একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম

 

একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
সেদিন শেষরাতে ও সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমার বয়স আর কত Continue reading “একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম”

এক রিক্সাওয়ালা

 

এক রিক্সাওয়ালা
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৯১ সনের কথা। সকাল থেকেই মুশলধারায় বৃষ্টি পড়ছিল। বাসার আশ পাশ হাটু পানি। ঢাকার রায়ের বাজার Continue reading “এক রিক্সাওয়ালা”

শ্বাস শ্বাস শ্বাস

 

শ্বাস শ্বাস শ্বাস
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৮৫ সনে যখন আমরা এম বি বি এস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে Continue reading “শ্বাস শ্বাস শ্বাস”

ভুতের ভয়

 

ভুতের ভয়
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

খুব সম্ভব ১৯৮২ সনের কথা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ি। এল হারুন স্যার আর পি ছিলেন। জাহাঙ্গীর স্যার মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার Continue reading “ভুতের ভয়”

ভুলে যাই

কিছু জিনিস ভুলে যাই
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কেই যদি আমাকে একটা কলম দিয়ে বলে “এখানে সই করুন, স্যার।” আমি সই করে মনের ভুলে অভ্যাস বসত নিজের কলম মনে করে পকেটে রেখে দেই। কেই কেউ চেয়ে নেয়। অনেকেই চাইতে লজ্জা বোধ করে। কাজেই দেখা যায় আমার কলমের পরিমাণ সাভাবিকের চেয়ে একটু বেশী। কার কলম রেখেছি মনে করতে পারলে ফিরিয়ে দেই। অনেক সময়ই যার কলম তাকে মনে করতে পারি না। এটা আমার জন্য একটা সমস্যা।

আমি সাধারণত বাকীতে কিছু কিনি না। কেউ কেউ জোড় করেই অনেকসময় বাকীতে জিনিস দিয়ে দেয়। ভুলে যাই বলে লিখে রাখি। যদি ভুলে না লিখে রাখি তা হলে টাকা পরিশোধের কথা ভুলে যাই। কেউ কেউ লজ্জা না পেয়ে চেয়ে নেয়। কেউ কেউ হয়ত চায় না।

একদিন শুক্রবার মহল্লার মসজিদে না গিয়ে বড় মসজিদে গেলাম আছরের নামাজ পড়তে। আমি মাঝে মাঝে এমন করতাম। একেকদিন একেক মসজিদে নামাজ পড়তাম। তাতে ইমাম সাহেবদের বৈচিত্রতা উপভোগ করতাম। মসজিদে প্রবেশ করে সামনের কাতারে ইমামের পেছনে খাদেম সাহেবের ডানপাশে বসলাম। পেন্ট শার্ট পড়া ছিল। মাথায় টুপি ছিল না। পকেটেও টুপি ছিল না। খাদেম সাহেব আমার মাথার দিকে তাকিয়ে বললেন
– টুপি আছে?
– না। টুপি আনতে ভুলে গেছি।
খাদেম সাহেব তার পকেট থেকে একটা টুপি বের করে আমাকে বললেন
– এইটা পড়েন।
– না, থাক, ধন্যবাদ। টুপি ছাড়াও নামাজ হয়।
– টুপি তো আমার কাছে আছে। সামনের কাতারে টুপি ছাড়া কেমন দেখা যায়। এটা পড়েন।

তার অনুরোধে টুপিটা পরলাম। নামাজ শেষ করে তাজবি পাঠ করে ইমাম সাহেবের সাথে মোনাজাত করে মসজিদ থেকে বের হলাম। বারান্দা পর্যন্ত এলাম। খাদেম সাহেব আমার পিছু পিছু এলেন। বললেন
– আপনি কি করেন?
– আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
– আলহামদুলিল্লাহ। স্যারকে তো এই মসজিদে নামাজ পড়তে দেখিনা।
– আমি আমাদের মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ি। তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই অন্য মসজিদে যাই।
কথা বলতে বলতে তিনি আমার সাথে হেটে হেটে সামনের মাঠ পেড়িয়ে মেইন গেট পর্যন্ত এলেন। মাঝে মাঝে আমার মাথার দিকে তাকালেন। তিনি আমাকে এতো খাতির করছিলেন কেন বুঝতে পারছিলাম না। আমি গেট থেকে বেরিয়ে রিক্সা ডাকলাম। তিনি হাসি মুখে বললে
– স্যার, টুপি কি মাথায়ই রাখবেন?
– উ হো, সরি। ভুলে গেছি।

আমি টুপিটি ফেরৎ দিলাম। এতক্ষণে বুঝলাম তিনি এতক্ষণ খাতির কেন করলেন।

তারও অনেকদিন পর আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলাম। সকাল এগারটায় আমরা বিভাগের সকল টিচার একসাথে চা নাস্তা করতাম। এজন্য সব টিচার চাঁদা দিতাম। ডাঃ ওয়াহাব ভাই চাঁদা কালেকশনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। মাসের পহেলা চাঁদা দিতে হতো। আমি প্রায়ই চাঁদা দিতে ভুলে যেতাম। বেশ কিছুদিন পর ওয়াহাব ভাই মুস্কি হেঁসে বললেন
– কি করে যে বলি!
– কেন, কোন সমস্যা?
– ইয়ে, মানে।
– ইর্দ্বীধায় বলুন। কোন সমস্যা নেই।
– মানে, আপনার থেকে নাস্তার টাকা নেয়া মনে হয় ঠিক হচ্ছে না।
– উ হো, সরি। আমি মাঝে অনেক কিছুই ভুলে যাই। আমার থেকে চেয়ে নিতে হবে। কোন রকম ইতস্তত করবেন না, ভাই। এই নিন টাকা।

আমি টাকা দেয়ার পর ওয়াহাব ভাইকে আমার বড় মসজিদ থেকে টুপি নেয়ার গল্পটা শুনিয়ে দিলাম। তিনি শুনে মজা পেলেন।

এরপর আরেকদিন ওয়াহাব ভাই ডিপার্টমেন্টে আমার রুমে এলেন। নানা কথা বলেন। মুস্কি মুস্কি হাসেন। আমি বেড়িয়ে দোতলা থেকে নেমে সিরির নিচ পর্যন্ত এলাম। সাথে ওয়াহাব ভাইও হাটতে হাটতে আমার সাথে সাথে এলেন। আমি বললাম
– কিছু বলবেন, ভাই?
তিনি গাল চুলকাতে চুলকাতে বললেন
– মানে, আপনার বড় মসজিদে টুপি নেয়ার গল্প মনে পড়লো।
– উ, হো, সরি, গত মাসের চাঁদা দিতে ভুলে গেছি। এই নিন। সরি, ভুলে গেছি।
৮/৯/২০১৮ ইং
আরো গল্প পড়তে আমার ওয়েবসাইট-এ লেখালেখি পেইজ ব্রাউজ করুন। লিংক
www.talukderbd.com

 

 

Google Ads




দুই যমজের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট

দুই যমজের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
বেশ কয়েক বছর আগে রৌহা মামাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম। সামছু মামা আমাকে Continue reading “দুই যমজের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট”

ডাইলের পানি

ডাইলের পানি
(মনে পড়ে)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

হোস্টেলের ডাইনিং-এ ডাল একটা কমন মেনু। খাবার শেষ করতে হবে মসূরের ডাল দিয়ে। আমরা ছাত্র জীবনে ডালকে ডাইল বলতাম। বাংলাদেশে যখন ব্যাপক আকারে ফেন্সিডিল নেশার প্রসার লাভ করে তখন নেশাখোররা ফেন্সিডিলকে ডাইল নামে চালিয়ে দেয়। অনেককে বলতে দেখা যায় “ছেলেটি ডাইলখোর।” অর্থাৎ ছেলিটি ফেন্সিডিল পান করে নেশা করে।
Continue reading “ডাইলের পানি”

নির্দেশের প্রয়োজন পড়ে নি

নির্দেশের প্রয়োজন পড়ে নাই
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদের

১৯৭৯ সনে আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ হোষ্টেলে থাকাকালীন একটা ঘটনা মনে পড়লো। হোস্টেল ছিল টিনসেড। এখন সেখানে বিল্ডিং হয়েছে। নিচ তলায় Continue reading “নির্দেশের প্রয়োজন পড়ে নি”

প্রধান অতিথির ছাতা

(মনে পড়ে)
অনেক দিন আগের কথা। গ্রাম এলাকায় একটা প্রীতি ফুটবল খেলা হচ্ছিল। আমাকে প্রধান অতিথি হিসাবে দাওয়াত করেছিল। খুব রৌদ্র ছিল সেদিন। গরমও পড়েছিল প্রচুর। বিকেলে মাঠে খেলা হচ্ছিল। গ্রামের বিবাহিত যুবক বনাম স্কুল কলেজের অবিবাহিত ছাত্রদের মধ্যে খেলা হচ্ছিল। আশে পাশের গ্রাম থেকে অনেক দর্শক এসেছিল খেলা দেখতে। তারা খুব আনন্দ উপভোগ করছিল। মাইকে রম্য রস করে খেলার ধারা বর্ণনা দিচ্ছিল ফকরা ছেলেপেলেরা। তাতে দর্শকরা আরো মজা পাচ্ছিল। আমিও বেশ উৎফুল্ল ছিলাম।

মাঠে সবুজ ঘাস ছিল। মাঠের চুতুরদিকে সবুজ বনানী। মাঠ ও বনানীতে বিকেলের রোদ মিষ্টি লাগছিল। আয়োজকরা আমাকে খুশী করার জন্য ব্যস্ত ছিল। মাইকে আমার উপস্থিতিতে তারা মুগ্ধ তা বার বার ঘোষণা করছিল। আমি পুর্ব দিকে মুখ করে একটা সামিয়ানার নিচে বসেছিলাম। আমার আশে পাশে অনেক লোক ছিল।

বাড়ি থেকে বের হবার সময় কেউ একজন বলেছিলেন
– প্রচন্ড রোদ। একটা ছাতা নিয়ে যাও।
– আমি ছাতা নিয়ে আসি নি।
– আমাদেরটাই নিয়ে যাও।
– আমি ছাতা হারিয়ে ফেলতে পারি। থাক, ছাতা লাগবে না।
– হারালে সমস্যা নাই। নিয়ে যাও।

আমি ছাতা নিয়ে গেলাম। লম্বা ছাতা। ফোল্ড করা যায় না। গ্রাম্য ছাতা। আমি মাস্টার সাহেবের মত ছাতা মাথায় দিয়ে ক্ষেতের বাতর দিয়ে ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে সামিয়ানার নিকট পৌছলাম। মাইকে ছেলেপেলেরা স্লোগান দিল “প্রধান অতিথির আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। ” আমি ছাতা বন্ধ করে হাত নেড়ে প্রধান অতিথির চেয়ারে আসন গ্রহণ করলাম। ছাতাটা আমার পিছন দিকে চেয়ারের সাথে আটকিয়ে রাখলাম। পিছনে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়েছিল। আমার সন্দেহ হল হয়ত কেউ একজন ছাতাটা নিয়ে নিতে পারে। নিজের ছাতা না। নিয়ে নিলে ছাতার মালিক মন খারাপ করবে।
ছাতা ঘেঁষে দাড়িয়েছিল পরিচিত একজন। নাম বলা ঠিক হবে না। সে কোন সময় চেয়ার ছাড়ছিল না। তাকে আমি সন্দেহের দৃষ্টিতে রাখলাম। খেলা দেখার ফাকে ফাকে জনগনের সাথে স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েও কথা বললাম। খেলা শেষ হল। বক্তৃতা ও পুরস্কার দেয়ার পালা শুরু হল। আমাকে খুশী করার জন্য একজন মাইকে রম্য বক্তৃতা দিল। তার বক্তৃতাটি ছিল এই রকম:

“ভাই সব। নির্বাচনের আগে আমি ওয়াদা করেছিলাম আমি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করব। প্রাথমিক কাজ হিসাবে আমি প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি কম পক্ষে একটা করে বদনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আপনাদের সবার বাড়িতে একটা করে বদনা আছে না? থাকলে হাত তুলুন। ” সবাই দুই হাত তুলে সমস্বরে বলল “হ্যা, আছে। ”

আমরা হেসে ফেললাম। সবশেষে সভাপতির বক্তব্যের পালা। আমার নাম ঘোষণা করা হল। ভাব গাম্ভীর্য নিয়ে আমি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম। গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সম্বোধন করে আমি বক্তৃতা শুরু করলাম।
আরচোখে একটু বা দিকে তাকালাম। দেখলাম সেই পেছনে দাঁড়ানো লোকটি ছাতা নিয়ে ভাগছে। আমি আমার বাম পাশে বসা একজন আয়োজকের কানে কানে বললাম “আমার ছাতা নিয়ে চলে যাচ্ছে। ধরার ব্যবস্থা করুন। ” সবাই ভাবল আমি মনে হয় বক্তৃতার কোন পয়েন্ট নিয়ে পরামর্শ করছি। তিনিও কাউকে বুঝতে না দিয়ে কৌশলে অন্য লোক পাঠালেন ধরার জন্য। আমি যথারীতি বক্তব্য শেষ করলাম। দেখলাম লোকটিকে বসিয়ে রাখা হয়েছে আমার কাছে জবাবদিহি করার জন্য। চির চেনা সেই লোকটি আমার চোখের দিকে তাকাতে সাহস পেল না। আমি বললাম
– ছাতা নিয়ে যাচ্ছিলেন কেন?
– আমি অনেক্ষন আপনার চেয়ার ধরে দাড়িয়েছিলাম। চলে যাবার সময় অভ্যাস বশত আমার নিজের ছাতা ভেবে হাতে নিয়ে চলে যাই। ভুল হয়ে গেছে। ”

বেলাডোবার সময় বিদায় নিলাম। এবার ছাতা মেলতে হল না। প্রায় অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল। বাইদের বাতর পাড়ি দিতে দিতে ভাবলাম “এমনো গ্রামবাসী আছে যে আমার জিনিস নিয়ে নিতে পারে! আমি কিভাবেই বা তার দিকে তাকাব? আর সেই বা কেমন করে আমার সাথে দেখা হলে কথা বলবে? যাহোক, বাড়ি পৌছলে অন্ধকার নেমে আসলো। আমি ড্রেস পাল্টানোর চেষ্টা করছিলাম। পাড়ার একজন দৌড়ে এসে বললেন
-অমুকে(সেই ছাতা নেয়া লোকটি) অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।
– পড়বেই তো। ও দেখবে আরো কত কিছুর ভান ধরবে। লজ্জায় ভান ধরেছে।
– ডাক্তার সাব। জরুরী ভাবে আপনাকে একটু যেতে হবে।
– ঠিক আছে।

আমি অমনি বেগটা নিয়ে ঐ রুগীটাকে চিকিৎসা দিতে গেলাম। দেখি রুগী তিনি নন। রুগী তার ছেলে। আমি হয়ত ভুল শুনেছিলাম। অতিরিক্ত গরমে ঘেমে রুগীর লবন ও পানিশুন্যতা হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। সেই লোকটি লজ্জায় আমার কাছে আসলোই না। আমি চিকিৎসা দিয়ে চলে এলাম। ছাতার মালিককে ছাতা ফেরৎ দিয়ে দিলাম।

সেই লোকটির সাথে আমার খুব দেখা হয়। আমাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক। আসলেই মনে হয় লোকটি ভুল করে নিজের মনে করে ছাতাটি নিয়েছিল। ভুল মানুষের হতেই পারে।
==
ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৪/৭/২০১৮