একটি সন্তানের জন্য

একটি সন্তানের জন্য
(রোগের গল্প)
ডা: মো: সাদেকুল ইসলাম তাকুকদার

জর্দা ফ্যাক্টরিটা মানিক মিয়ার বাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানিক মিয়ার বাবা আগে বই পুস্তকের দোকান করতেন। তিনি লক্ষ করে দেখলেন যে তার বন্ধু বিড়ির দোকান করে বেশী লাভ করেন। তাই তিনি বইয়ের দোকান বাদ দিয়ে বিড়ির দোকান করা শুরু করেন। বিড়ির ব্যবসায় বেশী বেশী লাভ হওয়ায় তিনি বিড়ির ফ্যাক্টরি দিয়ে ফেললেন। তারপর তামাক ফ্যাক্টরি। সেখান থেকে জর্দা ফ্যাক্টরি। যে বছর মানিক মিয়ার জন্ম হয় সেই বছরই জর্দা ফ্যাক্টরি উদ্বোধন করা হয়। আর নাম দেয়া হয় মানিক জর্দা ফ্যাক্টরি। জর্দার নাম দেয়া হয় মানিক জর্দা। এই জর্দা এখন জর্দা সেবনকারীদের প্রিয় জর্দা।

মানিক মিয়া জর্দা ফ্যাক্টরি থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেন। দান খয়রাতও করেন প্রচুর। প্রতি রমজান মাসে ঈদের আগে শহরে মাইকিং করে ফ্যাক্টরির ফটক থেকে যাকাতের শাড়ী, লুঙ্গী ও

জামা বিতরণ করেন। প্রত্যেক গরীব লোককে একটি করে দেয়া হতো। তাতে একজন মাত্র তিনশত টাকা মূল্যের একটা কাপড় পেতো । অথচ একদিন কাজ করলে এর দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যেত। এর জন্য দুরদুরান্ত থেকে হাজার হাজার লোকজন একদিন আগেই এসে লাইন দিয়ে বসে থাকত। ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই লাইন দিয়ে যাকাত বিতরণ শুরু হতো। সেবার ফটক খুলে দেয়ার সাথে সাথে হাজার মানুষ এক যোগে হুমরি খেয়ে পড়লে পদপিষ্ট হয়ে ১২ জন বৃদ্ধ ও শিশু মারা যায়। সেই থেকে মানিক মিয়া এই ভাবে আর যাকাতের কাপড় বিতরণ করেন না। পদপিষ্ট হয়ে এক শিশু মারা গেলে শিশুর মা অভিশাপ দিয়েছিল “মানিক মিয়া আমার বুক যেইভাবে খালি করছে ওর বুক জানি আল্লায় হেইভাবে খালি কইরা দেয়।”

পাঁচ বছর হয়ে গেল মানিক মিয়ার কোন সন্তান হচ্ছিল না। এনিয়ে মানিক মিয়ার স্ত্রী রাহেলার চিন্তা হচ্ছিল। আর কত দিন? একটা সন্তান পাওয়ার আশা তার অন্তরে সব সময়। পাড়া প্রতিবেশী মায়েদের কোলে সন্তান দেখে তারও ইচ্ছে হয় নিজের সন্তান কোলে নিতে। টেলিভিশনে সুন্দর সুন্দর বাচ্চার ডায়াপারের এডভার্টাইজ থেকে তার আকাঙ্ক্ষা আরো বেড়ে যায়। মানিক মিয়াও ভাবে তার কুটি কুটি টাকার ফ্যাক্টরি কার জন্য রেখে যাবেন। একটা সন্তান যদি এখন হত! পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা কোন পরিবার পরিকল্পণার পদ্ধতি নেন নি। তারপরও তাদের সন্তান হচ্ছিল না।

একবার গ্রামের বাড়ি গেলে জৌটা বুড়ির সাথে রাহেলার কথা হল। জৌটা বুড়ি বললেন
– আমার কাছে সন্তান হবার তাবিজ আছে। তবে তাবিজটা বানাইতে অনেক টাকা খরচ হইব। অনেকেই এই তাবিজ ব্যবহার করে সন্তান লাভ করেছে। আপনের থেকে এই পাঁচ হাজার টাকা নিলেই হবে। বাকীটা সন্তান হবার পর দিয়েন।
– তাবিজ নেবার কতদিন পর সন্তান পেটে আসবে?
– তার ঠিক নাই। শুধু তাবিজ নিলেই হবে না। আমারও তদবির করতে হবে। তদবির যত বেশী করব সন্তানও তত তাড়াতাড়ি আসবে।
– সন্তান হবার পর কত দিতে হবে?
– সেটা আপনি খুশী হইয়া যা দেন। অনেকে অনেক কিছুই দেয়। গতবার একজন একটা এক লাখ টাকা দামের অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী দিয়েছেন। অনেক দুধ দেয়।
-আমিও দেব। আমাকে একটা তাবিজ দেন।

রাহেলা তাবিজ পড়লেন। এক বছরেও কোন ফল হল না। একদিন এক মহিলা জর্দা কর্মী রাহেলাকে বললেন
– আপা, আমার জানা একজন চিশতিয়া তরিকার কামেল হুজুর আছে। প্রতি বছর খাজা বাবার ওরশে যায়। তার কাছে টাকা দিয়া দিলে খাজা বাবার দোয়ায় সন্তান হয়।
– কত টাকা দিতে হয়?
– সেটা, আপনার খুশী মতো। যতো বেশী টাকা দিবেন ততো তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।
– নেও, এই পাঁচ হাজার টাকা দিলাম। বেশী করে দোয়া করতে বলবে।

এক বছরেও খাজা বাবার দোয়ার ফল পাওয়া গেল না। আরেক মহিলা কর্মী বললেন
– আপা, কিছু মনে করুইন না যে, বাচ্চা অইব আপনের, দোয়া করবে খাজা বাবা। এটা হতে পারে না। আমাগো ইমাম সাব কইছে নিজের দোয়া নিজেই করতে হয়। আল্লাহ সবার দোয়াই শুনেন। কবুল করা না করা আল্লাহ্‌র ইচ্ছা। মানুষের কাম অইল দোয়া করা। তয় ইমাম সাব কিছু দোয়া শিখিয়ে দিবেন। আপনি সেই দোয়া নামাজ পড়ে করতে থাকুন। আল্লায় ফল দিতেও পারে।

রাহেলা এক বছর ইমাম সাহেবের শিখানো দোয়ার অজিফা করলেন। সন্তান পেটে আসলো না। একবার পত্রিকায় দেখলেন হুজুর ফকরাবাদীর দোয়ায় পুত্র সন্তান লাভ। আলখেল্লা পরা হুজুরের ছবি ও বাচ্চা ও তার মা বাবার ছবি দেয়া আছে পেপারে। হুজুরের ঠিকানাও দেয়া আছে। রাহেলার অনুরোধে একদিন দুইজন ফকরাবাদীর দরবারের উদ্যেশ্যে রওনা দিলেন। রাস্তায় এক লোকের সাথে কথা হলো। তাদের উদ্যেশ্যের কথা জেনে লোকটি বললেন
– আপনারা ভুল করছেন। ফকরাবাদী একজন ভন্ড মানুষ। তার কাছে গেলে দেখবেন আপনার স্ত্রীকে ফু দেয়ার নামে তার খাস কামরায় নিয়ে অনেক্ষণ পর বিদায় দিবে। অজ্ঞান করে কি করবে তা আপনি বুঝতে পারবেন না। তার তদবিরে যে সব বাচ্চা হয়েছে দেখবেন সবগুলির চেহারা ফকরাবাদীর মতো।
– হায়, হায়, হায়! কি করছি আমরা! কিছুতেই ওখানে যাব না।
আরেকদিন একজন মানিক মিয়াকে বললেন
– আমার জানা একজন অজগবি কবিরাজ আছে। সে বন্ধা মেয়েদের চিকিৎসা করে। সে স্বপ্নে একটা ঔষধ পেয়েছে। সেইটা আঠালো একটা তরল পদার্থের সাথে মিশিয়ে ছোট ছোট শিশিতে সাপ্লাই করে থাকে। ঐ ঔষধ জরায়ু মুখে লাগালে সন্তান হয়।
– ঔষধ আনতে কি আমার স্ত্রীকে সাথে নিতে হবে?
– না। আপনি গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসবেন। লাগানোর নিয়ম কবিরাজই শিখিয়ে দেবেন।
– প্রতি শিশির দাম কত?
– দাম বেশী না। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা।

মানিক মিয়া ঔষধের জন্য রওনা দিলেন। পথে আলাপ হল তার এক বন্ধুর সাথে। বন্ধু বুঝালেন
-কবিরাজ আসলে ঔষধের নাম করে নিজের সিমেনটাই দিয়ে দেন। এইজন্য দেখা যায় তার দেয়া ঔষধ ব্যবহার করে যতগুলি বাচ্চা হয়েছে তার বেশীরভাগই দেখতে তার মতো।
– হায়, হায়। কও কি? প্রায়ই সর্বনাশ করে ফেলছিলাম। দোস্তো বাচাইলা।

আরেকদিন একজন এসে মানিক মিয়াকে জানালেন
-আমার খোজে এক ফকির আছে সে জিন পালে। তার কাছে বর্মাদুষ্ট আসে। বর্মাদুষ্টে বলে দিতে পারে কার সন্তান হতে পারে। তবে তাকে ভাড় করতে হলে পাঁচ ছয়জন রুগী থাকতে হয়।
– ঠিক আছে। আমি রুগী যোগাড় করব। তুমি তাকে আনো।
– তাকে ভাড় করতে হলে অমাবস্যা রাত হতে হবে। গভীর রাতে ছাদের উপর সব রুগী হাজির থাকবে। সেখানে বর্মাদুষ্ট এসে কার কার ফল আছে তার কথা বলে দিবে।

এক মঙ্গল বার রাতে পাঁচজন নি:সন্তান পুরুষ রুগীর মাঝে বর্মাদুষ্ট হাজির হল। ফকির ভাড় হলে বর্মাদুষ্টের আত্ত্বা তার ভিতরে প্রবেশ করে। ফকির যা করবে তা মনে করতে হবে বর্মাদুষ্টে করছে। যা বলবে মনে করতে হবে বর্মাদুষ্টে বলছে। বর্মাদুষ্ট হলো জিন জাতীয়। এসেই বর্মাদুষ্ট লাফালাফি শুরু করলো। দুর্বোধ্য ভাষায় গালি দিতে লাগলো। সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বসল। ঘুট ঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ লাফ দিয়ে সে মানিক মিয়ার কোলে বসে একটা চুমা খেয়ে বলল
– হক মওলা। আছে। আছে তোর ফল আছে। শীঘ্র তুই ফল পাবি। এখানে আর কারো ফল নাই। কি দিবি তাড়াতাড়ি দিয়ে দে। আমি যামু গা। অন্য বাড়িতে কল আছে।

মানিক মিয়া খুশী হয়ে দশ হাজার টাকা বকশিশ দিয়ে দিলেন। বর্মাদুষ্ট টাকা নিয়ে চলে গেল। মানিক মিয়ার মনে আশার সঞ্চার হল। খবরটা রাহেলাকে জানালে রাহেলা বললেন
– তোমার তো ফল আছে। তাইলে কি আমার দোষে বাচ্চা হয় না?
– হতে পারে।
– যদি তাই হয় তয় কি তুমি আরেকটা বিয়ে করবে?
– হায়, হায়, কও কি? বিয়ে আমার জীবনে একটাই।
– চল, আমরা গাইনি ডাক্তার দেখাই। দেখি সমস্যা কোথায়।
দুইজনে পরামর্শ করে ডাঃ ফরিদা বেগমের চেম্বারে গেলেন। বিস্তারিত জানার পর ফরিদা বেগম সংক্ষেপে বাচ্চা না হওয়ার সম্ভাব্য কারন ও তার প্রতিকারে কি কি করনিয় তা বুঝিয়ে বললেন
– নি:সন্তান দম্পতিদের ৫০% পুরুষের শারীরিক কারনে আর ৫০% মেয়েদের সমস্যার কারনে হয়ে থাকে। প্রথম পরীক্ষা হিসাবে আমরা মানিক মিয়ার সিমেন এনালাইসিস করব। এটাতে যদি সমস্যা না থাকে তবে রাহেলার কিছু পরীক্ষা করব।
– সিমেন এনালাইসিস কি?
– এটা আপনার বীর্য পরীক্ষা। এর মধ্যে শুক্রাণুর অবস্থা জানা যাবে।

সিমেন পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো। খবরটা নান্টু ঘটকের কানে গেল। ঘটক এসে জর্দা দিয়ে পান চিবাতে চিবাতে মানিক মিয়াকে বলল
– আমি শুধু আপনার ফ্যাক্টরির মানিক জর্দা দিয়েই পান খাই।
– তা, কি খবর ঘটক ভাই?
– ভালো। শুনলাম আপনার ইয়ে পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো। তাই আসলাম। মানে, সমস্যাটা তা হলে আপনার বিবির। এত এত ধন সম্পত্তির মালিক আপনি। আপনি নি:সন্তান অবস্থায় চলে যাবেন? আমার কাছে একটা পাত্রী আছে। একটা ছেলে হয়েছিল। পানিত পড়ে মারা গেছে। মেয়েটার স্বামীও এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। বিয়ে করলেই বাচ্চা হবে। রাহেলা ভাবীকে বুঝিয়ে বলবেন যে পয়েলা যে বাচ্চাটা হবে সেটা তাকে দিয়ে দিবেন। তাতেই তিনি রাজী হবেন।
– মাথা খারাপ! বিয়ে আমার জীবনে একটাই।

রাহেলা আড়াল থেকে কথাগুলি শুনছিলেন। তিনি স্বামীকে ঘটকের কথায় রাজী হতে বললেন। কিন্তু মানিক মিয়া রাজী হলেন না।

রিপোর্ট নিয়ে ডাঃ ফরিদা বেগমের নিকট গেলেন। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ল যে রাহেলার শরীরেই সমস্যা। রাহেলার পেটের ওভারীতে প্রতি মাসেই ডিম্বানু বড় হয়। কিন্তু মানিক মিয়ার শুক্রাণু রাহেলার ডিম্বানুর সাথে মিলিত হতে পারে না। শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে একটি ভ্রূণ তৈরি হয়। সেই ভ্রুণ ফ্যালোপিয়ান টিউবের মধ্য দিয়ে জরায়ুতে এসে সন্তান আকারে বড় হয়ে ভুমিষ্ট হয়। রাহেলার কোন না কোন রোগের কারনে টিউব নালী বন্ধ হয়ে গেছে।

– এখন কি করা যায়?
– আপনার আই ভি এফ করতে পারেন।
– বুঝিয়ে বলুন।
– আই ভি এফ হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। রাহেলার পেট থেকে একটা পরিপক্ব ডিম্বাণু নিয়ে ল্যাবরেটরিতে মানিক মিয়ার শুক্রাণুর সাথে নিশিক্ত করা হবে। এভাবে ভ্রুণ তৈরি করে রাহেলার জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হবে। সময় হলে রাহেলা বাচ্চা প্রশব করবেন অন্যান্য মায়েদের মতোই।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আই ভি এফ এর মাধ্যমে রাহেলা সন্তান ধারন করলেন। নভেম্বর মাসের চার তারিখে রাহেলা একটি ফুট ফুটে মেয়ে সন্তান প্রসব করলেন। সবাই খুব খুশী হলো। মহল্লার সবাইকে মিষ্টি খাওয়ানো হলো। সন্তান হবার খুশীতে মানিক মিয়া ঘোষণা দিলেন তিনি তার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগই এখন দান করে দিবেন। এদিকে মহল্লার মাস্তান খলকু কাদের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে বসলো। চাঁদা না দিলে খবর আছে। মানিক মিয়া জানিয়ে দিলেন এক পয়সাও চাঁদা দিবেন না। খলকু কাদের আল্টিমেটাম দিয়েছে নভেম্বরের আট তারিখের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা না পেলে নয় তারিখ বিকেলে সে মানিক মিয়ার বাসায় আসবেন। টাকা না দিলে সব শেষ করে দেয়া হবে। মানিক মিয়ার খুব রাগ হল। তিনি বিকেলে বিশ্রামের সময় বালিশের পাসে লোড করা পিস্তল রেখে ঘুমাবার চেষ্টা করলেন। মনে মনে স্থির করলেন। এবার কোন কথা নেই। মাস্তান আসার সাথে সাথে গুলি করা হবে। মানিক মিয়ার একটু তন্দ্রার ভাব এলো।

বাসার সামনে একদল তৃতীয় লিঙ্গ মানুষ এলো। তারা হিজরা নামে পরিচিত। হিজরারা মহল্লায় কোন বাচ্চা জন্মালে নবজাতককে কোলে নিয়ে নেচে নেচে গান গায় ও মোটা অংকের বকশিস দাবী করে। সবাইকে নিচে রেখে হিজরা রানী উপরে উঠে আসলো।
কলিং বেল বাজালো। রাহেলা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে দরজা খুলে দিলেন। হিজরা রানী সন্তানটাকে ছোঁ মেরে কোলে নিয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলো। রাহেলা চিৎকার দিল “আমার কলিজার টুকরাকে নিয়ে গেল। ” চিৎকার শুনে মানিক মিয়ার তন্দ্রা ভেংগে গেল। লাফ দিয়ে উঠে খলকু কাদেরের জন্য লোড করা পিস্তল হাতে নিয়ে দৌড় দিয়ে নিচে নেমে গেল। ততক্ষণে হিজরা রানী মেইন গেইট পর্যন্ত চলে গেছে। মানিক মিয়া পিস্তলের ট্রিগারটি টিপে দিল। একটা বুলেট গিয়ে হিজরা রানীর পিঠের বাম দিক দিয়ে ঢুকে হৃদপিন্ড ছিদ্র করে বুকের সামনে দিয়ে বেড়িয়ে গেল। হিজরা রানী গেইটের উপর লুটিয়ে পড়ে শেষ নি:স্বাস ত্যাগ করল। শিশুটি ছিটকে মাটিতে পড়ে কাঁদতে লাগলো। রাহেলা দৌড়ে এসে শিশুকে নিয়ে ভিতরে চলে গেলেন। মানিক মিয়া হতভম্ব হয়ে পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে রইলেন। কাছেই টহল পুলিশ ছিল। দ্রুত এসে মানিক মিয়াকে ধরে ফেললো। পুলিশের ভ্যানে উঠিয়ে নিল। রাস্তায় তখন তেমন গাড়ি ঘোড়া ছিল না। শুধু একটা রিক্সায় করে এক জোড়া ছেলে মেয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটি বলল
– দেখ, পুলিশে এক লোককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
– নিশ্চয়ই লোকটি কোন জংগী টংগী হবে।

নিচতলায় দাঁড়ানো বুয়া মন্তব্য করল “একটা সন্তানের জন্য বেটাডা কত কিছুই না করল! শেষে মানুষ খুন করতে হল একটা সন্তানের জন্য। ”
৩০/৭/২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published.