এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার

এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৮৩ সনে যখন আমি এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষে পড়তাম তখন আমার এক আত্বীয় গ্রামের এক চিকিৎসকের খোজ নিতে বলেন যে সেই চিকিৎসক নাকি বন্ধা রুগীদের ভালো চিকিৎসা করতে পারেন এবং অনেকেই তার চিকিৎসায় সন্তান লাভ করেছে। তিনি মূলত হাই স্কুলের বিএসসি টিচার। বিকেলে ও ছুটির দিনে বাড়িতে প্র‍্যাক্টিস করেন। তার ভিজিট কত, কি কি নিয়ম জেনে যেতে হবে। আমি সেই বাড়িতে গেলাম। দেখি তিনি তার বাড়ির বাংলা ঘরে বসে রুগীর ব্যবস্থাপত্র ও ঔষধ দিচ্ছেন। কয়েকজন রুগী তার চেম্বারের ভিতরেই বসে আছে। আমিও সবার মতো করে বসলাম। Continue reading “এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার”

ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা

ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ফেইসবুকে যেকোনো একটা পোস্ট দেয়ার আগে প্রাইভেসি সেট করে নিতে হয়। এটা নির্ভর করে যিনি পোস্টটি দিচ্ছেন এটি কে কে দেখতে পারবেন তার উপর । একটা অপশন আছে ‘me only’। এটা সেট করা হলে নিজে ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবে না। কিছু কিছু নিজের দরকারি তথ্য আছে যেগুলি অন্যের প্রয়োজন নাই। তাহলে অন্যকে দেখায়ে তার সময় ও পয়সা কেনো নষ্ট করা হবে? মনে করতে হবে, যে কোন পোস্ট পড়ে একজন কিছু সময় ব্যয় করে। পোস্ট পড়তে কিছু ডাটা খরচ হয়। ডাটা খরচ হওয়া মানে টাকা খরচ হওয়া। একটা অতি গোপনীয় তথ্যও এই অপশনে রেখে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে বন্ধুদের জন্য। আরেকটা অপশন আছে “Friends”। এই অপশন সেট করা হলে শুধু ফ্রেন্ড লিস্টে যারা আছে তারাই দেখতে পারবে। এই ধরনের পোষ্ট দেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে এটা আমার সব ফেইসবুক বন্ধু দেখার মতো কি না। আমি আমার শিক্ষক, ক্লাসমেট, বন্ধু, আত্বীয় ও অপরিচিত অনেককেই ফেইসবুক ফ্রেন্ড হিসাবে লিস্টে রেখেছি। তাই বলে কি আমি আমার ক্লোজ বন্ধুদেরকে যা দেখাতে পারবো তা সব বন্ধুকে দেখাতে পারব? আমার ছাত্ররা তাদের নিজেদের মধ্যে হাল্কা তামাশা করে নানা রকম পোস্ট দেয়। যেগুলি হয়তো বাস্তবে আমার সামনে করবে না। তাহলে ফেইসবুকে কেন সেটা দেখাবে। অথবা তার বন্ধুকে নিয়ে শর্ট ড্রেস পরে কিছু ছবি পোস্ট করলো। বাস্তবে কি আমার সামনে এই ভাবে দাড়াতে পারবে? তবে ইচ্ছা হলে ক্লোজ বন্ধুদের কাছে মেসেঞ্জারে শেয়ার করতে পারা যায়। “Friends except” নামে একটা অপশন আছে। এই অপশনে দেখে দেখে কয়েকজন ফ্রেন্ডকে পোস্ট দেখা থেকে বাদ দেয়া যেতে পারে। আরেকটা অপশন হলো “Public”। মানে সবাই দেখতে পারেন। এই পোস্টগুলি নিজের লিস্টের সব ফ্রেন্ড ও ফলোয়ারদের নিউজ ফিডে চলে যায় এক যোগে। এই ধরনের পোস্ট অধিকাংশ ফেইসবুক ইউজারদের উপকারে আসতে পারে মনে করে ছাড়া হয়। নিজের চিন্তাধারা বা মতামত অনেক মানুষের সাথে শেয়ার করাই পাবলিক পোস্টের উদ্দেশ্য।

নিজের কথা অন্যকে জানানোকে শেয়ার করা বলা হয় সামাজিক মাধ্যমে। প্রাইভেসি সেট করে আমরা নিজের মনের কথা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকি। অন্যের পোস্টও ভালো লাগলে শেয়ার করা যায়। পোস্টে শেয়ার অপশন থাকে। এর মানে হলো আমরা নিজেদের টাইম লাইনে এটা শেয়ার করতে পারি, কপি পেস্ট করে নয়, শেয়ারে ক্লিক করে। তাতে পোস্ট দাতার নাম ছবি সহ হুবহু পোস্ট ইউজাররা দেখতে পারে। ফেইসবুক পোস্ট একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি। শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করে এই প্রোপার্টির আইন লংঘন হয় না। যদি শেয়ার অপশন না থাকে তবে মনে করতে হবে পোস্ট দাতা চান না এটা কেউ শেয়ার করুক। কিন্তু আমরা দেখতে পাই কেউ কেউ অন্যের পোস্ট কপি পেস্ট করে শেয়ার করছেন। এতে কপিরাইট আইন লংঘন হচ্ছে। কি দরকার, একজন যেটা চান না সেটা করতে। কেউ কেউ মনে করেন পেস্ট করে পোস্ট দাতার নাম লিখে দিলেই হবে। তাও ঠিক না। তবে অন্য কোনভাবে অনুমতি নেয়া হলে অসুবিধা নাই।

যিনি পোস্টে প্রাইভেসি দিয়ে রেখেছেন ফ্রেন্ড অনলি হিসাবে। সেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে পাবলিকের কাছে শেয়ার করাও ফেইসবুক প্রাইভেসি আইনের পরিপন্থী।

তাই নিজের বা অন্যের কোন পোস্ট শেয়ার করার সময় প্রাইভেসির কোন ক্ষতি করা হচ্ছে কিনা ভেবে নিতে হবে।
২৭/৮/২০১৯ খ্রী.

রুগীর প্রক্সি

রুগীর প্রক্সি
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ঘটনাটা অনেকদিন আগের। ১৩/১৪ বছর তো হবেই। আমাদের গ্রাম এলাকা থেকে ময়মনসিংহে একজন লোক এলেন আমার কাছে। আমি তাকে চিনতাম না। তিনি আমাকে চিনতেন। তার বয়স ২৫ কি ২৬ বছর হবে। তিনি বললেন “আমি সৌদিআরব যেতে চাই চাকরি করতে। মেডিকেল চেক আপ-এ যেন ধরা না খাই সেজন্য চেক আপ করতে যে সব পরীক্ষা করাতে হয় সেইগুলি পরীক্ষা করায়ে দেখতে চাই। পরীক্ষায় সমস্যা না থাকলে দালালকে টাকা দেব। ” আমি তার কয়েকটি রক্তের পরীক্ষা ও বুকের এক্সরে করাতে দিলাম। দুইঘন্টা পর সবগুলি রিপোর্ট নিয়ে আমার কাছে এলেন। রক্তের রিপোর্ট ভালো। বুকের এক্সরে রিপোর্টে লিখা “নন-স্পেসিফিক ইনফেকশন।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন Continue reading “রুগীর প্রক্সি”

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

অনেকে পেটের পাকস্থলীকে ভুড়ি আর অন্ত্রকে নাড়ী বলে। একসাথে বলে নাড়ী- ভুড়ি। আবার হাতের কব্জিতে রক্তনালীর উপর আঙুল রেখে রক্ত চলাচলের ঢেউ গণনা করে হার্ট রেট বা পাল্স গণনাকেও অনেকে নাড়ী দেখা বলে। মানুষ জানে যে অন্ত্রের ভিতর পায়খানা থাকে। ছাগল গরু জবাই করে অনেকেই দেখেছে যে নাড়ীর ভিতর পায়খানা থাকে। কাজেই অনেকেই মনে করে নাড়ী ঢিলা থাকলে পায়খানা ধরে রাখা যায় না। খাবার হজম না হয়েই পড়ে যায়। দেখবেন, অনেকেই এমন আছেন, সকালে নাস্তা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পেটে একটা মোচর দিয়ে পায়খানার বেগ হয়। দৌড়ে যেতে হয় লেট্রিনে। কমোডে বসলে কলকলি সব পায়খানা পড়ে যায় কমোডে। নরম পায়খানা। আগের দিনে গ্রামের অনেকেই লোটা অথবা বদনা নিয়ে দৌড়ে যেতেন আড়া জংগলে। এসে বলতেন পেটের সব পড়ে গেছে গেলগেলি। অথচ এই সব লোক সুস্থ মানুষের মতোই। অন্য কোন সমস্যা নেই। নেই কোন জ্বরজারি। শুধু বলে মুখটা একটু তামা তামা লাগে। বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলে নাড়ী ঢিলা মানুষ।

আসলে এই নাড়ী ঢিলা রোগটিকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘আইবিএস’। এর ফুল মিনিং ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম। যে সব রোগের কারন জানা গেছে সেসব রোগের চিকিৎসাও সহজ হয়েছে। যেসব রোগের প্রকৃত কারন এখনো জানা যায় নি সেসব রোগের ভালো চিকিৎসাও নেই। আইবিএস হলো এমন রোগ যার প্রকৃত কারন এখনো জানা যায় নি। ধারনা করা হচ্ছে এই রুগীরা একটু বেশী শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করে। বাওয়েল বা অন্ত্রের মুভমেন্ট বা ঢেউ অসামঞ্জস্যপুর্ণ। কোন সময় বেশী চলে কোন সময় কম চলে। তাই কয়েকদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে আবার কয়েকদিন ডাইরিয়া থাকে। তিন চার দিন পায়খানা না হয়ে যখন রুগী কমোডে বসে তখন কমোড ভরে যায় পায়খানায়। একটু উল্টাপাল্টা খেলে আরো বেশী পায়খানা হয়। এজন্য রুগী ভয়ে এটা সেটা খেতে চায় না।

অল্প কিছু কার্যকরী ঔষধ আছে এই রোগের। কিন্তু তাতে রুগীরা তেমন সন্তুষ্ট না চিকিৎসা নিয়ে। তাই তারা কিছুদিন পরপর ডাক্তার বদলায়। প্রতিটি ডাক্তার তার সিম্পটম শুনেই রোগ ধরতে পারেন। তারপরও বেশ কিছু দামী দামী পরীক্ষা নিরিক্ষা করান অন্য কোন খারাপ রোগ আছে কিনা জানার জন্য। পরীক্ষার রিপোর্ট সবসময় ভালো আসে। রুগী এইসব রিপোর্ট প্রেসক্রিপশন ফাইলে সুন্দর করে ক্লিপ দিয়ে সাজিয়ে রাখে। একটা রিপোর্টও হারাতে চান না। তাতে তার কাছে এক গাদা কাগজ জমা হয়। এই কাগজ আবার নতুন ডাক্তারকে দেখার জন্য অনুরোধ করে। না দেখলে অসন্তুষ্ট হয়। এটাও একটা লক্ষন আইবিএস রুগীর। রুগী সামর্থ্য থাকলে ডাক্তার বদলাতে বদলাতে সুদুর ব্যাংকক পর্যন্ত চলে যায়। তারাও রুগীকে কয়েক বার ঘুরায় ফলো আপ দেয়ার জন্য। শেষে এই রুগের রহস্যটা বলে দেয়। লাখ লাখ টাকা ভাংগার পর রুগী চিকিৎসা ক্ষান্ত দিয়ে হতাসার আলাপ শেয়ার করে বন্ধুদের সাথে। বন্ধুরা হতাস না হয়ে হার্বাল মেডিসিনের আশ্রয় নিতে বলে। সেখান থেকে হতাস হয়ে হোমিওপাথি মেডিসিন সেবন করে বহু বছর কাটায় কেউ কেউ। কিন্তু নাস্তা করার পর পেটে কামর দিয়ে লেট্রিনে যাওয়ার অভ্যাসটা তার থেকেই যায়। কারন, আইবিএস এর এখনো কোন কারন জানা যায় নি এবং এর কার্যকরী চিকিৎসাও আবিষ্কার হয় নি। কিন্তু যিনি চিকিৎসা করেন তিনি রুগীকে কিছুটা আশ্বাস দেন যে তার ঔষধ খেয়ে ভালো হবার সম্ভাবনা আছে। রুগী তখন তার পূর্বের চিকিৎসকে দোষারোপ করে এবং নতুন বিশ্বাসে কিছুদিন ঔষধ খেয়ে মানষিক প্রশান্তি লাভ করে।

চিকিৎসকগণ সিম্পটম কমানোর জন্য ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে বলেন। তৈলাক্ত খাবার খেতে নিষেধ করেন। পেট ভরে না খেয়ে অল্প অল্প খাবার ঘনঘন খেতে বলেন। কপি ও ব্রুকলি খেতে নিষেধ করেন। রোগের সম্পর্কে ধারনা নিয়ে মনের জোড় বাড়ালে আইবিএস এমনি এমনি কমে যায়।
২৫/৮/২০১৯ খ্রী.

 

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দেশে কিন্তু অনেক রুগী আছে গাস্ট্রিকের। কিন্তু গ্যাস্ট্রিক নামে এমবিবিএস পাঠ্য বইয়ে কোন রোগ নেই। তাহলে মানুষ গ্যাস্ট্রিক গ্যাস্ট্রিক বলে যে ঔষধ কিনে খাচ্ছেন ওটা কোন রোগ? আজ আমি সেই বিষয়টা একটু পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। পাকস্থলীর ইংরেজি হলো স্টোমাক। এই স্টোমাক থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নামে একটা তরল এসিড এসিড উৎপন্ন হয় যা খাবার হজম করতে সহায়তা করে। এসিডের কিছু অংশ গ্যাস আকারে স্টোমাকের উপরের দিকে থাকে। কোন কোন সময় অতিরিক্ত গ্যাস খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমরা তখন বলি ঢেকুর তোলা। এই গ্যাস যেহেতু এসিড জাতীয় সেহেতু এটা খাধ্যনালী জ্বালিয়ে দেয়। তাই আমরা বলি বুক জ্বলে। এসিডে কিন্তু স্টোমাক জ্বলে না, কারন, স্টোমাকের ভিতরে এসিড নিউট্রাল করার মিউকাসের একটা আবরণ থাকে। কোন কারনে এই আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্টোমাক জ্বলে। তাতে পেটে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস যখন স্টোমাক পার হয়ে ডিউডেনামে প্রবেশ করে তখন ডিউডেনাম জ্বলে। ডিউডেনাম ব্যাথা করে নাভির কাছে। রুগী মনে করে গ্যাসের কারনেই এসব হচ্ছে। তাই বলে ‘গ্যাস্ট্রিক’। দোকানে গিয়ে বলে “আমাকে গ্যাসের ঔষধ দেন।” যাদের মাথার বিষ বা শরীরের বিষ আছে তারা বলে “আমাকে বিষের বড়ি দেন।” কাজেই গ্যাস্ট্রিক হলো রুগীগের মুখে বলা রোগের নাম যেটা আসলে গাস্ট্রিক এসিড সংক্রান্ত জটিলতার কারনে হয়। স্টোমাকের আরেক নাম গ্যাস্ট্রোন। কাজেই গ্যাস্ট্রিক মানে হলো স্টোমাকের। যেমন, গ্যাস্ট্রিক আলসার, গাস্ট্রিক ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক এসিড। অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক থেকে গ্যাস্ট্রাইটিস, গাস্ট্রিক আলসার, ডিউডেনাইটিস, ডিউডেনাল আলসার, ইওসোফেজাইটিস, ইওসোফেজিয়াল আলসার ইত্যাদি সমস্যা হয়। এইসব ক্ষেত্রে রুগীর পেটে গ্যাস অনুভুত হয়, পেট ব্যাথা ও বুক ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করে। এক কথায় তারা বলে গাস্ট্রিক হইছে। স্টোমাক ও ডিউডেনামে হেলিকোব্যাক্টার পাইলো ইনফেকশন হলে প্রদাহ হয়ে আলসার বা ঘা হয় তাতেও ব্যাথা জয়। কোন কোন খাবার খেলে কারো কারো গাস্ট্রিক এসিড বেশী বেশী তৈরি হয়। তাই সেইসব খাবার পরিহার করলে গ্যাস্ট্রিক রোগ কম হয়। গাস্ট্রিক এসিড কমানোর জন্য ডাক্তারগণ এন্টাসিড দেন। গাস্ট্রিক এসিড তৈরি কম করানোর জন্য বেশ কিছু ঔষধ আছে। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন থাকলে ডাক্তারগণ এন্টিবায়োটিক দেন। রক্ত পরীক্ষা করে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন আছে কিনা জানা যায়। পেটে ক্যান্সার হলেও গ্যাস্ট্রিকের অনুরূপ সিম্পটম হয়। এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করে স্টোমাকে, ডিওডেনামে ও ইওসোফেগাসে প্রদাহ ও আলসার (খত) অথবা ক্যান্সার আছে কি না তা দেখা যায়।
কাজেই কারো গ্যাস্ট্রিক সিম্পটম দেখা দিলে ফার্মেসী থেকে নিজের ইচ্ছা মতো গাস্ট্রিকের ঔষধ না খেয়ে আসলে কি রোগ হয়েছে তা ডাক্তার দেখায়ে নির্নয় করে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
২৪/৮/২০১৯ খ্রী.

 

একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলি জীবাণুর কারনে হয়। বলা হয় ইনফেকশন। সাধারণত ব্যাক্টেরিয়া ও ফাংগাস ইনফেকশনে এন্টিবায়োটিক ও এন্টিফাংগাস ঔষধ প্রয়োগ করে ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস (ছত্রাক) ধ্বংস করা হয় । এই ঔষধ প্রয়োগ করার নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময় আছে যা একজন এমবিবিএস ডাক্তার জানেন। এই ওষুধ যদি সঠিক নিয়মে সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা না হয় তাহলে এক পর্যায়ে জীবাণু এন্টিবায়োটিকের বা এন্টিফাংগাসের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে। ফলে এই ওষুধে আর কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘এন্টিবায়োটিক /এন্টিফাংগাস রেজিস্টেন্স’। অর্থাৎ যখন ব্যাকটেরিয়ার /ফাংগাস ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের/এন্টিফাংগাসের কার্যকারিতা থাকে না।

কেউ কেউ আছেন জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া হলে চট করে ফার্মেসী থেকে একটি বা দুইটি এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপ্সুল এনে খেয়ে ফেলেন। প্রকৃতপক্ষে এই চারটি রোগ সারাতে এন্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। এই চারটি কন্ডিশনে এন্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনো দেখেছি, দাওয়াতে গিয়ে বেশী পরিমানে খেয়ে একটা এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেয়ে নিচ্ছেন। কেনো খেলেন জিজ্ঞেস করলে বলেন “যদি পেট খারাপ হয়, তাই ট্যাবলেট খেয়ে নিলাম।” পেট খারাপ হতে পারে মনে করে একটা এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেলেন। আবার পেট খারাপ হয়ে গেছে সেই ক্ষেত্রেও দেখেছি ফার্মেসি থেকে একটি বা দুইটি ট্যাবলেট এনে খেলেন। পেট খারাপ ভালো হলে আর খেলেন না। একদিন পর আবার পেট খারাপ হলো, আবার একটা ট্যাবলেট খেলেন। এই সব ক্ষেত্রে জীবাণুরা এই এন্টিবায়োটিকের বিরোদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই এই এন্টিবায়োটিক দিয়ে এই জীবাণুকে মারা আর সম্ভব হবে না।

যারা সবসময় ঘরের ভিতর থেকে অভ্যস্ত তাদের যদি অনেকক্ষণ রৌদ্রে দাড়া করে রাখা হয় তারা রৌদ্রে কাবু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এমনটি মারাও যেতে পারে। কিন্তু একজন কৃষক সারাদিন রৌদ্রে কাজ করেও অসুস্থ হন না বা মারাও যান না। কারন, তিনি রৌদ্রে কাজ করে করে রৌদ্রের প্রতি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলেছেন। জীবাণুও তেমনি একটু একটু করে এন্টিবায়োটিক পেয়ে এর বিরোদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলে। তাই, অসুখ বিসুখ হলে একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক না। খেলে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হয়। তখন এই ঔষধে আর কাজ করে না। খেতে হলে, বিএমডিসি রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক খাবেন।
২৪/৮/২০১৯ খ্রী.

 

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমরা নিজের ছবি ছাড়াও অন্যের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে থাকি। নিজের সাথে অথবা পৃথক ভাবে। যেভাবেই দেই অন্যের ছবি দেয়ার ব্যাপারে কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। এমন কোন ছবি দেব না যাতে যার ছবি তিনি মনে কষ্ট পাবেন বা তার অসম্মান হয়। যেমন, একটি সভা চলছে। প্রধান অতিথি ভাষন দিচ্ছেন। সভাপতি ঘুমুচ্ছেন মঞ্চে বসে। অথবা নাকের পশম ছিড়ছেন। অথবা কানে আঙুল দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন। এই ছবি সভার নিউজের সাথে ফেইসবুকে পোস্ট করা হলো। এই ক্ষেত্রে একজনের ভালো করতে গিয়ে আরেকজনের ক্ষতি করা হল। সিলেটের জাফলং গিয়ে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি হাফপ্যান্ট পরে খালি গায় পানিতে পাথরের উপর গড়াগড়ি করলেন আনন্দ করে। বুড়াকালে একটু দূরে গিয়ে আনন্দ করলেন। কয়েকজন পাকা লম্বা দাড়িওয়ালা লোককে এ অবস্থায় দেখে একজনের ভালো লাগলো। ছবি তুলে দিয়ে দিলেন ফেইসবুকে। এলাকার মানুষ ফেইসবুকে তাদেরকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে কি মনে করবেন? এলাকায় এসে কি তারা সবার সামনে খালি গায় গড়াগড়ি পারবে?

অনেকসময় স্কুল কলেজে সাংস্কৃতিক নাইটে ডাঞ্চের সাথে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে কোন কোন শিক্ষক নেচে গেয়ে আনন্দ দেন। সেই সময় সেই পরিবেশে ব্যাপারটা তেমন বেমানান না। কিন্তু সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিলে বেমানান।

একবার একজনে একটি কলেজের ছবি পোস্ট দিয়েছিল ফেইসবুকে। সেই ছবিতে দুইজন ছাত্র ছাত্রী ছাদের বারান্দায় বসেছিল। যিনি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি সেটা লক্ষ করেন নাই। এই পোস্ট নিয়ে আপত্তি হয়েছিল।

কোন কোন সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ আসামী ধরে হাতকরা পরিয়ে নিয়ে যান। সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দেয়া ঠিক না। দেখা গেছে অনেকেই এমন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। কিন্তু তার আগেই ফেইসবুকে তাকে বেইজ্জতি করা হয়ে গেছে।

অনেকে তাদের নাতি পুতিদের উলঙ্গ ছবি ফেইসবুকে দিয়ে মজা পান। এই ছবিগুলি সেই নাতি বা নাত্নি বড় হওয়া পর্যন্ত থেকে যাবে। সেই ছবি দেখে কি সে লজ্জা পাবে না?

মনে করেন আপনার বান্ধবী মুসলিম কিন্তু হিজাব পরেন না। এই অবস্থার একটি ছবি আজ আপনি পোস্ট দিলেন। পাচ বছর পর সেই বান্ধবি সংসারি হয়েছেন এবং হিজাব পরেন। তখন যদি আপনার ফেইসবুক থেকে তার আগের দিনের ছবি ভাইরাল হতে থাকে তবে কি তিনি অসন্তুষ্ট হবেন না?

তাই, আমার মতে অন্যের ছবি পোস্ট করার আগে একটু ভেবে নিতে হবে।
২৩/৮/২০১৯ খ্রী.

 

ফেইসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করা

ফেইসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করা
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

যারা ফেইসবুক ব্যবহার করে তাদের প্রায় সবার হাতেই মোবাইল ফোন থাকে। বিভিন্ন ইভেন্টে নিজের ছবি তুলে অনেকেই টাইমলাইনে পোস্ট দিয়ে বন্ধুদের শেয়ার করে থাকেন। ছবি দেখে বন্ধুরা লাইক, কমেন্ট করে। লাইক অপশন আছে, কিন্তু ডিজলাইক অপশন নাই। তাই অনেকে লাইক বাটনে ক্লিক করে লাইক কাউন্ট বাড়িয়ে দেন কিন্তু অপছন্দ হলেও ডিজলাইক করে কাউন্ট কমিয়ে দিতে পারেন না। কেউ কেউ কেউ লাইক করলেও লাইক-এ ক্লিক দেন না। তাদের অন্তরে জুজুর ভয়। হায়, লাইক দিলে আবার কে বেজার হয়! আবার কেউ কেউ ডিজলাইক করলেও চামচামি করে লাইক দিয়ে দেন। কাজেই ছবি তুলেই ফেইসবুকে পোস্ট করে ফেলা ঠিক না। ভেবে দেখতে হবে যে ছবিটি পোস্ট করছি সে ছবিটি কারা কারা দেখতে পারে? তাদের মধ্যে অধিকাংশ ফ্রেন্ড কি ছবি দেখে খুশি হবে? যে অবস্থায় বা যে ড্রেস পড়ে ছবি উঠানো হয়েছে, বাস্তবে সেই অবস্থায় কি ঐ বন্ধুর সামনে দেখাতে পারবে। যেমন, মি. আবুল সাহেব সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শর্ট প্যান্ট পরে খালি গায় পানিতে নেমে ছবি তুলে পোস্ট করে দিলেন। অনেকেই লাইক দিলেন। কিন্তু কেউ খারাপ কমেন্ট করলেন না। তাই বলে কি ছবিটি দেখানো ঠিক হলো। বাস্তবে বি এই ড্রেসে তিনি তার সামনে যেতে পারবেন? ছবি দেখে তিনি কি লজ্জা পাবেন না?

কেউ কেউ বিয়ের মঞ্চে নতুন বউয়ের সাথে বিভিন্ন ভংগিতে ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়ে দেন। ফেইসবুকে এমনও ফ্রেন্ড তার আছেন যিনি এই ছবি দেখে লজ্জা পাবেন। অনেকের বাবা মা আছে তাদের ফেইসবুক ফ্রেন্ড। তারাই বা কি মনে করবেন।

বন্ধুদেরকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে দুই একটি ছবি পোস্ট করা যেতে পারে। তাই বলে সকালে একটা বিকেলে একটা ছবি দিবেন? হে, ছবির সাথে যদি আরো দেখার মতো কিছু থাকে তাহলে তা দেয়া যেতে পারে। যেমন, তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি দিলেন। তাকেও দেখা হলো, তাজমহলকেও দেখা হলো।

আসুন আমরা বেহুদা ছবি পোস্ট করা থেকে বিরত থাকি।
২৩/৮/২০১৯ খ্রী.

 

ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার

ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ফেইসবুক বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় এবং ব্যবহার যোগ্য ওয়েববেইজড ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের অনেক বন্ধু আছে তারা ফেইসবুক ব্যাবহার করে না। তারা ফেইসবুক কি তা বুঝে না অথবা ফেইসবুক ভালো না মনে করে ফেইসবুক করতেও চায় না। যারা না পারে তারা লোকমুখে শুনে শুনে এর ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করে। নানা রকম মন্তব্য করে বসে, যেমন, Continue reading “ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার”

কোলকাতা ভ্রমণ

কোলকাতা ভ্রমণ
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কোলকাতা ভ্রমণ করেছি ২ বার। প্রথমবার জানুয়ারি ২০০৬ সনে এবং দ্বিতীয়বার ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সনে। প্রথমবার যখন কলকাতা ভ্রমনের ইচ্ছা করেছিলাম তার আগে সরকারি ছুটি ও ভিসা পাওয়ার জন্য ইন্টার্নেটে ভারতের কোথাও প্যাথলজিস্টদের কোন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আছে কিনা খোজ করছিলাম। একটা কনফারেন্স পছন্দ হলো। তারিখ জানুয়ারির ২৬-২৮, ২০০৬ সন। স্থান কলকাতা। কনফারেন্সের টাইটেল “INTERNATIONAL CME 2006” সংক্ষেপে “INTCME2006″। যৌথ ভাবে আয়োজন করা হচ্ছে ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন অব প্রেক্টিসিং প্যাথলজিস্ট এবং সোসাইটি অব Continue reading “কোলকাতা ভ্রমণ”