এফএনএসি রিপোর্টের অর্থ

এফএনএসি রিপোর্টের অর্থ
(সাধারণ স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

শরীরের টিউমার বা সন্দেহ জনক ক্যান্সার অথবা ক্ষতস্থান থেকে এক সুই পরিমান নমুনা নিয়ে প্রসেস করে মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়াকে এফএনএসি পরীক্ষা বলা হয়। এর পুর্ননাম হলো ফাইন নিডল এসপাইরেশন সাইটোলজি। এই পরীক্ষাটি করেন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। নমুনা কালেকশন ক্লিনিশিয়ানও করতে পারেন। তবে একই প্যাথলজিস্ট কালেকশন ও পরীক্ষা করতে পারলে রোগ ডায়াগনোসিস বেশী সঠিক হয়। এই রিপোর্টে মাইক্রোস্কোপিক ফাইন্ডিং বিস্তারিত লিখা থাকে। তবে যিনি রিপোর্ট দেখেন তিনি সাধারণত কমেন্ট বা ডায়াগনোসিস সেকশনটাই দেখে থাকেন। কমেন্ট সেকশনে যদি “প্লিজ, সি দা ডেস্ক্রিপশন” লিখা থাকে তখন তিনি সব সেকশন পড়ে দেখেন। তবে সাধারণ মানুষও তার নিজের এফএনএসি রিপোর্ট-এর অর্থ বুঝতে চান। তাই আমি আজ সাধারনের জন্য এফএনএসি রিপোর্ট-এর কয়েকটি নমুনা কমেন্ট লিখে তার অর্থ লিখার চেষ্টা করছি। কোন কোন এলাকার সাধারণ লোকের মধ্যে ইংরেজি টার্ম-এর অর্থ নিয়ে সমস্যা আছে আমি তা লক্ষ করেছি। আমরা জানি নর্মাল মানে স্বাভাবিক। কিন্তু এমনও লোক আছে তারা নর্মালকে “ভালো না” মনে করে। যেমন বলে “তার বাবার অবস্থা খুবই নর্মাল।” বুঝাতে চায় তার বাবার অবস্থা খুব খারাপ। কাজেই কমেন্টে নর্মাল লিখলে তিনি মনে করবেন এবনর্মাল। নেগেটিভ মানে নাই। নিল মানে নাই। পজিটিভ মানে আছে। পজিটিভ ভালোও হতে পারে আবার খারাপও হতে পারে। তেমনি, নেগেটিভ ভালোও হতে পারে আবার খারাপ হতে পারে। দেখতে হবে কি পজিটিভ বা কি নেগেটিভ। আমি একবার একটা এফএনএসি রিপোর্ট-এ নেগেটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল লিখেছিলাম। রোগীর স্বামী রিপোর্ট পড়ে মন খারাপ করে বললেন
– নেগেটিভ হয়েই গেলো!
– হ্যা, নেগেটিভ।
– আমার ভাগ্যটাই খারাপ। প্রথম বউটা সন্তান ডেলিভারি হবার সময় মারা গেলো। এই বউটাও নেগেটিভ।
– তাতে, মন খারাপের কি আছে?
– নেগেটিভ মানে তো মাইনাস। তার মানে আমার স্ত্রী নেগেটিভ। তাই না?
– না, তা না। মানে আপনার স্ত্রীর ক্যান্সার নেগেটিভ, মানে, ক্যান্সার নাই।

এমনি অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী মানুষ আমাদের সমাজে আছে।
ক্লিনিসিয়ান যখন রোগী পাঠান এফএনএসি করাতে তখন এডভাইসে ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস লিখে দেন সাধারণত। যাতে প্যাথলজিস্ট সেই বিষয়ের উপর বিশেষভাবে খেয়াল করেন মাইক্রোস্কোপি করার সময়। ক্লিনিসিয়ানের ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস এবং প্যাথলজিস্ট-এর প্যাথলজিকাল ডায়াগনোসিসের সমন্বয়ে ফাইনাল ডায়াগনোসিস হয়। কাজেই প্যাথলজিস্ট-এর কাছে ক্লিনিক্যাল ইনফর্মেশন থাকা ভালো। তাতে পরীক্ষার পর প্যাথলজিস্ট রোগীকেও তার রোগের পরিণতি কি হতে পারে তার একটা ধারনাও দিতে পারেন।

এফএনএসি পরীক্ষা হিস্টোপ্যাথলজি (বায়োপ্সি) পরীক্ষার সমান সঠিক না। হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করার হয় টিস্যুর নিয়ে। আর এফএনএসি পরীক্ষা করা হয় টিস্যু থেকে মাত্র কিছু সেল (কোষ) নিয়ে। হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল ডায়াগনোসিস এর একুরিসি প্রায় ১০০% এর কাছাকাছি হয়। কিন্তু এফএনএসির একুরেসি তা হয় না, একটু কম হয়। তাই চিকিৎসা দেয়ার আগে হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা, বিশেষ করে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, করে নেয়া হয়।

কমেন্টে “পজিটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল” লিখার মানে হল “এফএনএসি পরীক্ষা অনুযায়ী এটা ক্যান্সার।” সেইরূপ
নেগাটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল = ক্যান্সার সেল পাওয়া যায় নি। ক্যান্সার থাকতেও পারে, তবে পাওয়া যায় নি। আকাশে চাঁদ দেখা যায় নি বলে কি আকাশে চাঁদ নেই? থাকতে পারে, দেখা যায় নি হয়ত।
সাসপিসিয়াস ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল = যে সেলগুলি পেলাম সেগুলিকে ক্যান্সার সেল বলে সন্দেহ হলো। তবে আমি নিশ্চিত না। তয় কি করা যায়? ক্লিনিক্যাল ডাটার সাথে মিলিয়ে দেখেন। মিলে গেলে ক্যান্সার। না মিললে ক্যান্সার না। হিস্টোপ্যাথলজি করে সন্দেহ দূর করা যেতে পারে।
সাজেস্টিভ অব ম্যালিগন্যান্ট সেল = সেলগুলি দেখে মনে হলো ক্যান্সার। তবে সিউর না। ক্লিনিক্যাল ডাটার সাথে মিলে গেলেই নিশ্চিত ক্যান্সার।
পসিবিলিটি অব ম্যালিগন্যান্ট সেল = ক্যান্সার সেল হওয়ার সম্ভাবনা। তবে মনের জোড় কম। ক্লিনিসিয়ান সিধ্যান্ত নিবেন কি করবেন। আরেকবার এফএনএসি করাতে পারেন। অথবা হিস্টোপ্যাথলজি করাতে পারেন।

ইনফ্লামেশন বা প্রদাহজনিত রোগাক্রান্ত স্থান থেকে এফএনএসি করলে ইনফ্লামেটরি সেল পাওয়া যায়। বেশী ভাগ সেল নিউট্রোফিল থাকলে কমেন্টে লিখা হয় “একুট ইনফ্লামেটরি লেশন। ” বেশীভাগ সেল লিম্ফোসাইট হলে কমেন্টে লিখা হয় “ক্রনিক নন-স্পেসিফিক ইনফ্লামেশন।” তবে স্মল লিম্ফোসাইটিক লিম্ফোমা এবং নন-হজকিন নামক ক্যান্সার এফএনএসি পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। ক্লিনিক্যালি ক্যান্সার সন্দেহ হলে বায়োপ্সি করাই ভালো। অনেক ইপিথেলিওয়েড সেল পাওয়া গেলে কমেন্টে লেখা হয় “গ্রনুলোমাটাস ইনফ্লামেশন।” এই ধরনের ইনফ্লামেশনের অনেক কারন আছে। আমাদের দেশের কমন কারন হলো টিউবারকুলোসিস। ইপিথেলিওয়েড সেলস, ল্যাংহ্যান্স টাইপ জায়ান্ট সেল ও ক্যাজিয়েশন নেক্রোসিস পেলে কমেন্টে লিখা হয় “কনসিস্টেন্ট উইথ টিউবারকুলোসিস।” তবে কনফার্ম না। কনফার্ম লিখতে গেলে টিউবারকিউলোসিস-এর জীবাণু পেতে হবে। ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রির সাথে মিলে গেলে অথবা এম টি পরীক্ষাও পজিটিভ হলে কনফার্ম টিউবারকিউলোসিস। ইপিথেলিওয়েড সেলস এবং ল্যাংহ্যান্স টাইপ জায়ান্ট সেল পেলেও “কনসস্টেন্ট উইথ টিউবারকিউলোসিস।” এমনকি ইপিথেলিওয়েড সেলস এবং ক্যাজিয়েশন নেক্রোসিস পেলেও “কনসিস্টেন্ট উইথ টিউবারকিউলোসিস।” শুধু মাইক্রোস্কোপিক ফাইন্ডিং দিয়ে সাইটলজিক্যাল ডায়াগনোসিস করা না গেলে ক্লিনিসিয়ানের ডাগনোসিসের পক্ষে মাইক্রোস্কোপি ফাইন্ডিং-এর মিল থাকলে তখন লিখা হয় “কম্পাটিবল উইথ…..। ” যেমন “কম্পাটিবল উইথ টিউবারকুলোসিস।” এমন অনেক টার্ম আছে এফএনএসি রিপোর্ট-এ। এই টার্মগুলির সঠিক অর্থ বুঝতে না পাড়ার কারনে অনেক রোগী প্যাথলজি রিপোর্ট নিয়ে ভুল বুঝে থাকে। আমার এই লেখা পড়লে আশা করি সেই ভুল বুঝাবুঝি কমে যাবে।
১২/১০/২০১৯ খ্রি.

হোটেলের অপরিত দুই মেহমান

হোটেলের অপরিত দুই মেহমান
(সামাজিক ছোট গল্প)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জুম্মার নামাজ শেষ করে মসজিদের পাশের হোটেলে গিয়ে বসলাম। গরম লেগেছিল বেশ। ফ্যান ছাড়তে বললাম। ফ্যানের বাতাসে লাকরির চুলার ধুয়া এসে লাগছিল। বিরক্ত হয়ে ফ্যান বন্ধ করে দিতে বললাম। আট বছর আমি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চাকরি করেছি। এই সময় আমি শুক্রবারেও প্রাক্টিস করতাম। ঢাকার বাইরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলিতে শুক্রবারে বেশী রোগী আসে। কারন, শুক্রবারে ছুটির দিন থাকাতে ডাক্তারগণ বেশী সময় প্রাক্টিস করতে পারে। যতদিন ফ্যামিলি নিয়ে থেকেছি ততদিন আমি শুক্রবারে প্রাক্টিস করি নাই। দিনাজপুর ফ্যামিলি না যাওয়াতে শুক্রবারেও প্রাক্টিস করতাম। দুপুরের খাবার হোটেলেই খেয়ে নিতাম। রোস্তমের হোটেলের গরুর গোস্ত সবার কাছেই ভালো লাগতো। তাই, যে একবার এই হোটেলের গরুর গোস্ত খেতো সে বারবার যেতো গোস্তো খেতে। ইন্টারনিক চিকিৎসক ও ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা ছিল এই হোটেলের প্রধান কাস্টমার। মাঝে মাঝে আমি অনেকের কাছে এই হোটেলের গরুর গোস্তের স্বাদের প্রশংসা করেছি। তাতে আমার উছিলায় এই হোটেল বেশী বেশী কাস্টমার পেতো।

আমি একাগ্রচিত্তে খাচ্ছিলাম। একজন যুবক এসে দাঁড়ালো হোটেল মালিকের সামনে কাউন্টারে। শিক্ষিত যুবক মনে হলো দেখে। শার্ট প্যান্ট দেখে মনে হলো বহু বছর যাবৎ এই কাপড় সে পরছে। শরীরের গঠন বেশ সুঠাম কিন্তু পুষ্টি কম আছে তাতে। পর্যাপ্ত খাবার হয়ত খেতে পাননা অভাবে। তিনি দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে একটু দেখে নিলেন। তারপর অতি সতর্কতার সাথে হোটেল মালিকে বললেন
– আমাদের বস আমার খাবার ব্যাপারে কিছু বলেছেন?
– আপনার বস কে?
– হাসান সাব।
– হাসান সাব কে?
– পলাশ ফার্মার এরিয়া ম্যানেজার। ঐজে গত রাতে খেয়ে গেলেন। আমিও তার সাথে খেলাম। ওনি আমার এখানে খাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেছেন?
– না, কিছু বলেন নাই তো?
– আমার গতকাল এই কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। তিনি বলেছেন আমাকে এই হোটেলে খেতে। টাকা তিনি দিয়ে দেবেন।
– এমন আলাপ তিনি আমাদের সাথে করেন নাই।
– আমাকে তো তাই বলে গেছেন যে আমি খেয়ে বাকী খাতায় সই করবো, তিনি পরে টাকা পরিশোধ করে দিবেন।
– এখানে খেলে নগদ টাকায় খেতে হবে। এই যে দেখেন বড় বড় করে লিখা আছে বাকী চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।
লোকটি ইতস্তত এদিক সেদিক কিছুক্ষণ তাকালেন। কিছুক্ষণ অন্যের খাবারের দিকেও তাকিয়ে রইলেন। তারপর চলে যেতে উদ্ধত হলো। আমি ডাকলাম
– হ্যালো, এই যে, হ্যালো।
– কিছু বলবেন?
– এখানে বসেন।
– কেন, কি হয়েছে?
– না, বসেন।
– বলেন।
– বসেন।
লোকটি আমার খাবার টেবিলের সামনে বসলেন।
– আপনি আমার মেহমান। খাবেন।
– আপনি কে?
– আমি কে পরে বলবো। আগে খান। এই এখানে ভাত দাও।
– না। আমি খাব না।
– আপনি তো খেতেই এসেছিলেন। খাবেন না কেনো?
– আমি পরে খাবো।
– না, এখনই খাবেন। আমি খাওয়াচ্ছি।
– আপনি খাওয়াবেন কেনো।
– এমনি খাওয়াব। আপনি আমার মেহমান।

হোটেল বয় টেবিলে ভাত দিয়ে দাঁড়ালো।

– মাছ না মাংস?
– মাছ মাংস খাব না।
– কেনো, মাছ মাংস খান না?
– খাই, এখন খাব না।
– কোন সমস্যা নাই, আমি খাওয়াব।
– না, শুধু ভাজি দেন।
– শুধু ভাজি দেবে কেমনে? মাছ বা মাংস কিছু একটা নেন।

লোকটি এক প্লেট ভাত ও ভাজি ছাড়া আর কিছু নিলেন না। বিল আমি দিয়ে দিলাম। লোকটি আমার ঠিকানা চেয়ে বললেন যে তিনি এই টাকা পরিশোধ করবেন। আমি বললাম আপনি আমার মেহমান। খেলেন মাত্র ২০ টাকার ভাত আর ১০ টাকার ভাজি। তা আবার ফেরৎ দিতে চাচ্ছেন? আপনি যদি না খেয়ে চলে যেতেন তাতে আমি অনেকদিন কষ্ট পেতাম। আমি আমার কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই আমি আপনাকে খাওয়াছি। আমার সার্থেই আমি আপনাকে খাইয়েছি। লোকটি চোখ টলমলো চোখে আমার দিকে চাকিয়ে রইল। চলে গেলাম চেম্বারে।

কয়েকদিন আগে চরপড়ার ব্যাংক বুথ থেকে টাকা উঠাতে গিয়েছিলাম। বুথে প্রবেশের আগে পেটে ক্ষুধার উদ্রেক হলো। একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম। কি খাব ভেবে ওয়ালে টাংগানো খাবারের মেনুটা দেখছিলাম। অনেক খাবারের মাঝে চায়ের মুল্যের তালিকার প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। লিখা ছিল
রঙ চা ৫ টাকা
দুধ চা ১০ টাকা
রোজ চা ১৫ টাকা

রঙ চা ও দুধ চা বুঝলাম। কিন্তু রোজ চা বুঝলাম না। হোটেল বয়কে জিজ্ঞেস করলাম
– এই রোজ চা আবার কি?
– রোজ চা চিনেন না? মেশিনে বানায়।
– মেশিনে বানায় রোজ চা?
– জি।
– আমাকে একটা সিংগারা দাও। তারপর একটা রঙ চা দিও।

সিংগারার সাথে একটা কাচা মরিচ ও কিছু পিয়াজ কুচি দেয়া হলো। সিংগারা গরম তেলে সেকা খেয়ে হয়ত জীবাণুমমুক্ত হয়েছে। কিন্তু পিয়াজকুচি তো কাচা। জীবাণু থাকার সম্ভাবনা আছে যেনেও খেলাম। কি আছে জীবনে, একটু মজা করেই যদি খেতে না পারি। খেতে খেতে ভাবলাম, বেচে থাকলে কত কিছুই খাওয়া যায়। রোজ চার নামই শুনি নি কখনো। আজ শুনেও খেলাম না। খাওয়া উচিৎ ছিল। অভিজ্ঞতা হত। গত বছর বেল চা খেয়েছিলাম। বেল গুড়া করে যে চায়ের মত দানা করে চা বানিয়ে খায় এটা তো জান্তামই না। বেল চাও খাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোজ চা খাওয়া হয় নাই। নিশ্চই রোজ চা বানায় গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। অনেকে তুলসি পাতা দিয়েও নাকি চা বানিয়ে খায়। তবে আমি চায়ের সাথে পুদিনাপাতা মিশিয়ে জাল দিয়ে খাই। তাতে শরীর বেশীক্ষণ চাংগা থাকে। টিপা ফলের নামই আমি জানতাম না। কিছুদিন আগে টিপাফল খাওয়া হয়েছে। বেঁচে থাকলে আরও নতুন নতুন খাবার খাওয়া যাবে। এমন ভাবনা ভাবছিলাম। এমন সময় এক অতি বৃদ্ধলোক এসে আমার সামনে বসলেন। টুপি মাথায় লম্বা দবদবে সাদা দাড়ি। মাড়িতে একটা দাঁতও নেই। টেবিলটা একটু ছোট সাইজের। একটু অসস্তি বোধ করছিলাম। আমার কাছে ভিক্ষুক মনে হচ্ছিল। আবার মনে হলো ভিক্ষুক নাও হতে পারে। গ্রাম থেকে হয়ত শহরে কোন আত্বীয় বাড়ি এসেছে। পাঞ্জাবী বেশ পরীস্কার। লোকটি হোটেল বয়কে ইশারায় ডেকে কাছে এনে দাঁতের মুথুল্লা বের করে একটু লাজুক হাসি দিয়ে ফিসফিস করে যেন কি বললেন। বয় হাফ বাটি সবজি এনে দিলো। পাঞ্জাবীর সাইড পকেট থেকে দুইটি রুটি বের করে রোল করে ছিড়ে ছিড়ে মুখে দিলেন ভাজি লাগিয়ে লাগিয়ে। দাঁতের মুথুল্লা দিয়ে সেই রুটি সজোরে চিবাচ্ছিলেন আর পানি দিয়ে গিলছিলেন। যেন কত দিনের ক্ষুধার্ত ছিল লোকটি। আমি লোকটি নিয়ে ভাবা শুরু করলাম না না কিছু। ভাবতে ভাবতে লোকটি সব খেয়ে বাটি চেটে খাওয়া শুরু করল। আমি বললাম
– বাড়ি থেকে রুটি এনেছিলেন?
– লোকটে লজ্জার হাসি হেসে বললেন “না, ঐ হোটেল থেকে দুইটা রুটি দিছে, কিন্তু হুদা রুটি খাবার পাই না। তাই একটু ভাজি নিলাম।
– এখানে কয় টাকার ভাজি দিয়েছিলো?

মুস্কি হাসি দিয়ে বুঝেলেন যে “ফ্রি”।

– আমি আপনাকে খাওয়াই?
– খাইছিই তো।
– এখন দুপুর। ভাত খান।

মুস্কি হেসে রাজি হলেন।

আমি হোটেল বয়কে বললাম
– এখানে ভাত দাও।
– বিল কি আপনে দিবেন?
– হ্যা, আমি দেব।

ভাত দেয়ার পর লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম
– ভাতের সাথে কি নিবেন।
-( মৃদু স্বরে বললেন) গোস্ত।
– এই, এখানে গোস্ত দাও।

লোকটি গোস্ত আঙুল দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে ভাতের সাথে মুখে দিচ্ছিলেন আর থুরা থুরা করে কিছুক্ষণ চিবিয়ে গোস্তের রস চুষে গিলে ফেলছিলেন। মনে হলো কতদিন যেন তিনি গোস্তের স্বাদ গ্রহন করেন নাই। এক প্লেট ভাত শেষ করলে আরেক প্লেট দিতে বললাম। দুই প্লেটে শেষ হলে আরও দিতে চাইলে তিনি হাত ইশারায় মানা করলেন। খাওয়ার সময় তাকে অন্য কিছুর দিকে তাকাতে দেখি নাই। খাওয়া শেষ করে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি হাসলেন। সেই হাসি যে দেখে নাই তাকে আমি বলে বুঝাতে পারব না।
আমি কাউন্টারে বিল দিতে গেলাম। হাত মুছতে মুছতে কেশ কাউন্টারের বাম পাশে রাখা মেশিনের দিকে চোখ পড়লো। মেশিনের গায়ে লেখা দেখলাম “রোজ ক্যাফে” যেমনটি লেখা থাকে “নেস ক্যাফে।” আমি নেস ক্যাফে চিনতাম আগে থেকে। রোজ ক্যাফে দেখলাম আজই। আমি কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলাম
– রোজ ক্যাফের দাম কত?
– রোজ কফি ২০ টাকা আর রোজ চা ১৫ টাকা।
– আমার বিল কত হয়েছে?
– আপনি খেয়েছেন ১০ টাকা আর উনি খেয়েছেন ২০০ টাকা। মোট ২১০ টাকা।

কম পড়ে কিনা এই ভেবে সঙ্কিত হয়ে আমি পকেটে হাত দিলাম ।

৯/১০/২০১৯ খ্রি.

লেপ তোষকের কারিগর

লেপ তোষকের কারিগর
(সামাজিক ছোট গল্প)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

শীত এসে গেলো। নতুন করে লেপ বানাতে দিলাম। লাল সালু কাপড় ও খাটি কার্পাস তুলা পছন্দ করে দিলাম। যেদিন লেপ সরবরাহ করার কথা ছিল সেদিন লেপের দোকানে গেলাম। দেখলাম লেপ বানানো হয় নাই। তুলা ধুনানো হচ্ছে। তুলা ধুনা উড়ে উড়ে নাক দিয়ে ঢুকছিল। আমি একটু সরে দাঁড়ালাম। ধুনানো শেষ হলে লাল সালুর খোলে ভরা শুরু করলেন লেপের কারিগর । দোকান মালিক কাউন্টারেই ছিলেন। কর্মচারীকে বললেন আমাকে একটা চেয়ার দিতে। আমি তুলা ভরা দেখছিলাম চেয়ারে বসে। বললাম
– তুলা নিয়ে কাজ করেন। একটু সাবধানে থাকবেন।
লোকটি তুলাভরা শেষ হলে আমার দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত হয়ে বললেন
– তুলা নিয়া কাম করি তাই কি মনে করেন? নিজেরা চোর আর সবারে চোর মনে করেন। সেই কখন থেকে ধরার জন্য চেষ্টা করতাছেন যে আমি খারাপ তুলা মিশাতাছি কি না। আপনে দেখলেও যা দিতাম, না দেখলেও তা দিতাম। তুলাওয়ালাদেরকে আপনারা চোর মনে করেন। আপনেগো মতো শিক্ষিত মানুষই বেশী চোর। আমরা টেলিভিশনে দেখতাছিনা, কেরা কত টেহা চুরি করতাছে কলমের পেচ মাইরা। একটা বালিশ কিন্না কত টেহা খরচ দেহায় দেহি নাই। একটা লেপের দাম কত দেহাইছে দেহি নাই? বালিশ তোষক কেনাকাটা কইরা কোটি কোটি টেহা মাইরা দেয় নাই? আপনে আইছেন তুলা চোর ধরতে। এহানে চোর ধরনের দরকার নাই। যান সাব বড় বড় চোর ধরেনগা। সবগুলায় চুরি করে আর সন্দেহ করে খালি তুলাওয়ালারে।
– আপনি এসব কি বলছেন?
– কি কইছি মানে? আপনি আমারে সন্দেহ করবেন আর আমি চুপ কইরা থাকমু। গরীব অইতে পারি। চোর না।
– আরে, আমি কি বললাম, আর আপনি কি মনে করলেন।
– আর আমারে বুঝাতে অইব না।
– আমার কথাটা শুনুন।
– কইন, আপনে কি কইবার চাইন।
– আমি একজন ডাক্তার। আমি লক্ষ করছি আপনি তুলা ধুনাচ্ছেন নাক মুখ খোলা রেখে। তুলার কণা আপনার নাকমুখ দিয়ে চলে যাচ্ছে ফুসফুসে। ফুসফুসে গিয়ে আটকে যাচ্ছে।
– আমি ১২ বছর ধইরা এই কাম করতাছি। আমার ফুসফুসে তো তুলা আটকে নাই।
– ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তুলাকণা দীর্ঘদিন পর্যন্ত জমা হতে হতে লাংগস-এ নিউমোকনিওসিস নামে একটা গ্রেনুলোমাটাস ইনফ্লামেটরি ডিজিজ হয়। তাতে লাংগসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। অল্পতেই হয়রান লাগে। খুসখুসি কাশি হয়। শরীর শুকিয়ে যায়। অনেকে যক্ষা মনে করে। তখন আর লেপ বানানোর শক্তি পাবেন না।
– কি রোগের কথা কইলেন?
– নিউমোকনিওসিস।
– ইংরাজিতে না কইয়া বাংলায় কন।
– নিউমোকনিওসিস-এর বাংলা নাম কি হবে তা আমার জানা নেই। তবে বুঝলেই হলো।
– বুঝলাম না তো।
– ঔ যে বললাম, গ্রেনুলোমাটাস ইনফ্লামেশন।
– আবারও তো ইংরাজি কইলেন।
– ও, মানে, ফুসফুসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোটা গোটা দানা বেঁধে অক্সিজেন ধরার ক্ষমতা কমে যায়।
– বুঝলাম। তয় কি করতে অইব?
– নাকেমুখে মাস্ক বেঁধে কাজ করতে হবে। ঔষধের ফার্মেসীতে ও ফুটপাতের দোকানেও আজকাল মাস্ক পাওয়া যায়। দাম মাত্র পাঁচ দশ টাকা।
– ও, আজকালকার পোলাপানরা দেখি মুখের মধ্যে কাপড়ের ঠোনা পরে। কতক পোলাপান কি যে পরে, কালা কাপড়ের মাঝখানে লাল জিহবার মত কাপড় লাগায়। কেমন বিশ্রি দেয়া যায়।
– ওরা আসলে ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক পরে। অল্প বয়সের পোলাপান তো। সব কিছুতেই ফ্যাসান খুঁজে। মাস্কেও একটু ফ্যাসান করে। আপনি সাদা কাপরের মাস্ক কিনে নিয়েন। টিস্যু কাপরেরও সুন্দর সুন্দর মাস্ক পাওয়া যায়। বেশী দিন বেঁচে থাকতে কার মন না চায়? মাস্ক পরে কাজ করুন। বেশী দিন বেঁচে থাকবেন। আর কতক্ষণ লাগবে সেলাই শেষ করতে?
– ডাক্তার সাব, কিছু মনে করুন না যে। না বুইঝা কইছি। আপনেরে কই নাই। টেলিভিশনের অফিসারগুলারে কইছি। আপনের জন্য একটা চা আনাই। দুধ চা, না রঙ চা?
– চা খাব না। আর কয় মিনিট লাগবে?
– আর পাঁচ দশ মিনিট লাগবে। আপনি চা খাইতে খাইতেই অইয়া যাবে।
– রঙ চা দিতে বলেন। আর, মনে রাখবেন, শিক্ষিত লোকের মধ্যে মাত্র গুটি কয়েক চোর আছে। সবাই না।
– এই, স্যারেরে একটা রঙ চা দেও।
২/১০/২০১৯ খ্রি.

সুস্থ্য শরীরে ক্যান্সারের পরীক্ষা

সুস্থ্য শরীরে ক্যান্সারের পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কয়েকদিন আগে প্রবাস থেকে একজন আমাকে মোবাইল করে জানতে চাইলেন যে তিনি দেশে ফিরে রক্ত পরীক্ষা করাবেন। কি জন্য রক্ত পরীক্ষা করাবেন জানতে চাইলে বললেন
– শরীরে ক্যান্সার আছে কি না জানতে চাই।
– তা শারীরিক সমস্যা কি কি?
– না, শরীরে কোন সমস্যা নাই।
– সমস্যা নাই, তাও পরীক্ষা করাবেন কেন?
– অনেকেই তো ক্যান্সার হয়ে মারা গেলো। আমার শরীরের ভিতরে ক্যান্সার আছে কি না জানতে চাই।
– দেশে ফিরে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।

এভাবে যারা অতি-স্বাস্থ্য সচেতন তারা আগাম কিছু পরীক্ষা করাতে চান। এই সুযোগে অনেক দালালের সুবিধা হয়। তারা দেশী বিদেশী বড় বড় ডায়াগনোসিস্টিক সেন্টারে মোটা কমিশনের বিনিময়ে প্যাকেজ করে শরীর চেক আপ করার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়। সহজ উপায়ে বেশী টাকা কামাই করলে সাধারণত এমন সখ হয়। বিদেশ ভ্রমণও হলো, চেক আপ করাও হলো। চেক আপ করার পর বন্ধুদের সাথে মোবাইলে তার বিদেশে গিয়ে চেক আপের কথা বলে বেড়ায় গশর্ব করে। আর দেশী ডায়াগনোসিস্টিক সেন্টারের বদনাম করে যেভাবে দালালদের মুখ থেকে শুনেছে। অনেক সময় বিদেশ যেতে ভিসা পেতে দালালরা ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ভিসা সংগ্রহ করে। আজব আজব রোগের নাম লিখা থাকে সেই সব রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট যখন বিদেশী ডাক্তারের হাতে পড়ে তখন তারা প্রচার করে বাংলাদেশী ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ভুল হয়। এমন রিপোর্ট স্ক্যান করে কেউ কেউ ফেউস বুকেও ভাইরাল করেছে।

কয়েক বছর আগে একটা রিপোর্ট পেলাম মহিলা রোগীর। তিনি বড় একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন একজন পল্লী চিকিৎসকের এডভাইস অনুযায়ী। তিনি চিকিৎসককে বলেছিলেন যে তার শরীরে ক্যান্সার আছে কি না তা জানার জন্য কোন রক্ত পরীক্ষা লাগলে লিখে দেয়ার জন্য। সেই অনুযায়ী তিনি সাত আটটা পরীক্ষা করিয়েছেন। মজার কথা হলো তিনি প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন (PSA) টেস্টটাও করিয়েছেন। সব পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো। কিন্তু যেখান থেকে পরীক্ষা করিয়েছেন সেখানকার প্যাথলজিস্ট-এর দেখা তিনি পান নি। রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি পাশ করা একজন পার্সন। তিনি মেডিকেল পার্সন নন। তাই, তার রিপোর্ট বুঝার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। মনে রাখবেন, অধিক মুনাফা করার জন্য কেউ কেউ মেডিকেল পার্সনের পরিবর্তে অন্য প্রফেসনের লোক দিয়ে প্যাথলজি করাতে পারেন। প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন পজিটিভ হয় প্রোস্টেট ক্যান্সারে সাধারণত। ছেলেদের পুরুষাংগের গোড়ায় ও মুত্রথলির নিচে মুত্রনালীর বেষ্টন করে প্রোস্টেট থাকে। মেয়েদের প্রোস্টেট নাই। প্রোস্টেটে ক্যান্সার হলে মুত্রনালী বন্ধ হয়ে প্রশ্রাব আটকে যায়। আগাম কেউ রক্ত পরীক্ষা করালে রক্তের পিএসএ বেশী দেখে প্রোস্টেট ক্যান্সার সন্দেহ করতে পারে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিল এই মহিলা রোগীর পিএসএ পরীক্ষা করানো হলো কেন? নিজে নিজেই চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করলাম। মহিলা যখন পল্লী চিকিৎসককে উপদেশ লিখে দিতে বলেছেন তখন তিনি গুগলে সার্চ দিয়েছেন ক্যান্সার রোগের রক্ত পরীক্ষা কি কি আছে। মহিলা/পুরুষ বিবেচনা না করে সবগুলি লিখে দিয়েছেন। এও হতে পারে বেশী কমিশন পাওয়ার আশায় সবগুলি পরীক্ষা লিখে দিয়েছেন।

সিবিসি (CBC) নামে রক্তের একটা পরীক্ষা খুব করা হয়। সাভাবিক অবস্থায় যদি অনেকগুলি রোগীর রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করা হয় তবে ইনসিডেন্টাল ফাইন্ডিং হিসাবে দুই এক জনের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়বে। কারন, প্রথম দিন থেকেই রোগীর শারীরিক সমস্যা নাও হতে পারে। রক্তকণিকার অনেক পরিবর্তন হবার পর ব্লাড ক্যান্সারের উপসর্গ শুরু হয়। উপসর্গ শুরুর আগেই রক্তে ক্যান্সার সেলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
সাভাবিক সংখ্যার চেয়ে যদি অপরিক্ক রক্ত কণিকার পরিমাণ বেড়ে যায় তবে ব্লাড ক্যান্সার সন্দেহ করা হয়। যে ব্লাড ক্যান্সারে অপরিপক্ব কোষ থাকে তাকে একুট লিউকেমিয়া বলে। যে ব্লাড ক্যান্সারে পরিপক্ব কনিকা থাকে তাকে ক্রনিক লিউকেমিয়া বলে। পরিপক্ব কোষের সংখ্যা অসম্ভব বেশী হয়ে গেলেই ক্রনিক লিউকেমিয়া বলা হয়।

অনেক মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার হয়। সার্ভাইকাল ক্যান্সার বলে যাকে। এই ক্যান্সার কিন্তু এক দুই দিনে হয় না। পুরাপুরি ক্যান্সার হয়ার আগে, কোন কোন ক্ষেত্রে ৪/৫ বছর আগে থেকে সার্ভিক্স-এর কোষে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রাথমিক ভাবে ভিআইএ (ভায়া) টেস্ট করে সন্দেহ করা হয়। ভায়া টেস্ট পজিটিভ হলে অথবা গাইনিকোলজিস্ট মনে করলে পেপ টেস্ট করে সার্ভিক্স-এর অস্বাভাবিক সেল ডিটেক্ট করে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সন্দেহ করেন। গাইনিকোলিস্ট পেপ স্মিয়ার কালেকশন করেন। প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ পেপ টেস্ট পরীক্ষা করেন। ভায়া সেন্টারে ভায়া পরীক্ষা হয়।

ক্যান্সার মার্কার নামে রক্তের কিছু পরীক্ষা আছে। এগুলি কনফার্ম পরীক্ষা না। উপসর্গ দেখে ক্যান্সার সন্দেহ হলে অথবা চিকিৎসা দেয়ার সময় ঔষধে কেমন কাজ করছে তা দেখার জন্য এইসব মার্কার দেখা হয়। অনেক মার্কার আছে। তার মধ্যে PSA, AFP, beta-HCG, CA-125, Carcinoemryonic antigen সচারাচর করা হয়।

পিএসএ(PSA)-এর কথা আগেই বলা হয়েছে যে প্রোস্টেট ক্যান্সার হলে সাধারণত এটা পজিটিভ হয়।

এএফপি (AFP) সাধারণত পজিটিভ হয় ওভারি(ডিম্বাধার) ও টেস্টিসের (অন্ডকোষ)-এর ক্যান্সার এবং লিভারের ক্যান্সারে (হেপাটোসেলুলার ক্যান্সার)।

CA-125 পজিটিভ হয় সাধারণত ওভারিয়ান ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার, লাংস (ফুসফুস) ক্যান্সার, ব্রেস্ট (স্তন) ক্যান্সার ও পরিপাক তন্ত্রের ক্যান্সারে।

বিটা-এইচসিজি (HCG) পজিটিভ হয় প্লাসেন্টাল ক্যান্সার (কোরিওকার্সিনোমা) ও জার্মসেল ক্যান্সার (ওভারি ও টেস্টিস) ক্যান্সারে।

কার্সিনোএম্ব্রায়োনি এন্টিজেন পজিটিভ হয় পরিপাক তন্ত্রের, সারভিক্স, লাংস, ওভারি ও ব্রেট ক্যান্সারে।

যাহোক, খামখা কেউ যদি ক্যান্সারের আগাম কোন পরীক্ষা করাতেই চান তবে উপরে উল্লেখিত পরীক্ষাগুলি করাতে উপদেশ দেয়া যেতে পারে। তবে মনে রখতে হবে কোনটি মেয়েদের আর কোনটি ছেলেদের পরীক্ষা।
৫/১০/২০১৯ খ্রী.