শ্বাস শ্বাস শ্বাস

 

শ্বাস শ্বাস শ্বাস
(মনে পড়ে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৮৫ সনে যখন আমরা এম বি বি এস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ক্লিনিক্যাল এসিস্টেন্ট বা সি এ থাকতেন। এখন এই পোস্টের নাম এসিস্টেন্ট রেজিস্টার। ওয়ার্ডের সকল রুগীর সার্বিক দায়িত্বে থাকতেন এই সি এ সাহেব। সি এ সাহেবকে আমরা ভাইয়া বা ভাই বলে সম্ভোধন করতাম। সকাল আটটায় এসে সি এ সাহেব সব রুগীর ফলোআপ দিয়ে ফাইলে লিখে রাখতেন। তার নোট বুকে লিখে রাখতেন যে সব রুগীর এবনর্মাল ফাইন্ডিং আছে। কোন কোন রুগীকে ডিপার্টমেন্টের হেডকে দেখাতে হবে। ডিপার্টমেন্টের হেড সকালে এসে অধ্যক্ষের সাথে মিটিং করে, লেকচার ক্লাস নিয়ে, লাইব্রেরী ওয়ার্ক করে হাসপাতালের চেম্বারে বসতেন। সি এ সাহেবকে ডেকে রুগীদের অবস্থা জেনে নিতেন। তারপর ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়া শুরু করতেন।

আমি যে ওয়ার্ডে ট্রেইনিং নিচ্ছিলাম সেই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান রাউন্ড দেয়া শুরু করলেন। আমরা দলবদ্ধভাবে স্যারদের পিছু পিছু থেকে স্যারদের থেকে শিখে নিতাম। সব রুগী স্যার দেখতেন না। সি এ সাহেবের রিকুয়েস্ট অনুযায়ী তিনি রুগী পরীক্ষা করতেন। সারের গায়ে এপ্রোন থাকতো। গলায় ঝুলানো থাকতো স্টেথোস্কোপ। রুগীর বেডের পাশে দাঁড়িয়ে বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরে রুগীকে লম্বা শ্বাস নিতে বলতেন। স্টেথোস্কোপ সরিয়ে সরিয়ে বুকের উপর ধরতেন আর মুখে বলতেন “শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস। ” এই কথা বলতে স্যারের কখনো ভুল হতো না। আমরাও স্যারের মতো করে বলতে চেষ্টা করতাম “শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।” একবার পাশের রুগীর শ্বাস দেখে স্যার চলে যাচ্ছিলেন অন্য রুগীর কাছে। কারন, সি এ সাহেবের লিস্টে এই রুগী ভাল আছেন, স্যারকে দেখতে হবে না। ভাল রুগীটি স্যারকে ডেকে বললেন “ডাক্তার সাব, আমাকে একটু দেখুন। ” বলে বুকটা বের করে দিলেন। স্যার মৃদু হেসে রুগীকে সন্তুষ্ট করার জন্য বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরলেন তিন জায়গায়, আর বললেন “শ্বাস, স্বাস, শ্বাস। ” রুগী বললেন “ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগান নি, লাগিয়েছেন আপনার গলায়।” স্যার আশ্চর্য হয়ে বললেন “ও তাই তো, এবার লাগালাম। বলুন ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।'”
১৬/৯/২০১৮ ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *