শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?

শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রশ্নটার উত্তর দেয়ার আগে একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আগের দিনে আমাদের এলাকায় উপজাতিরা বন্য খরগোশ শিকার করে খেতো। দিনের বেলা খরগোশ ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকতো। সন্ধ্যার সময় বেরিয়ে আসত মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য। খরগোশ ঘাস খেয়ে জীবন ধারণ করে। শিকারি ঝোপঝাড়ের আশে পাশে ফাঁদ পেতে লুকিয়ে থাকতো। খরগোশ ঘাস খেতে বেরিয়ে এসে ওই ফাঁদে আটকা পড়তো। সন্ধ্যার আগে শিকারি মাঠে খরগোশের গোবর খুঁজে বেড়াতো। যদি মাঠে খরগোশের কাঁচা গোবর দেখতে পেতো তাহলে মনে করে নিতো পাশের ঝোপে খরগোশ আছে। আগের রাত্রে খরগোশ এই মাঠে খাওয়া-দাওয়া করেছে। যদি শুকনা গোবর থাকতো তাহলে সন্দেহ ছিল যে খরগোশ আছে কিনা। কাঁচা গোবর পেলেই তারা ফাঁদ পাততো। Continue reading “শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?”

সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব

সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জীবাণু দিয়ে যেসব রোগ হয় সেগুলিকে সংক্রমণ রোগ বলে। ইংরেজিতে বলা হয় ইনফেকশাস ডিসিজ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, রিকেটশিয়া, প্রটোজোয়া, ফাংগাস ইত্যাদি দিয়ে সংক্রমণ রোগ হয়। রোগ জীবাণু একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। কিছু কিছু রোগ জীবাণু সরাসরি একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। আবার কিছু কিছু জীবাণু বহন করতে মাঝখানে ভেক্টরের প্রয়োজন পড়ে যেমন মশা, মাছি, পোকা ইত্যাদি। কিছু কিছু জীবাণু রোগীর হাঁচি-কাঁশি থেকে পড়ে গিয়ে জিনিসপত্রের উপর লেগে থাকে সেখানে হাত দিয়ে কেউ হাত মুখে বা নাকে দিলে সেই জীবনে তার শরীরে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করে। যেমন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। রোগী বা বাহকের শরীরে জীবাণু আছে কিনা তা জানার জন্য প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করা হয়। Continue reading “সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব”

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে
(স্মৃতিচারণ)

৯/৪/২০১৯ ও ১৬/৪/২০ ১৯ তারিখের স্মৃতিচারণ একসাথে
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৯৬ সনের মার্চ মাসে আমি আবার প্রভাষক পদে প্যাথলজি বিভাগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ফিরে আসি। এমফিল (প্যাথলজি) পাসের রেজাল্ট হয়েছিল ১৯৯৫ সনের শেষের দিকে। পদায়ন হতে সময় লেগেছিলো। আমি এর আগেও প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলাম ১৯৯২ সনের জানুয়ারি থেকে ১৯৯৩ সনের জুন পর্যন্ত। ১৯৯৮ সনের মে মাসে আমি সহকারী অধ্যাপক (চঃ দাঃ) পদে যোগদান করি। ২০০৭ সনের শেষ পর্যন্ত আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজেই ছিলাম। সেই হিসাবে আমি এই মেডিকেল কলেজের এম ২৪ নাম্বার ব্যাচ থেকে এম ৪৪ নাম্বার ব্যাচ আমার ছাত্র হিসাবে পেয়েছি। ২৬ ও ২৭ নাম্বার ব্যাচের আমি ক্লাস নিতে পারি নি কারন আমি তখন পিজি কোর্সে ছিলাম আইপিজিএমআর (বিএসএমএমইউ) ঢাকায়। ৪৩ ও ৪৪ ব্যাচের ক্লাস আমি নিতে পারি নি কারন তারা তখন ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে। প্যাথলজি ক্লাস হয় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে। আমি নিজে ছিলাম এম-১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র। আমার মেয়ে ডাঃ মার্জিয়াও ১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্রী ছিল। তবে ময়মনসিংহে না দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের। যেহেতু ভুটানের ছাত্র লোটে শেরিং এম-২৮ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র ছিলেন সেহেতু তিনি আমার সরাসরি ছাত্র। আজ তিনি ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার মেডিকেল কলেজের আমারই সরাসরি একজন ছাত্র একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়াতে আমি গর্ববোধ করছি। সেই দেশেরই আমার আরেক ছাত্র এম-২৪ নাম্বার ব্যাচের ডাঃ টান্ডি দর্জি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরো ভালো লাগার কথা না? শুধু তাই না, খোদ বাংলাদেশেরই, এমনকি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপি-ও এম-৩০ নাম্বার ব্যাচের সরাসরি ছাত্র। এরা শুধু আমার ছাত্রই না আমার কলেজের ছোট ভাই। গর্বে প্রাণ ভরে যায়। আমি এখন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের টিচার । আগামী ১৪ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসে তার স্মৃতিমাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ভিজিট করবেন। সাক্ষাৎপ্রার্থির জন্য কড়াকড়ি নিয়ম। আমি অধ্যক্ষের নিকট অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। নাম ঠিকানা ও ৫ কপি ছবি জমা দিয়েছি চেষ্টকার্ড তৈরি করার জন্য। এই ৫ কপি ছবি নাকি ৫ স্তরের সিকিরুটির নিকট চলে যাবে। কত দামী আমার ছাত্রটি! Continue reading “আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে”

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের ঘোনারচালা প্রাইমারী স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে দেখি নি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি হাই স্কুলে গিয়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অটোপ্রমোশন নিয়ে ক্লাস সিক্স-এ ভর্তি হই কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ১৯৭২ সনের প্রথম দিকে। বাংলা পড়াতেন মাওলানা সালাউদ্দিন স্যার। তিনি ধর্ম বিষয়ে লেখাপড়া করলেও ধর্ম বিষয় পড়াতেন না। ধর্ম বিষয় পড়াতেন ইনসান স্যার এবং আব্দুল্লাহ স্যার। মাওলানা স্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পছন্দ করতেন। স্কুলে ছাত্র সংসদ ছিল। ছিল ভিপি, জিএস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। ক্লাস রুমের পার্টিশন খুলে দিয়ে রুম বড় করে হল রুম বানিয়ে আমরা অনুষ্ঠান করতাম। প্রতি বুধবার সাংস্কৃতিক সম্পাদক একটা হাফ খাতা হাতে নিয়ে ক্লাসরুমের সামনে এসে বলতেন Continue reading “আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান”

মুর্গির মরক

মুর্গির মরক

স্মৃতিচারণ

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আগেরদিনে গ্রামের মানুষ একই ভিটায় কয়েকটা করে  পরিবার বাস করতো। প্রত্যেক পরিবারই দেশী জাতের মুর্গি পালন করতো । একেক পরিবারের ২০-৩০টা করে মুর্গি ছিল । মুর্গিরা সারা বাড়িময় ও আলানে-পালানে ঘুরে ঘুরে খাবার খেতো । তাদের জন্য আলাদা খাবার কেনার চিন্তা করতে হতো না ।  পরিবারের উচ্ছিষ্ট খাবারও হাস-মুর্গিরা খেতো । মাঝে মাঝে দুইএকটা মুর্গি জমাই করে খাওয়া হতো । কিন্তু কোন কোন সময় মুর্গি ভাইরাসে একযোগে আক্রান্ত হয়ে মরে সাব হয়ে যেতো । এই অবস্থাকে বলা হতো মুর্গির মরক লাগা । মরার আগে মুর্গির গায়ে জ্বর হতো । এই অবস্থায় হাটে নিলে জ্বরযুক্ত মুর্গি কেউ কিনত না । তাই মুর্গির মরক লাগার সাথে সাথে জীবিত মুর্গিগুলো জবাই করে খেয়ে ফেলা হতো । তখন ফ্রিজের ব্যবস্থাও ছিল না যে রেখে রেখে খাবে ।

 

বাচ্চা পোলাপানদের অভ্যাস ছিল ভালো কোন কিছু খেলে বন্ধুদেরকে দেখায়ে দেখায়ে খেতো। খাওয়া দেখে বন্ধুদের জিহবায় পানি এসে যেতো । এটাই ছিল দেখায়ে খাওয়ার মজা ।

 

একবার মাসুদের চাচীদের মুর্গির মরক লাগলো । সেই মুর্গি জবাই করা হলো । মাসুদের চাচাত বোন মাসুদদের ঊঠানের বিপরীত বারান্দায় বসে মাসুদকে দেখিয়ে দেখিয়ে মুর্গির রান খাচ্ছিল । দেখে মাসুদের জিহবায় পানি এলো । মাসুদ আক্ষেপ করে চাচাত বোনকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো “আমাগও মুর্গি আছে, আমাগো মুর্গিরও মরক লাগবে। আমরাও সেগুলো জবাই করমু। হেসুম আমরাও দেখাইয়া দেখাইয়া খামু।”

২০/৪/২০২০ খ্রি.
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...