হোটেলে গিয়ে মাগনা খাওয়া

হোটেলে গিয়ে মাগনা খাওয়া

(হাস্তর)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

শহরে বেড়াতে গেলেও রহিম বকস ও করিম বকস একসাথেই যেতেন। শহরে মূলত তাদের কোন কাজ ছিলো না। আসল উদ্দেশ্য ছিলো হলে বসে সিনেমা দেখা। যখন যে সিনেমা মুক্তি পেতো সেই সিনেমেই তারা দেখে নিতেন। গ্রামের মানুষ তখন সিনেমাকে টগি বলতো। সম্ভবত টকিজ থেকে টগি হয়েছে। টাঙ্গাইলের গ্যাঘের দালানের সাথে এখনকার নিরালা মোড়ের সিনেমা হলের নামটিও কিন্তু “দি রওশন টকিজ।” প্রথম দিকে সিনেমায় চলমান চিত্র দেখা যেতো কিন্তু কথা শুনা যেতো না। এগুলোকে নির্বাক চলচ্চিত্র বলা হতো। একসময় চলচ্চিত্রের সাথে কথা যোগ করার প্রযুক্তি আবিস্কার হয়। কথার ইংরেজি হলো টক। এই টক থেকেই সম্ভবত টকিজ হয়েছে। সিনেমা হলে বসার কয়েকটি ক্লাস ছিলো। সবার সামনে অর্থাৎ রুপালি পর্দার কাছাকাছি সিটগুলোকে বলা হতো ফ্রন্ট স্টল। এগুলোর টিকেটের মূল্য ছিলো মাত্র ৮ আনা। ১৬ আনায় ১ টাকা হতো। ৬ পয়সায় হতো ১ আনা। একটা কয়েনের মাঝখানে গোল ছিদ্র ছিলো, সম্ভব ওটা ২ পয়সার কয়েন ছিলো। ওটাকে বলা হতো ছেন্দা পয়সা। এখনো ঐ পয়সার নাম বলে অনেকে খোটা দেয় এভাবে “একটা ছেন্দা পয়সাও দিলোনা কৃপ্টায়।” ফ্রন্ট স্টলের পেছনের সিটগুলোর নাম ছিলো মিডল স্টল। এগুলোর টিকিটের মূল্য ছিল ১ টাকা। সবার পেছনের সিটগুলোর নাম ছিলো রিয়ার স্টল, মূল্য ছিলো দেড়টাকা। দোতলায় পেছনের দিকে কিছু সিট ছিলো। এগুলোর নাম ছিলো বেলকনি। বেলকনির সিটের মূল্য ছিলো ২ টাকা। দোতলায় বক্সের ভেতর দু’একটা চেয়ার ছিলো, বলা হতো বক্সের সিট। প্রতি বক্সে দু’টি সিট থাকতো। দুই সিটের বক্সের মূল্য ছিলো ৬ টাকা। নব দম্পতিরা নিরিবিলি বসে সিনেমা দেখার জন্য বক্সে টিকিট করতো। সিটের মূল্য যতো বেশী হতো সিনেমা দেখেও তত আরাম লাগতো। গ্রামের অল্প জানা লোকগুলো দু’টা কারনে ফ্রন্ট স্টলে টিকেট কিনতেন। প্রথমত, গরীব হওয়ার দরুন। দ্বিতীয়ত, তারা মনে করতেন সব কিছুর সামনে থাকা ভালো। রহিম ও করিম বকসরা ফ্রন্ট স্টলে টিকিট করতেন কারপণ্যতার কারনে। টিকিট কিনতে হতো ওয়ালের মধ্যের একটা ছিদ্র দিয়ে হাত ঢুকিয়ে। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হতো। টিকিটের গায়ে সরকারি সীল থাকতো। কারণ, সরকার সিনেমা দেখাকে প্রমোদ মনে করতো। তাই দর্শানার্থীদের টিকিটের সাথে প্রমোদ কর কেটে নিতো। লেখা থাকতো “প্রমোদ কর এত পয়সা।” এই টিকিট হিসাব করে শুল্ক বিভাগের লোকেরা কর আদায় করতেন। হলের ম্যানেজাররাও কম চালাক ছিলেন না। তারা কর ফাঁকি দেয়ার জন্য কিছু টিকিট সীল ছাড়া বিক্রি করতেন দালালদের মাধ্যমে। এগুলোকে ব্লাকের টিকিট বলা হতো। গ্রামের কেউ কেউ বলতেন ব্যালাকের টিকিট। রহিম বকসরা বেশী সময় ব্লাকের টিকিট কিনতেন। যারা ঘন ঘন সিনেমা দেখতো তাদেরকে ব্লাকাররা চিনে ফেলতো। এসব দর্শকরাও ব্লাকারদেরকে চিনে ফেলতো। কাজটা করা হতো গোপনে। ব্লাকারদের সাথে রহিম বকসদের বেশ খাতির ছিলো।

 

টাঙ্গাইল গেলে সাধারণত তারা বড় রেস্টুরেন্টে খেতেন না। তারা খেতেন ছয় আনি বাজারের খোলা খাবারের দোকানে। দোকানীরা ত্রিপাল টানিয়ে ভাত-সালুন বিক্রি করতেন। সেই খাবারে ভন ভন করে মাছি বসতো। সের দরে ভাত বিক্রি হতো। মোটা সেদ্ধ ঢেকিছাঁটা চালের ভাত। টিনের প্লেটে ভাত বেড়ে দাড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে ভাত বিক্রি হতো। এক প্লেট ভাতের ওজন হতো প্রায় আধা সের। এক সের প্রায় এক কেজির সমান ছিল। হোটেলের খাবারের খরচের চেয়ে ছয় আনি বাজারের খাবারের খরচ চার ভাগের এক ভাগ ছিলো। তাই, রহিম বকসরা ছয় আনি বাজারে গিয়ে টুলে বসে খেতেন।

 

শক্ত বেরাম থেকে সেরে ওঠার পর রহিম বকসের ইচ্ছা হলো একবার টাঙ্গাইল থেকে ঘুরে আসা যাক। শুনলেন যে “বনবাসী রুপবান” সিনেমা চলছে টাঙ্গাইল হলে। রূপ বানের যাত্রা তারা বহুবার দেখেছেন গ্রামের যাত্রা পালায়। সেখানে রুপবানের অভিনয় করেছে পুরুষ মানুষ। সিনেমায় মেয়ের অভিনয় মেয়েরাই করে। রুপবান সিনেমাটা দেখতে হবে হলে গিয়ে। রহিম বকস করিম বকসকে প্রস্তাব দিলেন

– করিম, অনেকদিন হলো টগি দেখিনা। অসুখ থেকে সেরে ওঠে বারবার টাঙ্গাইল যেতে ইচ্ছে করছে।

– তুমি তো জানোই কাতিমাস চলছে। হাতে টাকা পয়সা নাই।

– তোমার হাতে আবার কবে টাকা পয়সা থাকে? তুমি অসুখের সময় আমাকে দেখতে গেছিলা খালি হাতে। নিজে তো কিছু নিয়ে যাওনি, উল্টো আরো আমার পথ্যগুলো খেয়ে এসেছিলে।

– তুমি শুধু খোটা দিতে জানো। আমার খাওয়াটাকেই বড় করে দেখলে। আমি তোমার সাথে সময় দিয়ে যে উপকার করেছি তা অন্য কেউ করেছে?

– যাউকগা, টাকা পয়সা যা লাগে এবার আমি খরচ করবো। তুমি শুধু আমার লগে যাবে।

– ঠিক আছে। আগামী রবিবারে আমরা যাবো। তুমি কিন্তু কৃপ্টেমি করতে পারবা না। ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে হবে। ছয় আনি বাজারে খাবো না। বক্সে বসে টগি দেখাতে হবে।

– তাই হবে। আগামী রবিবারে।

 

রবিবার দূ’জনই প্রস্তুতি নিলেন টাঙ্গাইল যাত্রার উদ্দেশ্যে। রহিম বকস মাথায় খাস তেল দেয়ার জন্য বোতল হাতে নিয়ে দেখেন বোতলের খোলা মুখ দিয়ে একটা তেলাপোকা প্রবেশ করতে নিয়ে আটকে পড়ে আছে। বোতলের মুখ খোলা পেলেই তেলাপোকারা বোতলে ঢুকে পড়ে তেল খাওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামের মানুষ এদেরকে তেলচোরাও বলে থাকে। রহিম বকস তেলচোরাটাকে ধরে মাথার উপর পাড়া দিয়ে মেরে ফেললেন। তারপর একটা সাদা কাগজে রেখে ভাঁজ করে পাঞ্জাবির বাম পকেটে নিলেন। একটা মোছকাটার ক্যাঁচি দিয়ে পাঞ্জাবির ডান পকেটের নিচের দিকে কেটে ছিদ্র করে দিলেন। টাকা নিলেন বুক পকেটের ভেতরের চোরা পকেটে। আমুদপুর পর্যন্ত হেটে গিয়ে টাঙ্গাইলের কাঠ বডি বাস ধরলেন। টাঙ্গাইল পৌঁছে সকাল ১০ টার মেটিনি শোর বক্সের ৬ টাকার টিকিট কিনলেন ব্লাকে ৪ টাকা দিয়ে। দু’জনে আরাম করে চেয়ারে বসে “বনবাসী রুপবান” সিনেমা উপভোগ করলেন। হল ভাংলো ১ টার পর। লাগলো ক্ষুধা। এবার রহিম বকস কথা দিয়েছেন ছয় আনি বাজারে খাবেন না। সেই মতো ভিক্টোরিয়া রোডের আপ্যায়ন হোটেলে গিয়ে বসলেন। ভাতের সাথে অর্ডার করলেন সরষে ইলিশ। এক প্লেট করে ভাত খেয়ে আরও এক প্লেট করে অর্ডার করলেন। দ্বিতীয় প্লেটের খাবারের অর্ধেকেরও বেশী খাওয়া হয়ে গেলে রহিম বকস পাঞ্জাবির পকেটের কাগজে মোড়ানো মরা তেলাপোকাটা ছেড়ে দিলেন ভাতের প্লেটে। তারপর ওয়েটারকে ডেকে গালাগালি করতে লাগলেন ভাতের মধ্যে তেলাপোকা ছিলো, সেই তেলাপোকা মেশানো ভাত সবাইকে খাইয়েছে। এর শক্ত বিচার হবে। হই চই শুনে লোকজন জড়ো হয়ে পড়লো। ম্যানেজার এসে মাফ চাইলে তারা ঝগড়া ক্ষান্ত দিয়ে বের হয়ে এলেন বিল পরিষোধ না করেই। ম্যানেজার বিল চাইবার সাহস পেলেন না। ডেস্কের পেছনে ম্যানেজারের একটা সুন্দর ছাতা ঝুলানো ছিলো। করিম বকস সেই ছাতাটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিলেন এই বলে “ছাতাটা নিয়ে যাই।” ম্যানেজার বললেন “ছাতাটা আমার।” করিম বকস চোখ রাংগিয়ে বললেন “আচ্ছা, বাটপার দেখছি। পঁচা খাবার খাইছে। আবার বাটপারি করে আমার ছাতাটাও রাইখা দিতে চায়? সবগুলারে পুলিশে দেবো।” বলে ছাতা নিয়ে বের হয়ে সোজা চলে গেনেন বাস স্ট্যাণ্ডে। ময়মনসিংহ গামী কাঠবডি বাসে উঠলেন। এলেঙ্গা পর্যন্ত চলে এসে বাসের কনডাক্টার ভাড়া চাইলে রহিম বকস ডান পকেটে হাত দিয়ে বলে উঠলেন “হায়, হায়, পকেট মাইর হইছে।” শুরু হয়ে গেলো হই ছই। বাসের লোকদেরকে বললেন “আপনারা খুব খারাপ, আমার পকেট কাটলো আপনাদের বাসের গেইটে। গেইটে গেঞ্জামের সময় আমার ডান পকেটের টাকা পকেট কেটে নিয়ে গেছে। এই দেখেন পকেট কাটা।” ককন্ডাক্টর বললেন “ভাড়া আপনার দিতে হবে। পকেট কাটা বুঝি না। হুস করে বাসে ওঠতে পারেন না?” রহিম বকস বললেন “এই বাটপার, তোদের লোকেরাই আমার পকেট কেটেছে। আমার টাকা ফেরত দিবি। না হলে সবগুলারে আমুদপুর নামিয়ে মজা দেখাবো। আবার ভাড়া চাস?” অন্য যাত্রিরা ঝগড়া থামিয়ে দিলে রহিম বকসরা আমুদপুর নেমে পড়ে বাড়ির দিকে হাটা দিলেন। করিম বকস রহিম বকসকে উদ্দেশ্য করে বললেন “দোস্তো, খুব তো বাটপারি করলা আমার সাথে। যাওয়ার সময় বাস ভাড়া দিলা আট আনা আট আনা এক টাকা, সিনেমা দেখাইলা চার টাকায়, খাওয়াইলা মাগনা, ফেরার সময় বাস ভাড়াও ফ্রি। ফুটানি তো ভালাই দেখাইলা। এই জন্যই কি তেল চোরা পকেটে করে এনেছিলে? এই জন্যই কি ডান পকেট কেটে এনেছিলে?”

২৯/১১/২০২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ

শব্দার্থঃ

মাগনা = বিনামূল্যে

ছেন্দা = ছিদ্র

সালন = কারি

বেরাম = রোগ

কাতিমাস = কার্তিক মাস

লগে= সাথে

খাস তেল = সরিষার তেল

ফুটানি = ফোর টুয়েন্টি

রোগীর পথ্যই খেয়ে ফেললেন

রোগীর পথ্যই খেয়ে ফেললেন

(হাস্তর)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

অনেক অনেক দিন আগের কথা। রহিম বকস ও করিম বকস নামে অত্যন্ত চালাক চতুর দু’জন লোক ছিলেন। তারা দু’জনই মেট্রিক পাশ করেছিলেন। কোথাও বেড়াতে গেলে পাজামা পাঞ্জাবি পরে বের হতেন। গ্রামের অনেকে ধুমপান করলেও তারা ধুমপান করতেন না। তাদের পান খাবার অভ্যাসও ছিলো না। তবে বিবাহের দাওয়াত বা ফয়তার দাওয়াত খাওয়ার পরে তাদেরকে পান খেতে দেখা গেছে। তারা মাঝে মাঝেই হাসির কান্ড করে বসতেন। এজন্য সাত গ্রামের মানুষ তাদের নাম জানতেন। তাদের মধ্যে খাতির থাকলেও তারা কিন্তু একই গ্রামের মানুষ নন। রহিম বকসের বাড়ি ছিলো আড়ইংগা চালা। করিম বকসের বাড়ি ছিলো অরতকি চালা। একজনের বাড়ি থেকে আরেকজনের বাড়ির দুরুত্ব ছিল প্রায় তিন মাইল। অর্থাৎ সারে চার কিলোমিটারেরও বেশী। তারা সংসারের কাজ কর্ম তেমন করতেন না। কামলা জামলারাই শুকধান আবাদ করতো। সময় কাটাতেন একজন আরেকজনের বাড়িতে গিয়ে গল্প করে। টাঙ্গাইল গ্যাঘের দালানের সাথের সিনেমা হলে গিয়ে এক সাথে টগি দেখতেন। একে অপরের স্ত্রীকে ভাবী ডাকতেন। তবে বয়সে কে বড় ছিলো আর কে ছোট ছিলো তা কেউ বলতে পারতেন না। তাদের মধ্যে এই খাতিরের কথা সবাই জানতেন। তাদের নিয়ে অনেক মজার ঘটনা আমাদের এলাকায় শুনা যায়। তারই একটা ঘটনা আমি এখানে উল্লেখ করছি।

 

একবার এক শীতের দিনে রহিম বকসের খুব বড় এক বেরামে ধরলো। শান্তিপাত জ্বর হয়েছিলো। জ্বর মাঝে মাঝে উঠতো আবার ছেড়েও যেতো। যখন জ্বর উঠতে থাকতো শরীর থৈরালে কাঁপতো। আবার যখন শরীর ঘেমে নিচুইটা জ্বর ছেড়ে ঠান্ডায় শান্যিক উঠে যেতো। তখন চামচে তেল রসুন গরম করে বুখে পিঠে ও হাতে পায়ে মালিশ করে দিতেন রহিম ককসের স্ত্রী। তবে তাদের সন্তানাদি কি ছিলো আমার জানা নেই। এমন যাওয়াদশা অসুখের কথা শুনে তার সব আত্নীয়স্বজন দেখে গেলেন। সবাই রোগীর জন্য কিছু না কিছু পথ্য নিয়ে এসেছিলেন। আগেরদিনে জ্বরের রোগীকে ভাত খেতে দিতো না। ভাতের পরিবর্তে সুজি, জাউ, আটার নুটানি, এবারুট বার্লি ইত্যাদি খেতে দিতো। রহিম বকসের আত্নীয়স্বজনরাও রোগী দেখতে এসেছিলেন এসব পথ্য নিয়ে। রোগীর শিতানে সব পথ্য সাজিয়ে রেখেছিলেন রহিম বকসের স্ত্রী। খবর পেয়ে করিম বকসও এলেন যোহরের নামাজের জের ওয়াক্তের সময়। দোস্তকে পেয়ে রহিম বকসের একটু ভালো লাগছিলো। খাটের পাশে শিতানের দিকে একটা কারুকাজ করা কাঠের চেয়ার ছিলো। সেই চেয়ারে বসে রহিম বকস করিম বকসের সাথে কেরাই করা শুরু করলেন। কেরাই করা দু’জনেরই অভ্যাস ছিলো। করিম বকস কেরাই করে রহিম বকসকে বললেন

– দোস্ত, তোমার কপালে হাত দিয়ে দেখলাম জ্বর নাই। তুমি কি ভাব ধরছ নাকি?

– ভাব ধরমু কেন?

– এই যে তোমাকে সবাই দেখতে আসবে পাকা পেপে, ডালিম, আতাফল, কমলা ইত্যাদি নিয়ে তুমি মজা করে খাবে। তাই তো দেখছি ফল ফলাদিতে ভরে গেছে তোমার শিতান।

– বসো এখানে। শরীর খুব খারাপ। শরীর ব্যাথা করছে।

– হ, ভাবীকে দিয়ে যেনো শরীর টেপানো যায় সেই ভাব ধরছো।

– শোনো, তুমি মাইনসের সাথে কেরাই করো করোগে। আমার সাথে কেরাই করবা না।

– কেরাইর কি দেখলা? যা সত্যি তাই বলছি।

– চুপ করে বসে থাকো। নাহলে ভালো ভালো কথা বলো। কেরাই শুনতে ভালো লাগছে না।

এমনতরো কথা বলতে বলতে বেলা ডুবে গেলো। রহিম বকস করিম বকসকে বললেন

– করিম, বেলা তো ডুবে গেলো। রাস্তা অন্ধকার হয়ে যাবে। জঙ্গইলা রাস্তা। আগে ভাগেই চলে যাও। থেকে গেলে ভালো হতো। কিন্ত থাকবা যে, খাবা কি? তুমি তো আমার জন্য কিছুই নিয়ে আসোনি যে তাই তোমাকে খাওয়ায়ে দেবো। তুমি তো আবার কৃপ্টে মানুষ।

– দোস্ত, খোটা দেও কেনো। আমি জানি খালি হাতে এলে তুমি কিছু মনে করবে না। দেখো, যারা ফলফলাদি নিয়ে এসেছিলেন তারা সবাই তোমাকে ফেলে চলে গেছে। আমিই একমাত্র ব্যক্তি যা তোমাকে সময় দিচ্ছি।

– তোমার ভাবী আমাকে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত ছিলো। তোমার জন্য কিছুই রান্না করেনি। তুমি চলেই যাও।

– দোস্ত, তুমি আমার খাওয়া নিয়ে চিন্তা করোনা। আমি তোমার শিতানের কাছে বসে বসে কথা বলেছি আর তোমার জন্য আনা মেহমানদের ফল ফলাদি খেয়ে পেট ভরেছি। আর খেতে পারবো না আজ।

– দোস্ত, নিজে তো কিছু আনলেই না, বরঞ্চ আমার পথ্যগুলোও খেয়ে ফেললে?

২৬/১১/২০২০ খ্রি.

 

শব্দার্থঃ

হাস্তর – লোক মুখে শোনা টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক গল্প

কেরাই – হেয়ালিপনা

শিতান – বালিশের পেছনের দিক

ফয়তার দাওয়াত – মৃত ব্যক্তির দোয়ার জন্য দাওয়াত খাওয়া

শুকধান – শস্য

টগী – টকিজ বা সবাক চলচ্চিত্র

বেরাম – রোগ

থৈরালে – থরথরি

নিচুইটা – সম্পুর্ণ

শান্যিক – হিম

নুটানি – পেস্ট

জের – শেষ

Rate on this writing:

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


 

মরার পরেও জ্বালায়

মরার পরেও জ্বালায়

(হাস্তর)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

অনেক অনেক দিন আগের কথা। সেই স্বাধীনতার আগের দিনের কথা। তখন এক গ্রামের এক মোড়ল ছিলো খুব পাঁজি। সারাটা গ্রাম জ্বালিয়ে ফেলেছিলো অত্যাচার করে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে। মানুষে মানুষে পেঁচ লাগাতে খুব অস্তাদ ছিলো। শয়তানি করায় খুব পটু ছিলো। সাথে কিছু হোমরা চোমরা রাখতো সুবিধার জন্য। মোড়লের বিরোদ্ধে টু শব্দ করার সাহস গ্রামবাসীর ছিলো না।

মোড়ল অতিশয় বৃদ্ধ হয়ে পড়লে তার মনে জান দিলো তিনি আর বেশী দিন বাঁচবেন না। মৃত্যুর পর তার শয়তানী করা আর সম্ভব হবে না। কিন্তু তিনি এমন কিছু একটা করে যেতে চান যেন তার মৃত্যুর পরও তার আমল নামায় শয়তানি লেখা হতে থাকে। বাস, গ্রামের সবাইকে চৌকিদার দিয়ে ডেকে আনালেন তার বাড়িতে। বাড়ির আঙ্গিনায় খর বিছিয়ে বসতে দিলেন সবাইকে। সবাই ভাবলো মোড়ল না জানি কার বিচার করেন। কার পাছায় যে আজ চাবুকের বারি পড়ে? সবাই ভয়ে ভয়ে বসে রইলো মোড়লের অপেক্ষায়। এক সময় চামচাদের সাথে নিয়ে মোড়ল হাজিরানা মজলিসে এলেন। কারুকার্য করা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন। তারপর তার বক্তব্য পেশ করলেন। তিনি বক্তব্যে যা বললেন তা ছিলো এমন “আমি তোদের গ্রামের মোড়ল। আমার বাপ দাদারাও এই গ্রামের মোড়ল ছিলেন। কিন্তু আমি আমার বাপ দাদাদের মতো হতে পারিনি। সারাজীবন তোদের উপর অন্যায় অত্যাচার করেছি। আমি অন্যায়কে অন্যায় বুঝেও অন্যায় করেছি। এটা আমার নেশা ছিলো। অন্যায় করে আমি আনন্দ পেতাম। তোদেরকে খুব জ্বালিয়েছি। তোরা হয়তো আমার মৃত্যু কামনা করছিস। তোদের প্রতি অন্যায় অবিচার করেছি বলে আমার অনুশোচনা হচ্ছে। এই জন্য তোদেরকে ডেকেছি একটা কথা বলার জন্য। আমি মনে হয় বেশী দিন বাচবো না। আমার মৃত্যুর পর তোরা আমার লাশের উপর প্রতিশোধ নিবি। মৃত্যুর খবর শুনে তোরা দল বেঁধে আমার বাড়ি আসবি। একটা বৌড়া বাঁশ কাটবি সোব থেকে। তারপর ওটার এক মাথা চোখা করে আমার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবেশ করাবি। সড়কের চৌরাস্তার মোড়ে খোন্তা দিয়ে গাতি দিয়ে ঐ বাঁশটা খারা করে গেড়ে দিবি যাতে অনেক দূর থেকে মানুষ দেখতে পায়। বাঁশের আগায় আমার লাশ রেখে উল্লাশ করবি। মিষ্টি খাবি আর গালি গালাজ করবি। তাতে তোদের জ্বালা কিছুটা কমবে।”

 

কথাগুলো শুনে সবাই খুশী হলো। দিন গোনতে লাগলো মোড়লের মৃত্যু কামনা করে। অবশেষে মাঘ মাসের শীতের এক রাতে মোড়লের মৃত্যু হলো। মোড়লের ওয়াসিয়ত অনুযায়ী বাঁশ ঢুকিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে বাঁশ গেড়ে দেয়া হলো। অনেক দূর থেকে মোড়লের লাশ দেখা যাচ্ছিলো। দেখে মনে হচ্ছিল কাক তাড়ুয়া। গ্রাম শুদ্ধ জানাজানি হয়ে গেলো মোড়লের লাশের পরিনতির কথা। পোলাপানরাও দেখতে এলো। গ্রামের মুন্সি- মৌলবিরা প্রতিবাদ করলনেন “লাশের উপর অত্যাচার করা গুনাহের কাজ।” চৌকিদার গিয়ে থানায় খবর দিলেন। থানা থেকে পুলিশ এসে গ্রামের সব বেটা মানুষ ধরে নিয়ে থানা হাজতে ঢুকালেন। রিমান্ডে নিয়ে মারধর করলেন। গ্রামের মানুষ পুলিশের মার খেয়ে বলতে লাগলেন “শালার মোড়ল, বেঁচে থাকতেও যেমন জ্বালিয়েছি, মরার পরেও জ্বালাচ্ছে।”

২৪/১১/২০২০ খ্রি.

শেষ দেখা মুখ

শেষ দেখা মুখ

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

মানুষ মানুষকে অনেকদিন পর্যন্ত মনে রাখে। মনে রাখে তার কথা, তার কাজ, তার মুখ, তার চেহারা। কেউ কেউ বেশী দিন মনে থাকে, কেউ কেউ মন থেকে হারিয়ে যায়। বা ভুলে যায়। দীর্ঘদিন না দেখতে দেখতে ভুলে যায়। দীর্ঘদিন নাম না ডাকতে ডাকতে নাম ভুলে যায়। এমনও আছে চেহারা মনে আছে কিন্তু নাম মনে নেই। নাম মনে আছে কিন্তু চেহারা মনে নেই। আমি আমার এক আত্নীয়কে দীর্ঘদিন না দেখতে দেখতে সে যে আমার কেউ ছিলো সেটাই ভুলে গিয়েছিলাম। হটাৎ এক অনুষ্ঠানে তাকে দেখে মনে পড়লো এ তো আমাদের আত্নীয়। আমি ভুলে গিয়েছিলা! আমি যখন ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়তাম তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া কচুয়ার সামাদ ভাই আমাদের স্কুলে বেড়াতে এসে অফ পেরিয়ডে ক্লাসে আমাদের সাথে গল্প করতেন। তিনি আমাকে বেশ স্নেহ করতেন। আমাদের স্কুলের একজন শিক্ষক ক্লাসে সামান্য একটু ভুল গ্রামার শিখিয়েছিলেন। আমি শুদ্ধ সেন্টেন্স বললেও স্যার ভুল ধরছিলেন। সেই কথাটা সামাদ ভাইকে বলেছিলাম। তিনি বললেন “তোমারটাই সঠিক। কিন্তু তুমি সেটা তোমার স্যারকে বলবে না। স্যার ইজ অলওয়েজ রাইট। স্যার যা বলেন তাই ঠিক। স্যারের ভুল ধরবে না।” আমি তার এই শিক্ষাটুকু সারাজীবন মনে রেখেছি। আমিও মেডিকেল কলেজে ২৮ বছর শিক্ষকতা করেছি। আমিও হয়ত অনেকবার ভুল পড়িয়েছি। আমার ছাত্ররা হয়তো সেই ভুল ধরতে পেরেছে। তারা আমাকে শ্রদ্ধা করে বলেই হয়তো আমার ভুল আমাকে শুধ্রে দিতে চায়নি। ক্লাস সেভেন অর্থাৎ ১৯৭৩ সনের পর থেকে আর সামাদ ভাইকে কোনদিন দেখিনি। প্রায়ই সামাদ ভাইকে মনে পড়তো। এভাবে না দেখতে দেখতে আমি সামাদ ভাইকে ভুলে যাই এক সময়। সামাদ ভাই চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে কিছুদিন আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজে কি একটা পদে যেন কাজ করেন। প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে তিনি একদিন আমাকে মোবাইল করেন অফিসের নাম্বার থেকে। আমি তার সাথে অনেক কথা বললাম অতীতের অনেক কথা স্মরণ করে। কিন্তু আমি সামাদ ভাইর মুখ মনে করতে পারলাম না। তারপর পেরিয়ে গেছে কয়েক বছর। অনেক চেষ্টা করেও সামাদ ভাইর মুখ মনে করতে পারছি না। এজন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। এত প্রিয় একটা মুখ ভুলে গেলাম!

 

নাটকে-সিনেমায় বিচ্ছেদের নাটকে দেখেছি শেষ দেখার দিন একজন আরেকজনকে বলছে “এটাই হয়তো আমাদের ভাগ্যে ছিলো। আমাকে মনে করে কষ্ট পেয়ো না। যেখানেই থাকো ভালো থেকো। আমার সব কিছু ভুলে যেয়ো।” তারপর থেকে কেউ কাউকে ভুলে যেতে পারে না সারাজীবন। প্রতি রাতে ঘুমাবার আগে তাদের শেষ ডায়ালগটার কথা মনে করে ভুলে যেতে চায়। কী কী জিনিস ভুলে যেতে হবে তার একটা হিসাবও করতে থাকে। তাই, প্রতি রাতেই তাকে মনে করে ভুলে যাওয়ার জন্য। ভুলে আর যাওয়া হয় না। শেষবার দেখা মুখটি ভেসে আসে তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখের সামনে।

 

মানুষ যখন একজন আরেকজনকে স্মরণ করে তখন প্রথমেই তার শেষ দেখা মুখটি ভেসে উঠে কল্পনায়। তারপর চেষ্টা করে করে অতীতের আরও কিছু মুহুর্তের মুখ ভেসে উঠতে পারে। মুখের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মনে দাগকাটে রাগান্বিত মুখটি। রাগান্বিত মুখটি মানুষ বেশীদিন মনে রাখে। এজন্য আমাদেরকে সদা হাস্যজ্বোল মুখ নিয়ে থাকতে হবে। যেনো কেউ আমাকে মনে করলে তার কাছে আমার সুন্দর মুখটিই ভেসে উঠে। ক্রোধান্বিত মুখ কুতশিত দেখায়। তাই ক্রোধ পরিহার করে থাকা ভালো। আমি পারতপক্ষে কারো সাথে রাগারাগি করি না। আমাকে যখন শেষে দেখেছেন তখন আমাকে ক্রোধান্বিত দেখেছেন এমন কেউ থেকে থাকলে জানাবেন আমি তার সাথে আবার হাসিমুখে দেখা করে আসতে চাই যেন তিনি আমার হাসিমুখটাই মনে রাখে।

 

মানুষ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু চিন্তা এসে যায়। মারা যাওয়ার আগে সব প্রিয়মুখ তিনি দেখে যেতে চান। তাই সবাই তাকে দেখতে যান। রোগীকে দেখতে যেতে হয়। আপনজনদের মুখ দেখে রোগী মনে প্রশান্তি পায়। সাথে করে কিছু ফল মুল ও পথ্য নিয়ে যেতে হয়। আগের দিনে রোগীর জন্য বেদেনা, আতাফল, ডালিম পেপে, আনারস, ডাব, মিশ্রি, দুধ ইত্যাদি নিয়ে যেতো। এখন রোগী দেখতে যাওয়ার প্রচলন প্রায় উঠেই গেছে। গেলেও দুই হালি মালটা নিয়ে যায়। মালটা যেনো রোগীদের জাতীয় ফল হয়ে গেছে। খেতে লাগে পানসে। রোগী খেতেও চায় না। এত মাল্টা দিয়ে কি করবে? অনেকেই কেউ অসুস্থ হলে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয় অমুকের জন্য দোয়া করতে। সেই স্যাটাসে অনেক লাইক পড়ে। এত লাইক দিয়ে রোগী কি করবে তা আমি জানি না। অসুস্থ অবস্থার ছবি দিয়েও কেউ কেউ স্ট্যাটাস দেয়। আমি মনে করি তাও ঠিক না। সবাই চায় তার সুন্দর ছবিটি সবাই দেখুক। অসুস্থ খালি গায় অথবা লুঙ্গি পরা গেঞ্জি গায়ের ছবি সামাজিক মিডিয়ায় দেখাতে পছন্দ করেন না। অনেকে দেখতেও পছন্দ করেন না। হাতে সেলাইন লাগানো, নাক দিয়ে নল লাগানো ছবি দেখানো আমি ভালো মনে করি না। হ্যা, কেউ মারা গেলে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়ে দেয়া যায় জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য অথবা দোয়া করার জন্য অথবা মৃত্যু সংবাদটা জানিয়ে দেয়ার জন্য। কেউ কেউ এমনও করেন যে লাশের ছবি দিয়ে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেন। তা ঠিক না। ছবি দিতে হলে সুস্থ্য কালের সুন্দর একটা ছবি দিন যে ছবিতে মানুষ তাকে বেশী চেনে। মানুষ মারা যাবার পর শেষ দেখা দেখানো হয় মুখ বের করে। অনেকেই আছেন মারা যাবার পরের মুখ দেখতে পছন্দ করেন না। অনেকেরই মুখ বিকৃত হয়ে যায়। আমি একজনের মুখ দেখেছিলাম হা করে রয়েছে। তারপর থেকে আমি যখন তাকে মনে করি তার ঐ হা করা মুখ মনে পরে। কারন, হা করা মুখই ছিল আমার কাছে তার শেষ দেখা মুখ। সেদিন ইউটিউবে পিলখানা হত্যাকান্ডে নিহত এক আর্মি অফিসারের স্ত্রীর সাক্ষাৎকার শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন যে তিনি তার স্বামীর লাশটি ইচ্ছে করেই দেখলেন না। কারন, তিনি মনে করেছেন গলিত অবস্থায় লাশ নিশ্চয়ই বিকৃত হয়ে গেছে। শেষ দেখা মুখটি তার সারাজীবন মনে পড়বে। তিনি চান তার স্বামী তার আগের সুন্দর চেহারা নিয়ে তার স্মৃতিতে থাকুক। মারা যাবার পর লাশের ছবি মিডিয়ায় দিলে একজন না দেখতে চাইলেও তার চোখের সামনে পড়ে যাবে সেই মুখটি। সারাজীবন মনে পড়ে থাকবে সেই শেষ দেখা মুখটি।

১৯/১১/২০২০ খ্রি.

Rate on this writing:

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


 

সহজ স্বাস্থ্য কথা


































সমস্যাঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
ইউটিউব ভিডিও

পরীক্ষার জন্য কোন সময়ের ইউরিন নেয়া দরকার?
ইউটিউব ভিডিও

রক্ত ভরার সময় ফোটা বাড়িয়ে দিলে কি সমস্যা?
ইউটিউব ভিডিও


Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/




Rate on this writing:

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 2.00 out of 5)
Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/



Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/



Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/