জগের ভিতর আস্ত ডাব

(স্মৃতিচারণ)

জগের ভিতর আস্ত ডাব
ব্রিগেডিয়ার জহির স্যার ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক। তিনি তখন কর্নেল ছিলেন। সবাই সংক্ষেপে কর্নেল সাব বলতো। তিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং সাহসী পরিচালক ছিলেন। তার সময় চিকিৎসকগণ নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে কাজ করতেন। হাসপাতাল ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হাসপাতালে অহেতুক কোন লোক ঠুকতে পারত না। তিনি সারাক্ষণ একটা ছড়ি হাতে নিয়ে তিড়িংতিড়িং করে হাসপাতাল চষে বেড়াতেন। কর্মচারীরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতো। হাসপাতাল নোংরা হয় এমন কোন জিনিস গেইট দিয়ে ঢুকতে পারতো না। বিশেষ করে পান ও আস্ত ডাব কেউ নিয়ে ঢুকতে পারতো না।

১৯৯২ সনের দিকে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলাম। আমার এক আত্বীয়ার হাসপাতালে অপারেশন হয়েছিল। রোগী স্বামী একটি নামকরা হাই স্কুলের নামকরা বিএসসি টিচার ছিলেন। তিনি আমাকে খুব ভাল বাসতেন। তাই আমি প্রায়ই কলেজ থেকে ফেরার সময় মাস্টার সাহেবের সাথে দেখা করে যেতাম।

একদিন তিনি একটি ৫০ সিসি প্লাস্টিক সিরিঞ্জ উচু করে ধরে বললেন
– সাদেক, দেখোতো এই সিরিনঞ্জের সুঁইটা বন্ধ হয়ে গেছে কি না।
– হ্যা, এটাতো ব্লক হয়ে গেছে। এটা দিয়ে কি করবেন?
– এটা দিয়ে ডাবের পানি বের করতে চেয়েছিলাম।
– ডাব কোথায়?
– এই যে।
আমি দেখলাম একটা বড় প্লাস্টিকের জগের ফিতর একটা মুখ কাটা আস্ত ডাব ফেল ফেলিয়ে তাকিয়ে আছে।
– জগের ভিতর আস্ত ডাব রেখেছেন কেন?
– ডাক্তার সাব আজ রোগীকে মুখে খেতে উপদেশ দিয়েছেন। প্রথমে ডাব খেতে বলেছেন। জানলাম যে কর্নেল সাব ভিতরে ডাব নিয়ে আসতে দেন না। আয়া বুদ্ধি দিল যে জগে করে ডাব আনবেন। আমি চড়পাড়া বাজার থেকে এই জগটি কিনেছি। ডাব বিক্রেতা শুধু ডাবের মুখ কেটে দিয়েছে। বলেছে খাওয়ার সময় ছিদ্র করে খেতে হবে। আমি ডাবটা খারা করে জগের ভিতর ঢুকিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে গেইট দিয়ে প্রবেশ করেছি। কেউ টের পায়নি যে আমি ডাব এনেছি। জগের ভিতর রেখে ডাব ছিদ্র করব কিভাবে ভেবে বুদ্ধি করে ফার্মেসী থেকে একটা ৫০ সিসি সিরিঞ্জ কিনে এনেছি। সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে ডাবের পানি বের করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুঁই ঢুকানোর সময়ই ডাবের ছোবলায় ব্লক হয়ে গেছে। এখন কি করি?

আমি আয়াকে বললাম
-তুমি ডাব জগের ভিতর আনতে বলেছ কেন?
– কর্নেল সাব আস্ত ডাব আনতে দেন না। ডাবের ছোবলায় হাসপাতাল নোংরা হয় । তাই সবাই ডাব কেটে ডাবের পানি জগে করে নিয়ে আসে। এই স্যারে, বুঝতে না পেরে আস্ত ডাব জগের ভিতর এনেছেন।

আমি থ মেরে গেলাম।
হায়রে কর্নেল সাব, হায়রে আয়া, হায়রে ডাব, হায়রে সিরিঞ্জ, হায়রে বিএসসি মাস্টার সাব!

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
২৫/৬/২০১৮

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.