মানুষ ফোলে কেন?

 

মানুষ ফোলে কেন?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

সাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ পানি শরীরে জমলে মানুষ ফুলে যায়। ডাক্তারগণ বলেন ইডেমা হয়েছে। ইডেমা কোন নির্দিষ্ট রোগের নাম না। এটা কয়েকটি রোগের লক্ষণ। শরীরে পানি জমলে রুগীরা নানাভাবে প্রকাশ করে থাকে। রুগীর ভাষায় তা প্রকাশ করা হলো।
শরীরে পানি ধরেছে।
মুখ ওশা ওশা লাগে।
পেটে পানি ধরেছে।
শরীরটা ডুবা ডুবা।
পায়ে পানি ধরেছে।
শরীর ফুলে ডোল হয়ে গেছে।
শরীর ফুলে ঢোল হয়ে গেছে।

শরীরে পানি ধরার অনেক কারন আছে। বুকের বাম পাশে একটা পাম্প যন্ত্র আছে এটার নাম হার্ট বা হৃদপিন্ড। কেউ কেউ এটাকে বিসমিল্লাহ বলে থাকেন। এই হার্ট জন্মের আগ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রক্ত পাম্প করে। সারা শরীরের দুষিত রক্ত পাম্প করে এনে শোধন করার জন্য লাংগস বা ফুসফুসে পাঠায়। ফুসফুসকে কেউ কেউ ফেফড়া বলেন। ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে রক্ত বিশুদ্ধ হয়। বিশুদ্ধ রক্ত হার্ট পাম্প করে সারা অংগে ছড়িয়ে দেয়। রক্ত কিডনি বা বৃক্ক দিয়ে পাস করার সময় ফিল্টার হয়। কিডনিকে কেউ কেউ গুর্দা বলেন। কিডনি দুইটি থাকে। ফিল্টারের মাধ্যমে দুষিত পদার্থ ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি প্রশ্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। আমরা যা খাই তা খাদ্য তন্ত্রে হজম হয়ে রক্তের সাথে মিশে লিভার বা যকৃতে গিয়ে মেটাবলিজম বা আত্বিকরন হয়ে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরের কোষে পৌছে যায় নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য। যকৃতকে অনেকে কলিজা বলেন। শরীর কোষের মুল উপাদানগুলি এই লিভার থেকেই তৈরি হয়। এলবুমিন নামের মুল প্রোটিন লিভারে তৈরি হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবন শরীরে তৈরি হয় না। এটা আমরা খাবারের সাথে খাই। লবন পানিকে ধরে রাখে। যার শরীরে লবনের পরিমাণ বেশী হবে তার শরীরে পানি ধরবে। লবন বেশী খেলে অথবা কিডনি বিকল হলে শরীরে লবন বেশী হবে। ইডেমা হবে। এলবুমিন কমে গেলে অসমোটিক প্রেসার কমে যায়। অসমোটিক প্রেসার কমে গেলে ইডেমা হয়। এলবুমিন কম খেলে অথবা লিভারে তৈরি কম হলে অথবা কিডনি বিকল হয়ে প্রশ্রাবের সাথে এলবুমিন বের হয়ে গেলে রক্তে এলবুমিন কমে যায়। ইডেমা হয়। হার্ট ফেইলুর বা দুর্বল হলে শরীর থেকে পানি পাম্প করে আনতে পারে না। তাই ইডেমা হয়। কোন কারনে রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে হার্টে রক্ত ফিরতে না পেরে জমে থাকে। এটাও ইডেমা।

এতক্ষণ আলোচনায় আমরা জানলাম হার্ট, লিভার ও কিডনি ফেইলুর-এর কারনে সাধারণত শরীর ফুলে যায়। ফুলার ধরণ দেখে ডাক্তারগণ কোন অংগ ফেইলুর হতে পারে তা আন্দাজ করেন। যেমন, এই তিনটি অর্গানের মধ্যে সবার উপরে থাকে হার্ট। হার্ট ফেইলুর হলে ইডেমা হবে নিচের দিকে। অর্থাৎ পায়ে। সবার নিচে থাকে কিডনি। কিডনি ফেইল করলে মুখ চোখ ফুলে যাবে। তার মানে উপরের দিকে পানি ধরবে। মাঝখানে থাকে লিভার। লিভার ফেইল করলে পানি ধরবে শরীরের মাঝখানে অর্থাৎ পেটে। এবার আপনিও রুগী দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন অসুখটা কোথায়। আরো অনেক জটিল কারন আছে ইডেমা হওয়ার। সেসব ডাক্তারগণ জানেন। আন্দাজ করার পর রক্ত, প্রশ্রাব, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ইত্যাদি পরীক্ষা করে ইডেমার কারন নিশ্চিত হয়ে ডাক্তারগণ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ইডেমা রুগীদের রক্তের সাধারণত রক্তের ক্রিয়েটিনিন, ইলেক্ট্রোলাইট (লবন), এলবুমিন এবং প্রশ্রাবের এলবুমিন পরীক্ষা করে থাকেন। কনজেসস্টিভ কার্ডিয়াক ফেইলুর, সিরোসিস অব লিভার, নেফ্রাইটিস, নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম, এক্লাম্পসিয়া, কোয়াসিওর্কর, ফাইলেরিয়াসিস ইত্যাদি রোগে ইডেমা দেখা দেয়।
২৯/৯/২০১৮ ইং
ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *