এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার

এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৮৩ সনে যখন আমি এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষে পড়তাম তখন আমার এক আত্বীয় গ্রামের এক চিকিৎসকের খোজ নিতে বলেন যে সেই চিকিৎসক নাকি বন্ধা রুগীদের ভালো চিকিৎসা করতে পারেন এবং অনেকেই তার চিকিৎসায় সন্তান লাভ করেছে। তিনি মূলত হাই স্কুলের বিএসসি টিচার। বিকেলে ও ছুটির দিনে বাড়িতে প্র‍্যাক্টিস করেন। তার ভিজিট কত, কি কি নিয়ম জেনে যেতে হবে। আমি সেই বাড়িতে গেলাম। দেখি তিনি তার বাড়ির বাংলা ঘরে বসে রুগীর ব্যবস্থাপত্র ও ঔষধ দিচ্ছেন। কয়েকজন রুগী তার চেম্বারের ভিতরেই বসে আছে। আমিও সবার মতো করে বসলাম। Continue reading “এক ফোটা ঔষধের পাওয়ার”

ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা

ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ফেইসবুকে যেকোনো একটা পোস্ট দেয়ার আগে প্রাইভেসি সেট করে নিতে হয়। এটা নির্ভর করে যিনি পোস্টটি দিচ্ছেন এটি কে কে দেখতে পারবেন তার উপর । একটা অপশন আছে ‘me only’। এটা সেট করা হলে নিজে ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবে না। কিছু কিছু নিজের দরকারি তথ্য আছে যেগুলি অন্যের প্রয়োজন নাই। তাহলে অন্যকে দেখায়ে তার সময় ও পয়সা কেনো নষ্ট করা হবে? মনে করতে হবে, যে কোন পোস্ট পড়ে একজন কিছু সময় ব্যয় করে। পোস্ট পড়তে কিছু ডাটা খরচ হয়। ডাটা খরচ হওয়া মানে টাকা খরচ হওয়া। একটা অতি গোপনীয় তথ্যও এই অপশনে রেখে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে বন্ধুদের জন্য। আরেকটা অপশন আছে “Friends”। এই অপশন সেট করা হলে শুধু ফ্রেন্ড লিস্টে যারা আছে তারাই দেখতে পারবে। এই ধরনের পোষ্ট দেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে এটা আমার সব ফেইসবুক বন্ধু দেখার মতো কি না। আমি আমার শিক্ষক, ক্লাসমেট, বন্ধু, আত্বীয় ও অপরিচিত অনেককেই ফেইসবুক ফ্রেন্ড হিসাবে লিস্টে রেখেছি। তাই বলে কি আমি আমার ক্লোজ বন্ধুদেরকে যা দেখাতে পারবো তা সব বন্ধুকে দেখাতে পারব? আমার ছাত্ররা তাদের নিজেদের মধ্যে হাল্কা তামাশা করে নানা রকম পোস্ট দেয়। যেগুলি হয়তো বাস্তবে আমার সামনে করবে না। তাহলে ফেইসবুকে কেন সেটা দেখাবে। অথবা তার বন্ধুকে নিয়ে শর্ট ড্রেস পরে কিছু ছবি পোস্ট করলো। বাস্তবে কি আমার সামনে এই ভাবে দাড়াতে পারবে? তবে ইচ্ছা হলে ক্লোজ বন্ধুদের কাছে মেসেঞ্জারে শেয়ার করতে পারা যায়। “Friends except” নামে একটা অপশন আছে। এই অপশনে দেখে দেখে কয়েকজন ফ্রেন্ডকে পোস্ট দেখা থেকে বাদ দেয়া যেতে পারে। আরেকটা অপশন হলো “Public”। মানে সবাই দেখতে পারেন। এই পোস্টগুলি নিজের লিস্টের সব ফ্রেন্ড ও ফলোয়ারদের নিউজ ফিডে চলে যায় এক যোগে। এই ধরনের পোস্ট অধিকাংশ ফেইসবুক ইউজারদের উপকারে আসতে পারে মনে করে ছাড়া হয়। নিজের চিন্তাধারা বা মতামত অনেক মানুষের সাথে শেয়ার করাই পাবলিক পোস্টের উদ্দেশ্য।

নিজের কথা অন্যকে জানানোকে শেয়ার করা বলা হয় সামাজিক মাধ্যমে। প্রাইভেসি সেট করে আমরা নিজের মনের কথা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকি। অন্যের পোস্টও ভালো লাগলে শেয়ার করা যায়। পোস্টে শেয়ার অপশন থাকে। এর মানে হলো আমরা নিজেদের টাইম লাইনে এটা শেয়ার করতে পারি, কপি পেস্ট করে নয়, শেয়ারে ক্লিক করে। তাতে পোস্ট দাতার নাম ছবি সহ হুবহু পোস্ট ইউজাররা দেখতে পারে। ফেইসবুক পোস্ট একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি। শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করে এই প্রোপার্টির আইন লংঘন হয় না। যদি শেয়ার অপশন না থাকে তবে মনে করতে হবে পোস্ট দাতা চান না এটা কেউ শেয়ার করুক। কিন্তু আমরা দেখতে পাই কেউ কেউ অন্যের পোস্ট কপি পেস্ট করে শেয়ার করছেন। এতে কপিরাইট আইন লংঘন হচ্ছে। কি দরকার, একজন যেটা চান না সেটা করতে। কেউ কেউ মনে করেন পেস্ট করে পোস্ট দাতার নাম লিখে দিলেই হবে। তাও ঠিক না। তবে অন্য কোনভাবে অনুমতি নেয়া হলে অসুবিধা নাই।

যিনি পোস্টে প্রাইভেসি দিয়ে রেখেছেন ফ্রেন্ড অনলি হিসাবে। সেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে পাবলিকের কাছে শেয়ার করাও ফেইসবুক প্রাইভেসি আইনের পরিপন্থী।

তাই নিজের বা অন্যের কোন পোস্ট শেয়ার করার সময় প্রাইভেসির কোন ক্ষতি করা হচ্ছে কিনা ভেবে নিতে হবে।
২৭/৮/২০১৯ খ্রী.

রুগীর প্রক্সি

রুগীর প্রক্সি
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ঘটনাটা অনেকদিন আগের। ১৩/১৪ বছর তো হবেই। আমাদের গ্রাম এলাকা থেকে ময়মনসিংহে একজন লোক এলেন আমার কাছে। আমি তাকে চিনতাম না। তিনি আমাকে চিনতেন। তার বয়স ২৫ কি ২৬ বছর হবে। তিনি বললেন “আমি সৌদিআরব যেতে চাই চাকরি করতে। মেডিকেল চেক আপ-এ যেন ধরা না খাই সেজন্য চেক আপ করতে যে সব পরীক্ষা করাতে হয় সেইগুলি পরীক্ষা করায়ে দেখতে চাই। পরীক্ষায় সমস্যা না থাকলে দালালকে টাকা দেব। ” আমি তার কয়েকটি রক্তের পরীক্ষা ও বুকের এক্সরে করাতে দিলাম। দুইঘন্টা পর সবগুলি রিপোর্ট নিয়ে আমার কাছে এলেন। রক্তের রিপোর্ট ভালো। বুকের এক্সরে রিপোর্টে লিখা “নন-স্পেসিফিক ইনফেকশন।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন Continue reading “রুগীর প্রক্সি”

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

অনেকে পেটের পাকস্থলীকে ভুড়ি আর অন্ত্রকে নাড়ী বলে। একসাথে বলে নাড়ী- ভুড়ি। আবার হাতের কব্জিতে রক্তনালীর উপর আঙুল রেখে রক্ত চলাচলের ঢেউ গণনা করে হার্ট রেট বা পাল্স গণনাকেও অনেকে নাড়ী দেখা বলে। মানুষ জানে যে অন্ত্রের ভিতর মল বা পায়খানা থাকে। ছাগল গরু জবাই করে অনেকেই দেখেছে যে নাড়ীর ভিতর পায়খানা থাকে। কাজেই অনেকেই মনে করে নাড়ী ঢিলা থাকলে পায়খানা ধরে রাখা যায় না। খাবার হজম না হয়েই পড়ে যায়। দেখবেন, অনেকেই এমন আছেন, সকালে নাস্তা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পেটে একটা মোচর দিয়ে পায়খানার বেগ হয়। দৌড়ে যেতে হয় লেট্রিনে। কমোডে বসলে কলকলি সব পায়খানা পড়ে যায় কমোডে। নরম পায়খানা। আগের দিনে গ্রামের অনেকেই লোটা অথবা বদনা নিয়ে দৌড়ে যেতেন আড়া জংগলে। এসে বলতেন পেটের সব পড়ে গেছে গেলগেলি। অথচ এই সব লোক সুস্থ মানুষের মতোই। অন্য কোন সমস্যা নেই। নেই কোন জ্বরজারি। শুধু বলে মুখটা একটু তামা তামা লাগে। বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলে নাড়ী ঢিলা মানুষ।

Continue reading “নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস”

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দেশে কিন্তু অনেক রোগী আছে গাস্ট্রিকের। কিন্তু গ্যাস্ট্রিক নামে এমবিবিএস পাঠ্য বইয়ে কোন রোগ নেই। তাহলে মানুষ গ্যাস্ট্রিক গ্যাস্ট্রিক বলে যে ঔষধ কিনে খাচ্ছেন ওটা কোন রোগ? আজ আমি সেই বিষয়টা একটু পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। পাকস্থলীর ইংরেজি হলো স্টোমাক। এই স্টোমাক থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নামে একটা তরল এসিড তৈরি হয় যা খাবার হজম করতে সহায়তা করে। এসিডের কিছু অংশ গ্যাস আকারে স্টোমাকের উপরের দিকে থাকে। কোন কোন সময় অতিরিক্ত গ্যাস খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমরা তখন বলি ঢেকুর তোলা। এই গ্যাস যেহেতু এসিড জাতীয় সেহেতু এটা খাধ্যনালী জ্বালিয়ে দেয়। তাই আমরা বলি বুক জ্বলে। এসিডে কিন্তু স্টোমাক জ্বলে না, কারন, স্টোমাকের ভিতরে এসিড নিস্ক্রিয় করার মিউকাসের একটা আবরণ থাকে। কোন কারনে এই আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্টোমাক জ্বলে। তাতে পেটে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস যখন স্টোমাক পার হয়ে ডিউডেনামে প্রবেশ করে তখন ডিউডেনাম জ্বলে। ডিউডেনাম ব্যাথা করে নাভির কাছে। রোগী মনে করে গ্যাসের কারনেই এসব হচ্ছে। তাই বলে ‘গ্যাস্ট্রিক’। দোকানে গিয়ে বলে “আমাকে গ্যাসের ঔষধ দেন।” যাদের মাথার বিষ বা শরীরের বিষ আছে তারা বলে “আমাকে বিষের বড়ি দেন।” কাজেই গ্যাস্ট্রিক হলো রোগীগের মুখে বলা রোগের নাম যেটা আসলে গাস্ট্রিক এসিড সংক্রান্ত জটিলতার কারনে হয়। স্টোমাকের আরেক নাম গ্যাস্ট্রোন। কাজেই গ্যাস্ট্রিক মানে হলো স্টোমাকের। যেমন, গ্যাস্ট্রিক আলসার, গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক এসিড। অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক থেকে গ্যাস্ট্রাইটিস, গাস্ট্রিক আলসার, ডিউডেনাইটিস, ডিউডেনাল আলসার, ইওসোফেজাইটিস, ইওসোফেজিয়াল আলসার ইত্যাদি সমস্যা হয়। এসব ক্ষেত্রে রোগীর পেটে গ্যাস অনুভুত হয়, পেট ব্যাথা ও বুক ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করে। এক কথায় তারা বলে গাস্ট্রিক হয়েছে। স্টোমাক ও ডিউডেনামে হেলিকোব্যাক্টার পাইলো ইনফেকশন হলে প্রদাহ হয়ে আলসার বা ঘাঁ হয় তাতেও ব্যাথা জয়। কোন কোন খাবার খেলে কারো কারো গাস্ট্রিক এসিড বেশী বেশী তৈরি হয়। তাই সেসব খাবার পরিহার করলে গ্যাস্ট্রিক রোগ কম হয়। গাস্ট্রিক এসিড কমানোর জন্য ডাক্তারগণ এন্টাসিড দেন। গাস্ট্রিক এসিড তৈরি কম করানোর জন্য বেশ কিছু ঔষধ আছে। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন থাকলে ডাক্তারগণ এন্টিবায়োটিক দেন। রক্ত পরীক্ষা করে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন আছে কিনা জানা যায়। পেটে ক্যান্সার হলেও গ্যাস্ট্রিকের অনুরূপ সিম্পটম হয়। এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করে স্টোমাকে, ডিওডেনামে ও ইওসোফেগাসে প্রদাহ ও আলসার (ক্ষত) অথবা ক্যান্সার আছে কি না তা দেখা যায়।

কাজেই কারো গ্যাস্ট্রিক সিম্পটম দেখা দিলে ফার্মেসী থেকে নিজের ইচ্ছা মতো গাস্ট্রিকের ঔষধ না খেয়ে আসলে কি রোগ হয়েছে তা ডাক্তার দেখায়ে নির্ণয় করে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
২৪/৮/২০১৯ খ্রি.

পড়ে কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (3 votes, average: 4.00 out of 5)
Loading...