অখাদ্য জিনিস খাওয়ার বদ অভ্যাস

অখাদ্য জিনিস খাওয়ার বদ অভ্যাস
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কিছু কিছু মেয়ে আছে তারা ঘন ঘন ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আচড়ায়। চুল ছিড়ে ছিড়ে চিরুনির সাথে পেঁচিয়ে যায়। বাম হাতে চিরুনি ধরে ডান হাতে চিরুনি থেকে চুল ছাড়িয়ে এনে তিন আঙুল দিয়ে ডলে বল বানিয়ে টপ করে মুখে দিয়ে আস্ত গিলে ফেলে। আমরা যা কিছু খাই প্রথমে চিবিয়ে ছোট ছোট টুকরা করে লালার সাথে মিশিয়ে দলা পাকিয়ে গিলে ফেলি। ইওসোফেগাস বা অন্ননালী দিয়ে এটা চলে যায় স্টোমাক বা পাকস্থালীতে। পাকস্থালীর রসে থাকে হাইড্রোক্লরিক এসিড ও নানা রকম হজমের এঞ্জাইম। কিছুটা হজম হয়ে ডিওডেনাম হয়ে স্মল ইন্টেস্টাইন বা ক্ষুদ্রান্তে চলে যায়। সেখান থেকে পুরাপুরি হজম হয়ে দরকারি খাবার শোষিত হয়ে লিভার বা কলিজায় যায় মেটাবলিজম বা আত্তিকরন হতে। আত্তিকৃত নিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টি রক্তের সাথে চলে যায় বিভিন্ন অংগ প্রত্যংগে কাজ করার জন্য। ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে অহজমকৃত খাদ্য চলে যায় বৃহদান্ত্রে। সেখানে গিয়ে অধিকাংশ পানি শোষিত হয়ে দলা পাকানো স্টুল বা মল বা পায়খানা তৈরি হয়। এই পায়খানাও কোন কোন প্রাণীর জন্য খাদ্য। যেমন, রাস্তার কুকুর খদ্য না পেয়ে রাস্তার পাশের পায়খানা চেটে খায়। পাকস্থলীর এসিডে হাড়ও গলে যায়। প্রায় সব খাবার হজম করা গেলেও সাভাবিক খাবারের সেলুলুজ বা আশহজম হয় না। এগুলি খাবারের সাথে থাকা ভালো। থাকলে বেশী পরিমানে পায়খানা তৈরি হয়ে ভালো ভাবে পায়খানা হয়ে যাবে। কোষ্ঠ কাঠিন্য বা কষা থাকবে না। এইগুলি থাকে শাক সব্জিতে বেশী। ইসবগুলের ভুষিতে এইগুলি বেশী থাকে। তাই ইসবগুলের ভুষি খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য ভালো হয়।

চুলে ও নখে থাকে কেরাটিন নামে এক প্রকার শক্ত প্রোটিন। এটা সাভাবিক বা পাকস্থলীর তাপমাত্রার এসিডেও গলে না। এটাকে গালাতে হলে ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপে এসিড বা এলকালি দিয়ে গালাতে হয়। এইজন্য চামড়া ও নখের ফাংগাস পরীক্ষা করার জন্য চামড়া ও নখের নুমুনাকে এসিড বা এলকালির দ্রবনে টেস্টটিউবে হিট দিয়ে বয়েল করতে হয় কেরাটিন গালিয়ে ফাংগাস বের করার জন্য।

আস্ত চুল পাকস্থালীতে গিয়ে আস্তই থেকে যায়। বল পাকানো চুল ঘুরতে ঘুরতে আরও সুন্দর বল হয়। চুলের পেচে পেচে গুড়া গুড়া পাথরের টুকরা বা বিবিধ শক্ত দানা মিশে কনক্রিট বা পাথর তৈরি হয়। এটাকে তখন বলা হয় লুমিনাল কনক্রিট বা বিজোয়ার (bizoar)। সব খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে গেলেও বিজোয়ার পাকস্থলীতেই থেকে যায়। সময়ের সাথে সাথে বিজোয়ারের সাইজও বাড়তে থাকে। খাদ্যকে জায়গা করে দেয়ার জন্য পাকস্থলীর সাইজও বাড়তে থাকে। এক সময় বিজোয়ারের সাইজ ফুট বলের মতো হয়ে যেতে পারে। তখন পেটে অস্বস্তি লাগতে পারে। উপরের পেটে চাপ দিলে পাথরের মত অনুভব হতে পারে। সার্জারি বিভাদের ডাক্তারগন অপারেশন করে বিজোয়ার বের করে আনেন। সাধারণত ছেলেরা খাটো চুল রাখে। চিরুনির সাথে চুল আটকে যাওয়াটা কমন না। তাই বিজোয়ারের রুগী বা চুল খাওয়া রুগীরা সাধারণত মহিলা হয়ে থাকেন। কিছু পাগল রুগী আছে তারা রাস্তায় যা পায় তাই খায় ছাগলের মতো। এদেরও বিজোয়ার হতে পারে। তবে বিজোয়ার সাধারণত ছাগল ও গরুদের মধ্যে বেশী দেখা যায়।

চুল ও নখ এমন জিনিষ যা মরার পর সবকিছু মাটির সাথে মিসে গেলেও এটা নষ্ট হয় না। মৃত্যুর আট/নয় বছর পর হাড় ছাড়া সব কিছুই শেষ হয়ে যায়। পড়ে থাকে শুধু কংকাল ও চুল নখ। শত বছর পর হাড়ও গুড়া গুড়া হয়ে যায়। শেষে চুল ও নখ হাজার বছর পরও পাওয়া যায়। আগের দিনে বিখ্যাত লোকেদের চুল ছিড়ে রেখে দিতো তার ভক্তেরা। একজন কবিকে শ্বসান ঘাটে দেখতে গিয়েছিল অনেক ভক্ত শেষ কৃত্যে অংশ গ্রহণ করার জন্য। কবির মাথা ভর্তি চুল দাড়ি গোফ ছিল। অগ্নি প্রজ্জ্বনের আগ মুহুর্তে একজন ভক্ত খামচা দিয়ে কিছু দাড়ি ছিড়ে পকেটে রেখে দেন। মুহুর্তের মধ্যে অন্য ভক্তরাও চুল দাড়ি গোফ ছিড়ে নিয়ে তাদের কাছে রেখে দেয় মনিষির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বর্ননা করেন চির চেনা চির সশ্রুমন্ডিত কবি বিদায়ের সময় চুল দাড়ি গোফ বিহীন চলে গেলেন।

আমার এই গল্প পড়ে কোন কোন মেয়েরা হয়তো মনে কিছু নিতে পারেন। তাদের জন্য আরেকটা তথ্য আছে। কিছু কিছু ছেলে আছে, তারা টিকটিকির লেজ খায়। টিকটিকি সাধারণত ঘরের দেয়ালে লাইটের আশে পাশে বসে থেকে রাতে পোকামাকড় শিকার করে খায়। কোন কোন ছাত্র আছে তারা পড়ার টেবিলে পড়া বাদ দিয়ে টিকটিকির দিকে চেয়ে থাকে। টিকটিকির কাছে গিয়ে চট করে লেজের আগায় ধরে ফেলে। লেজের আগা আগা খসে পড়ে লাফাতে থাকে পোকার মতো। নড়াচড়া অবস্থায়ই ছাত্রটি মুখে নিয়ে টপ করে আস্ত গিলে ফেলে লেজটি। এটা টিককির একটা নিরাপত্তার মেকানিজম। শিকারি বিড়াল টিকটকি ধরতে গেলে লেজ ফেলা টিকটিকি চলে যায়। লেজ ফ্লোরে পড়ে লাফাতে থাকে। বিড়াল লেজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। যেসব ছেলেরা লেজ খায় তাদেরকে “টিকটিকির লেজ খাচ্ছো কেন” জিজ্ঞেস করলে বলবে “শরীরটা কেমন যেন মরে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে তাজা টিকটিকির লেজ পেটে গিয়ে লাফালাফি পারলে নিজেকে একটু চাংগা মনে হয়। ” নেশাখোররা শরীর চাংগা করার জন্য নেশা করে থাকে। কাজেই টিকটিকির লেজ খাওয়াটাও এক প্রকার নেশা। তখন বলা হয় টিকটিকির লেজে আসক্ত। তবে টিকটিকির লেজ হজম হয়ে যায়। এটা থেকে বিজোয়ার হয় না। এটা অখাদ্য জিনিষ । খাদ্যের বদ অভ্যাস গুলি পরিহার করে চলাই নিরাপদ।


তারিখ : ২২/১২/২০১৮ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ -ময়মনসিংহ জার্নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *