কলোরেক্টাল ক্যান্সার

কলোরেক্টাল ক্যান্সার
(সাধারণ জ্ঞানে রোগ নির্ণয়)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
খুদ্রান্তের পরের অংশকে বলা হয় কোলন (colon) বা বৃহদন্ত্র। তারও নিচের যে অংশে মল জমা থাকে সেটাকে বলা হয় রেক্টাম (Rectum)। এই অংশের ক্যান্সার-কে বলা হয় কোলোরেক্টাল ক্যান্সার।
লক্ষ্মণঃ
১। মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন।
২। কমপক্ষে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য বা পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা।
৩। পায়ুপথে বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
৪। পেটে অস্বস্তিভাব যেমন গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, পেট মোচড়ানো, পেট ফাঁপা ভাব ইত্যাদি থাকা।
৫। ক্রমশ ওজন কমে যাওয়া।
৬। রক্তশূন্যতা।
৭। মলত্যাগের পরেও পেট পুরোপুরি খালি হয় নি এমন বোধ হওয়া।
কারনঃ
এই ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কোন কারন নাই। তবেএই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিগুলি হলো নিম্নরূপ
১। এই ক্যান্সার যে কোন বয়সেই হতে পারে। তবে সাধারণত ৫০ বা তাঁর বেশি বয়সের মানুষদেরই বেশি হয়ে থাকে।
২. আগে থেকেই কোলন বা অন্ত্রের কোন অংশে ক্যান্সার বা পলিপ হয়ে থাকলে।
৩. অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ যেমন ইনফেকশন, আলসার, অন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি ঠিকমত চিকিৎসা না হলে কোলন ক্যান্সার-এ রুপ নিতে পারে।
৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনকারীরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সেটা যে কোন ধরনের ক্যান্সার-এর জন্যই। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের থেকে ৩০-৪০ ভাগ বেশি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
৫. খাদ্যতালিকায় শর্করার তুলনায় আমিষ বেশি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। যেমন- গরুর মাংস, ফাস্টফুড, বার্গার এসব বেশি খেলে বা শাক সবজি তুলনামুলক ভাবে কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা মানেই তিনি কোলন ক্যান্সার-এর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
৬. ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের ইনসুলিন রেজিস্টেন্স আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
৭. স্বাভাবিক ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন যাদের তাঁদের কোলন ক্যান্সার-এ আক্রান্ত হওয়ার এবং মৃত্যুর হার বেশি
করণীয়ঃ
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তন করা জরুরী। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রকম ফলমূল ও সবজি বেশি পরিমাণে রাখতে হবে।
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে হবে এবং সঠিক ওজন বজায় রাখতে হবে।
যারা ঝুঁকিতে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেমন যাদের মলাশয়ে পলিপ আছে, দ্রুত সেটার চিকিৎসা করতে হবে। বংশে কোলন ক্যান্সার হয়েছে এমন কেউ থেকে থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।
উপরে উল্লেখিত লক্ষ্মণগুলো দেখা দিলে রোগীকে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ডাক্তার অথবা কলোরেক্টাল সার্জন দেখাতে হবে। তিনি রোগীকে কলোনোস্কোপি পরীক্ষা করে হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাবেন। এই পরীক্ষায় ক্যান্সার কনফার্ম করার পর সার্জারি, ক্যামোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
০৭/০১০/২০২০ খ্রি.
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
প্যাথলজি বিভাগ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ