টিউমার ও ক্যান্সার

টিউমার ও ক্যান্সার
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

রুগীরা শরীরের কোথাও বল আকারে ফুলে উঠলে টিউমার মনে করে। টিউমার কথাটা এসেছে টিউমর থেকে। যার অর্থ ফুলে উঠা। আগের দিনে গলার থায়রয়েড গ্লান্ড বড় হয়ে গেলে গ্রামের মানুষ বলতো ঘ্যাগ। ডাক্তাররা বলেন গলগণ্ড রোগ। ইংরেজিতে বলা হয় গয়টার। খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব হলে সাধারণত গলগণ্ড রোগ হয়। এই গলগণ্ড রোগকেও এখন রুগীরা টিউমার মনে করে। শরীরের কোথাও জীবাণু আক্রান্ত হলে সেখানকার লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থি রিয়েকশন করে বড় হয়ে যায়। রুগীরা এটাকেও টিউমার মনে করে। আসলে ফুলে উঠলে বা চাক্কা হলেই টিউমার না। টিউমার হলো বিশেষ ধরনের রোগ। টিউমারের ডাক্তারি ভাষার উপযুক্ত শব্দ হলো নিউপ্লাজম।
Continue reading “টিউমার ও ক্যান্সার”

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
এম ফিল (প্যাথলজি)

অনেকেই এমন একটা প্রশ্ন করেন “রক্তে ক্যান্সার হয়েছে কিনা কি পরীক্ষা করলে ধরা পরবে?” রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া হলে শরীর দেখে বুঝা মুস্কিল। তাই অনেকে এমন প্রশ্ন করেন। ব্লাড ক্যান্সার হলে শরীরে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা অনেক রোগের উপসর্গের সাথে মিল আছে। তাই ব্লাড ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন উপসর্গ নেই। যেমন, শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়া, জ্বর হওয়া, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, হাড়ের ভিতর ব্যথা করা, চামড়ায় রক্তকক্ষরণ হয়ে জখমের মতো দাগ হওয়া, ইত্যাদি। এইসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগেও আছে। এইসব লক্ষণ থাকলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। অনেক পরীক্ষা করা যায়। তবে কিছু করতে না পারলেও শুধু রক্তের ডিসি বা ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট (অব ডাব্লিওবিসি) পরীক্ষাটি করতে পারলে ব্লাড ক্যান্সার ধরা যাবে। একটি কাঁচের স্লাইডে এক ফোটা রক্ত নিয়ে আরেক স্লাইড দিয়ে ঘষা দিয়ে ব্লাড ফিল্ম তৈরি করা হয়। মাত্র এক Continue reading “ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা”

ঘড়ি

ঘড়ি
(স্মৃতিচারণ)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আগের দিনে কারো কারো কাছে ঘড়ি একটি বিলাসিতার বস্তু ছিল। আগেরদিন বলতে আমি বুঝাচ্ছি আমার শৈশবের দিনগুলি। তখন সবচেয়ে দামী যে লুঙ্গী ছিল সেইটার নাম ছিল টুইচ লুঙ্গী। সেই লুঙ্গীর দাম ছিল ৪ টাকা। এমন দামের লুঙ্গী পরলে মানুষ মনে করতেন ফেরাংগী করে। সেই যুগে একটি ঘড়ির দাম ছিল ১০০-২০০ টাকা। তার মানে এটা একটা খুব দামী জিনিস ছিল। ঘড়ির কাজ ছিল সময় দেখানো। যারা স্কুলে যেতেন বা অফিসে যেতেন তাদের প্রয়োজন পড়তো ঘড়ির। গ্রামের বেশী ভাগ শিক্ষিত মানুষের পেশা ছিল শিক্ষকতা করা, প্রাইমারী স্কুলে অথবা হাই স্কুলে। নিজ বাড়ি থেকেই গরম ভাত খেয়ে দশটার স্কুলে যেতেন। দশটা-পাচটায় স্কুল টাইম ছিল। সময় দেখার জন্যই মাস্টার সাহেবদের ঘড়ির প্রয়োজন পড়তো। স্কুলের ছাত্রদের হাতে ঘড়ি দেখা যেতো না। সব মাস্টারের হাতেও ঘড়ি দেখা যেতো না। যারা ঘড়ি পরতেন তারা সাধারণত বাম হাতের কবজিতেই পরতেন। তাই এটাকে কবজিঘড়ি বলা হতো। ইংলিশে বলা হতো রিস্টওয়াচ। ডাঃ লুৎফর রহমানের লেখা উন্নতজীবন নামে একটা প্রবন্ধ আমাদের পাঠ্য বইয়ে ছিল। সেই প্রবন্ধে লিখা ছিল ‘পকেটে ঘড়ি নেই তাতে কি?’ এই প্রবন্ধটা কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ইনসান স্যার পড়ানোর সময় আমি প্রশ্ন করেছিলাম “স্যার, ঘড়িতো, সবাই হাতে পরে, পকেটে ঘড়ি থাকবে কেন?” স্যার বলেছিলেন “আগের দিনে সবাই ঘড়ি পকেটেই রাখতেন। এখনো কেউ কেউ ঘড়ি পকেটে রাখেন। পকেট ঘড়িতে চেইন নেই। শুধু গোল একটা চাকতির মতো। ঘড়ি যখন প্রথম আবিস্কার হয় তখন পকেট ঘড়ি হিসাবেই তৈরি করা হতো। এখন সময় দেখার সুবিধার্থে ও কিছুটা ফ্যাসান করার জন্য মানুষ হাতে ঘড়ি পড়ে।” ইনসান স্যারের হাতে একটা চকচকে ঘড়ি দেখেছি। স্যারের চেহারা লিক লিকে ছিল। ঘড়ি হাতে ঢোলা  ঢোলা হতো। বাম হাতে ঘড়ি পড়ে বেত নাচিয়ে নাচিয়ে পড়াতেন। ঘড়িতে স্যারকে বেস মানাতো।

Continue reading “ঘড়ি”

যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম

যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম
(স্মৃতিচারণ)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

যথাসময়ে পাস করা এবং যথাসময়ে চাকরি পাওয়া আমার জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। তাই আমি কোন কারনেই পরীক্ষা পিছানো পছন্দ করতাম না। কিন্তু নেতৃস্থানীয় ক্লাসমেটদের ইচ্ছার বিরোদ্ধে কথা বলার সাহস আমার ছিল না। পরীক্ষা দেয়াটা সবার কাছে ভীতিকর ব্যাপার ছিল। সামান্য একটু অযুহাত দেখাতে পারলেই পরীক্ষা পিছানোর সংগ্রাম করতো। আর সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারলে আরো বড় নেতা হওয়া যেতো। আমাদের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুদ্দিন স্যার বলতেন “আমরা চাই তোমরা পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ডাক্তার হয়ে চাকরি করে টাকা কামাও। আর তোমরা বল ‘পরীক্ষাই দিব না, দেখি স্যারেরা পাস করায় কেমনে?'” স্যারের এই কথাটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। আমরা যদি ১৯৮৫ সনের মে মাসের রেগুলার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতাম তাহলে ঠিক ৫ বছরেই আমাদের এমবিবিএস কোর্স শেষ হয়ে যেতো। এবং তখনকার নিয়ম অনুসারে মেডিকেল অফিসার হিসাবে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং হিসাবেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশ হয়ে যেতো। যারা পরীক্ষা পিছায়নি তারা মে মাসেই চাকরিতে ঢুকে পড়েছে। যেমন রাজশাহী ও চিটাগাং ইউনিভার্সিটির আন্ডারের ছাত্ররা মে মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা দেয়। তাদের বেকার থাকতে হয়নি। আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটির আন্ডারের ছাত্ররা সংগ্রাম করে পরীক্ষা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাই। পাস করে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং করাকালীন সরকার নিয়ম করে ফেলেন পাস করলেই চাকরি হবে না। ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শেষ করার পর পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সুপারিশকৃত হয়ে মেডিকেল অফিসার হিসাবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে হবে। আমার মাথায় কাঠাল ভেংগে পড়লো। প্রচণ্ড খোভ হলো সরকারের প্রতি। প্রচণ্ড রাগ হলো বন্ধুদের প্রতি যারা পরীক্ষা পিছানোর সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলো। এর আগে সরকারকে ভালো লাগতো এই কারনে যে ক্ষমতায় এসেই সামরিক আইন জারি করে রাজনীতিকে স্তিমিত করে দেয়া হয়েছিল। ফলে কোন সংগ্রাম করার সুযোগ ছিল না। পরীক্ষা পিছানোর সুযোগ ছিল না। এই সুযোগে আমরা তরতড়ি ৫ বছরেই এমবিবিএস কোর্স শেষ করে ফেলেছিলাম। এর আগে ডিউ টাইমে কোর্স শেষ করা বিরল ব্যাপার ছিল। সেশনজট লেগেই থাকতো।

Continue reading “যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম”

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

পারে। কয়েকপ্রকার এন্টিবায়োটিক আছে যেগুলি গাভীর মাংসে ইঞ্জেকশন করা হলে সেগুলি গাভীর দুধের সাথে বের হয়। তাই এই দুধ ল্যাবে পরীক্ষা করালে দুধে এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।

ফার্মে পাস্তুরিত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করে দুধ প্যাকেট করা হয়। পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা দেখা হয় কিনা আমার জানা নেই। যদি তা না হয়, তবে হাজার হাজার মানুষের শরীরে ডাক্তার ছাড়াই এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। আর তারা হয়ে পরছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট।
১৫/৭/২০১৯ ইং