চরামদ্দির কলেরায়

চরামদ্দির কলেরায়
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মেডিকেল অফিসার হিসাবে প্রথম এক বছর সরকারি চাকুরী করি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জুলাই ১৯৮৮ থেকে আগষ্ট ১৯৮৯ পর্যন্ত। আমিই ছিলাম এখানকার এমবিবিএস পাস করা প্রথম মেডিকেল অফিসার। তাই এলাকার জনগণের আমাকে নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল। চিকিৎসা সেবার এক মহান উদ্যেশ্য নিয়ে আমি চিকিৎসক হয়েছিলাম। এই পেশায় এত সন্মান থাকাতেও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে এটা আমি আগে জানতাম না। নতুন অফিসার ছিলাম। অভিজ্ঞতা তেমন ছিল না। তাই রোগী, কর্মচারী, মাস্তান ও জনগণ ম্যানেজ করতে হিমসিম খাচ্ছিলাম। তারপর আবার টাঙ্গাইলের সখিপুরের শুক্নার দেশের মানুষ। পোস্টিং হয়েছে পানির দেশে। অনেকেই কর্মস্থলে যোগদান করে নানা কৌশলে অনুপস্থিত থাকতেন। আমি কোন রকম কৌশলের আশ্রয় না নিয়ে কর্মস্থলে থেকে মনোযোগ দিয়ে কর্তব্য পালন করতে থাকলাম। প্রথম মাসেই আমার মেডিকেল এসিস্টেন্ট অফিসে আসার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। আমি এক মহা সংকটে পড়ে যাই। আমার বস বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে নিয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন অফিসে যাই এই সংকট নিয়ে পরামর্শ নিতে। ডেপুটি সিভিল সার্জন ছিলেন চরামদ্দি ইউনিয়নবাসী। আমরা চারজন সিভিল সার্জন স্যারের রুমে বসলাম। আমি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়ার পর বললাম “আমার চরামদ্দিতে থাকা সম্ভব না। ” ডেপুটি স্যার বললেন “আমি চরামদ্দির মানুষ। আমাদের এলাকার মানুষ খুব ভালো। আপনাকে পেয়ে তারা খুব খুশী। আপনাকে তারা সন্মান করে। আপনার কোন সমস্যা হবে না। আপনি যখন ঔষধের জন্য পাঠাবেন আমার সাথে দেখা করতে বলবেন। আমি এক কার্টুন ঔষধ বেশী দেব। এলাকার নেতা ও মাস্তানদের সাথে খাতির দিয়ে চলবেন। জনগন আপনার ক্ষতি করবে না। ক্ষতি করলে ওরাই করবে।” Continue reading “চরামদ্দির কলেরায়”