বন্ধু বিচ্ছিন্ন

 

ডাঃ নজরুল ইসলাম। বর্তমানে টাংগাইলের নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ এফসিপিএস সার্জন। তার সাথে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব শুরু হয় ১৯৭৭ সনে কালিহাতির আউলিয়াবাদে আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজে ভর্তি হবার পর থেকেই। হোস্টেলে পাশাপাশি রুমে থাকতাম। একসাথে বেড়াতাম, মন খুলে গল্প করতাম। পালাকরে গান গাইতাম। ওদের বাড়ীতেও গিয়েছি। খালাম্মার হাতে রান্নাও খেয়েছি।

বন্ধুত্ব আরও ঘনিষ্ঠ হল যখন আমরা দুইজনই ১৯৮০ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চাঞ্চ পেলাম। থাকা শুরু হল একই রুমে। এক সাথে খেতাম, পড়তাম, ঘুরতাম, সিনেমা দেখতাম, ঘুমথেকে উঠতাম, ক্লাশে যেতাম, ছুটিতে বাড়ী যেতাম। একই রকম জামা পরতাম। ক্লাশ মেটরা বলত দুই ভাই। একই রকম রেজাল্ট করতাম। রিক্সা ভাড়া শেয়ার করতাম, তাই হাত খরচ কম লাগতো। এই রকম প্রায় সব কিছুতেই আমাদের দারুণ মিল ছিল।

১৯৮৫ সনে দুইজনই এম বি বি এস পাস করে দুই জনই সার্জারিতে বিশেষ ইন্টার্নশীপ ট্রেইনিং নিলাম ভবিষ্যতে সার্জারি বিশেষজ্ঞ হবার আশায়। কিন্তু বাস্তবে সে আজ চক্ষু বিশেষজ্ঞ আর আমি প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ।

ইন্টার্ন ট্রেইনিং শেষ করে দুই জনই বেকার হয়ে গেলাম। দুই জনই মেডিকেল অফিসার হিসাবে টাংগাইলের একমাত্র প্রাইভেট হাসপাতাল নাহার নার্সিং হোমে কাজ শুরু করলাম।

১৯৮৮ সনে শুনলাম আমাদের মেডিকেল অফিসার হিসাবে সবারই সরকারি চাকরির অর্ডার হয়েছে। আমাদের দুইজনকেই খুলনা বিভাগে ন্যাস্ত করা হয়েছে। জুলাইর ১ তারিখে আমরা এক সাথে খুলনা গেলাম। রাত ১১ টায় খুলনা পৌছলাম। সকাল ১০ টায় স্বাস্থ্য বিভাগের ডিভিশনাল ডাইরেক্টর অফিসে গেলাম। দেখলাম পোস্টিং অর্ডার সাইন হয়ে গেছে। আমাকে দিয়েছে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন সাব সেন্টারে। নজরুলকে দিয়েছে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার কোন এক সাব সেন্টারে। অর্ডার হাতে পেয়ে দুই বন্ধু বিমর্ষ ভাবে তাকিয়ে রইলাম। কেউ একজন বললেন “দেরী না করে তাড়াতাড়ি যোগদান করে ফেলুন। প্রথম সরকারী চাকুরী, একই দিনে সবাই যোগদান না করলে সিনিয়র জুনিয়র সমস্যা হবে। বিকেল বেলায় আমরা দুইজন দুইদিকে রওনা দিলাম। আমি পুর্ব দিকে গেলাম, নজরুল পশ্চিম দিকে গেল। এই যে দুই বন্ধু বিচ্ছিন্ন হলাম এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছি। কথা হয়, দেখা হয়, মোবাইল হয়, ফেইসবুক হয়, চেট হয়।

 

======
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ফেইস বুক পোস্ট, স্মৃতির পাতা থেকে
১২/৬/২০১৭

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.