দুষ্টামির শাস্তি দুই রাকাত নামাজ

চেম্বারে রুগীর সাথে আসা লোকটির মাথায় বাবরি চুলের উপর সাদা টুপি, লম্বা দাড়ি, গায়ে সাদা পাজামা -পাঞ্জাবী । আমি জানতে চাইলাম
– আপনি কি করেন?
– জি, খেদমতে আছি।
– বুঝতে পারলাম না।
– মানে, আমি একটা মাদ্রায় শিক্ষকতা করি।
– কওমি মাদ্রাসা?
– জি।
– আপনি লেখাপড়া কোন পর্যন্ত করেছেন?
– আমি সাধারণ লাইনে এস এস সি পাস করে কোরআন হেফজ শিখেছি। তারপর মাদ্রাসা লাইনে পড়ে কামেল বা মাওলানা পাস করেছি।
– মাদ্রাসায় আপনি কি পড়ান?
– হেফজ পড়াই।
– আমি ছোট বেলায় মাদ্রাসায় পড়েছি। পড়া না পাড়লে বা দুষ্টুমি করলে হুজুর বেত দিয়ে বেদম পিটাতেন। কেউ যাতে দেখতে না পারে সে জন্য মাথায় ও পাছায় পিটাতেন। আপনার হেফজের ছাত্ররা শিশু বা কিশোর। এই বয়সে পড়া না পাড়া বা দুষ্টুমি করা স্বাভাবিক। আপনি এদেরকে কি পিটিয়ে শাসন করেন?
– না। ছাত্রদের পিটানো ইসলাম সমর্থন করে না।
– তাহলে এদেরকে কিভাবে কন্ট্রোল করেন?
– কম শাস্তিসরূপ দুই রাকাত নামাজ পড়াই। বেশী শাস্তিসরূপ চার রাকাত পড়াই। এইভাবে বেশী বেশী শাস্তির জন্য বেশী নামাজ পড়াই।
– নামাজকে শাস্তিসরূপ ব্যবহার করা ঠিক হল?
– অন্যায়ের শাস্তি তারা পাবে। তাদের জন্য অতিরিক্ত নামাজ কষ্টের। এখানে তারা শাস্তিও পেল আবার নামাজ পড়ার জন্য নেকিও পেল। বেত্রাঘাত করার চেয়ে এটাই ভাল।

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
২২/৬/২০১৮

Comments are closed.