মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি গ্রামে বড় হয়েছি। ইন্টারমেডিয়েট পাশ করার পর থেকে নিয়মিত গ্রামে থাকা হয় না। গ্রামের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জাম খুব কাছে থেকে দেখেছি । এখনো গ্রামের বাড়ি যাই মাঝে মাঝে । লক্ষ্য করছি গ্রামের কৃষিকাজের পদ্ধতি দ্রূত আধুনিকায়ন হচ্ছে । তাই অনেক সরঞ্জাম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । সোনালী শৈশবে যা যা দেখেছি তার জন্য কেমন যেন মায়া লাগে। গত কয়েকদিন আগে নিউজ পেলাম সখিপুর উপজেলায় লাঙ্গুইলা গ্রামে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে । লাঙ্গুইলা গ্রামের নাম বহুদিন পর পনে পড়লো । কিন্তু লাঙ্গুইলা গ্রামটা সখিপুরের কোন দিকে এটা আমি মনে করতে পারলাম না । আমি গ্রামের একজনকে মোবাইল করে জানতে চাইলাম লাঙ্গুইলা গ্রামটি কোন দিকে যেনো । জানা হলো । এরপর শুরূ হলো লাঙ্গুইলা শব্দটি যেনো কোথায় শুনেছি । মনে পড়লো এটা ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করার একটা কৃষি সরঞ্জাম ছিলো । অনেকদিন না দেখতে দেখতে নামই ভুলে গেছি । মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো আমার শৈশবে দেখা মান্দাতার আমলের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জামের স্মৃতি । এমনই হয় মাঝে মাঝে আমার ব্রেইনে । যেদিন যেটা মাথায় আসে সেদিন সেটা সারাদিনই মাথায় খেলতে থাকে । বাধ্য হয়ে লিখে ফেলি এন্ড্রয়েড মোবাইলের নোট প্যাডে। কপি করে পেস্ট করে দেই ফেইসবুক পোস্টে । আজও তাই করলাম ।

Continue reading “মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম”

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

(স্মৃতিচারণ)

ডা.  সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

মোবাইল ফোন কেনা হল। কিন্তু তেমন কাজে লাগলো না। মোবাইল করার মতো মাত্র কয়েকজন ব্যবহারকারী ছিল তখন। বাসায় বাসায় তখন বিটিসিএল বা টিএন্ডটি-র ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। ১৯৯৭ সনের ডিসেম্বর মাসে আমাকে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলী করা হয়। আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে। লেগে গেলাম বদলী ফেরানোর তদবিরে। ঘনঘন ঢাকায় সচিবালয়ে যাই। কাজ হয় না। অফিস সহকারীদের সাথে মোটামুটি ভাল পরিচিত হয়ে যাই। টেলিফোন করে তাদের থেকে আমার ফাইলের আপ-ডাউন খবর নেই। ফাইল একবার উঠে, আবার নামে। প্রিন্সিপাল স্যারের টেলিফোন ব্যবহার করতাম স্যারের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু কতবার অনুমতি নেয়া যায়! অনুমতি নিতেও লজ্জা পেতাম। তখন হাসপাতাল জরুরী বিভাগের সাথে একটা টেলিফোন বুথ ছিল। প্রিপেইড কার্ড কিনে বুথের বাক্সে ফেলতাম। দেশে বিদেশে কথা বলা যেতো স্বাধীন ভাবে। কলরেট পোস্টপেইড ফোনের মতই ছিল। লোকাল কল মিনিটে ২ টাকা। অন্য জেলায় মিনিটে ৭ টাকা। আমেরিকায় মিনিটে ১৪ টাকা। সৌদিআরব, কাতার মিনিটে ২২ টাকা। আমার কলগুলো সাধারণত লোকাল, ঢাকা, টাংগাইল, আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারে ছিল। প্রচুর খরচ হতো কল করে। তখনকার ১ টাকার সমান এখনকার ২০১৮ সনের ১০ টাকা। কল করতে আবার যেতে হতো বুথে। ওখানে গিয়েও আবার লাইনে দাড়াতে হতো। এটা ছিল বড় কষ্টের। একদিন বুথের কাছে  অল্প বয়সের এক ছেলে আমাকে চুপি চুপি বলল Continue reading “বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ”