পলাশতলী

পলাশতলী
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

সখিপুর উপজেলায় পলাশতলী নামে মনে হয় কোন গ্রাম নেই। তবে পলাশতলী নামে একটি হাট আছে। হামিদপুরের পশ্চিম পাশে পাহাড় ও ভর অঞ্চলের সংযোগস্থলে পলাশতলীর হাট। হামিদপুরকে এলাকার লোকে আমুদপুর বলতো। একটা প্রবাদ বাক্য ছিল “আ করলেই আমুদপুর বুঝতে হবে।” কালিহাতির সাথে আরেকটা হামিদপুর আছে। ওটা ঘাটাইল উপজেলায় পড়েছে। ওটাকে বলা হয় কালিহাতি-হামিদপুর। আর এটাকে বলা হয় বাঘেরবাড়ী-হামিদপুর। কারন এটা বাঘেরবাড়ী গ্রামের সাথে। পলাশতলীর হাটটা ছিল হাইল হিন্দুরের খালের পাড়ে। হাটের সাথে অনেক পলাশ গাছ ছিল। তাই হয়তো পলাশতলী নাম হয়েছে। হাটে কোন স্থায়ী দোকান ঘর ছিল না। মাঝখানে একটা বিরাট বট গাছ ছিল। দোকানীরা তাবু গেড়ে দোকান বসাতো রবিবার হাটের দিন। ভর এলাকার অপেক্ষাকৃত উচুভুমিকে আটা জমি বা আটা ক্ষেত বলা হয়। পলাশতলীর জায়গাটা এমনি এটা আটা জমি। তাই এটাকে পলাশ আটা বা স্থানীয় ভাষায় পলাই আটা বলা হতো। টাংগাইলের বিভিন্ন জায়গার নাম স্থানীয় ভাষায় রাখা হয়েছে। যেমন, সরিষা আটা, কাঠইললা আটা, পেঁচার আটা ইত্যাদি। দুইক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া উঁচু রাস্তাকে আইল বলা হয়। টাঙা মানে ঘোরার গাড়ী। যে আইল দিয়ে টাঙা যাতায়াত করতো তার নাম টাঙাইল। যে আইল দিয়ে ঘাটে যেতো তার নাম ঘাটাইল। যে আইল দিয়ে বাঁশ নিয়ে যেতো বা দুই পাশে বাঁশঝাড় ছিলো তার নাম বাশাইল। কিছু কিছু জোন জানি নামে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন, ইন্দ্রজানি, আমজানি, মলাজানি, মশাজানি ইত্যাদি। কথায় কথায় লোকে বলতো “গ্রামের নাম আমজানি, চালায় আটকেনা পানি।” অর্থাৎ ইন্দ্রজানির উঁচু জমিতে পানি আটকে থাকে না। সব পানি চাপড়া বিলে চলে যায়। চাপড়া বিলের পানি হাইল হিন্দুরের খাল দিয়ে বংশী নদীতে গিয়ে পড়তো। এই খালকে কেউ কেউ শুদ্ধভাবে সাইল সিন্দুরের খাল বলে। আমি এখনো হাইল হিন্দুরের খালই বলি। শুদ্ধনামটা আমার ভালো লাগে না। এক ক্কারী সাহেব ছাত্রকে ক্কলক্কলার সাথে ক্কাফের উচ্চারণ শিখাচ্ছিলেন, যেমন, ক্কুল, ক্কাল ইত্যাদি। এমন সময় ওয়াফে (বনবিড়াল) কবুতর ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন ছাত্রটি ক্কলক্কলার সাথে উচ্চারণ করে বললো “ক্কারী সাব, ক্কইতর নিলো ক্কোয়াফে।” সাইল সিন্দুর উচ্চারণ করলে আমার কাছে কেমন যেনো অতিশুদ্ধ উচ্চারণ মনে হয়। তাই, বলি হাইল হিন্দুরের খাল। এই খালের পুর্ব পাড়েই পলাশতলীর হাট। এটা বর্ষাকালের হাট ছিল, ইন্দ্রজানী হাটের মতো। পাহাড় থেকে গরুর গাড়ীতে আসতো পাট, লাকড়ি ও তরিতরকারি। ভর থেকে আসতো মনোহারী দোকান, ধান ও তোষাপাট। এই হাটের জিলাপিও স্বাদের ছিল। সরিষা আটা, বহরমপুর ও চকপাড়ায় খুব সরিষার চাষ হতো। সরিষা বিক্রির প্রধান হাট ছিল এই পলাশতলী।
পলাশতলী হাটের পশ্চিম দিক দিয়ে চলে গিয়েছে হাইল হিন্দুরের খাল। খাল পাড় হতে হতো গুদারা দিয়ে। খেয়া নৌকাকে বলা হতো গুদারা। ভর ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই গুদারা। যারা গুদারা পাড়াপাড় করতেন তাদেরকে বলা হতো পাটনি। পাটনিরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশেষ পরিবারের লোক হতেন। তাদের পেশা ছিল শুধু পাটনিগিরি করা। খাল ও ছোর নদীতে অনেক গুদারা ছিল। এখন খাল ও নদীর উপর পাকা ব্রিজ হয়েছে। পাটনিরা এখন কি করছেন আমি জানি না। নিবারণ পাটনির নাম আমার মনে আছে। আমি মানুষের নাম বেশীদিন মনে রাখতে পারিনা। বর্গা গুদারার একজন পাটনি ছিল। তার পা খোড়া ছিল। সে বসে বসে চাড় (গলুইয়ে বাধা বৈঠা) বেয়ে গুদারা পাড় করতো। সবার সাথে সে হাসিমুখে কথা বলতো। সে কোথায় আছে আমি জানি না। শুনেছিলাম সে বড় অংকের একটা লটারির প্রাইজ পেয়েছিল। পাড়াপাড় হতে পয়সা লাগতো। আমাদের পয়সা দিতে হতো না। আমরা বছরে একবার দুই পাহাড়ি ধান দিতাম। এক পাহাড়ি সমান পাচ সের। এক সের সমান প্রায় এক কেজি। অনেক পরিবারই বছরে একবার দুই পাহাড়ি ধান দিয়ে সারাবছর গুদারা পাড় হতো নির্ভেজালে। অগ্রহায়ণ ও পোউষ মাসে পাটনিরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধান কালেকশন করতেন। গাড়িয়ালড়া গাড়ী থেকে বস্তা নামিয়ে বস্তা গুদারা দিয়ে পাড় করতেন। খালি গাড়ী টেনে বলদরা সাতরিয়ে পাড় হয়ে যেত। গাড়িয়াল গাড়ীতেই দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন পাজুন হাতে। পাজুন হলো গরু পিটানোর লাঠি। অনান্য গরুও সাতরিয়ে পাড় হয়ে যেতো। ওপাড়ে গিয়ে গরু গা ঝাড়া দিয়ে গায়ের পানি ফেলে দিতো। কেউ কেউ সাতার দেয়া গরুর লেজ ধরে পাড় হয়ে যেতো। গুরুর লেজ ধরার গল্প মনে পড়ে গেলো।

এক গ্রামে এক প্রভাবশালী মাতাব্বর ছিল। তার ভয়ে সবাই কাঁপতো। সবাই তার কথায় উঠাবসা করতো। কিন্তু তার স্ত্রী তার কোন কথা শুনতো না। বরং সে যা বলতো বউ তার উল্টা কাজ করতো। একদিন তীব্র ঝগড়া হলো। বউ একাকী রাগ করে খালের ওপার বাপের বাড়ী চলে গেলো। খালে গুদারা ছিল না। বউ সাতার জানতো না। মাতাব্বরের ভয় হলো তার বউ পানিতে ডুবে মারা যেতে পারে। তাই সে দৌড়িয়ে খালের দিকে গেলো। খালের পাড়ে গিয়ে দেখলো তার বউ একটি গরুর লেজ ধরে খাল পাড় হচ্ছে। খালে অনেক স্রোত ছিল। গরু খুব কষ্টে সাতরাচ্ছিল। মাতাব্বর বললো “শক্ত করে লেজ ধরো।” স্ত্রী সারাজীবন স্বামীর কথার উলটা কাজ করতো। তাই শক্ত করে না ধরে হাল্কা করে ধরলো। স্রোত তাকে লেজ থেকে ছুটিয়ে নিয়ে গেলো। মাতাব্বর সাতার জানতো না। সে মাঠ থেকে লোক ডেকে আনলো বউকে উদ্ধারের জন্য। সবাই পানিতে নেমে পড়লো বউ উদ্ধারের জন্য। বউ পানিতে ডুবে গিয়েছিল। তারা খুজতে খুজতে ভাটির দিকে যাচ্ছিল। মাতাব্বর বললো “তোমরা উজানের দিকে খুজ। সে ডুবে উজানের দিকে গেছে। কারন সারাজীবন সে উলটা দিকে গেছে। আজও তাই করেছে। ” মাতাব্বরের কথায় তারা উজানের দিকে খুজলো। বউকে আর পাওয়া গেলো না।

আমিও এভাবে গরুর লেজ ধরে খাল পাড় হয়েছি। ছোট ছোট কিশোররা এদিক সেদিক তাকিয়ে কাউকে না দেখা গেলে কাপড় চোপড় খুলে বাম হাতে উচু করে ধরে ডান হাতে সাঁতার কেটে খাল পাড় হয়ে যেতো। আমি এভাবে পাড় হয়েছি কি না আমার মনে নেই। সব কথা আমার মনে থাকে না। সব কথা লিখাও যায় না।

পলাশতলীর খালের পাড়ে দুই একটি হিজল গাছ ছিল। হিজল তমালের ছায়ায় বসে রাখাল বাঁশী বাজাতো। সেই বাঁশীর সুর হরি প্রসাদের বাঁশীর সুরের মতো উন্নত ছিল না। কিন্তু তার চেয়েও মধুর ছিল আমার কাছে। আমি যখন একাকী থাকি ডিজিটাল মিডিয়াতে প্রায়ই মালকৌস ও ভৈরবী সুর শুনি। মালকৌস রাগে খেয়াল শুনতে শুনতে অতীতে চলে যাই। কল্পনার চোখে দেখতে পাই পলাশতলীর মাঠ, হাইল হিন্দুরের খাল, গরুর বাথান, হিজল তমালের নিচে একাকি এক রাখাল বাঁশী বাজাচ্ছে। সেই সুরের নাম রাখালিয়া। সেটা মালকৌস রাগের চেয়েও মধুর। আমি যেনো আমার কানে এখনো সেই সুর শুনতে পাই। ডিজিটাল মিডিয়াতে সেই সুর খুঁজে পাই না।

এই খালে প্রচুর ঝিনুক পাওয়া যেতো। সেই সব ঝিনুক শুকিয়ে পুড়ে তার ছাই পানিতে গুলে স্থানীয়রা পান খাওয়ার চুন তৈরি করতো। ধবধবে সাদা চুন। পাথর চুন থেকেও এই চুনের চাহিদা বেশী ছিল। কারন, ঝিনুকের চুনে মুখ পুড়তো না। পাথরচুনে মুখ পুড়তে পারে। এই খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। কার্তিক মাসে চাপড়া বিলের পানি নেমে যেতো এই খাল দিয়ে বংশী নদীতে। পানির সাথে চলে যেতো নানারকম স্বাদের মাছ। চিতল, বোয়াল, শোল, আইড়, পাবদা, নোনদা, পুটি ইত্যাদি। শীতকালে পানি কমে গেলে চিরকা ও বাইম মাছ ধরা হতো। আমি জিন্নাহ ভাইর সাথে দুই একবার মাছ ধরতে গিয়েছি। মাছ ধরা সহজ ছিল। কিন্তু আনা কষ্টকর ছিল। কারন, খালুই ভরে ভারী হয়ে যেতো।
ক্লাস নাইন থেকেই আমি পড়াশুনা করার জন্য এলাকা ছেড়েছি। তারপর থেকে পলাশতলীর পথে কম যাওয়া হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। পাকা রাস্তার জালে পাহাড় অঞ্চল ভরে গেছে। সখিপুর উপজেলা অন্যান্য উপজেলাকে ছাড়িয়ে গেছে নাগরিক সুযোগ সুবিধায়। ভৌরারাও এখন পাহাড়ের দিকে আসে কেনাকাটা ও চিকিৎসা সেবার জন্য। চিকিৎসা শিক্ষা ও চাকরী জীবনের বেশী সময়ই আমাকে ময়মনসিংহে কাটাতে হয়েছে। তাছাড়া বেশ কিছুকাল পরিবার ঢাকায় রেখেছিলাম। আমি আট বছর দিনাজপুরে ছিলাম। ২০০১ সনে আমি প্রাইভেট কার কিনি। ময়মনসিংহ থেকে ভালুকা হয়ে সখিপুরের ঢনডনিয়া বাড়ীতে আমার এখনকার যাতায়াত। ইতিমধ্যে বড় চওনা থেকে পলাশতলী হয়ে কালিহাতি পর্যন্ত পাকা রাস্তা হয়েছে। পলাশতলীর খালের উপর ব্রিজ হয়েছে। পারখীতে বংশী নদীর উপর ব্রিজ হয়েছে। বংশী নদীকে আমরা গাং বলতাম। বর্গা ও পারখীর গুদারা দিয়ে আমরা গাং পাড় হয়ে আমজানি, পারখী, রৌহা ও ভিয়াইল যেতাম। পাকা রাস্তা হবার পর কালিহাতি হয়ে ভিয়াইল, রৌহা, পারখী ও আমজানির আত্বীয়স্বজনের বাড়ী যাওয়া হয়। বাড়ী যাই ভালুকা হয়ে। পলাশতলী আর যাওয়া হয় না এখন। একদিন ইচ্ছা করলাম পলাশতলীর পথে কালিহাতি যেতে। ভাগ্নে নূরুল আমীন মাস্টার বললো “মামা, চলুন, আমার মটর সাইকেলে।” আমি ভাগ্নের মটর সাইকেলের পিছনে বসলাম। ভাগ্নে গুরুম করে একটানে নিয়ে গিয়ে থামলো এক বাজারে। এটা কোথায় জিজ্ঞেস করলাম।
-এটা পারখীর চৌরাস্তা।
– এতো তাড়াতাড়ি পারখী এসে গেলাম! আমি পলাশতলী গুদারায় থামতে চেয়েছিলাম। হাইল হিন্দুরের খাল দেখতে চেয়েছিলাম। তুমি জিজ্ঞেস না করে পারখী চৌরাস্তায় নিয়ে এলে! পারখীর গুদারা কই?
– গুদারা? গুদারা পাবেন কই? ঐ যে দক্ষিণ দিকে একটা প্রাইমারী স্কুল আছে। ওখানে গুদারা ছিল। আপনি হাইল হিন্দুরের খাল দেখে কি করবেন? গুদারা দিয়ে কি করবেন?
– তার মানে পাটনিরা নেই! আমি আর পাটনিদেরকে দেখতে পাবো না!
ভাবলাম এসবের গুরুত্ব নুরুল আমীন বুঝবে না। আর কিছু না বলাই ভালো। পারখীর প্রাইমারী স্কুল মাঠ বরাবর গুদারা ছিল। গুদারার টানেই (পাড়েই) মওলানা জহির উদ্দিন তাঐর বাড়ী। মওলানা সাহেবের মেঝো ছেলে আব্দুল্লাহ আমার ছোট ভগ্নিপতি। তারপরের বাড়ী কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর ভাইর বাড়ী। জাহাঙ্গীর ভাই আমার থেকে তিন চার বছরের বড়। আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি আমার লিখা নিয়মিত পড়েন। আরও লিখতে উৎসাহ দেন। ইন্দাজানী হাট গল্প পড়ে আমাকে পারখী পথের কাহিনী লিখতে বলেছেন। কি লিখব ভাবছি।

এই রাস্তায় এখন সবাই সি এন জি রিক্সায় যাতায়াত করে। একটানে নিয়ে যায় বড় চওনা থেকে পারখী। আরেক টানে কালিহাতি। আগের দিনে পায়ে হেটে গুদারা পাড় হয়ে কষ্ট করে মানুষ আত্বীয় বাড়ী যাতায়াত করতো। ইষ্টিরা (মেহমান) ক্লান্ত হয়ে রাত্রিযাপন করার জন্য থেকে যেতো। তেলের পিঠা, গুড়ের পায়েস, মোরগ ভাত খেয়ে তৃপ্ত হতো। এখন যাতায়াত সহজ হওয়াতে কোন গেস্ট বেশীক্ষণ অবস্থান করে না। বিস্কুট, চানাচুর, চা খেয়েই চলে যায় বেশ কাজ আছে বলে। আগের মতো আত্বীয়তার বন্ধন মজবুত নেই।

পাহাড়ি এলাকায় মানুষের আর্থসামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সবার সন্তান লেখাপড়া করছে। মেয়েরা বিশেষ করে পড়াশুনায় এগিয়ে আছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা বিনোদন করে। পিকনিক করে। নৌবিহারে যায় দল বেধে। শ্রাবন ভাদ্র মাসে পলাশতলীর খাল ডুবে গিয়ে মাঠের পানির সাথে একাকার হয়ে যায়। বিস্তীর্ন এলাকায় থৈ থৈ পানি আর পানি থাকে। কিশোর কিশোরীরা পলাশতলীতে চলে যায় পাকা রাস্তা দিয়ে হাইল হিন্দুর খালের ব্রিজের উপর। নৌবিহার করে। টাইটানিক সিনেমার নায়ক-নায়ীকার মতো করে নৌকার গুলুইয়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেইসবুকে পোষ্ট দেয়। এলাকার সেইসব কিশোররাও আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড। ইচ্ছে করেই ওদেরকে ফ্রেন্ড লিস্টে রেখেছি দেশাত্মবোধ নিয়ে আমার গল্প পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। তাদের জন্য আমার এই স্মৃতির পাতায় লিখে রাখলাম “তোমরা যেখানে নৌবিহার করছো, সেইখানে একসময় তোমার দাদারা মাছ ধরেছেন, ঝিনুক সংগ্রহ করেছেন, খেসারী কলাইর ছেই তুলেছেন, বাথানে বাথানে গরু চড়িয়েছেন, রাখাল বাঁশী বাজিয়েছে হিজল তমালের ছায়ায়। কত কত গরুর গাড়ী পাড় হয়েছে এই খাল দিয়ে। এখানে এক নিবারণ পাটনি ছিল। হয়তবা তার সন্তানরা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে অস্ট্রেলিয়া কিংবা কানাডায় প্রবাস জীবনযাপন করছে। সেসব তোমরা বুঝবে না। শুধু মনে রেখো আমাদের এই পলাশতলীর কথা।”
তারিখ : ১/১২/২০১৮ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *