অধ্যাপক মনছুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা

অধ্যাপক মনছুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী অর্ডার হাতে পাই। পেয়েই মনছুর স্যারকে মোবাইল করে জানাই। ময়মনসিংহ শহরের বাসিন্দা হলেও আমি সরকারী চাকুরী করার কারনে ৮ বছর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ছিলাম। কোন ভাবেই চেষ্টা করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ফিরতে পারছিলাম না। মনছুর খলীল স্যার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় আমার এক ব্যাচ সিনিয়র ছিলেন। তিনি আমাকে খুব ভালো বাসতেন। তিনি আমাকে দিনাজপুর থেকে বদলী হয়ে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে আসার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন “আমি চাই তুমি আমার বাচ্চাদের ক্লাস নিবে।” তিনি এই কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রিন্সিপাল ছিলেন। কলেজের ছাত্রদেরকে নিজের সন্তানের মতো ভালো বাসতেন। তাই বলতেন “আমার বাচ্চা।” তিনি অবিবাহিত ছিলেন। মেডিকেল কলেজটির তিনি প্রজেক্ট ডাইরেক্টরও ছিলেন। তিনি নিজের বাড়ীর মতো যত্ন করে কলেজটি নির্মান করেছেন। কেনাকাটায় যেটা ভালো সেটাই করেছেন। তাতে সরকারি নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় হয়েছে। কিন্তু তার সততার প্রতি সব আমলা মন্ত্রীগনের অগাধ বিশ্বাস ছিলো বলে এনিয়ে কোন কথা হয় নি। নিজের জন্য কিছু রেখে যান নি মৃত্যুর সময়। তার কথায় রাজী হয়ে আমি বদলীর দরখাস্ত দেই। তিনি তদবির করে এক সপ্তাহের মধ্যেই অর্ডার করিয়ে দেন।

৭ তারিখে অনলাইনে আমি অর্ডারটি পাই। ঐদিন আমি ময়মনসিংহ ছিলাম। অর্ডার প্রিন্ট করে আমি ৯ তারিখে দিনাজপুর চলে যাই রিলিজ নিতে। রিলিজ অর্ডার ও এলপিসি সংগ্রহ করি। ছাত্র, কর্মচারী, ডর্মেটরী, প্রাইভেট চেম্বার ও প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে একে একে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। ১৩ ডিসেম্বর রাত ১১ টা ৩০ এর নাবিল বাসে উঠি ময়মনসিংহ ফেরার জন্য। আমি আশা করছিলাম কেউ না কেউ বাস কাউন্টারে আমাকে বিদায় জানাতে আসবেন। ডর্মেটরি থেকে আমার সাথে রুহিনী দা ও বোরহান সাহেব আমার সাথে বাস কাউন্টারে এলেন। তিমির দার জন্য ফিল করছিলাম। তিমির দাও আসলেন। আমি তিমির দাকে কোন আনুষ্ঠানিকতায় কখনো দেখি নি। তিনি আসাতে যেন আমি আমার বিদায়ক্ষণের পুর্ণতা পেলাম। বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ভাবছিলাম “প্রিয় ছাত্র সাব্বির, মুয়াজ সাদিক, সালমান মাহীকে আর ক্লাসে দেখতে পাবনা।” ভাবতে ভাবতেই সাব্বির ও মুয়াজ এসে গেলো। দেখে প্রাণ ভরে গেলো। জিজ্ঞেস করলাম “সালমান হোস্টেলে আছে?” সাব্বির বললো “ঠান্ডায় ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সে আসতে চেয়েছিল। অসুস্থ ফিল করায় আসতে পারে নি।” তাদের সাথে বড় করে ফ্রেমে বাধা আমার একটি ছবি ছাত্ররা উপহার দিল। আমি ছবি টাংগিয়ে রাখি না। কিন্তু এই ছবিটি আমার ল্যাবে এখনো টাংগানো আছে। বাসে ফিরার সময় দিনাজপুরের ৮ বছরের স্মৃতির পাতাগুলি আপনা আপনি উল্টিতে থাকলো। শীতে সীটের উপর একটু একদিকে কাত হয়ে বসেছিলাম। চোখের কোনা দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছিল। সেই পানি অনেকক্ষণ প্রবাহমান ছিল। একসময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বাসের সুপারভাইজারের “যাত্রা বিরতি বিশ মিনিট” ডাক শুনে ঘুম ভাংলো। ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টে একটু ফ্রেস হয়ে এক কাপ কফি খেয়ে আবার বাসে উঠলাম। বাস চললো। আবার দিনাজপুরের স্মৃতি মনে আসতে লাগলো। এলেংগা বাস স্ট্যান্ডে নেমে ময়মনসিংহের প্রান্তিক বাসে উঠলাম। সকাল ৮ টার দিকে ময়মনসিংহের বাসায় পৌছলাম।

১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে ময়মনসিংহের বাসায় কাটালাম। ১৭ তারিখ বৃ্হস্পতিবার সকালে ঢাকায় গেলাম মহাখালীর আমাদের ডিজি অফিসে যোগদান করতে। তখন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে রাজস্ব খাতে পোস্ট না থাকাতে আমাকে ডিজি অফিসে ওএসডি করে উক্ত মেডিকেল কলেজে প্যাথলজি বিভাগে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী আমাকে ডিজি অফিসে যোগদান করে কিশোরগঞ্জে যোগদান করতে হয়। আমি প্রথমেই সহকারী পরিচালক (এখন পরিচালক) ডাঃ আমিনুল সাহেবের রুমে গিয়ে বসলাম। তিনি আমার ঘনিষ্ঠ জুনিয়র বন্ধু। আমার বদলীর খবর শুনে খুশী হলেন। আমার কাগজপত্র নিয়ে ডিলিং এসিস্টেনকে দিলেন সব কিছু করে দেয়ার জন্য। আমি কিছুক্ষণ কথা বলে ডাইরেক্টর মেডিকেল এডুকেশন সাহেবের রুমে গেলাম। আমার ক্লাসমেট ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রফেসর ডাঃ আব্দুর রশিদ মানিক মাত্র কয়েকদিন আগে ডাইরেক্টর মেডিকেল এডুকেশন হয়েছেন। ডাইরেক্টর হওয়ার পর এটাই আমার প্রথম দেখা। রুমে প্রবেশের আগে ভাবলাম “স্যার ডাকবো, না দোস্তো ডাকবো? সালাম দিয়ে রুমে প্রবেশ করবো। যদি আমাকে দোস্ত ডাকেন আমিও দোস্তো ডাকবো। তবে লোকের সামনে স্যার ডাকবো। যদি সাদেক সাব ডাকেন, আমি স্যার ডাকবো।” আমি সালাম দিয়ে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন
– আরে দোস্তো, কেমন আছো?
– আলহামদুলিল্লাহ, দোস্তো, ভালো আছি। তুমি ?
– ভালো। বসো। আর কি খবর?
– কিশোরগঞ্জ বদলী হয়েছি। যোগদান করতে এসেছি।
– ভালো হলো। মন্দের ভালো। দোস্তো, একটু বসো। কিছু কাগজ সই করে নেই। পড়ে কথা বলি।
– সিউর।

প্রায় প্রত্যেক অফিসারকেই দেখেছি নতুন কর্মস্থলে আসলে রুমটা একটু নতুন করে সাজিয়ে নেন। আমার এই বন্ধুটিও তাই করছেন। তিনি ডাইরেক্টর মেডিকেল এডুকেশন-এর রুমটি রেনুভেশন করাচ্ছিলেন। তাই অস্থায়ীভাবে একটি ছোট রুমে বসে জরুরী কাজগুলি করছিলেন। ছোট রুম, ছোট টেবিল, সামে ছোট ছোট দুইটি চেয়ার। আমি একটি চেয়ারে বসলাম। টেবিলে অনেক ফাইল। সই করতে অবেক সময় লাগবে। ডাইরেক্টর একাগ্রচিত্তে সই করে যাচ্ছেন। ডিলিং এসিস্টেন্ট পাতা উল্টিয়ে দিচ্ছেন। আমি দোস্তের চেহারার দিকে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি। আমারই সমবয়স্ক বন্ধু। কত ইয়াং! আর আমি বৃদ্ধ হয়ে পড়ছি। আমার চেহারায় কেমন বিষণ্ণতা এসে গেছে!

এমন সময় বিরাট দেহী অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মনছুর খলীল স্যার প্রবেশ করলেন সালাম দিয়ে। তিনি ডাইরেক্টর সাহেবকে স্যার ডাকলেন। তিনি ডাইরেক্টর সাহেবের এক বছরের সিনিয়র। উভয়েই উভয়কে স্যার ডাকলেন। আমি দাড়িয়েছিলাম। স্যার, আমার কাধে মৃদু চাপ দিলেন বসার জন্য। বললেন
– কই, আসলে না তো?
– স্যার, আমি গত কয়েকদিনে দিনাজপুর গিয়ে এল পি সি সহ সব কাগজপত্র নিয়ে এসেছি। গতকাল বিজয় দিবসের ছুটি ছিল। তাই আজ এসেছি। এখানে যোগদানের কাগজপত্র জমা দিয়েছি। সই হলে চলে যাব। আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। শনিবার আপনার অফিসে যোগদান করব। আমি কি কাগজপত্র অফিসে জমা দিব না আপনার কাছে আগে দিব?
– শোন, আমার শরীর ভালো যাচ্ছে না। আমি হয়তো শনিবার বাসায় থাকবো। অফিসে যাবো না। তুমি আমাকে খুঝবে না। অফিসে আকরামের কাছে জমা দিবে। আক্রামকে বলা আছে। সেই সই করিয়ে নিবে। আমাদের অফিস কিন্তু কলেজে না। তোমাকে কলেজে ক্লাস নিতে হবে। অফিসে কাগজ দিতে হবে। অফিসটা হলো সদর হাসপাতালের তিন তলায়। সিড়ি বেয়ে উঠে সিড়ির পুর্বপাশে একটু ভিতরের দিকে। ওখানে আকরাম অথবা নাদিমকে তুমি পাবে।
আমি লক্ষ করছিলাম মনছুর স্যার কথা বলার সময় হাফাচ্ছিলেন। মনে করলাম ভাড়ী মানুষ। হয়তো হেটে উপরে উঠেছেন তাই হাফাচ্ছেন। মাঝে মাঝে তিনি একবার আমার সাথে আর একবার ডাইরেক্টরের সাথে ছোট ছোট কথা বলছিলেন। আমি বুঝতে পারলাম তিনি কলেজের জন্য একটি বাসের সেংশন করাতে এসেছেন ডাইরেক্টর সাহেবের নিকট থেকে। এই বাসটি ১৯৮০ সনে আমি যখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়তাম তখন প্রেসিডেন্ট কলেজকে উপহার দিয়েছিলেন। সেইটি এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মনছুর স্যার সেটিকে নিয়ে মেরামত করায়ে তার বাচ্চাদের (ছাত্র) জন্য ব্যবহার করবেন। তাই হয়েছে। এখন কিশোরগঞ্জের ছাত্ররা সেই বাস দিয়ে কলেজ টু হাসপাতালে যাতায়াত করে।

একসময় আমি বললাম
-স্যার, প্যাথলজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব কে পালন করবেন। ডাঃ ওবাইদুল ভাই বয়সে আমার থেকে সিনিয়র। ডাঃ তানভীর আমার থেকে বয়সে জুনিয়র। আমরা তিনজনই সহকারী অধ্যাপক।
– শোন, তুমি রেগুলার সহকারী অধ্যাপক। ওনারা চলতি দায়িত্বে। কাজেই, নিয়ম অনুযায়ী তুমিই প্রধানের দায়িত্ব পাবে। আমি আক্রামকে সেভাবেই বলে দিয়েছি। তুমি তোমার মতো করে ডিপার্টমেন্ট সাজাবে। যা যা প্রয়োজন লিখে দিবে। আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিব। আমাদের বৃহত্তর ময়মনসিংহের যারা দূরে দূরে চাকরি করছেন তাদের খুজ নিয়ে দেখবে কিশোরগঞ্জ আসতে চায় কি না। চাইলেই আমাকে জানাবে।
এভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক কাটলো। আমার চলে আসার সময় হয়ে গেলো। আমি মনছুর স্যারকে বললাম
– স্যার, আমি এখন আসি?
– তোমাকে যেতে হলে আমার হাটুর সামনে দিয়ে যেতে হবে। আমার হাটুর সামনে দিয়ে তোমার যাওয়া ঠিক হবে?
– ঠিক আছে স্যার। একটু পরেই যাচ্ছি। আপনার কাজ শেষ হোক।

এরপর আরও কিছু সময় বসলাম। স্যার, বললেন “সাদেক, আমি একটু দেখে আসি ওরা অর্ডারটা টাইপ করতে দেরী করছে কেন।” স্যার উঠে দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এসে বললেন “আমি এখনই আসছি। তুমি সীটটা ছাড়বে না। একটা মাত্র সীট। হারালে বসতে পারব না। এর মধ্যে তোমার কথা সেরে ফেলো। স্যার তো তোমার দোস্তো। ”

মনছুর স্যার অনেকক্ষণ হলো ফিরে এলেন না। মৃত্যুরর পর আমি শুনেছি তিনি অফিসের ফ্লোরে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তাই, ফিরেন নি। স্যারের বিলম্ব দেখে আমি ডাইরেক্টরের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। জীবিত মনছুর স্যারের সাথে এটাই ছিল আমার শেষ দেখা। তার শেষ নির্দেশ ছিল “আমি যেন সীটটা না ছাড়ি। ” আমি তার শেষ নির্দেশ রক্ষা না করেই চলে আসায় আমার এখন অনুশোচনা হয়।

১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং আমি সকালে মেডিকেল কলেজের অফিসে যোগদানপত্র জমা দেই। অফিস এসিস্টেন্ট নাদিম থেকে জানতে পারি অধ্যক্ষ স্যার অসুস্থ। বাসা থেকেই অফিস করছেন। আমি কলেজ হয়ে চলে আসি ময়মনসিংহ বাসায়। আমার যোগদানপত্র ২০ তারিখ রবিবার স্যারের বাসায় নিয়ে গিয়ে নাদিম সই করায়ে আনেন। আমি মনে করি এটাই মনছুর স্যারের হাজারো ভালো কাজের মধ্যে শেষ কাজ। মানুষ বড় বড় মানুষের সাথে দেখা হলে অটোগ্রাফ নেন। আমার যোগদানপত্রে মনছুর স্যারের স্বাক্ষরটি একটি মুল্যবান অটোগ্রাফ। বারাক ওবামা নাকি তাজমহল দেখার পর মন্তব্য করেছিলেন “পৃথিবীতে দুই প্রকার মানুষ আছে। এক প্রকার মানুষ হলো যারা তাজমহল দেখেছে, আরেক রকম হলো যারা তাজমহল দেখে নাই।” আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে দুই রকম ডাক্তার আছে। যারা ডাঃ মনছুর খলীল স্যারকে দেখেছেন আর যারা দেখেন নি।

২০ তারিখ রবিবার সকালে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও বি এম এ-র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মতিউর রহমান ভুঁইয়া ভাইয়ের সাথে দেখা করে জানালাম যে আমি কিশোরগঞ্জ এসেছি। তিনি বললেন
– আপনাদের প্রিন্সিপাল অসুস্থ হয়ে এম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ আসছেন। আমরা তার জন্য কেবিন রেডি করছি।

আমি ঐদিন স্যারকে ডিস্টার্ব করা ঠিক হবে না ভেবে পরের দিন সোমবার দেখতে গেলাম। কার্ডিওলজিস্ট, স্যারের ব্যাচমেট, প্রফেসর এম এ বারী নিশেধ করলেন। তিনি বললেন “মনছুর কেউ দেখা করতে গেলে রাগ করে।” আমি বুধবারেও এইভাবে ফিরে এলাম। ২৪ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রহ্মম্পুত্র নদের পাড়ে সিলভার ক্যাসেলে আমার ছাত্র-ছাত্রী আজফার-চৈতির বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলাম। বিয়ের দাওয়াত খেয়ে পান খাওয়ার অভ্যাস আছে আমার। আমি পান মুখে দিয়ে কয়েক চিবানো দেয়ার পর বন্ধু ডাঃ ইকবাল (প্রফেসর এ এফ এম সালেহ) মোবাইল করলো
– তুমি কই?
-আমি…..।
-তোমার প্রিন্সিপাল মনছুর খলীল ভাই মারা গেছেন এই মাত্র।
– ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। স্যার কোথায়।
– কিছুক্ষণ আগে জোড় করেই হাসপাতাল থেকে নতুনবাজারের বাসায় চলে যান। বাসায় গিয়ে ওয়াসরুমে প্রবেশ করেন। ওয়াসরুম থেকে বের হয়েই খাটের উপর চিত হয়ে শুয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমি দ্রুত গিয়ে হাজির হলাম। দেখলাম বিশাল দেহী বিশাল মনের মানুষটি বিশাল দেহটি বিছানায় ছড়িয়ে বিশাল কর্মময় জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে পড়ে আছে নিথর হয়ে। যেন একটি বিরাট বিদ্যার জাহাজ চড়ে আটকা পড়ে আছে। এটাই আমার স্যারের শেষ দেখা। আমার প্রিয় মনছুর ভাই। আমার শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল প্রফেসর মনছুর খলীল। চিকিৎসা জগতের কিংবদন্তী অধ্যাপক ডাঃ মনছুর খলীল। আগামীকাল সেই ৭ই ডিসেম্বর, যেদিন আমি তার প্রচেষ্টায় সুদুর দিনাজপুর থেকে বদলী হয়ে কিশোরগঞ্জ আসতে পেরেছিলাম। আজ স্যারকে বেশী বেশী মনে পড়ছে। আল্লাহ স্যারকে বেহেস্ত দান করুন।

তারিখ: ৬/১২/২০১৮ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ – কিশোরগঞ্জ জার্নি

Leave a Reply

Your email address will not be published.