হজ্জের নিয়ত করলাম যেভাবে

হজ্জের নিয়ত করলাম যেভাবে
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

একসময় এলাকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রতিবছর পুরস্কৃত করতাম। আমার বাড়ি সখিপুরের ঢনডনিয়ায়। আমার বাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছের ১৪ টি স্কুলের ২৮ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে অনুষ্ঠান করে সম্বর্ধনা দিতাম। সব স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিগণ অন্যান্য ছাত্রছাত্রী নিয়ে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। ইন্দ্রজানী হাই স্কুলের আব্দুল হামিদ স্যার প্রতিবছর সেই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থাকতেন। ২০০৪ সনের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে। হামিদ স্যার তার বক্তব্য পেশ করার সময় আমাকে উদ্যেশ্য করে বললেন “সাদেক যা যা করছে নিঃসন্দেহে সেগুলি ভালো কাজ। আমি জানি, তার এখন টাকা পয়সা হয়েছে। শহরে জমি জমাও কিনেছে। বিদেশ ভ্রমণ করছে। যেসব দেশ সে ভ্রমণ করেছে সেই সব দেশ ভ্রমণ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকায় হজ্জ করা সম্ভব হতো। অর্থাৎ তার হজ্জ করা ফরজ হয়েছে। হজ্জের বিধান হলো কারো যদি হজ্জ করার সামর্থ্য হয় তার জন্য হজ্জ করা ফরজ। আমি তাকে অনুরোধ করব যেন এই কাজটি করে ফেলেন।” শুনে আমার অন্তরে বুঝ এলো। আমি যদি গচ্ছিত টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ করে ফেলি তাহলে আমার হজ্জ করা সম্ভব হবে না। তাই মনস্থির (নিয়ত) করে ফেললাম এইবারই হজ্জ করব। সর্বশেষ ববক্তৃতায় আমি স্যারের কথার প্রসঙ্গ টেনে বললাম “স্যার আমাকে দোয়া করুন। আমি এবারই হজ্জ করব, ইনশাআল্লাহ।” স্যার সবাইকে দোয়া করতে বললেন। Continue reading “হজ্জের নিয়ত করলাম যেভাবে”

মিয়া কাক্কু

মিয়া কাক্কু
(স্মৃতিচারণ)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাবার চাচা মেছের উদ্দিন তালুকদারের ছিল ৫ ছেলে। সবার ছোট ছেলে সালাম তালুকদারকে আমরা ডাকতাম ছোট কাক্কু। ছোট কাক্কু তার প্রথম ভাই সোলায়মান তালুকদারকে ডাকতেন বড় ভাই, ২য় ভাই শাসসুদ্দিন তালুকদারকে ডাকতেন মেঝো ভাই, ৩য় ভাই হাছেন আলী তালুকদারকে ডাকতেন সাজ ভাই, ৪র্থ ভাই কাশেম তালুকদারকে ডাকতেন মিয়া ভাই। আমরা তাদের ভাতিজা হিসাবে ডাকতাম যথাক্রমে বড় কাক্কু, ডাক্তার কাক্কু, মাজ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। মিয়া কাক্কু এলাকায় মাতাব্বরি বা মাদবরি করতেন ।

মিয়া কাক্কু আমাদের খুব খোঁজ খবর নিতেন । আমাকে খুব স্নেহ করতেন । একদিন কথাপ্রসঙ্গে তিনি একটা মাদবরির কথা আমাকে বলেছিলেন। আন্দি না বেরীখোলা গ্রাম এখন আমার মনে আসছে না। সেই গ্রামে জমি নিয়ে একটা কয়চান (ঝগড়া) ছিল শরীকদের মধ্যে। সেই কয়চান মিটানোরর জন্য সাত গ্রামের মানুষ জড়ো হয়েছিল একটা সালিশে। সেই সালিশে সাত গ্রামের বড় বড় মাদবর উপস্থিত ছিলেন। বাসার চালার কায়েম উদ্দিন সরকারও উপস্থিত ছিলেন। একে একে সব বড় বড় মাদবরগণ বিচার করে বিফল হলেন। তাদের বিচার কোন পক্ষই মেনে নিলো না। হট্টগোল শুরু হয়ে গেলো। মারমুখী ভাব উভয় পক্ষে। মিয়া কাক্কু চুপ চাপ বসেছিলেন। কাক্কুর স্বভাবই ছিল কম কথা বলা। যা বলতেন কাজের কথা বলতেন। শেষে নিরুপায় হয়ে একে একে সবাই বিচারের ভার দিলেন মিয়া কাক্কুর কাছে। সবাই একযোগে অনুরোধ করলেন “তালুকদার সাব বিচারটা করেন।” মিয়া কাক্কু বিচারের ভার নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। সবাই বেশী করে অনুরোধ করলে মিয়া কাক্কু বললেন “আপনারা তো আমার উপর বিচারের ভার দিচ্ছেন। আমি বিচার করে রায় দিলে উভয় পক্ষ মেনে নিবেন কিনা তা জেনেছেন?” উভয়পক্ষ হাত উঠিয়ে সম্মতি প্রকাশ করল। উপস্থিত জনগণও হাত উঠিয়ে সম্মতি জানালো। কাক্কু বললেন “আমি যা বিচার করব তা আপনারা সবাই যদি মেনে নেন, তাহলে আমি বিচার করব, না হলে করব না।” সবাই এক যোগে “হ্যা” বললেন। কাক্কু জমির দলিল পত্র উভয় পক্ষ থেকে নিয়ে নিলেন। পড়ে দেখলেন। দলিল মুড়িয়ে চোঙা বানিয়ে ফিতা দিয়ে বাঁধলেন। মাঠের এক কোণায় রেখে দিয়ে বললেন “আমি যদি বিচার করি তাহলে আপনারা কেউ এই দলিল দেখতে পারবেন না। এই যে আমি দলিল বেঁধে রেখে দিলাম। যতদিন আমার রায় অনুসারে দেয়া জমি আপনারা ভোগ করবেন ততদিন কেউ এই দলিল খুলে দেখতে পারবেন না। রাজী আছেন?” সবাই রাজী হলে কাক্কু জমি দেখিয়ে বললেন “এই জমিটুকু তোমার আর এই জমিটুকু ওনার।” কেউ আর এর দ্বিমত করতে পারলো না। কারন, সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে বিচার যাই হোক মেনে নিতে হবে।

আমি বললাম “কাক্কু, আপনি দলিল বেঁধে রাখলেন কেন?” কাক্কু বললেন “ঐ দলিল গুলোই হল ঝগড়ার মুল কারন। দলিল দিয়ে বিচার করলে কোনদিন বিচার শেষ হবে না। তারপর তাদের মধ্যে আর জমি নিয়ে ঝগড়া হয় নি।”

কাক্কু ইন্দ্রজানী হাটে একটা মজার কান্ড ঘটিয়েছিলেন। আগের দিনে হাটে গরু ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রেতারা কলারপাতা অথবা বাঁশের বেতীর ধাড়ি বিছায়ে ৫ টাকা, ১০ টাকার ভাগা দিয়ে মাংস বিক্রি করতো। পাহাড় অঞ্চলে ঘাসের খুব অভাব ছিল। বেশীভাগ গরু ছাগল অপুষ্ট বা খোয়ার ছিল। মাংসে তেল থাকতো না। তেলছাড়া মাংস স্বাদ লাগতো না। তাই সবাই তেলওয়ালা মাংস পছন্দ করতো। বিক্রেতারা মাংস ভাগা দেয়ার সময় হাড্ডি নিচে রেখে মাংস দিয়ে ঢেকে দিতো। মাংস লাল করার জন্য রক্ত মেখে দিতো। তেল তেল দেখানোর জন্য পেটের নাড়িভুঁড়ির তেল নিয়ে মাংসের ভাগার উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিতো। এখন এর চেয়েও মানুষ বেশী চালাক হয়েছে। একি সাথে তাজা গরু ও প্রায় মরা গরু জবাই করে কৌশল করে মিক্সার করে করে বিক্রি করে। মাংস লাল করার জন্য কেমিকেল রঙ ব্যবহার করে। আরো কত কি যে করে। সব জানা কি আমাদের সম্ভব? ইন্দ্রজানীর হাটের সেই মাংস বিক্রেতার ভাগাগুলোর  উপর তেলের পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। মিয়া কাক্কু ভিতরের মাংসের অবস্থা দেখার জন্য আংগুল দিয়ে পর্দা সরাতেই মাংস বিক্রেতা থাবা দিয়ে কাক্কুর হাত সরিয়ে দিয়ে পর্দা দিয়ে আবার মাংস ডেকে দেয়। তাতে কাক্কু অপমান বোধ করেন। কিন্তু কিছু না বলে তিনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন অনেক্ষণ। আরেকজন ক্রেতা কাক্কুর মতো করে যেই মাংসে আংগুল দিয়েছেন অমনি তার হাত থাবা মেরে সরিয়ে বিক্রেতা বলে “এই মিয়া ভাগা নষ্ট কর কেন?” শুরু হয়ে গেলো দুই জনের মধ্যে ঝগড়া। জনগণ কাক্কুর কাছে বিচার দিলে কাক্কু বললেন “আমি এখানে দাড়িয়েই ছিলাম। এই ব্যাটা তার হাতে থাবা মারছে। ব্যাটা মরা গরুর মাংস তেল দিয়ে ঢেকে বিক্রি করছে, আর আংগুল দিয়ে দেখলে থাবা মারে। ওর সব মাংস পাগাড়ে নিয়ে ফেলে দে।” বিক্রেতা বিপদে পড়ে কাক্কুর কাছে মাপ চাইল।

 

হাট থেকে ফেরার সময় জিজ্ঞেস করলাম “কাক্কু, আপনাকেও তো থাবা মেরেছিল। তখন কিছু বললেন না কেন?” “কাশেম তালুকদারকে কশাইয়ে থাবা মারছে মানুষ জানলে ইজ্জৎ যাবে। তাই তখন ঝামেলা না করে অপেক্ষা করছিলাম অনুরূপ আরেকজনের সাথে করুক। তখন বুঝা যাবে।”

 

মিয়া কাক্কুর আরেকটা ঘটনা মনে পড়লো । ছোট কাক্কু একবার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে ইলেকশনে দাঁড়িয়েছিলেন । । ভালোই নির্বাচনি প্রচারনা চলছিল । শেষের দিকে একটা ফেকড়া  লেগে গেলো । খুব কাছের পাড়ার একদল ভোটার দূরের একজন প্রার্থীর জন্য প্রচার শুরু করলো একজনের নেতৃত্যে । সেই গ্রাম্য নেতার নাম এখানে উল্লেখ করা ঠিক হবে না । তার ছদ্ম নাম দিলাম ‘ময়ছর’ । ছোট কাক্কু মিয়া কাক্কুকে বললেন “মিয়া ভাই, ‘ময়ছর’ পাড়ার সবাইকে নিয়ে অন্য ক্যান্ডিডেটের পক্ষে ভোট চাইছে । এতো কাছের মানুষ বিদ্রোহী হলে চলবে না । খুব সম্ভব অন্য ক্যান্ডিডেট থেকে টাকা খেয়েছে ।” আপনি ময়ছরকে ডেকে এনে ব্যপারটা মিমাংসা করে ফেলুন । ময়ছর ও তার দল্কে দাওয়াত দেয়া হলো । আচ্ছা করে খাওয়ানো হলো কাছারি ঘরে বসিয়ে । খাওয়া শেষে আলোচনা শুরূ হলো । মিয়া কাক্কু ধীরে ধীরে ভুমিকা দিয়ে কথা বলছিলেন। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম । তিনি একটা কথা শুরু করার সাথে সাথে ময়ছর ভাই রেগে গেলেন। ময়ছর ভাইরা কোন সময় তালুকদারদের মুখের দিকে তাকিয়ে উচ্চ বাচ্য করতেন না । এবার করে বসলেন । আমরা হতভম্ভ হয়ে গেলাম ময়ছর ভাইর সাহস দেখে । মিয়া কাক্কু বলা শুরু করছিলেন “তোমার মতোন ময়ছর –।” এতটুকু বলার পরই ময়ছর ভাই লাফ দিয়ে ঊঠে বললেন “এই আপনেগো মতোনের মধ্যেই দোষ । আপনেরা আমাগো গোণেনই না । আমরা আপনাদের কাছেই থাকি । আমাদের খোঁজও নেন না । দুরের ক্যান্ডিডেট আমাগো দাম দেন। আর আপনেরা আমাগো দাম দেন না। আমার মোতন আবার কি?” কিছুক্ষণ পর ময়ছর শান্ত হলে মিয়া কাক্কু ঠান্ডা মাথায় বললেন “শোন ময়ছর। আমি কি কইতে চাইছিলাম তা না শুনেই তুমি রেগে গেলা। কথাটা আগে তুমি শোন। তারপর রাগ দেখাও।” ময়ছর ভাই বললেন “কইন কি কবার চাইছুন।” মিয়া কাক্কু বললেন “আমি কইতে চাইছিলাম, তোমার মতো ময়ছর আর আমার মতো কাশেম এখন যদি একযোগে কাজ করে যাই তাহলে ইলেকশনে জেতা খুবই সহজ। আসো আমরা পাড়ার সবাই মিলে সালামের জন্য ভোট চাই । সালাম চেয়ারম্যান হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে । অন্য এলাকা থেকে চেয়ারম্যান হলে আমাদের এলাকার কি কিছু হবে। দুই এক প্যাকেট বিড়ি খেয়ে আমাদের কি লাভ? তোমরা আমাদের থেকে বিড়ি নিয়ে যাও। আগামীকাল থেকে মাঠে নেমে পড়ো সবাই। আমি এই কথাটাই কইতে চাইছিলাম।” সবাই শান্ত হলেন । বিড়ি নিয়ে ময়ছর ভাইর দল চলে গেলেন । আমি মিয়া কাক্কুকে পরে জিজ্ঞেস করি “কাক্কু, আপনি আসলে ময়ছর ভাইকে কী বলতে চেয়েছিলেন ।” কাক্কু হেসে  বললেন “আমি বলতে চেয়েছিলাম ‘তোমার মতো ময়ছর যদি এলাকার মানুষ নিয়ে অন্য ক্যান্ডিডেটের ক্যানভাস করে তাহলে আমাদের কিছুই হবে না । ইলেকশনের পড়ে এর পরিণতি বুঝতে পাবা।’ কিন্তু ময়ছর এমন ভাবে রেগে যায় যে আমি কথাটা ঘুরিয়ে বলেছি। সালামের ইলেকশনটা হয়ে যাক। তারপর দেখা যাবে ময়ছরকে কিভাবে শায়েস্তা করা যায় ।”

এমনই ছিল মিয়া কাক্কুর মাতাব্বরি।

 

প্রথম লিখন ১০/০৬/২০১৯ খ্রি.

পূণ লিখন ২৭/০৪/২০২০ খ্রি.

 

Continue reading “মিয়া কাক্কু”

জিরের দিনে

জিরের দিনে
(স্মৃতিচারণ)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জিরের নাম মানুষ ভুলতে শুরু করেছে। বড় কৃমি বা ক্যাচোকৃমিকে বলা হত জির। আগের দিনে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ, বিশেষ কর, শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগত। ভাত যদিও কিছু যোগার হত কিন্তু প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার তারা পেতো না। আমিষের অভাবে তাদের কোয়াসিঅর্কর নামে একটা রোগ হতো। এই রোগে পেটটা মোটা, পাছা চিকন ও মুখ গোলাকার বা ফোলা ফোলা হত। পাকা পায়খানার ঘরের প্রচলন কম থাকায় এবং যেখানে সেখানে খোলা যায়গায় পায়খানা করাতে মল বাহিত রোগ খুব বেশী হতো। পোলাপানরা আলানে পালানে, মুলাক্ষেতে, পাট ক্ষেতে পায়খানা করতো। এমনো দেখা যেতো মুলা ক্ষেতে বসে পায়খানা করছে এবং বসে বসে মুলা তুলে খাচ্ছে। তাতে কি হচ্ছে? তার আগে যে শিশুটি মুলা ক্ষেতে পায়খানা করেছিল সেই পায়খানায় হয়ত আমাশয়, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, ইত্যাদি রোগ জীবানু ও কৃমির ডিম মিশ্রিত ছিল। সেইগুলি মুলার গোড়ায় মিশেছিল। মুলার সাথে জীবাণু খেয়ে এই ছেলেটিও আক্রান্ত হল। পলিও রোগের ভাইরাসও পায়খানার সাথে মিশে বের হয়। সেই মল বাহিত পানি বা মিশ্রিত খাবার খেলেও পলিও জীবাণু পেটে যায়। ডাক্তারগণ পলিও টিকা খাওয়ান বাচ্চাদেরকে। এটা আসলে পলিও জীবাণু। কিন্তু এরা শরীরে গিয়ে বিস্তার লাভ করতে পারে না। কিন্তু দেহে পলিওর প্রতিশেধক তৈরি হয় অর্থাৎ ইমুনাইজেশন হয়। একজন পলিও ভেক্সিন খাওয়া শিশুর মলের সাথে পলিও জীবাণু বের হয় । সেই মল মিশ্রিত খাবার যদি অন্য শিশু খায় তবে  টিকা না নিয়েও তার দেহে  পলিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ঊঠে । এটাকে বলা হয় হার্ড ইমুউনিটি। Continue reading “জিরের দিনে”

মাসুমের পায়ের ফোঁড়া

মাসুমের পায়ের ফোঁড়া
(রোগের গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মাসুম ক্লাস ফোরে পড়ে। তার শরীরের ভিতরে কে কে বাস করে, আর কি কি চলাচল করে তা এখনো সে জানে না। তার হৃদপিন্ড রক্ত পাম্প করে। সারা শরীরের দুষিত রক্ত শিরার মাধ্যমে পাম্প করে এনে পালমোনারী ধমনির মাধ্যমে ফুসুফুসে Continue reading “মাসুমের পায়ের ফোঁড়া”

রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা জানা যায়

রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা জানা যায়
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজকাল অনেকেই কিডনি নিয়ে চিন্তিত। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে কিডনি খারাপ হয়ে মরে যাওয়ার সংবাদ শুনেই এমনটি হচ্ছে। অনেকে কোমড়ে ব্যাথা অনুভব হওয়াতেই মনে করে নিচ্ছে তার কিডনি খারাপ হয়ে গেছে। অনেকেই ছাগল গরুর কিডনি দেখেছেন। স্বাধারণত এগুলোকে গুর্দা বলা হয়। ভালো নাম বৃক্ক। মানুষের কিডনি এমনই। পেটের পিছনের দিকে মেরুদন্ডের দু’পাশে পর্দা দিয়ে আবৃত দুইটা কিডনি থাকে। সীমের বীজের মতো একদিকে বাকা থাকে। একটা কিডনি  নষ্ট হয়ে গেলেও আরেকটা দিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। কিডনি রক্তের ছাকনির মতো কাজ করে। রক্ত ভালো মন্দ সব পদার্থ এনে কিডনিতে ছেড়ে দেয়। কিডনি তা বাছাই করে যেগুলো দরকারি সেগুলো রেখে অদরকারিগুলো প্রশ্রাবের সাথে বের কর দেয়। প্রশ্রাব কিডনিতে তৈরি হয়ে দুষিত পদার্থসহ ইউরেটার নল দিয়ে পুত্র থলিতে এনে জমা করে। পুত্রথলি ভরে গেলে প্রশ্রাবের চাপ হয়। Continue reading “রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা জানা যায়”