দিনে চিড়া রাতে পানি

১৯৯০ সনের দিকে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পে চাকরি করতাম। একটা রুগী আসল।
– রুগী কি করে?
– ক্লাস নাইনে পড়ে।
– কি সমস্যা?
– মুক্তিপণ আদায়কারীরা তাকে অপহরণ করেছিল। সাতদিন পর দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে গতকাল তাকে ছেড়ে দিয়ছে।
– এখন সমস্যা কি?
– ও মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। কথা ঠিকমত বলতে পারছেনা।
– ওরা কি মারধর করেছে?
– না। মারে নি।
– কোথায় রেখেছিল?
– কিছু জানে না। চোখ বেঁধে রেখেছিল। ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখত।
– খাবার দিত কি?
– দিনে দিত শুকনা চিড়া। রাতে দিত দুই গ্লাস পানি।
– চিড়ার সাথে পানি দিত না?
– না। শুধু শুকনা চিড়া।
– দিনে চিড়া, রাতে পানি দেয়ার মানে কি?
– তারা তাকে ঘরের ভিতর লুকিয়ে রাখত। খুব সম্ভব গ্রাম এলাকায় হবে। হয়ত ঘরের ভিতর প্রশ্রাব পায়খানার ব্যবস্থা ছিল না। তারা রাতের অন্ধকারে পানি খাওয়ানোর পর বাইরে নিয়ে আসত প্রশ্রাব পায়খানা করানোর জন্য। পানি খেলেই প্রশ্রাব পায়খানার বেগ হত। যাতে দিনে বেগ না আসে তাই তারা দিনে পানি দিত না।
– অপহরণকারীদের বুদ্ধিমত্বা ভালই।

 

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
২৩/৬/২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published.