডান দিকে এবং বাম দিকে কাত হচ্ছিলো, যদি লঞ্চডুবি হতো আমাকেও হয়তো এভাবে ভেসে সাতার কেটে বরিশালের দিকেই যেতে হতো।

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ময়মনসিংহ

৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রি.

#momoryofsadequel#charamoddisadequel

Bag Niye Nadite Jhap

Bag Niye Nadite Jhap

ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে নদীতে ঝাপ দিলো

(স্মৃতি কথা)

ঢাকা থেকে বরিশাল ফিরছিলাম লঞ্চে কর্মস্থল চরামদ্দি ইউনিয়ন হেলথ সাব-সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। প্রতিমাসেই একবার এভাবে লঞ্চে রাতে যাতায়াত করতে হতো বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল ১৯৮৮-৮৯ সনে। সরকারি বেতন মাসে ছিলো ১৮৫০ টাকা। লঞ্চের কেবিন ভাড়া ছিলো ৬০০ টাকা। তাই, সবসময় কেবিনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বেশি সময় লঞ্চের ডেকে শুয়ে যাতায়াত করতাম। ব্রীফকেসে একটা লুঙ্গি ও একটা তোয়ালে রাখতাম। বিকাল ৬ টা বা ৭টায় লঞ্চ ছাড়তো এদিকে ঢাকার সদরঘাট থেকে, ওদিকে বরিশাল সদরঘাট থেকে। সবাই একটা করে সিংগেল বিছানার চাদর সাথে রাখতো। এই চাদরে যতটুকু জায়গা দখল করা যায় ততটুকু জায়গা যাত্রীর অধীন ছিলো। ভাড়া ছিলো ৩০ টাকা। আমি ৩০ টাকার টিকিট কিনতাম। বরিশালের মানুষ আমাকে চিনত না। তাই, অতি সাধারণ ভাবে চলাফেরা করতে আমার লজ্জাবোধ হতো না। লঞ্চের হোটেলে ইলিশের ডিম দিয়ে পেট ভরে ভাত খেয়ে রাত আটটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তাম লুঙ্গি পরে, বিছার চাদর বিছিয়ে ব্রিফকেসের উপর মাথা রেখে। ব্রিফকেসের উপর তাওয়েল বিছাতাম। লঞ্চের ইঞ্জিনের শব্দে ভালো ঘুম হতো। ছেলে বা মেয়ে আগে উঠলে আগে যে যেখানে জায়গা পেতো সেখানেই চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করতো। পরিচয় যাতে কেউ জানতে না পারে সেজন্য সহযাত্রীদের সাথে তেমন আলাপ করতাম না। ব্রিফকেসের উপরের ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার লেখা নেইম কার্ডটি উল্টিয়ে রাখতাম। যখন বাসে যাতায়াত করতাম তখন নেইম কার্ডটি সোজা করে রাখতাম। কারন, ডাক্তার পরিচয় পেলে সহযাত্রীরা সম্মান করে ৩/৪ ইঞ্চি জায়গা ফাঁক করে দিতো। নিজের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য আমি নিজেই সহযাত্রীকে জিজ্ঞেস করতাম “ভাই, কি করেন?” সহযাত্রী উত্তর দিয়ে কিছুক্ষণ আলাপ করে উল্টো আমাকে জিজ্ঞেস করতেন “ভাই, আপনি কি করেন?” আমি ডাক্তার পরিচয় দিলে একটু নড়ে চড়ে বসে ৩/৪ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দিতো। আমি কাছে এসে বসুন বললে আরও বেশি করে জায়গা ছেড়ে দিতো।

যাহোক, লঞ্চের কথায় আসি। মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত একটা নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে বিছানা পারতো। ঐ এলাকাটার চারিদিকে চাদর ঝুলিয়ে পর্দা করে দিতো। তারা ঘুমাতো কিনা জানি না। যতক্ষণ আমি চেতন থাকতাম তাদেরকে গল্পসল্প, হৈহল্লা করে কাটাতে শুনতাম। এদের সংখ্যা সাধারণত ১২/১৪ জন হতো। এমনি এক লঞ্চ জার্নির সময় আমার শিতানের দিকে শুয়েছিলেন এক ভদ্রমহিলা ও তার পাশের জায়গায় শুয়েছিলো এক যুবক ছেলে। গভীর রাতে হঠাৎ সেই যুবক ভদ্রমহিলার ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে মাঝ নদীতে ঝাপ দিলো। যাত্রীদের কোলাহল শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। লঞ্চ থামতে থামতে ছেলেটি অনেক দূরে পড়ে গেলো। লঞ্চ ছেলেটিকে ধরার জন্য পেছাতে লাগলো। ততক্ষণে ছেলেটি নদীর কিনারে কাঁশবনে উঠে পড়লো। ওখানে আগে থেকেই তার সহকর্মীরা তাকে রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করছিলো। তারা ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে কাঁশবনে হারিয়ে গেলো। আমার ব্রিফকেস কেউ ছিন্তাই করতে পারেনি। কারন, ওটা থাকতো আমার মাথার নিচে। নিলেও সমস্যা ছিলো না। টাকা রাখতাম আন্ডারওয়্যারের নিচের পকেটে।

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ময়মনসিংহ

১ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রি.

#memoryofsadequel #charamoddisadequel

এমন গল্প আরও পড়তে হ্যাস্ট্যাগ শব্দে ক্লিক করুন।

charamoddi Jogdan

First Posting Charamaddi Jogdan

প্রথম কর্মস্থলে যোগদান

সময়টা ১৯৮৮ সালের ২ জুলাই।  পোস্টিং অর্ডার হাতে পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথ কী হবে তার খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। এ ব্যাপারে সুলতান নামে আমার এক আত্মীয় তার সহকর্মীদের সাথে আলাপ করে একটা রোড ম্যাপ করে দিল। সে ওখানে চাকরি করত। 

বাসে করে সাতক্ষীরায় তার বাসায় গেলাম। রাতের খাবার খেয়ে সেখান থেকে হুলার হাট গেলাম। একা জার্নি, খুব খারাপ লাখছিল। হুলার হাটে সস্তা একটা হোটেলে রাত্রি যাপন করলাম। 

বাথরুমের অবস্থা ভাল না থাকায় পায়খানার কাজে ওটা ব্যাবহার করলাম না। পায়খানার বেগ নিয়েই ভোর ৫ টায় রিক্সা নিয়ে লঞ্চ ঘাটের দিকে রওনা দিলাম। 

ছিনতাই হবার ভয়ে ভীত ছিলাম। ঘাটে গিয়ে বসলাম। একজন দুইজন করে যাত্রী এসে বসতে লাগল। 

আমি জীবনে তখনো লঞ্চ দেখিনি। আজ  প্রথম লঞ্চ দেখার অভিজ্ঞতা হবে। বাসের মত কি আগে টিকিট করতে হবে? না উঠে টিকিট করতে হবে? এনিয়ে ছিল নানা দুশ্চিন্তা। 

স্থির করলাম আমার মত প্যান্ট-শার্ট পরা ভদ্র যাত্রীরা যা করবে আমিও তাই করব। দেখলাম দক্ষিণ দিক থেকে একটা বড় নৌযান আসছে। উপরে লিখা “এম ভি বাপ্পী”। বুঝতে পারলাম এটাই লঞ্চ। ঘাটে ভিড়ল। দেখলাম দোতলা-নিচ তলা আছে। আমি ভদ্র লোকদের দেখাদেখি দোতলায় গিয়ে বসলাম। 

বোকার মত এদিক সেদিক তাকালাম। বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসলাম। লঞ্চ পূর্ব দিকে চলছিলো। পানি আর পানি। সীমাহীন পানি। জীবনে এত পানি দেখিনি। একটা লোক বেঞ্চে পা তুলে বেয়াদবের মত শুয়েছিলো। আমি তার প্রতি বেশ বিরক্ত বোধ করছিলাম। এক লোক ব্রিফকেসে সুই দিয়ে খোদাই করে নাম লিখে দিচ্ছিল। আমিও পাঁচ টাকা দিয়ে নাম লিখালাম ‘সাদেক’। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। 

পানি দেখে খুব ভাল লাগছিল। পানিতে অনেক মহিষ দেখতে পেলাম। মহিষ মাথা ডুবিয়ে ডুবিয়ে কী যেন খাচ্ছিল। 

আমি জানতাম, মহিষ মাঠে ঘাস খায়। কিন্তু পানির নিচ থেকে কী খাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছিলাম না। আমার পাশে দাঁড়ানো এক জনকে জিজ্ঞাসা করলাম “মহিষ পানির নিচ থেকে কি খাচ্ছে?”। লোকটি আমাকে অস্বাভাবিক মানুষ ভেবে উত্তর না দিয়ে সটকে পড়ল।  বিপরীত দিকের বারান্দায় গিয়ে আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। সেও তাই করল। 

আমার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। ভেতরে এসে একজনকে বিষয়টি বলার পর সে বলল ”কেন? ঘাস খায়।“

আগের দুইজন তখন মনযোগ দিল। আমি জানতে চাইলাম

-পানির নিচে ঘাস জন্মায় কেমনে?
– এটাতো মাঠ। মাঠে ঘাস খাচ্ছে।
– আমি তো দেখছি সাগরের মত।
– আপনার বাড়ি কই?
 (আমি ভরকিয়ে গেলাম)

– টাঙ্গাইল জেলায় সখিপুরে, পাহাড় অঞ্চলে।
পাশ থেকে একটু শিক্ষিত একজন বললেন
-আপনি বুঝি জোয়ারভাটা দেখেননি। এখন জোয়ার। ভাটার সময় মহিষ ঘাস খাওয়া শুরু করেছিলো, জোয়ারের পানিতে মাঠ ভরে গেছে, এখনো মহিষ মাথা ডুবিয়ে ডুবিয়ে ঘাস খাচ্ছে।
– এখন বুঝতে পেরেছি। বইয়ে পড়েছি।
-আপনি কী করেন? কোথায় যাচ্ছেন?
– আমি ডাক্তার। সরকারি চাকরি হয়েছে। যোগদান করতে যাচ্ছি।
-এমবিবিএস ডাক্তার?
– জ্বী।

সবাই নড়েচড়ে বসে আমার দিকে মনযোগী হল। আমিও সাচ্ছন্দ্যবোধ করা শুরু করলাম। একে একে অনেকেই টুকটাক অসুখের কথা জানাল। আমি সমাধান দিলাম। আমি ওখানকার মধ্যমণি হয়ে গেলাম। যে লোকটি পা তুলে শুয়ে ছিল সেও পা নামিয়ে বসল। বলল “ডাক্তার সাব, আমার সারাক্ষণ পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করে। কেন এমন হয়?” এতক্ষণে আমি বুঝতে পারলাম কেন সে বেয়াদবের মত পা তুলে শুয়েছিল।

এভাবে সবার সাথে গল্প করতে করতে সকাল ১০টার দিকে বরিশাল এসে পৌঁছলাম। 

সিভিল সার্জন অফিস থেকে কমিউনিকেশন লেটার নিয়ে বাসে চড়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে গেলাম। ইউএইচএফ পিওর নিকট পরিচয় দিলাম। পাশে একজন পাজামা পাঞ্জাবি পরিহিত ৫৪/৫৫ বছর বয়স্ক লোককে বললেন, ‘এই যে আপনার মেডিকেল অফিসার এসে গেছেন। আর চিন্তা নাই।’

আমি যোগদানপত্রে সই করে অফিস ত্যাগ করলাম। ওই লোকটি ছিল আমার সেন্টারের মেডিকেল এসিস্টেন্ট। আমরা চরামদ্দি সাব সেন্টারের উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দিলাম। বরিশাল গিয়ে রাত্রিযাপন করে ছোট লঞ্চে করে পরদিন চরামদ্দি যেতে হবে। বাসে যেতে যেতে আলাপ হলো। ওখানে স্টাফদের কথা  জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ‘ওখানে আছে একজন পাগলা ফার্মাসিস্ট। কোথায় থাকে, কী খায়, কী পরে তার ঠিক নাই। দেখলেই বুঝবেন। আরেকজন পিওন আছে। তাকে দিয়ে কিচ্ছু করাতে পারবেন না। কিছু বললে উল্টা আপনাকেই ভয় দেখায়ে দেবে। আপনি তো অনেক দূরের মানুষ। আপনি সামলাতে পারবেন কিনা। আপনার তো আবার নতুন চাকরি। অসুবিধা হবে না, আমি আছি না?’ শুনে আমার শরীর শিরশির করে উঠল।

সন্ধ্যার সময় আমাকে একটি কমদামি বোর্ডিংয়ে নিয়ে উঠালেন। চলে গিয়ে আবার ফিরে এলেন দুইজন চোখে সুরমা দেয়া যুবক নিয়ে। বললেন, ‘পরিচয় করে দিচ্ছি, ইনি আমার বন্ধু ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার…..!’

আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম! ভাবলাম এই ‘বন্ধুকে’ আমি নিয়ন্ত্রণ করব কীভাবে।

তাদের সাথে আলাপ হল। অনেক কথার পর তারা একটা কথা বলল, ‘আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা আছি না? অমুককে একটু ট্যাঁক্টফুলি ম্যানেজ করতে হবে।’ 

তারা চলে গেলে আমি একটু বারান্দায় বেরুলাম। দেখলাম তারা পাশের রুমে দুইটি মেয়ের সাথে কেমন কেমন যেন কথা বলছে। আমি লুঙ্গী পরে বাথরুমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় বাইরে থেকে দরজার করা নাড়ল।
– কে?
– আমি বোর্ডিংয়ের লোক। কিছু লাগবে, স্যার? আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিতে পারি।
– আমার কিছু লাগবে না। আমি এখন ঘুমাব। ডিস্টার্ব করবেন না। 
আমার বুঝতে দেরি হল না পাশের রুমের বোর্ডারদের কারবার। 

মেডিকেল এসিস্টেন্ট আমাকে রেখে তার ভাইয়ের বাসায় থাকতে গিয়েছে। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলাম। পায়খানার বেগ থেমে গেল। বের হবার সাহস পেলাম না। গত রাতেও পায়খানা করতে পারিনি। অমনি শুয়ে পরলাম। কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

সকাল সাড়ে পাঁচটায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের ডাক শোনে ঘুম থেকে উঠলাম। 

ছয়টায় বরিশাল থেকে ছোট লঞ্চে উঠলাম। নয়টার দিকে কাটাদিয়া ঘাটে নামলাম। ওখান থেকে ডিঙি নৌকায় উঠলাম। দুই কিলোমিটার যেতে হল নৌকায়। খালের ধারের মানুষ আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলো “সাহেব কে?” 
– সাহেব আমাদের চরামদ্দির নতুন ডাক্তার। এমবিবিএস। এর আগে কেউ এমবিবিএস ছিলেন না। 
– আমাদের সরকারি ডাক্তার?
– জ্বী।
-খুব ভাল।

দশটার দিকে নৌকা থেকে নামলাম। তিনি দেখিয়ে বললেন ‘এটাই আপনার হাসপাতাল।’
দেখলাম ডোয়াপাকা একটি পুরাতন টিনের ঘর। সামনে বারান্দা। হাসপাতালের সামনে প্রায় একশত জন লোক। একজন উস্কো খুসকো লোক কানে একটা বিড়ি আটকানো, গায়ে রান্নাকরার ছাই লাগানো শার্ট, মাঝে মাঝে বিড়ির আগুনে গোল গোল করে ছিদ্র করে পোড়া, পেছনে লুঙ্গীর কোছে বিড়ির প্যাকেট, আমার দিকে ইঙ্গিত করে জানতে চাইল ‘সাহেব কে?’
মেডিকেল এসিস্টেন্ট বললেন, ‘ইনি আমাদের নতুন অফিসার, ময়মনসিংহ বাড়ী।’
তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন

-আপনি এমবিবিএস?
– জ্বী।

লোকটি লাফ দিয়ে দুই ফুট উঁচু জায়গায় উঠে দাঁড়ালেন। মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট বললেন,‘ইনিই আপনার ফার্মাসিস্ট’।
ফার্মাসিস্ট নেতার ভঙ্গিতে জনগণের উদ্দেশে  ভাষণ দিতে লাগলেন-
– ভাইসব, আপনারা শান্ত হউন। আমাদের এখানে জয়েন করতে এসেছেন যিনি তিনি এমবিবিএস, যা লন্ডন থেকে পাস করতে হয়!
তিনি আগামীকাল থেকে আপনাদের দেখবেন। আজ তিনি বিশ্রাম নিবেন।
এরপর সবাই শান্ত হলেন। তিনি সবাইকে বিদায় করে আমার কাছে আসলেন।
আমি জানতে চাইলাম
– আপনাদের লেট্রিন কোথায়?
– আমাদের তো লেট্রিন নাই!
-তাহলে আপনি কী ব্যবহার করেন?
– আমি কলার পাতা দিয়ে একটু ঘেরাও করে বানিয়ে নিয়েছি।
– এটা কী?
– এটা ফ্যামিলি প্লানিং ভিজিটরের অফিস।
– এখানে লেট্রিন নেই?
– আছে। পাকা সেনিটারি লেট্রিন। 

শোনে আমার তিন দিনের জমানো পায়খানার বেগ ফারাক্কা বাধের উজানের শক্তি নিয়ে নিচের দিকে ধেয়ে আসা শুরু করল।
– লেট্রিনের চাবি দিন।
– ওটা পিওনের কাছে।
– পিওন কই?
-বাজারে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।
– ডাকেন তাকে।

তিনি দৌঁড়ে বাজারের দিকে চলে গেলেন। অনেকক্ষণ পর ফিরে এসে বললেন-
-পেলাম না।
– ঠিক আছে, আপনারটাই ব্যবহার করব। এক বদনা পানি আনেন।

তিনি পানি আনতে চলে গেলেন। আশার আলো দেখে আমার ওইটার বেগ আরও তীব্র আকার ধারণ করল। তিনি খাবার পানির এক জগ পানি নিয়ে এলেন। আমি বললাম
– আমি তো পানি খাব না, পায়খানায় ব্যবহার করব, বদনায় পানি আনেন।
– স্যার, আমার এই জগ ছাড়া আর কিছু নাই। এইটা দিয়েই পানি খাই, এইটা নিয়েই পায়খানায় যাই।

আমার রাগে, দুঃখে  বেগ নিস্তেজ হয়ে পরল। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলাম। মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট মিটিমিটি হাসছিলো। আমি মেডিকেল এসিস্টেন্টকে বললাম “আমার ক্ষুধা পেয়েছে। খাব কই?”
ফার্মাসিস্টকে বললাম,‘যান, আমার সামনে থেকে’।
তিনি ইডিয়টের মত হেসে চলে গেলেন। 

পরে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট আমাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে খাওয়ালেন। আমি বললাম,

-আমি এখানে থাকতে পারব না। 
– চলেন আমাদের বাড়ী। এখান থেকে ৩ কিলো দূরে হবে।

– চলুন তাই হউক। 

বিকালে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টের বাড়ি গেলাম। তার গ্রামের নামটা এখন মনে করতে পারছি না। গিয়েই লেট্রিনের খোঁজ নিলাম। তিনি তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করে দিলেন। পাকা লেট্রিন। তিন দিনের জমা রাখা জিনিসগুলি ত্যাগ করতে পেরে গোপাল ভাঁড়ের মত প্রশান্তি পেলাম। 

তিনদিন গোসল করিনি। অত্যন্ত গরম আবহাওয়া ছিল। গোসল করতে চাইলাম। তিনি আমাকে তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নিয়ে গেলেন। বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি আর পানি। দখিনা মিষ্টি বাতাস আসছিল। আমি শার্ট গেঞ্জি খুলে কিছুক্ষণ গায়ে হাওয়া লাগালাম। অমন মিষ্টি হাওয়া আর কোথাও পাইনি। 

বিকালে ঘুম দিলাম। রাতে তার ভাইয়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প হল। আবার ঘুমালাম রাতে।

দুপুরের খাবার পোলাও মাংস খেয়ে বরিশাল রওনা দিলাম। বিকেল ছয়টায় ঢাকার লঞ্চে উঠলাম। ঢাকা থেকে বাসে ফিরতে হবে বাসে। হিসাব করে দেখলাম টাকা প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। তাই কেবিনে টিকিট না করে ৩০ টাকায় ডেকের টিকিট করলাম। ব্রিফকেস থেকে লুঙ্গী বের করে বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। কেউ যাতে চিনতে না পারে সেজন্য ব্রিফকেসের ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার লিখা কার্ডটা উল্টিয়ে লাগালাম। ব্রিফকেস মাথায় দিয়ে ঘুমাতে চেষ্টা করলাম। 

চারদিনের জার্নির ঘটনাগুলি মনে করতে করতে এক সময় কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।


তারিখঃ ১৪/৬/২০১৭ ইং
ময়মনসিংহ – কিশোরগঞ্জ – ময়মনসিংহ জার্নি

Haturi Peta

Haturi Peta

হাতুড়ি পেটা

(স্মৃতি কথা)

প্রথম পোস্টিং ছিল বরিশালের চরামদ্দি ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে। ১৯৮৮ সনে এক বছর সেখানে ছিলাম। প্রচুর মারামারির রোগী আসতো। তাদেরকে চিকিৎসা করে ইনজুরির সার্টিফিকেটও দিতে হতো। একবার এক রোগী এলো হাতুড়ি পেটা খেয়ে। বিস্তারিত শুনলাম রোগীর কাছ থেকে। ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে তারা আসছিলো বরিশালে। লঞ্চগুলো সাধারণত রাতে যাতায়াত করতো। বরিশালের অনেক যাত্রী রাতের লঞ্চে ঢাকায় গিয়ে দিনের বেলা অফিসের কাজকর্ম বা মার্কেটিং করে আবার রাতের লঞ্চে ফিরে আসতো। প্রায়ই পথিমধ্যে ডাকাতের কবলে পড়তো। এমনি একটা অভিজ্ঞ ডাকাত পার্টি ছিলো হাতুড়ি পেটা করার। গভীর রাতে ফেরার সময় যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়তো তখন চার পাঁচ জনের অল্প বয়সি ডাকাত পার্টি অতর্কিতে হামলা চালাতো হাতুড়ি দিয়ে। রাইফেল ওয়ালা আনসারের মাথার পেছনে হাতুরি দিয়ে পিটুনি দিলে আনসার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতো। আনসারের রাইফেল কেড়ে নিয়ে লঞ্চের চালকের মাথার উপর তাক করে ধরে রাখতো ঠিকঠাক মতো চালিয়ে নিতে। অন্য ডাকাতরা সামনে যাকে পেতো তাকেই মাথার চান্দিতে হাতুড়ি পেটা করতো। দুই চার জনকে এভাবে মাথায় পিটুনি দিলে অন্য যাত্রীরা ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে মাথা নিচু করে লুকিয়ে উবুত করে বসে থাকতো। আশে পাশে কি হচ্ছে কেউ তা বুঝতে পারতো না। দুই চারজন যাত্রীর মাথায় পিটুনি দিয়ে শত শত যাত্রীকে অকেজো করে রাখতো কয়েকজন ডাকাতে। এ অবস্থায় যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্নালংকার কেরে নিতো। কানের অলংকার খুলে না নিয়ে ঝেংটা টান মেরে ছিড়ে নিতো। লুট করা টাকা ও অলংকার পোটলায় ভরে সুবিধাজনক চর এলাকায় লঞ্চ ভিড়িয়ে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যেতো কাঁশবনের ভেতর। এদিকে যাত্রীরা অনেক্ষণ পর্যন্ত মাথা নিচু করেই বসে থাকতো। লঞ্চের চালক এসে তাদেরকে ইনফরমেশন দিতো এই বলে যে ডাকাতরা চলে গেছে আপনারা মাথা তুলুন।

রোগীর মুখে এমন বিভৎস কাহিনী শুনে আমিও আতংকগ্রস্ত ছিলাম। কারণ, আমাকেও মাসে একবার এমন লঞ্চে রাতে আসা-যাওয়া করতে হতো। সরকারি বেতন মাসিক ১৮৫০ টাকা ছিলো। প্রথম চাকরি। প্রথম মাসের টাকা ঠিকই পেয়েছিলাম। দ্বিতীয় মাস থেকে আমাকে বেতন দেয়া হয় না। আমি ভাঙ্গা একটা ডোয়াপাকা টিনের ঘড়ে থাকতাম। অর্থ অফিসের দাবী ছিলো আমাকে নিয়ম অনুযায়ী ৩৫% বাড়ি ভাড়া কাটতে হবে। আমি ভাঙ্গা ঘরের ভাড়া কাটতে রাজি ছিলাম না। তাই, বেতন বন্ধ ছিলো। ২০ টাকা করে প্রাইভেট রোগী দেখে খাওয়া খরচ করে যা থাকতো তা থেকে বাবার জন্য কিছু টাকা মানি অর্ডার করে পাঠাতাম। আর যা থাকতো তা নিয়ে টাঙ্গাইল বাসায় আসতাম প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে। যাহোক, চার মাস পরে এক সাথে বাড়ি ভাড়া সহ বেতন পেয়েছিলাম। সেই টাকায় বাবার ইচ্ছানুযায়ী বাড়ির পাশের ১২.৫ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। লঞ্চে উঠে আতংকে মাথা হাতাতাম কখন এসে ডাকাতরা আমার মাথায় হাতুড়ি পিটায়। তারা তো আর আমি ডাক্তার কি না তা জিজ্ঞেস করে না। তখন, ডাকাতরা ডাক্তার ও পুলিশকে সমিহ করতো।

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ময়মনসিংহ

৩০ আগস্ট ২০২২ খ্রি.

#memoryofsadequel

#charamoddisadequel

এমন গল্প আরও পড়তে হ্যাস্ট্যাগ শব্দে ক্লিক করুন।

Khur Die Poch Mara

Khur Die Poch Mara

খুর দিয়ে পোঁচ মারা

(#memoryofsadequel)

১৯৮৮ সনের কথা। বরিশালের বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়ন সাবসেন্টারে যখন চাকরি করতাম, তখনকার কথা। ঐ এলাকায় প্রচুর ছিন্তাই হতো। অল্প বয়সের দুই তিন জন ছেলে ছোরা ও খুর নিয়ে রাতের বেলায় রাস্তার ধারে ওৎ পেতে থাকতো। সুযোগ বুঝে পথচারীদের সামনে দাঁড়িয়ে ছোরা দেখিয়ে সাথে যা যা আছে, সব দিয়ে দিতে বলতো। সামান্য একটু বিলম্ব হলেই খুর দিয়ে পোঁচ মেরে দিতো। এসব পোঁচ খাওয়া রোগী আমার কাছে নিয়ে আসতো।

আমি অপারেশন টেবিলে শোয়ায়ে বুকের শার্টের বোতামগুলি খুলে দেখতে পেতাম গলার নিচে থেকে শুরু করে বুকের মাঝের হাড়ের উপর দিয়ে সোজা নেমে এসেছে খুরের পোঁচ পেটের উপর পর্যন্ত। তেমন কিছু না, মাত্র ৫০ টাকা বা ১০০ টাকা কেড়ে নেয়ার জন্য এই পোঁচ। এখানকার চামড়ার নিচে চর্বি থাকে না। তাই, কাটা চামড়া দুই দিকে সড়ে গিয়ে হা হয়ে থাকতো। বিভৎস দেখা যেতো সেই ক্ষত। মহিলা, শিশু ও দুর্বল চিত্তের পুরুষরা দেখে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়তো। আমিও খুব আতংকগ্রস্ত ছিলাম এই ভেবে যে কবে আমার বুকেই এমন খুরের পোঁচ মেরে দেয়।

আমি ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং এর সময় সার্জারিতে বিশেষভাবে ৬ মাস ট্রেনিং করেছিলাম। তাই, ভালো সেলাই করতে পারতাম। আমি ক্ষতস্থান জীবাণুমুক্ত করে সিল্কের সুতা দিয়ে সুন্দর করে সেলাই করে দিতাম। ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিতাম। ৭ দিনের ঔষধ লিখে দিতাম। ৭ দিন পর ব্যান্ডেজ খুলে সেলাই কেটে দিতাম।

আমি ১৯৮৯ সনে বদলি হয়ে চলে আসি বরিশাল থেকে। এখনো কি ওখানে এমন খুরের পোঁচের প্রচলন আছে? আমার গল্পের পাঠকদের মধ্যে কি কেউ এমন খুরের পোঁচ খেয়েছেন বা মেরেছেন?

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ময়মনসিংহ

২৯ আগস্ট ২০২২ খ্রি.

in-feed-ads:

Garden Starting

Starting Garden

বাগান শুরু করার  কয়েকটি ধাপ

 ১সঠিক অবস্থান নির্বাচন করুন:  বাগানের জন্য এমন একটি স্থান পছন্দ করুন যেখানে প্রচুর রোদ, পর্যাপ্ত স্থান এবং আপনার হাতের কাছেই পানির উৎস আছে।  একটি উচু এলাকা খুঁজুন।

 ২আপনার সবজি নির্বাচন করুন:  আপনার জলবায়ু, স্থান, স্বাদ এবং দক্ষতার  উপর ভিত্তি করে কোন ফসল অন্তর্ভুক্ত করবেন তা নির্ধারণ করুন।  নতুনরা গাজর, মটরশুটি, শসা, গোলমরিচ এবং লেটুস-এর মতো কিছু সহজ ফসলের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

   মাটি প্রস্তুত করুন:  আপনার বাগানে কম্পোস্ট এবং প্রাকৃতিক সার মিশ্রিত করুন যাতে আপনার গাছের মাটি ঠিক থাকে।  গার্ডেন-সাপ্লাই স্টোরগুলি আপনার মাটির অম্লতা পরীক্ষা করতে পারে এবং পরিপূরকগুলির পরামর্শ দিতে  পারে, অথবা আপনি রেডিমিক্সড মাটি কিনতে পারেন।

 রোপণের তারিখ পরীক্ষা করুন:  ক্রমবর্ধমান অবস্থা এবং  উদ্ভিদ চক্র এবং ঋতুর উপর নির্ভর করে ফসল লাগাতে হয়। তাই,  একই সময়ে সব বীজ বপন করা উচিত নয়।  বীজের প্যাকেটে রোপণের তারিখ পাওয়া যাবে।  বাগান করার সময়সূচী তৈরি করার আগে আপনি যে সবজি রোপণ করতে চান তার জন্য আদর্শ অবস্থা পর্যালোচনা করুন।

 বীজ রোপণ করুন:  গভীরতা এবং ব্যবধান নির্দেশাবলী সাবধানে অনুসরণ করে আপনার বীজ বা গাছপালা মাটিতে রাখুন।

 পানি দিন করুন:  ক্রমবর্ধমান ঋতু জুড়ে মাটি সমানভাবে আর্দ্র রাখতে আলতো করে পানি দিয়ে বাগানে স্প্রে করুন।  পানি দেয়ার জন্য জন্য একটি স্প্রে  কিনুন যাতে আপনি আপনার বাগানের জন্য একটি মৃদু বৃষ্টির মতো করে পানি দিতে পারেন।

 ৭  আগাছা দূরে রাখুন:  আগাছা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল মালচিং।  আগাছা যাতে আপনার ফসলকে ছাড়িয়ে না যায় তার জন্য আপনার বাগানে জৈব মালচের ২ থেকে ৪-ইঞ্চি-পুরু স্তর তৈরি করুন।  যদি বাগানে আগাছা দেখা যায়, তবে তাদের ডালপালা নীচে ধরুন এবং পুরো শিকড় নিষ্কাশন নিশ্চিত করুন।

 ৮ আপনার গাছপালা বাড়াতে জায়গা দিন:  বীজের প্যাকেটে থাকা ব্যবধান নির্দেশিকাটি পরীক্ষা করে দেখুন এবং অবিলম্বে ঘনঘন চারাগুলি সরিয়ে ফেলতে ভুলবেন না।

 প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিন:  হাত দিয়ে হালকাভাবে মাটঙ্ঘন্সাথে সার দিন । আপনি  বাগানের জন্য সার কিনতে পারেন বা ইপসম লবণ, ডিমের খোসা, মাছের ট্যাঙ্কের পানি এবং রান্নাঘরের কম্পোস্টের মতো আইটেমগুলি থেকে নিজের তৈরি স্যার বানাতে  পারেন।

 ১০। সময় মতো সবজি কাটুন:  শাকসবজি সংগ্রহ করুন যখন কচি থাকতেই ।  খাবার উপযুক্ত হবার সময় মূল শস্যগুলিকে টানুন।  জমির ১ ইঞ্চির মধ্যে কেটে শাক জাতীয় ফসল সংগ্রহ করুন।  অবশেষে, আপনার ফসল উপভোগ করুন!

Khuingar Chala

খুইংগার চালা

গত দুই বছর আগে ইন্দ্রজানী হাট নিয়ে ফেসবুকে একটা গল্প লিখেছিলাম। সে গল্প পড়ে একজন পাঠক আমাকে অনুরোধ করেছিলেন তাদের খুইংগার চালা নিয়ে একটা গল্প লিখতে। গল্পটা ছিল স্মৃতিচারণমূলক। স্মৃতিচারণমূলক গল্প কেউ লিখতে বললে আমি লিখতে পারি না। আমার মাথায় যখন স্মৃতিচারণ খেলতে থাকে তখন আমি স্মৃতিচারণমূলক গল্প লিখি। তাই খুইংগার চালা নিয়ে এখনো কোনো গল্প লেখা হয় নি আমার। গতকাল দুপুরে খাবার সময় মোবাইলে একটা কল আসে। আমি সাধারণত মোবাইলে খাবার সময় কল ধরি না। মোবাইল স্ক্রিনে ‘নূর-ই-আলম খুইংগার চালা’ নামটা দেখে মোবাইলটা আমি রিসিভ করলাম । কথা শেষে স্বপ্না জিজ্ঞেস করলো

– কে ফোন করেছিল? তুমিতো সাধারণত খাবার সময় ফোন ধর না।

– নূর-ই-আজম ফোন করেছিল। রোগী নিয়ে আসবে।

– নূর-ই-আজম কে?

– খুইংগার চালার।

– খুইংগার চালা? খুইংগার চালা আবার কেমন নাম? খুইংগার মানে কি?

আমি স্বপ্নাকে খুইংগা কথাটার মানে ভালো করে বুঝিয়ে দিলাম। এরপর থেকে আমার ইচ্ছা হল খুইংগার চালা নিয়ে কিছু একটা লিখি। তাই আজ দুপুরে খাবার পর শুয়ে শুয়ে খুইংগার চালা নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলাম।

খুইংগার চালা নিয়ে আমার তেমন কোন স্মৃতি নেই। তবে আমি একবার খুইংগার চালায় গিয়েছিলাম । আমার চাচাতো ভাই ইখতিয়ার উদ্দিন (বাশার ভাই)পাকিস্তান আমলে এস এস সি পাশ করে খুইংগার চালা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি নেন। আমি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়তাম। যেহেতু এটা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তাই আমাদের দেশের নাম ছিল পাকিস্তান। এই পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ছিল ১৪ ই আগস্ট। আমি স্বাধীনতা দিবস পালন করতে বাশার ভাইর সাথে খুইংগার চালা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যাই। মাঠটা ছিল অনেক বড়। অনেক খেলাধুলা হয়েছিল সেদিন। ওই বিরাট মাঠে ঘোড়দৌড়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। খুবই উপভোগ্য ছিল সেই ঘোড় দৌড়। যে ঘোড়াটি প্রথম স্থান অধিকার করেছিল সেই ঘোড়ার সওয়ার ছিল মাত্র ৭-৮ বছরের একটি ছেলে। ছেলেটির গা ছিল খালি। ভাঁজ করে লুঙ্গি পড়েছিল। আমরা পাহাড়িয়া পোলারা অনেকেউ ভাঁজ করে লুঙ্গি পড়তাম বাইটা বাছ্রার ভয়ে। লুঙ্গির নিচের অংশে মাঠের বাইটা বাছ্রা ছেঁকে ধরতো। তাই হাটু পর্যন্ত ভাঁজ করে লুঙ্গি পড়তে হতো। কিন্তু ওই ছেলেটি বাইটা বাছ্রার ভয়ে লুঙ্গি ভাঁজ করে পরে নি। সে পরেছিল ঘোড়া চালনার সুবিধার্তে। ঘোড়দৌড়ের সময় তাঁর ঘোড়াটি যেন উড়ে উড়ে চলছিল। সে ঘোড়ার লাগাম ধরে রেখেছিল। ঘোড়ার পিঠের উপর সে ছুটে ছুটে পড়ছিল। এই সময় তার লুঙ্গি উপর দিকে একবার উড়ছিল আর নামছিল। দর্শকরা দুই কারণে আনন্দ পাচ্ছিল। এক নাম্বার আনন্দ ছিল ঘোড়ার দৌড় দেখার আনন্দ। তুই নাম্বার আনন্দের কারন ছিল বাচ্চাদের জন্য। এটা ছিল ছেলের লুঙ্গি উড়ার আনন্দ। লুঙ্গি উড়ার সময় ছেলেটি বেআব্রু হয়ে যাচ্ছিল। তাই বাচ্চারা আনন্দ পাচ্ছিল। আমিও কিন্তু তখন বাচ্চাই ছিলাম। তাই, আমি দুই কারনে আনন্দ পেয়েছিলাম। আরেকটি আনন্দের খেলা ছিল লাঠিবাড়ি খেলা। খুবই চমৎকার ছিল সেই লাঠিয়ালদের লাঠি বাড়ি খেলা। সারাদিন খেলাধুলার আনন্দ উপভোগ করে রাতে বাশার ভাইর সাথে বাড়িতে ফিরি। আমার সাথে মজিবর ভাইও সেদিন গিয়েছিলেন খুইংগার চালা। সাড়াসিয়া বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলটি যখন সরকারিকরণ করা হয় তখন বাশার ভাই সাড়াসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এটা খুব সম্ভব স্বাধীনতা যুদ্ধের আগেই।

Read more

আপনাদের কিন্তু এখনো খুইংগার কথাটার মানে বোঝানো হয়নি। গাছের ভিতর যদি কোনো কারণে গর্ত থাকে সেটাকে বলা হয় খুং বা খোং। আপনারা বলেন গাছের কোটর। ছোট বেলায় আমরা পড়েছি “আদিম যুগের মানুষ গাছের কোটরে বাস করতো।” সে কোটরকেই আমরা বলতাম খোং। সাধারণত পুরাতন বা বৃদ্ধ গাছে খোং তৈরি হয়। খাঠখোকড়া পাখি ঠুকড়িয়ে গাছে খোং তৈরি করে খোংগের ভিতর বাসা বানায় । গাছের কোন অংশ পঁচে গিয়েও খোং তৈরি হতে পারে। খোং যে কারনেই তৈরি হোক না কেন অনেক প্রকার পাখি এসব খোংগে বাসা বানায়। কাঠঠোকড়া, টিয়া, দোয়েল, ভুতুম পেঁচা ইত্যাদি পাখি খোংগের ভিতর বাসা বানায়। আমি গাছে উঠে খোংগের ভিতর উঁকি দিয়ে পাখির বাসা দেখতাম। ডিম পাড়া থেকে শুরু করে বাচ্চা তোলানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্ব আমি পর্যবেক্ষণ করতাম। কোন পাখির ডিম কত দিনে ফোটে তা আমার জানা হয়ে গিয়েছিল। গিরিকিটি বা কক্কে সাপও খোংগে থাকতো। আমাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটা অশথ্ব গাছ ছিল। আমরা বলতাম বটগাছ। সেই গাছে অসংখ্য খোং ছিল। সেই খোংগেও অনেক পাখি বাসা করতো। সন্ধায় বড় ভুতুম পাখি ডাকতো “ভুত ভুতুম, ভুতুম।” ছোট ভুতুম পেঁচা ডাকতো “কেচরমেচর” করে। পাখির কাছে গেলে কুতকুতি চেয়ে থেকে ভয় দেখাতো। বেলা ডোবার পর কক্কে সাপ ডেকে উঠতো “কক্কে কক্কে বলে। ” শুনেছি কক্কে সাপের যত বয়স ততবার কক্কে কথাটি উচ্চারণ করে ডাকার সময়। যেমন, যেটার বয়স তিন বছর সেটা ডাকতো তিন বার কক্কে কক্কে কক্কে বলে। একেক কক্কে একেক নির্দিষ্ট সময় দিনে-রাতে মাত্র একবার ডেকে উঠতো।

খোংগের ভিতর মৌমাছিও বাসা বানায়। আমরা বলতাম খুইংগা চাইক (চাক)। এই মৌমাছি আলাদা প্রজাতির মৌমাছি। এরা গাছের ডালে বসে না। এরা চাক বানায় গাছের খোংগে অথবা উলুর টিকরে। উইপোকাকে আমরা বলতাম উলু পোকা। পুরাতন গাছ মাটির উপর বরাবর কেটে ফেললে তার সাথে উইপোকা বাসা বেধেঁ মাটি তুলে ডিবির মতো করে ফেলে। তখন ছোটখাটো পাহারের মতো মনে হয়। এগুলোকে আমরা বলতাম উলুর টিকর। একসময় পাখা গজার পর সব উলু আকাশে উড়ে যেতো। চৈত্র মাসে সন্ধার সময় গজারির মরা পাতায় আগুন দিলে সেই আগুনের উপর উলু ঝাকে ঝাকে উড়ে এসে পড়ে পুড়ে যেতো। তাই বলা হয় “পীপিলিকার পাখা গজায় মরিবার কালে।” উলুও এক প্রকার পীপিলিকা। উলু বাসা ছেড়ে চলে গেলে সেই খোংগে খুইংগা চাক বসত। মনো ভাইদের বাড়ির পিছনের আড়ায় (জংলায়) একটা উলুর টিকর ছিলো। সেই টিকরে প্রতি বছর খুইংগা চাক বসতো। খুইংগা চাকের মৌমাছি সাধারণত কামড়ায় না। আমি খোংগে হাত দিয়ে আসতে করে মৌমাছি চাক থেতে সরিয়ে পাঠশোলা (স্ট্র) দিয়ে টেনে টেনে মধু খেতাম। আমার সাথে একদিন মুকুলও গিয়েছিল মধু খেতে। মৌমাছি কি মনে করে যেনো মুকুলের কঁচি কানের লতিতে হুল ফুটিয়ে বসে। মুকুল আমার চেয়েও তিন বছরের ছোট। মুকুল বিষে কান্না শুরু করে। আমি মুখ চেপে কান্না বন্ধ করে দেই। কারন, মনো ভাই টের পেলে খবর ছিল।

যেসব গাছে বেশি বেশি খোং থাকতো সেসব গাছকে খুইংগা গাছ বলা হতো। যেসব কাঠালের গায়ে গর্ত গর্ত থাকতো সেসব কাঠালকে খুইংগা কাঠাল বলা হতো। আমাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটা কাঠাল গাছ ছিল। সেই গাছের কাঠাল খুইংগা ছিল। তাই, সেই গাছকে খুইংগা গাছ বলা হতো। খুইংগা হলেও কাঠাল খুব স্বাদের ছিলো।

খুইংগার চালা গ্রামের নাম কেন খুইংগার চালা হয়েছে তা আমার জানা নেই। চালা হলো উচু ভুমি। খুইংগার চালা আমি দেখেছি একটু উচু ভুমি। খুব সম্ভব এই উচু ভুমিতে আগের দিনে অনেক খুইংগা গাছ ছিলো। তাই হয়ত খুইংগার চালা নাম হয়েছে। আপনার কি মনে হয়?

২৮/৩/২০২০ খ্রি.

Salah Uddin

Mawlana Salah Uddin

মাওলানা সালাউদ্দিন

Maolana Salah Uddin

মাওলানা সালাউদ্দিন ছিলেন আমার চাচাতো বোন হেলেনা আপার স্বামী। আরবী লাইনে লেখাপড়া করলেও তিনি বেশ বিজ্ঞান মনস্ক ও সাংস্কৃতিমনা ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দু পরিবারকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তিনি বিয়ের পর জমি জমা কিনে আমাদের গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষকের পদে চাকরি করতেন। পাশাপাশি নিকাহ রেজিস্ট্রার করতেন। তিনি কাকরাজান ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স পেয়েছিলেন। বিবাহ রেজিস্ট্রি করাকে ইসলামি পরিভাষায় কাবিননামা বলা হয়। আমরা সংক্ষেপে কাবিন বলতাম। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কাবিন করলে দুলাইভাই বেশী ফি নিতেন। তাই, অনেকেই দুলাভাইর বাড়িতে এসে কাবিন করাতেন। যিনি কাবিন রেজিস্ট্রি করতেন তাকে বলা হয় কাজী। তাই দুলাভাইকে কাজীও বলা হতো। দুলাভাই মারা যাবার পর তার মেজো ছেলে কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ পায় এবং কাজীর কাজটাও পায়। এখন তার কাছে কাজীর কাজটা নেই। দুলাভাইর ছোট ছেলে রুহুল আমীনও ঘোনারচালা হাই স্কুলে শিক্ষকতা করে। বড় ছেলে আব্দুল হালিম প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করে।

আমি ছোটবেলা থেকেই দেখতাম দুলাভাই কাবিন করেন। তিনি কচুয়া আব্দুল্লাহ স্যারদের বাড়ির জামে মসজিদের শুক্রবার জুম্মায় ইমামতিও করতেন। দুলাভাইর সাথে আমি দু-এক বাড়িতে কাবিন করতেও গিয়েছি। ভালো খাবারও খেয়েছি।

শীতের দিনে তিনি বাহিরবাড়ির ধানিখোলায় খর বিছিয়ে তার তার উপর পিঠের বেতের পাটি বিছিয়ে কাবিন করতে বসতেন। বর ও কনে উভয় পক্ষই আসতেন। তারাও পাটির উপর বসতেন। গ্রামের মানুষ তামাসা দেখতে ভালোবাসে। তাই, যেখানে কয়েকজন লোক একত্র বসত সেখানেই গিয়ে সবাই ভীর করতো। কোথাও দুইপক্ষ ঝগড়া বাঁধালেও সবাই তামসা দেখতে যেতো। একবার গোড়াই থেকে একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে, বয়স খুব সম্ভব ১৬-১৭ হবে, হাত ধরে ঘুরাফিরা করছিল কচুয়া হাটের রাস্তায়। শুনলাম তারা একে অপরকে ভালোবেসে, বাবা-মার অমতে বিয়ে করার উদ্যেশে বের হয়ে পড়েছে। লোকে বলত বাইরইয়া পড়ছে। কাজেই তাদেরকে ভিন গ্রামের মানুষ ধরে বিয়ে পড়িয়ে দিত। এই জুটির পিছনে প্রায় ৫০-৬০ জন ছেলে মেয়ে তামসা দেখছিল। আমিও কিছুক্ষণ তামসা দেখলাম।

একবার পশ্চিম দিক থেকে কয়েকজন লোক এসেছিল দুলাভাইর কাছে কাবিন করতে। তাদের বেশভূষা দেখে গরীব মনে হলো। কনেটাকে আমার কাছে অসহায় মনে হলো। বর পক্ষের লোকগুলোকে তেমন সভ্য মনে হলো না। দুলাভাই কাবিন রেজিস্ট্রার খাতায় লিখার পর সরকারি ফি নিয়ে নিলেন। তারপর কনের উদ্দেশ্যে বললেন “অমুকের ছেলে তমুক এত টাকার দেন মোহর সাব্যস্ত করিয়া আপনাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়াছে। আপনি রাজি আছেন?” কনে অনেকক্ষণ হয়ে গেলো কিছুই বললো না। দুলাভাই দ্বিতীয় বার ওকথাগুলো বললেন। কনে অনেকক্ষণ চুপ করেই রইলো ঘোমটা দিয়ে। তৃতীয় বার দুলাভাই বিরক্তির সাথে কথাগুলো বলে ধমকের সুরে উচ্চকণ্ঠে বললেন “রাজি আছেন?” কনে বিস্ফোরিত কণ্ঠে উচ্চস্বরে বলে উঠল “রাজি আছি।” আমি চমকে গিয়ে খেরের উপর ঢলে পড়লাম। কনে ফিকুরে ফিকুরে কান্না করতে লাগলো। আমি তখন ক্লাস সেভেন না এইটে পড়ি। আমার মনে হলো এটা ঠিক না। জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। দুলাভাই কিছুক্ষণ মেয়েটির কান্না শুনলেন। আমি দুলাভাইর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দুলাভাই চুপ করে রইলেন। দুলাভাই বললেন “এ বিয়ে হবে না।” বরপক্ষ বললেন “কনে রাজি আছে বলছে। বিয়ে হয়ে গেছে।” দুলাভাই বললেন “না, হবে না। সমস্যা আছে। কাবিন বাতিল।” মেয়েটি আরও পরিস্কার করে কান্না করতে লাগলো। অনেক কথাকাটাকাটির বরপক্ষ কাবিনের ফি ফেরত চাইল। দুলাভাই বললেন “কাবিনের পাতা খরচ হয়ে গেছে। আমি বই হিসাবে কিনে আনি। ফেরত পাবেন না। আপনাদের বিচার হবে। আপনারা জোর করে মেয়ে বিয়ে করতে নিয়ে এসেছেন। মেয়ে রাজি না। আমার ধমক শুনে রাজি বলেছে। মেম্বার ও পাড়ার মাদবর নিয়ে আসুন। তারপর কাগজ দেয়া হবে।” পরে কি হয়েছিল আমি জানি না।

কাবিননামা শেষ হলে বরের হাতের উপর কনের বাবার হাত রেখে দুলাভাই পাঠ করাতেন কনের বাবাকে “বলুন, আমার কন্যা, মুসাম্মত অমুক খাতুনকে এত টাকা দেন মোহরে আপনার কাছে বিবাহ দিলাম।” দুলাভাই বরকে বলতে বলতেন “আপনি বুলুন, কবুল, আলহামদুলিল্লাহ, কবুল করিলাম।” বর বলতেন “আলহামদুলিল্লাহ, কবুল করিলাম।” দুলাভাই বরের উদ্যেশ্যে বলতেন “আপনার বিবিকে ভরনপোষণ দিবেন, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী চলাফেরা করাবেন এবং পর্দা পুশিদায় রাখবেন। তিন মাসের অধিক কাল নিরুদ্দেশ থাকিলে, পাগল কিংবা কারাগারাবদ্ধ হইলে বিবি আপনাকে তালাক দিতে পারিবেন। খাতা বন্ধ করলে বরপক্ষ সবাইকে খাজা বাতাসা ও কদমা খাওয়াইত। আমার কাছে সাদা কদমা খুব মজা লাগতো।

আমাদের গ্রামে একজন গরীব লোক ছিল। নিজের জমি ছিলো না। খুব আলসে ছিল। বোকাও ছিল। তার নাম লিখলাম না। ছদ্মনাম দিলাম হামজা। হামজা ভাই মাঝে মাঝে বোকার মতো কথা বলতেন। কেউ বোকার মতো কথা বললে আমরা বলতাম ” তুই অবা হামজা ভাইর নাগাল কথা কস ক্যা?” চৈত্র মাসে অথবা যে মাসে কোন কাজ থাকত না সেই মাসে হামজা ভাই খাবেন কী। কামলা দিলে যা টাকা পাওয়া যেতো সেই টাকা দিয়ে হামজা ভাই চাউল ও আটা কিনে খেতেন। মানে, দিন এনে দিন খেতেন। একদিন কামলা না দিলে না খেয়ে থাকতে হতো তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ। হামজা ভাইর বউ পরের ধান ভেনে অল্প কিছু চাউল পেতেন। আঁচলে করে আনতেন। শরীর খুব দুর্বল ছিল অল্প খেয়ে খেয়ে। তাই, ঢেকিতেও তেমন বল করে পার দিতে পারতেন না। যেদিন কামলা দিতে না পারতেন সেদিন হামজা ধনি বাড়ি থেকে এক কামলার দাম নিতেন। সেই টাকায় কাজের সময় তিনি কামলা দিয়ে পরিশোধ করতেন। মৌসুমের সময় কামলার দাম দুইগুন তিনগুন হলেও তিনি তা নিতে পারতেন না। যেহেতু তিনি অগ্রিম টাকা নিয়ে নিয়েছেন। অগ্রিম টাকা নিয়ে মৌসুমের সময় কামলা দিলে তাকে বলা হয় ঠুকা কামলা। হামজা ভাই ছোটদের মতো সামনে ভাজ করে লুঙ্গি পরতেন। তাই, আরও বোধাই বোধাই দেখা যেতো। কম বয়সেই তিনজন সন্তান রেখে হামজা ভাইর স্ত্রী মারা যান।

গ্রামে গরীব পরিবার স্ত্রী ছাড়া চলতে পারে না। তাই, হামজা ভাই আরেকটি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিয়ের কাবিনের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। হামজা ভাই কিস্তিটুপি পাতালি করে পরেছিলেন। তাতে আরও বোধাই বোধাই লাগছিলো। যথারীতি কাবিন সম্পাদন করে হামজা ভাইর হাত ধরলেন তার শশুর। কাজী বলতে বললেন “বলুন, আমার কন্যা।” হামজা ভাইর শশুরে বলার কথা। ভুলক্রমে হামজা ভাই বলে ফেললেন “আমার কন্যা।” দুলাভাই ধমক দিয়ে বললেন “এই বোধাই, কারে কী কয়।” আমি ও মজি ভাই হাসতে হাসতে খেরের উপর লুটিয়ে পড়লাম।

২২/৪/২০২২ খ্রি.
ময়মনসিংহ

News

Collected News

মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে এক কোটি টিকার

সরকারের কাছে মজুত থাকা করোনার প্রায় এক কোটি ডোজ টিকার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। টিকা নিতে আগ্রহী লোক না থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব টিকা দিতে পারেনি। টিকাগুলো চীনের সিনোভ্যাকের তৈরি।

সিনোভ্যাকের আরও প্রায় এক কোটি টিকা সরকার এখন গ্রহণ করতে চাইছে না। টিকাদানের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে কেনা এসব টিকা গ্রহণ না করলে অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কোভ্যাক্সের আওতায় কেনা সিনোভ্যাকের টিকার দাম পড়েছে সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে ২ কোটি টিকার দাম পড়ে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

রোজিনা ইসলাম

ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮: ০০
Prothom Alo News

Photo Galley

Photo Gallery

নাসির আমাদের বড়বাইদ পাড়ার বাড়িতে ৫ আগস্ট ২০২২
Sohel Rana of Kakrajan handed over Crest on behalf of Kakrajan-Nohali Chala Somonnoy Foundation to me