কিয়ামত কখন হইবে?

স্মৃতির পাতা থেকে

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে কিয়ামত সম্বন্ধে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। রিয়াজ উদ্দিন কাকা একটু উলটা পালটা কিছু দেখলেই বলতেন কিয়ামত এসে গেছে। এই কিয়ামত কি এটা জানার জন্য অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি। বড়ির আশে পাশে যত ধর্মীয় মাহফিল হত আমি যেতাম। সেখানে কিয়ামত নিয়েও বয়ান হত। শুনতে শুনতে এমন একটা ধারনা হল যে কিয়ামত হল এমন একটা সময় যখন ইশ্রাফিল ফেরেস্তা আল্লাহ্‌র আদেশে শিংগায় ফু দিবেন পৃথিবী ও বিশ্ব ভ্রম্মান্ড সব ধংশ হয়ে যাবে। কিয়ামত কখন হবে তা আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানেন না। হবার আগে তার অনেক আলামত লক্ষ করা যাবে। সব কিছু অনিয়মের ভিতরে চলে যাবে। ছোটরা বড়দেরকে মান্য করবে না। বড়রা ছোটদেরকে স্নেহ করবে না। মারামারি হানাহানি কাটা কাটাকাটি লেগেই থাকবে ইত্যাদি। আল্লাহকে স্মরন করার মত কোন বান্দা থাকবে না। সুর্য অনেক কাছে চলে আসবে। এইরকম অনেক আলামত দেখা দিবে। আমরা একটু বাড়িয়ে বলতাম। বলতাম “মেয়েরা ছেলেদের থেকে শক্তিশালী হবে। তারা ছেলেদেরকে ঝাড়ু হাতে তাড়া করবে। তারা তাড়া খেয়ে আত্ব রক্ষার্থে চাংগে উঠবে। আর মাফ চাবে। ”

চতুর্থ শ্রেণী থেকে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার বই পাঠ্য ছিল। নাম ছিল ইসলামীয়াত। ইসলামীয়াত বইয়ে কিয়ামত নিয়ে একটা চেপ্টার ছিল। ওখান থেকে একটা প্রশ্ন পরীক্ষায় আসত “কিয়ামত কখন হইবে? উহার কয়েকটি আলামত বর্ননা কর।” শাহজাহান ভাই আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। পড়তেন চতুর্থ শ্রেণীতে। এই প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার খাতায় লিখে ছিলেন এই ভাবে “কিয়ামত কখন হইবে তা তো আমি জানি না। আমার বাবাও জানেন না, দাদাও জানেন না। আমার চৌদ্দ গুস্টির কেউ জানেন না। ” খাতা দেখেছিলেন শাখাওয়াত স্যার। স্যার স্কুলের সব ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষকণ করে খাতা হাতে নিয়ে বলছিলেন “দেখ, শাহজাহান কি লিখেছে। ” এটা ছিল ১৯৬৯ সনের কথা।
=====
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ফেইসবুক পোস্ট
১৬/১০/২০১৭