ইন্দাজানী

ইন্দাজানী
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ইন্দ্রজানীকে আমরা ইন্দাজানী বলতাম। ইন্দাজানীতে তেমন কিছুই ছিল না। ইন্দাজানীর হাট ছাড়া এটার তেমন গুরুত্ব ছিল না। ছিল না কোন হাই স্কুল, ছিল না কোন গোলাঘর (দোকানঘর)। এখানে বর্ষাকালে অস্থায়ী হাট বসতো প্রতি মঙ্গলবারে। এটা বসতো পাহাড় ও ভরের সংযোগস্থলে। পাহাড়ের পর নিচু সমতলভুমিকে আমরা ভর অঞ্চল বলতাম। ভরের বড় বড় মহাজন বড় বড় নৌকা নিয়ে আসতেন দামী দামী মালামাল নিয়ে। ক্রেতারা আসতেন ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সদাই করতে (কেনাকাটা করতে)। পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা মাল নিয়ে যেতেন গুরুর গাড়ী করে। পাহাড়ের বাইদে (নিচু ভুমি) প্রচুর পাট চাষ হতো। পাহাড় থেকে রফতানি হতো পাট, কাঠাল, সবজি, লাকড়ি ইত্যাদি। ভৌরা ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসতেন সিলভারের পাক পাতিল, নারিকেল, ইলিশ, কাপড় চোপড় ও অন্যান্য শহর থেকে আনা দামী দামী জিনিষপত্র। নারায়ণগঞ্জ-এর ব্যবসায়ীরা নদী পথে এসে এখান থেকে পাট ও কাঠ নিয়ে যেতেন। ভর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বরিশাল অঞ্চল থেকে নারিকেল নিয়ে এসে এই হাটে বিক্রি করতেন। এলেংগার পাইত্তাগন(পাটির কারিগর) তাদের হাতে বুনুনো পাটি এখানে এনে বিক্রি করতেন। বল্লার ও কালিহাতির তাতী, কুমার ও কামারগন তাদের হাতের তৈরি কাপড়, মাটির পাতিল ও দা, বটি, কোদাল, খোন্তা এখানে এনে বিক্রি করতেন। ভুয়াপুর ও গোপালপুর থেকে আসতো আখ বা কুশাইর । বর্ষাকাল ছাড়া আমরা ইলিশমাছ পেতাম না। বাবা পাট বিক্রি করে ইয়া বড় বড় ইলিশ মাছ কিনে আনতেন ইন্দাজানী হাট থেকে। আস্ত ও নোনা ইলিশ দুই প্রকারই আনতেন। আস্ত ইলিশ মা বড় বড় ডাটা দিয়ে রান্না করতেন। নোনা ইলিশ বড় বড় কাচের বৈয়ামে সংরক্ষণ করে রাখতেন। পরে শিবচরন (চিচিংগা) দিয়ে ভাজি করতেন। বাবা আমাদের জন্য মোটা মোটা কুশাইর আনতেন। কুশাইরের দুইদিকে ইলিশ ও সদাই ঝুলিয়ে কাঁধে নিয়ে আসতেন। পদ্মপাতার টোবলায় (পেঁচানো প্যাকেট) টসটসে পেঁচানো জিলাপা (জিলাপি) এনে আমার হাতে দিতেন। আমি সবাইকে ভাগ করে দিতাম। ইন্দাজানী হাটের জিলাপির স্বাদ আমি আর কোন জিলাপি খেয়ে পাই নি। মা-বাবাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু খেতেন না। আমি মনে করতাম মা-বাবারও জিলাপি খেতে মন চায়। কিন্তু বড় হয়ে যাওয়াতে খেতে লজ্জা পান। আমি বাবা হবার পর বুঝেছি তা হয়তো হতো না। আমাদের খাওয়াইয়া তারা জিলাপির স্বাদ পেতেন। সবাইকে বেশী দিয়ে আমি কম খেতাম। কোথাও পাকা রাস্তা ছিল না। সস্তায় নৌকা যোগাযোগের ফলে এখানে প্রতি মঙ্গলবার পাহাড় ও ভরের মানুষদের একটা মিলন মেলা হতো। ভৌরাগন হাটুরা নৌকায় ইন্দাজানী নেমে পায়ে হেটে পাহাড়ে তাদের আত্বীয়বাড়ী যেতেন। আর পাহাইড়াগন পায়ে হেটে ইন্দাজানী হাটে গিয়ে হাটুরেদের সাথে নৌকাযোগে তাদের ভরের আত্বীয়স্বজনের বাড়ী যেতেন। সাথে নিয়ে যেতেন স্ব স্ব অঞ্চলের উৎপাদিত বিশেষ বিশেষ স্বস্য ও ইন্দাজানী হাটের জিলাপি। পদ্মপাতার প্যাকেট পেঁচানো হতো ছেতুকা দিয়ে (কলাগাছের খোলের আঁশ)।
এই যে এত স্বাদের জিলাপা ও এত দামী দামী জিনিষ যে হাট থেকে আনা হয় একদিন সেই হাটে যাওয়ার বায়না ধরলাম বাবার কাছে। একটা কথা বলে রাখি। আমরা ভাইবোনরা ৫ জন। কখনো আমরা বাবাকে বলিনি যে “বাবা আমার জন্য এটা আনবেন সেটা আনবেন।” বলতে হতো না। না বলতেই তিনি তার স্বাধ্যমত জামাকাপড় ও খাওয়ার জিনিষ কিনে আনতেন। বুর (বুবু/আপার) যখন বিয়ে হয়েছে তখন আমি খুব ছোট। আমার নাতী তানভীরের সমান হয়তো ৪/৫ বছর। দুলাভাইর চেহারা ছিল আমাদের এলাকার সব দুলাভাইর চেয়ে সুন্দর। লিক লিকে লম্বা। সব সময় সাদা ফিট ফাট শার্ট পরতেন। দুলাভাইর বাড়ী ভর এলাকায় আমজানী গ্রামে। এই দুলাভাইও ইন্দাজানী হাট হয়ে আমাদের বাড়ী আসতেন আমাদের জন্য জিলাপা ও রস গজা নিয়ে। রস গজাও আমার খুব পছন্দের ছিল। দুলাভাই আসলেই মার নির্দেশে আমাদের পোষা সুন্দর মোরগটি তিন চাইর বাড়ী দৌড়িয়ে হয়রান করিয়ে যখন খেরের (খর) পালার গোড়ায় আশ্রয় নিত তখন ধরে ফেলতাম। আর ওটা উচ্চ স্বরে কঅক কঅঅক করতো তখন মনে মনে বলতাম ” কক কক করিস না, দুলাভাই এসেসে, তারজন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, আইজ তরে রান্না করে খামু। সারাবাড়ী বাসনা ( ঘ্রাণ) করবে। ”

একবার বাবার সাথে ইন্দাজানী হাট দেখতে গেলাম। বড়বাইদপাড়া নাপিতের চালা, জিতাশ্বরি পাড়া, ছোট চওনা, ঘাট চওনা, ভুয়াইদ ও ভাতগড়া হয়ে যেতে হতো ইন্দাজানীর হাটে। আমাদের বড়বাইদ পাড়া থেকে ইন্দাজানী উত্তর -পশ্চিম দিকে, এই ৫/৬ কিলোমিটার পথ হবে। পায়ে হেটে যেতে হতো। ছোট চওনার পাহাড়ের পাদদেশে কয়েকটা ছোট ছোট ঝর্না ছিল। স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো। ওটা দেখলেই আমার পিপাসা হতো। আমি অঞ্জলি ভরে ঝর্নার পানি পান করতাম। ঝর্নার সাথেই ছিল চোরাবালি। একবার পাড়া দিলে কাধ পর্যন্ত ঢুকে আটকা পরতো যে কেউ। এক রাতে কয়েকজন আর্মি আসামী ধরে এই চোরাবালির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আসামীরা এই এলাকার হওয়াতে সব জানতেন। এখানে এসেই সব আসামী একযোগে গোলমাল করে চোরাবালি ঘুরে দৌড়িয়ে তেলধারার (তৈল ধারা) বনে পালিয়ে যান। আর্মিরা মসৃন বালি মনে করে সোজা চোরা বালির উপর দিয়ে দৌড় দেন আসামী ধরার জন্য। ফলে তিনজন আর্মি চোরাবালিতে আটকা পড়ে। বাকীরা তাদেরকে উদ্ধার করতে করতেই কর্ম শেষ।
যা বলছিলাম। ইন্দাজানীর রাস্তা একেক যায়গায় একেক রকম ছিল। জংগলের ভিতরকার রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল ছিল। বাইরের রাস্তা শুকনো হলেও বাইটাবাছ্রায় ভরা ছিল। সপ্তাহে মাত্র একদিন লোক যাতায়াত করাতে বাইটা বাছ্রার পরিমান বেরে যেতো। বাইটাবাছ্রার নাম যে প্রেমকাটা এটা আমার স্ত্রী স্বপ্নার কাছে শুনেছি। প্রথম যেদিন এসেছিল আমাদের বাড়ী সে শাড়ী থেকে বাইটা বাছ্রা বাছতে বাছতে বলছিল “তোমাদের পাহাড়ের রাস্তা প্রেম কাটায় ভর্তি। শাড়ী ভর্তি প্রেমকাটা। এগুলি বাছতে বাছতেই আমার ঘন্টা কেটে গেলো। ”
– প্রেমকাটা মানে?
– এইযে এইগুলি।
-এইগুলি তো বাইটাবাছ্রা।
-আমরা এগুলিকে প্রেমকাটা বলি।

যেসব মাঠ শুকনো এবং আবাদ করা হয়না সেগুলিতে এক প্রকার ঘাষ গজিয়ে মাঠ সবুজে ভরে যায়। এগুলিতে হাল্কা কাটাযুক্ত দানা হয়। পাড়িয়ে যাওয়ার সময় হাটুর নিচের কাপড়ে আটকে যায় এই কাটা। জার্নি শেষে এই কাটা বাছতে হয়। না বাছলে পায়ে কুটকুটি কামড়ায়। ছোট বেলা বাছ্রা ক্ষেতে শুয়ে থাকতে আমার ভাল লাগতো। বাচ্ছ্রা ক্ষেতের উপর দিয়ে ঢালুর দিকে গড়িয়ে পড়তে বেশ মজা পেতাম। স্কুল মাঠ থেকে আমরা দল বেধে মাঝে মাঝে বাইটাবাছ্রা তুলে পরিস্কার করতাম।

প্রথম ইন্দাজানীর হাটে গিয়ে একটু বেশী ভালোলেগেছিল এই কারনে যে এটা বড় চওনা ও কচুয়ার হাট থেকে বেশী জমজমাট ছিল। বাবা প্রথমেই আমাকে একটি রসগোল্লার দোকানে নিয়ে গিয়ে একটি টুলে বসিয়ে দোকানিকে বললেন আমাকে পেট ভরে রসগোল্লা খাওয়াতে। আমি ভাবলাম আজ পেট ভরে ১০/১২ টা রসগোল্লা খাব। দুইটি খাবার পরই পেটের তলার দিকে মোচড় দিয়ে উঠলো। বললাম “আর খেতে পারব না।” তারপর বাবার সাথে পরামর্শ করে একটা কাজ সেরে নিয়ে হাল্কা হলাম। বাবা আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ইন্দাজানী হাট দেখালেন। অনেক দোকান কিন্তু কোন গোলাঘর নেই। সব দোকানই অস্থায়ী। তাবু গেড়ে গেড়ে দোকানের স্থান করা হয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিন দিকে ভর অঞ্চল থেকে আশা নৌকাগুলি সারিবদ্ধভাবে বাধা লগি গেড়ে অথবা নোংগর ফেলে। উত্তর -পুর্ব দিকে পাহাড় অঞ্চল থেকে গরুর গাড়ি, গাড়ীর বলদ, মহিষ ও ঘোড়া বেঁধে রাখা হয়েছে। তারা কেউ কেউ জাবর কাটছে, কেউ কেউ ভুষি ও কুড়া খাচ্ছে। হারমোনিয়ামের সুরে মুগ্ধ হয়ে গোলাকার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো মানুষের কাতারে দাঁড়ালাম। মনমুগ্ধকর গান শুনলাম। গান শেষে ক্যানভাচার বনাজি ঔষধ বিক্রি করা শুরু করল। আমরা চলে গেলাম হাটের ভিতর। আবার ঘুরে ঘুরে বাকী হাটটুকু দেখলাম। বাবা ফ্রিভাবে কেনাকাটা করার জন্য বাবার পরিচিত একটা দোকানে আমাকে বসিয়ে চলে গেলেন হাটের ভিতর। এটা ছিল জামা কাপড়ের দোকান।দোকানে ঝুলানো শার্টের দিকে আমার চোখ গেলো। ইতিপূর্বে আমি কোনদিন নিজে দেখে পছন্দ করে জামাকাপড় কিনি নি। বাবা যা কিনে আনতেন তাই পড়েছি। তাই পছন্দ হয়েছে। এইবার সুযোগ এসেছে পছন্দ করে কেনার। স্থির করলাম এই আকাশী রঙের শার্টটা আমি কিনবো। বাবা বেগভর্তি বাজার কিনে এসে বললেন “চলো বাজান।” আমি কোন সাড়া দিলাম না। কয়েকবার ডাকলেন। সাড়া দিলাম না। হাতে ধরে টানলেন। মোরচামুর্চি করলাম। কিছু বললাম না। বাবা বললেন “বাজান, কি হয়েছে?” আমি আকাশী রঙের শার্টটি দেখিয়ে বললাম “এটা নিব।” এটা ভালো শার্ট না বাবা আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করছিলেন। যতই চেষ্টা করছিলিনেন ততই নেয়ার জন্য আমার ইচ্ছাশক্তি বাড়ছিল। বর্গা হাট থেকে এর চেয়েও ভালো শার্ট কিনে দিবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল। এক সময় তিনি আমাকে একটু বস বলে চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পরেই ফিরে এলেন। আমি নতুন শার্ট গায়ে দিয়ে পুরাতন শার্ট বেগে ভরে ইন্দাজানী হাট থেকে ফিরলাম। বাবা কেন কিছুক্ষণের জন্য কোথাও গেলেন তা বড় হয়ে আমি বুঝতে পেরেছি। সেই থেকে এই পর্যন্ত যতবার এই কথা মনে করি ততবার আমি কষ্ট পাই এই মনে করে যে না বুঝতে পেরে আমি বাবাকে শার্ট কেনার জন্য কষ্ট দিয়েছি। বাজার করার আগে আমি শার্ট কেনার আবদার করলে সাথে সাথেই তিনি শার্ট কিনে দিতেন। এর চেয়েও বড় কষ্ট আমি বাবাকে দিয়েছি কি না আমার মনে নেই।

এরপর আমি অনেকবার ইন্দাজানি হাটে গিয়েছি। হাট থেকে ফেরার সময় প্রথমেই একটা খাল পাড় হতে হতো গুদারা (খেয়া) দিয়ে। আমি, বাবা ও আমার সুন্দর দুলাভাই ছিলাম গুদারায়। ছোট চওনার সমশের হাজী সাবও ছিলেন সেই গুদারায়। তিনি খুব প্রভাবশালী লোক ছিলেন। তিনি কয়েকবার ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত ছিলেন। তার মেঝো ছেলে শওকত আলী দাদা নাম করা পল্লী ডাক্তার ছিলেন। ময়মনসিংহ লিটন মেডিকেল স্কুল থেকে তিনি এল এম এফ না পাশ করেই চলে গিয়ে এলাকায় ডাক্তারি করেন। ভালো প্রাক্টিস ছিল। তার বড় ভাই হামি(আ: হামিদ) দাদা আলাদা পাকে খেতেন একই বাড়িতে। যাহোক, গুদারা থামিয়ে শওকত ডাক্তার সাব গুদারায় উঠলেন। হাতে বিড়াট একটা ইলিশ মাছ। সমশের হাজী সাব বললেন
-এই মাছটা কত টাকা?
– এত টাকা।
– কয়টা মাছ কিনছস?
– একটা।
– কার জন্য?
– আমাদের জন্য।
– হামির জন্য কিনছস নাই?
– না।
– ক্যান?
– ভুল হয়ে গেছে।
এরপর হাজী সাব মাছটি নিয়ে গুদারা থেকে ছুড়ে মারলেন প্রবাহমাণ খালের পানিতে। রাগান্নিত হয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। উপস্থিত যাত্রীরা হাজী সাবকে বুঝিয়ে শান্ত করলেন।
গুদারা থেকে নেমে চলার পথে বাবার কাছ থেকে এই ঘটনার মাহাত্ব বুঝতে পারলাম। হাজী সাহেব ডাক্তার ছেলের সাথে এক পাকে খেতেন। বড় ছেলে হামিকে রেখে কি করে তিনি ইলিশ মাছটি খাবেন!

আমরা চলতে লাগলাম ভাতগড়ার পিচ্ছিল পথ দিয়ে। সামনে বাবা, মাঝে দুলাভাই, পিছে আমি। বাবা বার বার সতর্ক করে দিচ্ছিলেন যাতে পিছলা না পড়ি। দুলাভাইর গায়ে দবদবে পরিষ্কার সাদা শার্ট ছিল। পরনে টুইস লুঙ্গী। খুব ভালো লাগছিলো আমার। আগামীকাল পালা মোরগটা জবাই হবে। হটাৎ দেখলাম দুলাভাই নাচের ভঙ্গী করে দড়াম করে পিছলা খেয়ে রাস্তায় পাতালি হয়ে পড়ে গেলো। কাদায় শরীর লেটাপেটা। আমি হাততালি দিয়ে হাসতে লাগলাম। এটা আমাদের এলাকার নিয়ম। কেউ পিছলা খেয়ে পড়ে গেলে আমরা তাকে উদ্ধার না করে হাততালি দিয়ে হাসতে থাকি। আমার হাসি আর থামে না। বাবা দুলাভাইকে ধরে উঠালেন। আমাকে হাসতে বারন করলেন। আবার হাটা শুরু হলো। থেকে থেকেই আমি হেসে উঠছি। আমার হাসির শব্ধ শুনে বাবারও হাসি পেলো। তিনি মেয়েজামাইর কান্ড নিয়ে হাসতে পারেন না। তাই হাসি চেপে রাখলেন। এক সময় ফেকৎ করে হেসে দিয়ে আমাকে ধমক দিলেন “এই গাবর, হাসিস না।” গাবর কথার অর্থটা আমার জানা নেই। তবে বাবা যখন আদরের সাথে আমাকে ধমক দিতেন তখন বলতেন “গাবর!”

আশির দশকের দিকে গারোবাজার-সখিপুর-হাটুভাংগা-মীর্জাপুর পাকা রাস্তা হওয়ার পর ইন্দাজানীর হাটের কদর কমে যায় আমাদের পাহাড়িয়াদের কাছে। আমিও লেখাপড়া ও চাকুরীরর জন্য সেই থেকে দূরে আছি। ঐ দিকে আর যাওয়া হয় না। ইন্দাজানীর সামসুল হক পান্না মামা চার বার আমাদের কাকরাজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন। ঐ দিকে নাকি অনেক উন্নতি হয়েছে। ইউনিয়ন অফিস কাকরাজান থেকে ইন্দাজানীর কাছে গড়বাড়ী এনেছেন। ঐ এলাকার অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আমার গ্রামের বড়বাইদপাড়া সেই আগের মতো পিচ্ছিলই রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিগনকে দাওয়াত দিলে পিছলা খাওয়ার ভয়ে আসেন আমাদের পাড়ায় আসেন না। কিন্তু আমাদেরকে পিছলা খেতেই যেতে হয়। কারন, ওখানেই আমি জন্মেছি, ওখানেই আমার নাড়ী মাটি চাপা দিয়ে রেখেছেন, ওখানেই আমার বাবা-মা আপনজন শায়িত। ওখানেই আপনজনরা থাকেন। আমাকেও ওখানেই শায়িত হতে হবে। আজ লিখে রাখলাম আমার স্মৃতিবিজড়িত ইন্দাজানীর কিছু স্মৃতি আমার স্মৃতির পাতায়। আপনাদের ইন্দ্রজানী।
তারিখ: ২৫/১১/২০১৮ ইং
স্থান : ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ জার্নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *