দুই যমজের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট

দুই যমজের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
বেশ কয়েক বছর আগে রৌহা মামাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম। সামছু মামা আমাকেতার দুই যমজ ছেলের একই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখালেন। দেখলাম ASO Titre পরীক্ষা করা হয়েছে উপজেলা লেভেলের একটা প্যাথলজি ল্যাব থেকে। রিপোর্ট-এর নিচের দিকে একটা স্বাক্ষর দেয়া আছে। স্বাক্ষরকারীর নাম পদবী কিছু লিখা নাই। শুধু স্বাক্ষর। তিনি ডাক্তার না টেকনোলোজিষ্ট কিছু বুঝার উপায় নাই। এই ধরনের রিপোর্ট পেলে আমার একটা দৃশ্য মনে পড়ে। ছোট বেলায় দেখতাম মামাদের বাড়ির পুকুর পারের পিছনে কেউ কেউ প্রাকৃতিক ডাকের সাড়া দেয়ার জন্য লুঙ্গী উচু করে মাথা নিচু করে প্রাকৃতিক কাজ সারতো। কে বসে এই কাজ করছে তা বুঝার উপায় নাই। লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখতো যাতে কেউ চিনতে না পারে। কিন্তু কাজটি করতে দেখা যেতো। প্যাথলজির রিপোর্টে স্বাক্ষরকারীর নাম ও পদবী না থাকলে তাকে আমি ঐ রকম লোকের মতোই মনে করি। আপনি পরীক্ষা করতে পারলেন। কিন্তু পরিচয় দিতে এত লজ্জা কেন? যাহোক, মামার ছেলেদের একজনের রেজাল্ট ৩৫০, আরেকজনের ৪০০। ম্যানুয়াল মেথডে ASO titre করলে ২০০, ৪০০, ৬০০ এরকম হবার কথা। মামা বললেন
-কোন সমস্যা?
– না, মানে, সাধারণত রেজাল্ট ২০০, ৪০০, ৬০০ এমন হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে একজনের রেজাল্ট ৩৫০। এমন না হয়ে ৪০০ হবার কথা ছিল।
– ওটা তাদের ভুল না। আমারই ভুল হয়েছে।
-কেমনে?
– দুই জনেরই রেজাল্টে ৪০০ ছিল। আমি বললাম ‘আমার দুই ছেলে যমজ হলেও একজনের জ্বর বেশী আরেকজনের থেকে। অথচ আপনাদের রেজাল্ট দুইজনেরই সমান এসেছে। ভুল হয় নি তো?
এরপর তারা রিপোর্ট ফেরৎ নিয়ে পরীক্ষা পুণরায় করে একজনের রেজাল্টে ৫০ কমিয়ে দিয়েছে। হয়তো ভয়ে তারা এমন করেছে। ‘
– প্যাথলজিস্ট বা টেকনোলোজিস্ট পরীক্ষাটি করলে ভয় পেতো না। যা এসেছিল তাই দিতো। স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবী লিখতো।
২৯/৮/২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *