মানুষ ফোলে কেন?

 

মানুষ ফোলে কেন?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

সাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ পানি শরীরে জমলে মানুষ ফুলে যায়। ডাক্তারগণ বলেন ইডেমা হয়েছে। ইডেমা Continue reading “মানুষ ফোলে কেন?”

চোখ কাটা

চোখ কাটা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

চোখ আমাদের অত্যন্ত মুল্যবান অংগ। তাই আমাদের দুইটি চোখ দিয়েছেন সৃষ্টি কর্তা যেন এক চোখ নষ্ট হয়ে গেলেও আরেক চোখ দিয়ে দেখতে পারি। যারা এখন চোখে দেখেন তারা কি ভেবে দেখেছেন এখন থেকে চোখ দুটি অন্ধ হয়ে গেলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার কেমন লাগবে? এই চোখ নানা কারনে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্ধের চিকিৎসা আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষ অসহায় ভাবে বেঁচে থাকতো। আর এই চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা ডাক্তারদেরকে। Continue reading “চোখ কাটা”

আমার দেখা হাড়ভাংগা চিকিৎসা

 

আমার দেখা হাড়ভাংগা চিকিৎসা
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

হাড় ভাংগা আর গাছ ভাংগা জোড়া লাগা একই রকম। গাছ ভেংগে পড়ে। মানুষ ভেংগেও পড়ে আবার পড়েও ভাংগে। মটকা গাছ সহজে ভেংগে পড়ে। Continue reading “আমার দেখা হাড়ভাংগা চিকিৎসা”

একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম

 

একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
সেদিন শেষরাতে ও সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমার বয়স আর কত Continue reading “একদিন হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম”

এক রিক্সাওয়ালা

 

এক রিক্সাওয়ালা
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৯১ সনের কথা। সকাল থেকেই মুশলধারায় বৃষ্টি পড়ছিল। বাসার আশ পাশ হাটু পানি। ঢাকার রায়ের বাজার Continue reading “এক রিক্সাওয়ালা”

শ্বাস শ্বাস শ্বাস

 

শ্বাস শ্বাস শ্বাস
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৮৫ সনে যখন আমরা এম বি বি এস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে Continue reading “শ্বাস শ্বাস শ্বাস”

ভুতের ভয়

 

ভুতের ভয়
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

খুব সম্ভব ১৯৮২ সনের কথা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ি। এল হারুন স্যার আর পি ছিলেন। জাহাঙ্গীর স্যার মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার Continue reading “ভুতের ভয়”

এডিসনের পানির কল

 

এডিসনের কলের পানি
(বিজ্ঞানের গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
পানি নাই যেখানে জীবন নাই সেখানে। আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহে পানি আছে বলেই জীবন আছে। অন্য কোন গ্রহে যদি পানির সন্ধান পাওয়া যায় তবে জীব আছে সন্দেহ করতে হবে। যদি জীব নাও থাকে সেখানে জীব ছেড়ে দিলে বেঁচে থাকবে এবং বংশ বিস্তার করবে। তাই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গ্রহে পানির সন্ধান করছেন। পৃথিবীতে যে সব স্থানে খাওয়ার পানির আধার আছে সেসব স্থানে জন বসতি গড়ে উঠেছে। আমাদের এই বাংলাদেশে প্রচুর খাবার পানি আছে তাই এই অঞ্চলে খুব ঘন বসতি। মরু অঞ্চলে পানির উৎস কম তাই জনসংখ্যা কম।

প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে মানুষ মাটির ও চামড়ার তৈরি পাত্র দিয়ে ঝর্ণা ও কুপ থেকে হাত দিয়ে অথবা রশি দিয়ে টেনে পানি তুলতো। পানি তোলাকে আরো সহজ করার জন্য একটি খুটির সাথে আরেকটি বাঁশ বা কাঠের ফালি বেঁধে সেই ফালি হাত দিয়ে ঘুরাতো। একটি রশির মাথার এক প্রান্তে হাড়ি বাঁধা হতো আরেক প্রান্ত খারা খাঠের গুড়ির সাথে বাঁধা থাকতো। ঘুরানোর সময় রশি কাঠের উপর পেচাতে থাকতো আর হাড়ি পানি সহ উপরে উঠে আসতো। প্রথম দিকে মানুষ নিজেই এভাবে পানি তুলত। পড়ে এই কাজের জন্য মানুষ ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, গড়ু ও মহিষ ব্যবহার করে।

মানুষের হাতের কাজকে প্রযুক্তি খাটিয়ে যা বানানো হয় তা হল যন্ত্র বা কল। যেমন, পানির কল, বাতির কল, কলের লাঙল ইত্যাদি। পানি তোলার প্রথম কল হলো পুলি বা কপিকল। কুপের দুই পাশে দুইটি খুটি গেড়ে তার উপর কুপের মাঝ বরাবর একটি বাঁশ বাঁধা হতো। বাঁশের সাথে ঝুলানো হতো একটি কাঠের বা লোহার চাকতি। চাকতির উপর একটি রশি ঘুরতো। রশির এক মাথা নিচের দিকে টান দিলে আরেক মাথায় বাধা পানিসহ হাড়ি উপরে উঠে আসতো।

এরপর আরো উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার হল পানির হাতের পাম্প। যেটাকে আমরা চাপ কল বলি। এই চাপকল সারা বিশ্বে এখনো বহুল প্রচলিত। আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতেন তার পাহাড়ের বাড়িতে। সেখানে তিনি নিভৃতে গবেষণা কাজ করতে পারতেন। সেখানে পানির অভাব ছিল। তিনি সেখানে একটি পানির পাম্প বসালেন। বাড়ির ছাদে একটি পানির টেংক বসালেন। পাম্প করে তিনি ছাদের টেংক ভরে রাখতেন। পানির টেপ ব্যবহার করে তিনি প্রয়োজনীয় পানি খরচ করতেন। পানির পাম্পের হাতলের সাথে তিনি রশি বাঁধলেন। সেই রশি কয়েকটি কপিকলের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে ঘরের ভিতর নিলেন। তিনি ঘরে বসে বসেই রশি টেনে টেংকিতে পানি তুলতেন।

এডিসন তার আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি তার সেই পাহারের বাড়িতে সাজিয়ে রেখে প্রদর্শনী করতেন। অনেক বিজ্ঞান পিপাসু মানুষ এডিসনের যন্তরমন্তর দেখতে যেতো। ওখানে একরুম থেকে আরেক রুমে যাওয়ার জন্য একটা দরজা ছিল। এডিসনের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। তিনি পাম্পের রশির মাথাটি ঐ দরজার সাথে বেঁধে দিলেন।

একবার এক দর্শনার্থী এডিসনের কাছে মন্তব্য করলেন
– আমনার যন্তর মন্তরের সব কিছুই আমার ভাল লেগেছে। কিন্তু একটি জিনিষ আমার ভালো লাগেনি।
– কি সেটি?
– আপনার দরজাটি খুলতে বেশ শক্তি ব্যয় করতে হয়। এটি একটু সহজ করা যায় না?
– যেহেতু প্রশ্নটা আপনি করেছেন সেহেতু রহস্যটা আপনাকে বলতেই হয়।
– সেই রহস্যটা কি?
– আমি এই দরজার সাথে বাহিরের ছাদে টেংকিতে পানি তোলার জন্য পাম্পের সাথে পুলি দিয়ে বেঁধে দিয়েছি। দরজা খোলার জন্য একবার টান দিলে টেংকিতে পাঁচ লিটার করে পানি ওঠে। এই পানি তোলার কাজটি তাদের অজান্তেই দর্শনার্থীরা করে দিচ্ছে।
১৫/৯/২০১৮ ইং

Continue reading “এডিসনের পানির কল”

এডিসনের কুকুরটি

এডিসনের কুকুরটি
(বিজ্ঞানের গল্প)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কথা একবার ছেড়ে দিলে আর মুখে ফেরৎ নেয়া যায় না। বাতাসে তা বিলিন হয়ে যায়। কারো কানে পৌছলে সে তা শুনতে পায়। Continue reading “এডিসনের কুকুরটি”

ভুলে যাই

কিছু জিনিস ভুলে যাই
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কেই যদি আমাকে একটা কলম দিয়ে বলে “এখানে সই করুন, স্যার।” আমি সই করে মনের ভুলে অভ্যাস বসত নিজের কলম মনে করে পকেটে রেখে দেই। কেই কেউ চেয়ে নেয়। অনেকেই চাইতে লজ্জা বোধ করে। কাজেই দেখা যায় আমার কলমের পরিমাণ সাভাবিকের চেয়ে একটু বেশী। কার কলম রেখেছি মনে করতে পারলে ফিরিয়ে দেই। অনেক সময়ই যার কলম তাকে মনে করতে পারি না। এটা আমার জন্য একটা সমস্যা।

আমি সাধারণত বাকীতে কিছু কিনি না। কেউ কেউ জোড় করেই অনেকসময় বাকীতে জিনিস দিয়ে দেয়। ভুলে যাই বলে লিখে রাখি। যদি ভুলে না লিখে রাখি তা হলে টাকা পরিশোধের কথা ভুলে যাই। কেউ কেউ লজ্জা না পেয়ে চেয়ে নেয়। কেউ কেউ হয়ত চায় না।

একদিন শুক্রবার মহল্লার মসজিদে না গিয়ে বড় মসজিদে গেলাম আছরের নামাজ পড়তে। আমি মাঝে মাঝে এমন করতাম। একেকদিন একেক মসজিদে নামাজ পড়তাম। তাতে ইমাম সাহেবদের বৈচিত্রতা উপভোগ করতাম। মসজিদে প্রবেশ করে সামনের কাতারে ইমামের পেছনে খাদেম সাহেবের ডানপাশে বসলাম। পেন্ট শার্ট পড়া ছিল। মাথায় টুপি ছিল না। পকেটেও টুপি ছিল না। খাদেম সাহেব আমার মাথার দিকে তাকিয়ে বললেন
– টুপি আছে?
– না। টুপি আনতে ভুলে গেছি।
খাদেম সাহেব তার পকেট থেকে একটা টুপি বের করে আমাকে বললেন
– এইটা পড়েন।
– না, থাক, ধন্যবাদ। টুপি ছাড়াও নামাজ হয়।
– টুপি তো আমার কাছে আছে। সামনের কাতারে টুপি ছাড়া কেমন দেখা যায়। এটা পড়েন।

তার অনুরোধে টুপিটা পরলাম। নামাজ শেষ করে তাজবি পাঠ করে ইমাম সাহেবের সাথে মোনাজাত করে মসজিদ থেকে বের হলাম। বারান্দা পর্যন্ত এলাম। খাদেম সাহেব আমার পিছু পিছু এলেন। বললেন
– আপনি কি করেন?
– আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
– আলহামদুলিল্লাহ। স্যারকে তো এই মসজিদে নামাজ পড়তে দেখিনা।
– আমি আমাদের মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ি। তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই অন্য মসজিদে যাই।
কথা বলতে বলতে তিনি আমার সাথে হেটে হেটে সামনের মাঠ পেড়িয়ে মেইন গেট পর্যন্ত এলেন। মাঝে মাঝে আমার মাথার দিকে তাকালেন। তিনি আমাকে এতো খাতির করছিলেন কেন বুঝতে পারছিলাম না। আমি গেট থেকে বেরিয়ে রিক্সা ডাকলাম। তিনি হাসি মুখে বললে
– স্যার, টুপি কি মাথায়ই রাখবেন?
– উ হো, সরি। ভুলে গেছি।

আমি টুপিটি ফেরৎ দিলাম। এতক্ষণে বুঝলাম তিনি এতক্ষণ খাতির কেন করলেন।

তারও অনেকদিন পর আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলাম। সকাল এগারটায় আমরা বিভাগের সকল টিচার একসাথে চা নাস্তা করতাম। এজন্য সব টিচার চাঁদা দিতাম। ডাঃ ওয়াহাব ভাই চাঁদা কালেকশনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। মাসের পহেলা চাঁদা দিতে হতো। আমি প্রায়ই চাঁদা দিতে ভুলে যেতাম। বেশ কিছুদিন পর ওয়াহাব ভাই মুস্কি হেঁসে বললেন
– কি করে যে বলি!
– কেন, কোন সমস্যা?
– ইয়ে, মানে।
– ইর্দ্বীধায় বলুন। কোন সমস্যা নেই।
– মানে, আপনার থেকে নাস্তার টাকা নেয়া মনে হয় ঠিক হচ্ছে না।
– উ হো, সরি। আমি মাঝে অনেক কিছুই ভুলে যাই। আমার থেকে চেয়ে নিতে হবে। কোন রকম ইতস্তত করবেন না, ভাই। এই নিন টাকা।

আমি টাকা দেয়ার পর ওয়াহাব ভাইকে আমার বড় মসজিদ থেকে টুপি নেয়ার গল্পটা শুনিয়ে দিলাম। তিনি শুনে মজা পেলেন।

এরপর আরেকদিন ওয়াহাব ভাই ডিপার্টমেন্টে আমার রুমে এলেন। নানা কথা বলেন। মুস্কি মুস্কি হাসেন। আমি বেড়িয়ে দোতলা থেকে নেমে সিরির নিচ পর্যন্ত এলাম। সাথে ওয়াহাব ভাইও হাটতে হাটতে আমার সাথে সাথে এলেন। আমি বললাম
– কিছু বলবেন, ভাই?
তিনি গাল চুলকাতে চুলকাতে বললেন
– মানে, আপনার বড় মসজিদে টুপি নেয়ার গল্প মনে পড়লো।
– উ, হো, সরি, গত মাসের চাঁদা দিতে ভুলে গেছি। এই নিন। সরি, ভুলে গেছি।
৮/৯/২০১৮ ইং
আরো গল্প পড়তে আমার ওয়েবসাইট-এ লেখালেখি পেইজ ব্রাউজ করুন। লিংক
www.talukderbd.com

 

 

Google Ads