এক রিক্সাওয়ালা

 

এক রিক্সাওয়ালা
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৯১ সনের কথা। সকাল থেকেই মুশলধারায় বৃষ্টি পড়ছিল। বাসার আশ পাশ হাটু পানি। ঢাকার রায়ের বাজার থেকে মহাখালী বাস টার্মিনালে রিক্সায় যেতে হবে। তখন ভাড়া লাগতো মাত্র ১৫ টাকা। ধারনা করলাম এত পানিতে রিক্সা ভাড়া কমপক্ষে ৫০ টাকা নিবে। সুমনকে অনুরোধ করলাম ছাতা মাথায় দিয়ে সামনের রাস্তায় থেকে একটা রিক্সা ফুরিয়ে আনার জন্য। আমি সব সময় রিক্সা ভাড়া ফুরিয়ে উঠি। কারন, এটা ইসলামী সুন্নত বিধান।

সুমন একটা রিক্সা নিয়ে এলো।
-ভাড়া কত ফুরিয়েছো?
– রিক্সাওয়ালা ভাড়া ফুরায় না। বলে যা ভাড়া আছে তাই দিবেন।
– আমি তো তোমাকে ভাড়া ফুরিতে আনতে বলেছিলাম।
-রিক্সা পাওয়াই যায় না। একটা রিক্সাই ছিল। আমি বারবার ভাড়া ফুরাতে বলেছি। তা উনি বলেন যা ভাড়া আছে তাই দিবেন। করার কিছু নাই।

রিক্সাওয়ালা অনেক কষ্ট করে পানির ভিতর দিয়ে চালিয়ে মহাখালী নিয়ে গেলেন। আমার সন্দেহ হলো এবার সে একশ টাকা খসিয়ে নেবে। আমি মনে মনে ভাবলাম আমি প্রথমে ৫০ টাকা দেব। না নিলে কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ১০০ টাকা দেব। মহাখালী পৌঁছে রিক্সা থেকে নেমে আমি বললাম
– কত দেব?
– যা ভাড়া আছে তাই দেন।
– এই নেন ৫০ টাকা।
– যা ভাড়া আছে তাই দেন।
– আমি আগেই বলেছিলাম ভাড়া ফুরিয়ে নিতে। আপনার মতলব ভালো ছিল না। এখন ৫০ টাকা দিচ্ছি তাও নিচ্ছেন না। রায়ের বাজার থেকে মহাখালীর ভাড়া ১৫ টাকা। বৃষ্টির জন্য খুব বেশী হলেও ৫০ টাকাই যথেষ্ট।
– আপনি ভাড়া দেবেন ১৫ টাকা। ৫০ টাকা দিচ্ছেন কেনো?
ভাবলাম বেটা দাড়ি টুপিওয়ালা লোক। পেঁছি তো কম না।
– ঠিক আছে। ৮০ টাকা নেন।
– আপনি মনে হয় মনে করছেন আমি রাগ করেছি। আসলে তা না। বৃষ্টি হয়েছে বলে আমি ভাড়া বেশী নেব কেন। বৃষ্টি দিয়েছেন আল্লাহ। বৃষ্টি আল্লাহর রহমত। যে আল্লাহ আমাকে রিক্সা চালিয়ে রেজেকের ব্যবস্থা করেছেন। আমার বাবা আমার জন্য জমি জমা রেখে যান নি। আল্লাহ আমার জানটা সুস্থ রেখেছেন। কত বড় দয়া তার! মাফ করবেন আমি ১৫ টাকার বেশী নিতে পারব না।

আমি ১৫ টাকা দিয়ে তাকে বিদায় দিলাম। ভাবলাম এ আমি কি দেখলাম!
১৯/৯/২০১৮ ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published.