এডিসনের পানির কল

 

এডিসনের কলের পানি
(বিজ্ঞানের গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
পানি নাই যেখানে জীবন নাই সেখানে। আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহে পানি আছে বলেই জীবন আছে। অন্য কোন গ্রহে যদি পানির সন্ধান পাওয়া যায় তবে জীব আছে সন্দেহ করতে হবে। যদি জীব নাও থাকে সেখানে জীব ছেড়ে দিলে বেঁচে থাকবে এবং বংশ বিস্তার করবে। তাই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গ্রহে পানির সন্ধান করছেন। পৃথিবীতে যে সব স্থানে খাওয়ার পানির আধার আছে সেসব স্থানে জন বসতি গড়ে উঠেছে। আমাদের এই বাংলাদেশে প্রচুর খাবার পানি আছে তাই এই অঞ্চলে খুব ঘন বসতি। মরু অঞ্চলে পানির উৎস কম তাই জনসংখ্যা কম।

প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে মানুষ মাটির ও চামড়ার তৈরি পাত্র দিয়ে ঝর্ণা ও কুপ থেকে হাত দিয়ে অথবা রশি দিয়ে টেনে পানি তুলতো। পানি তোলাকে আরো সহজ করার জন্য একটি খুটির সাথে আরেকটি বাঁশ বা কাঠের ফালি বেঁধে সেই ফালি হাত দিয়ে ঘুরাতো। একটি রশির মাথার এক প্রান্তে হাড়ি বাঁধা হতো আরেক প্রান্ত খারা খাঠের গুড়ির সাথে বাঁধা থাকতো। ঘুরানোর সময় রশি কাঠের উপর পেচাতে থাকতো আর হাড়ি পানি সহ উপরে উঠে আসতো। প্রথম দিকে মানুষ নিজেই এভাবে পানি তুলত। পড়ে এই কাজের জন্য মানুষ ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, গড়ু ও মহিষ ব্যবহার করে।

মানুষের হাতের কাজকে প্রযুক্তি খাটিয়ে যা বানানো হয় তা হল যন্ত্র বা কল। যেমন, পানির কল, বাতির কল, কলের লাঙল ইত্যাদি। পানি তোলার প্রথম কল হলো পুলি বা কপিকল। কুপের দুই পাশে দুইটি খুটি গেড়ে তার উপর কুপের মাঝ বরাবর একটি বাঁশ বাঁধা হতো। বাঁশের সাথে ঝুলানো হতো একটি কাঠের বা লোহার চাকতি। চাকতির উপর একটি রশি ঘুরতো। রশির এক মাথা নিচের দিকে টান দিলে আরেক মাথায় বাধা পানিসহ হাড়ি উপরে উঠে আসতো।

এরপর আরো উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার হল পানির হাতের পাম্প। যেটাকে আমরা চাপ কল বলি। এই চাপকল সারা বিশ্বে এখনো বহুল প্রচলিত। আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতেন তার পাহাড়ের বাড়িতে। সেখানে তিনি নিভৃতে গবেষণা কাজ করতে পারতেন। সেখানে পানির অভাব ছিল। তিনি সেখানে একটি পানির পাম্প বসালেন। বাড়ির ছাদে একটি পানির টেংক বসালেন। পাম্প করে তিনি ছাদের টেংক ভরে রাখতেন। পানির টেপ ব্যবহার করে তিনি প্রয়োজনীয় পানি খরচ করতেন। পানির পাম্পের হাতলের সাথে তিনি রশি বাঁধলেন। সেই রশি কয়েকটি কপিকলের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে ঘরের ভিতর নিলেন। তিনি ঘরে বসে বসেই রশি টেনে টেংকিতে পানি তুলতেন।

এডিসন তার আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি তার সেই পাহারের বাড়িতে সাজিয়ে রেখে প্রদর্শনী করতেন। অনেক বিজ্ঞান পিপাসু মানুষ এডিসনের যন্তরমন্তর দেখতে যেতো। ওখানে একরুম থেকে আরেক রুমে যাওয়ার জন্য একটা দরজা ছিল। এডিসনের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। তিনি পাম্পের রশির মাথাটি ঐ দরজার সাথে বেঁধে দিলেন।

একবার এক দর্শনার্থী এডিসনের কাছে মন্তব্য করলেন
– আমনার যন্তর মন্তরের সব কিছুই আমার ভাল লেগেছে। কিন্তু একটি জিনিষ আমার ভালো লাগেনি।
– কি সেটি?
– আপনার দরজাটি খুলতে বেশ শক্তি ব্যয় করতে হয়। এটি একটু সহজ করা যায় না?
– যেহেতু প্রশ্নটা আপনি করেছেন সেহেতু রহস্যটা আপনাকে বলতেই হয়।
– সেই রহস্যটা কি?
– আমি এই দরজার সাথে বাহিরের ছাদে টেংকিতে পানি তোলার জন্য পাম্পের সাথে পুলি দিয়ে বেঁধে দিয়েছি। দরজা খোলার জন্য একবার টান দিলে টেংকিতে পাঁচ লিটার করে পানি ওঠে। এই পানি তোলার কাজটি তাদের অজান্তেই দর্শনার্থীরা করে দিচ্ছে।
১৫/৯/২০১৮ ইং

Continue reading “এডিসনের পানির কল”

এডিসনের কুকুরটি

এডিসনের কুকুরটি
(বিজ্ঞানের গল্প)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কথা একবার ছেড়ে দিলে আর মুখে ফেরৎ নেয়া যায় না। বাতাসে তা বিলিন হয়ে যায়। কারো কানে পৌছলে সে তা শুনতে পায়। Continue reading “এডিসনের কুকুরটি”