একটি সন্তানের জন্য

একটি সন্তানের জন্য
(রোগের গল্প)
ডা: মো: সাদেকুল ইসলাম তাকুকদার

জর্দা ফ্যাক্টরিটা মানিক মিয়ার বাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানিক মিয়ার বাবা আগে বই পুস্তকের দোকান করতেন। তিনি লক্ষ করে দেখলেন যে তার বন্ধু বিড়ির দোকান করে বেশী লাভ করেন। তাই তিনি বইয়ের দোকান বাদ দিয়ে বিড়ির দোকান করা শুরু করেন। বিড়ির ব্যবসায় বেশী বেশী লাভ হওয়ায় তিনি বিড়ির ফ্যাক্টরি দিয়ে ফেললেন। তারপর তামাক ফ্যাক্টরি। সেখান থেকে জর্দা ফ্যাক্টরি। যে বছর মানিক মিয়ার জন্ম হয় সেই বছরই জর্দা ফ্যাক্টরি উদ্বোধন করা হয়। আর নাম দেয়া হয় মানিক জর্দা ফ্যাক্টরি। জর্দার নাম দেয়া হয় মানিক জর্দা। এই জর্দা এখন জর্দা সেবনকারীদের প্রিয় জর্দা।

মানিক মিয়া জর্দা ফ্যাক্টরি থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেন। দান খয়রাতও করেন প্রচুর। প্রতি রমজান মাসে ঈদের আগে শহরে মাইকিং করে ফ্যাক্টরির ফটক থেকে যাকাতের শাড়ী, লুঙ্গী ও Continue reading “একটি সন্তানের জন্য”

জাহাংগীরনগর

জাহাঙ্গীরনগর
(বিবিধ)
মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তার শৈশবের বন্ধু এবং সেনাপতি শেখ আলাউদ্দিন চিশতীকে ইসলাম খান নাম দিয়ে ১৬০৮ সনে বাংলার সুবেদার করে পাঠান। তিনি ছিলেন সেলিম চিশতীর নাতী। বাংলার বড় ভুঁইয়াদের বাধার মুখে ঢাকা Continue reading “জাহাংগীরনগর”

প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা

(স্বাস্থ্য কথা)
সাধারণ কয়েকটি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব
#রক্তের CBC একটি পরীক্ষা যা সবচেয়ে বেশী করা হয়। শরীরে বিভিন্ন ইনফেকশন হলে, ব্লাড ক্যান্সার হলে অথবা বিবিধ রোগ হলে এই পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে Continue reading “প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা”

গুড়া কৃমি

=গুড়াকৃমি =

স্বাস্থ্য কথা

ইংরেজীতে গুড়াকৃমিকে বলা হয় পিনওয়ার্ম। ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলারিস। আধা ইঞ্চির চেয়েও কম সাইজের সাদা রংগের ছোট ছোট কৃমি সাধারণত ছোটদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের পেটের ক্ষুদ্রান্তে এদের বসবাস। বোয়াল মাছ যেমন ডিম পারার জন্য উজানের পানিতে চলে যায় তেমনি এই কৃমিও ডিম পারার জন্য সন্ধার সনয় পেট থেকে বের হয়ে পায়ুপথের চারিপাশে চামড়ার ভাজে ভাজে ডিম পেরে পেটের ভিতর চলে যায়। ডিম পারার স্থানে চুলকাকানি হয়। তাই শিশুরা পায়ুপথের আশে পাশে সন্ধার পর চুলকাকাতে থাকে। রাতে ঘুমের বেঘাত হয়।

চুলকানোর সময় শিশুর আংগুলে কৃমির ডিম লেগে আসে। আংগুলে ডিম ৩/৪ ঘন্টা বেচে থাকে। আংগুল থেকে জামা কাপড় খেলনা ও আসবাবপত্রে ডিম ছড়িয়ে পরে। শুক্না ডিম বাতাসেও উড়ে। এভাবে বাড়ির অন্যদের নাক মুখ দিয়ে ডিম পেটে চলে যায় এবং অন্যরা আক্রান্ত হয়। পেটে গিয়ে ডিম ফুটে কৃমির বাচ্চা বের হয় এবং বড় হয়ে আবার ডিম পারে। নিজের হাত নাক মুখে দিয়ে শিশু নিজের দ্বারাই আক্রান্ত হতে পারে।

যেহেতু বাহিরে এসে ডিম পারে সেহেতু মল পরীক্ষা করলে মলে এই ক্রিমির ডিম পাওয়া যাবে না।

দুই বৎসর বা তার চেয়ে বড়দের জন্য ১০০ মিলিগ্রাম মেবেন্ডাজল ট্যাবলেট ১ টি খেলেই গুড়াকৃমি ভাল হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পর আরও ১ টি খেতে হয়। আক্রান্ত পরিবারের সকলকেই এই ঔষধ এক যোগে খেতে হয়।

নিয়মিত ভাল করে হাত ধোবার অভ্যাস ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এই কৃমির সনক্রমন কম হবে।
======
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ফেইসবুক পোস্ট
সাধারণ স্বাস্থ্যজ্ঞান
২/৬/২০১৭

প্রধান অতিথির ছাতা

(মনে পড়ে)
অনেক দিন আগের কথা। গ্রাম এলাকায় একটা প্রীতি ফুটবল খেলা হচ্ছিল। আমাকে প্রধান অতিথি হিসাবে দাওয়াত করেছিল। খুব রৌদ্র ছিল সেদিন। গরমও পড়েছিল প্রচুর। বিকেলে মাঠে খেলা হচ্ছিল। গ্রামের বিবাহিত যুবক বনাম স্কুল কলেজের অবিবাহিত ছাত্রদের মধ্যে খেলা হচ্ছিল। আশে পাশের গ্রাম থেকে অনেক দর্শক এসেছিল খেলা দেখতে। তারা খুব আনন্দ উপভোগ করছিল। মাইকে রম্য রস করে খেলার ধারা বর্ণনা দিচ্ছিল ফকরা ছেলেপেলেরা। তাতে দর্শকরা আরো মজা পাচ্ছিল। আমিও বেশ উৎফুল্ল ছিলাম।

মাঠে সবুজ ঘাস ছিল। মাঠের চুতুরদিকে সবুজ বনানী। মাঠ ও বনানীতে বিকেলের রোদ মিষ্টি লাগছিল। আয়োজকরা আমাকে খুশী করার জন্য ব্যস্ত ছিল। মাইকে আমার উপস্থিতিতে তারা মুগ্ধ তা বার বার ঘোষণা করছিল। আমি পুর্ব দিকে মুখ করে একটা সামিয়ানার নিচে বসেছিলাম। আমার আশে পাশে অনেক লোক ছিল।

বাড়ি থেকে বের হবার সময় কেউ একজন বলেছিলেন
– প্রচন্ড রোদ। একটা ছাতা নিয়ে যাও।
– আমি ছাতা নিয়ে আসি নি।
– আমাদেরটাই নিয়ে যাও।
– আমি ছাতা হারিয়ে ফেলতে পারি। থাক, ছাতা লাগবে না।
– হারালে সমস্যা নাই। নিয়ে যাও।

আমি ছাতা নিয়ে গেলাম। লম্বা ছাতা। ফোল্ড করা যায় না। গ্রাম্য ছাতা। আমি মাস্টার সাহেবের মত ছাতা মাথায় দিয়ে ক্ষেতের বাতর দিয়ে ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে সামিয়ানার নিকট পৌছলাম। মাইকে ছেলেপেলেরা স্লোগান দিল “প্রধান অতিথির আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। ” আমি ছাতা বন্ধ করে হাত নেড়ে প্রধান অতিথির চেয়ারে আসন গ্রহণ করলাম। ছাতাটা আমার পিছন দিকে চেয়ারের সাথে আটকিয়ে রাখলাম। পিছনে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়েছিল। আমার সন্দেহ হল হয়ত কেউ একজন ছাতাটা নিয়ে নিতে পারে। নিজের ছাতা না। নিয়ে নিলে ছাতার মালিক মন খারাপ করবে।
ছাতা ঘেঁষে দাড়িয়েছিল পরিচিত একজন। নাম বলা ঠিক হবে না। সে কোন সময় চেয়ার ছাড়ছিল না। তাকে আমি সন্দেহের দৃষ্টিতে রাখলাম। খেলা দেখার ফাকে ফাকে জনগনের সাথে স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েও কথা বললাম। খেলা শেষ হল। বক্তৃতা ও পুরস্কার দেয়ার পালা শুরু হল। আমাকে খুশী করার জন্য একজন মাইকে রম্য বক্তৃতা দিল। তার বক্তৃতাটি ছিল এই রকম:

“ভাই সব। নির্বাচনের আগে আমি ওয়াদা করেছিলাম আমি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করব। প্রাথমিক কাজ হিসাবে আমি প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি কম পক্ষে একটা করে বদনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আপনাদের সবার বাড়িতে একটা করে বদনা আছে না? থাকলে হাত তুলুন। ” সবাই দুই হাত তুলে সমস্বরে বলল “হ্যা, আছে। ”

আমরা হেসে ফেললাম। সবশেষে সভাপতির বক্তব্যের পালা। আমার নাম ঘোষণা করা হল। ভাব গাম্ভীর্য নিয়ে আমি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম। গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সম্বোধন করে আমি বক্তৃতা শুরু করলাম।
আরচোখে একটু বা দিকে তাকালাম। দেখলাম সেই পেছনে দাঁড়ানো লোকটি ছাতা নিয়ে ভাগছে। আমি আমার বাম পাশে বসা একজন আয়োজকের কানে কানে বললাম “আমার ছাতা নিয়ে চলে যাচ্ছে। ধরার ব্যবস্থা করুন। ” সবাই ভাবল আমি মনে হয় বক্তৃতার কোন পয়েন্ট নিয়ে পরামর্শ করছি। তিনিও কাউকে বুঝতে না দিয়ে কৌশলে অন্য লোক পাঠালেন ধরার জন্য। আমি যথারীতি বক্তব্য শেষ করলাম। দেখলাম লোকটিকে বসিয়ে রাখা হয়েছে আমার কাছে জবাবদিহি করার জন্য। চির চেনা সেই লোকটি আমার চোখের দিকে তাকাতে সাহস পেল না। আমি বললাম
– ছাতা নিয়ে যাচ্ছিলেন কেন?
– আমি অনেক্ষন আপনার চেয়ার ধরে দাড়িয়েছিলাম। চলে যাবার সময় অভ্যাস বশত আমার নিজের ছাতা ভেবে হাতে নিয়ে চলে যাই। ভুল হয়ে গেছে। ”

বেলাডোবার সময় বিদায় নিলাম। এবার ছাতা মেলতে হল না। প্রায় অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল। বাইদের বাতর পাড়ি দিতে দিতে ভাবলাম “এমনো গ্রামবাসী আছে যে আমার জিনিস নিয়ে নিতে পারে! আমি কিভাবেই বা তার দিকে তাকাব? আর সেই বা কেমন করে আমার সাথে দেখা হলে কথা বলবে? যাহোক, বাড়ি পৌছলে অন্ধকার নেমে আসলো। আমি ড্রেস পাল্টানোর চেষ্টা করছিলাম। পাড়ার একজন দৌড়ে এসে বললেন
-অমুকে(সেই ছাতা নেয়া লোকটি) অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।
– পড়বেই তো। ও দেখবে আরো কত কিছুর ভান ধরবে। লজ্জায় ভান ধরেছে।
– ডাক্তার সাব। জরুরী ভাবে আপনাকে একটু যেতে হবে।
– ঠিক আছে।

আমি অমনি বেগটা নিয়ে ঐ রুগীটাকে চিকিৎসা দিতে গেলাম। দেখি রুগী তিনি নন। রুগী তার ছেলে। আমি হয়ত ভুল শুনেছিলাম। অতিরিক্ত গরমে ঘেমে রুগীর লবন ও পানিশুন্যতা হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। সেই লোকটি লজ্জায় আমার কাছে আসলোই না। আমি চিকিৎসা দিয়ে চলে এলাম। ছাতার মালিককে ছাতা ফেরৎ দিয়ে দিলাম।

সেই লোকটির সাথে আমার খুব দেখা হয়। আমাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক। আসলেই মনে হয় লোকটি ভুল করে নিজের মনে করে ছাতাটি নিয়েছিল। ভুল মানুষের হতেই পারে।
==
ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৪/৭/২০১৮

তরমুজ

 

: এই, সাইকেল নিয়ে কই যাচ্ছ?
: চৌরাস্তার মোড়ে।
: কি জন্য?
: একটা তরমুজ কিনব। খুব গরম পরেছে। তরমুজ খাব।
Continue reading “তরমুজ”

ভুয়া ডাক্তার

: হ্যালো, তাহলে আমি কোন ডাক্তার দেখাব?
: আপনি একজন মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন।
: তা তো বুঝলাম। কাকে দেখাব? ডাক্তারের নাম কি?
: ডাক্তারের নাম জানার দরকার নাই। তার পদবী জানারও দরকার নাই। শুধু দেখাবেন তার পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী Continue reading “ভুয়া ডাক্তার”