প্রমোশন

মেয়েটি তার রুমের সামনে দাড়িয়েছিল। কয়েকদিন আগে আমি আমার সিনিয়র দুইজন প্রফেসরের সাথে বারান্দা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। মেয়েটি সভাবসুলভ মৃদু হেসে আদাব দিল। আমি ও সে একই মেডিকেল কলেজের ছাত্র। সে এই মেডিকেল কলেজের টিচার। আমি অন্য কলেজের। এম বি বি এস -এ আমার থেকে ১৫ বছরের জুনিয়র। সে আমার সরাসরি ছাত্রী ছিল। এম ফিল-এ মনে হয় ১৫ বছরের জুনিয়র হবে। একজন মেয়েটিকে আরেকজনকে Continue reading “প্রমোশন”

আবুলের বউ

(সামাজিক স্বাস্থ্য সমস্যা)
আবুল চা বিক্রি করে সংসার চালায়। জমি জমা নেই। গ্রামে থাকে। সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বাজারেই কাটায়। নরম সভাবের। অনেকেই তাকে ঠকিয়েছে। তা নিয়ে তার দুঃখ নেই। আবুলের বউ মাঝে মাঝে মানুষের কাথা সেলাই করে কিছু কিছু পান। একটা কাথা সেলাই করলে দুই তিন শ টাকা পাওয়া যায়। অসুস্থ। শুইলেই কাশি উঠে। খুস খুসে শুকনা কাশি। আবুল বাজার থেকে কত রকম কাশির ঔষধ এনে দেয়। কোনটাতেই কাজ হয় Continue reading “আবুলের বউ”

আমার মাটিছাড়া শব্জি চাষের কাহিনী

 

একুয়াপনিক হল একই সাথে মাছ চাষ ও মাছের পানি দিয়ে মাটিছাড়া শব্জি চাষ পদ্ধতি। একুয়াকালচার হল মাছ চাষ। হাইড্রোপনিক হল পানিতে শব্জি চাষ। এই দুইটির সমন্নয়ে চাষ পদ্ধতির নাম একুয়াপনিক। আমি ডাক্তার হয়েও কিভাবে এই পদ্ধতি শিখে সফল ভাবে মাছ ও শব্জি চাষ করলাম তার একটি কাহিনী আজ লিখব।

Continue reading “আমার মাটিছাড়া শব্জি চাষের কাহিনী”

ভোরের পাখী মনছুর খলিল

(প্রফেসর মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডাঃ মনছুর খলিল ছিলেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। তিনি শুধু তার ছাত্রছাত্রীদের ভাল নিয়েই চিন্তা ফিকির করতেন। চিরকুমার শিক্ষকটি একা থাকতেন ছোট্ট এক ভাড়া করা রুমে। রাতের খাবার সেরে ঘুমিয়ে পরতেন। শেষ রাতে উঠে নামাজ পড়ে ধর্মীয় গ্রন্থ Continue reading “ভোরের পাখী মনছুর খলিল”

টুলে বসা প্রিন্সিপাল

(অধ্যাপক মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
একজন সাবেক সচিব বলেছেন:
প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ মনছুর খলিল সাহেব কোন একটি দরখাস্ত নিয়ে গেলে মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত সড়তেন না। তিনি সামনের পিয়ন বসার টুলে নম্রভাবে বসে থাকতেন। রুম থেকে বের হতে বা ঢুকতে তিনি খুশী খুশী মনে Continue reading “টুলে বসা প্রিন্সিপাল”

স্বর্নাক্ষরে লিখা

(প্রফেসর মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
ডাঃ নাজমুল আলম থেকে বর্নিত:
আমি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে যোগদান করার কয়েকদিন পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার জন্য প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ মনছুর খলিল স্যারের রুমে গেলাম। সালাম দিলাম। সালামের জবাব দিলেন। সামনে বসলাম। বললাম “স্যার, কেমন আছেন?”
Continue reading “স্বর্নাক্ষরে লিখা”

মনছুর স্যারের সাথে আমার শেষ দেখা

(প্রফেসর মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে আমার বদলীর অর্ডার হল ৭/১২/২০১৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। ওটা ছিল একটা প্রজেক্ট। তাই রেগুলার পোস্ট নাই। ঢাকার মহাখালীর ডিজি অফিসে ওএসডি হিসাবে উক্ত কলেজে সংযুক্ত থাকতে হবে। রিলিজ ও বিদায় অনুষ্ঠান শেষ করে এল পি সি নিয়ে ১৫ তারিখে ময়মনসিংহ বাসায় চলে আসলাম। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ছুটি ছিল। ১৭ তারিখ সকালে ডিজি Continue reading “মনছুর স্যারের সাথে আমার শেষ দেখা”

পোস্ট কার্ডে ঈদের শুভেচ্ছা

(অধ্যাপক মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
১৯৯৩ এর দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে খুব সম্ভবত মনছুর খলিল স্যার এনাটমির টিচার ছিলেন। তখন আমিও প্যাথলজির টিচার ছিলাম। এখান থেকে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে বদলী হন। ঈদের আগে একটা পোস্ট কার্ড পেলাম। দশ পয়সা দামের পোস্ট কার্ড। পোস্ট কার্ড তখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। Continue reading “পোস্ট কার্ডে ঈদের শুভেচ্ছা”

পিতাভক্ত মনছুর খলিল

(প্রফেসর মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল ডাঃ মনছুর খলিল ছোট বেলা থেকেই পিতার প্রতি বিনয়ী ছিলেন। তার পিতা কর্নেল মিরাস উদ্দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্নেল বলতে পরিচালক মিরাস স্যারকেই বুঝাতেন। তিনি অত্যন্ত সৎ লোক ছিলেন। মনছুর খলিল ও মহসীন খলিল দুইভাই একই সাথে পড়তেন। তারা ছিলেন আমার আগের ব্যাচ। ১৯৭৯ তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল Continue reading “পিতাভক্ত মনছুর খলিল”

অগোছালো এক অধ্যাপক

(প্রফেসর মনছুর খলিলের ঘটনাবলী)
একজন বড় মাপের পণ্ডিত ছিলেন এনাটমির অধ্যাপক ডাঃ মনছুর খলিল। তিনি আমার থেকে এক বছরের বড় ক্লাসের। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আমরা পড়েছি। আমি মনছুর ভাই ডাকতাম। তিনি চিরকুমার ছিলেন। ১৯৯৯ সনে আমি খুলনা মেডিকেল কলেজে এক্সটারনাল হিসাবে পরীক্ষা নিতে গিয়ে জানতে পাই তিনি খুলনায় আছেন। বিকেলে স্থানীয় একজন প্রভাষককে নিয়ে মনছুর ভাইর বাসায় যাই। দেখলাম নিম্ন মানের একটি টিনসেড Continue reading “অগোছালো এক অধ্যাপক”