বাংলাদেশের এলোপ্যাথি চিকিৎসক ও চিকিৎসার ধরন

বাংলাদেশের এলোপ্যাথি চিকিৎসক ও চিকিৎসার ধরন
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাংলাদেশে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির ডাক্তার বা চিকিৎসক হবার নূনতম ডিগ্রী হলো এমবিবিএস অথবা বিডিএস পাস করা। এমবিবিএস ডিগ্রীর পূর্ণনাম হলো ব্যাচেলর অব মেডিসিন এণ্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি। অর্থাৎ তিনি মেডিসিন ও সার্জারি বিষয়ে মোটামুটি ভালো জ্ঞান রাখেন এবং অপারেশন করতে পারেন। বিডিএস এর পূর্ণনাম হলো ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি। চিকিৎসক হিসাবে প্রেক্টিস করতে হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বছর সকল বিষয়ের উপর ট্রেনিং করতে হয় যাকে বলা হয় ইন্টার্নী। তারপর চিকিৎসকগণ বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল (বিএমডিসি)-এর রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে বাংলাদেশের যে কোন স্থানে প্রেক্টিস করতে পারেন। অন্যদেশ থেকে পাশ করেও বিএমডিসি-এর অধীন একটি পরীক্ষা দিয়ে বিএমডিসি-এর রেজিষ্ট্রেশন নেয়া যায়। সরকারী ও বেসরকরী হাসপাতালে বা প্রতিষ্ঠানে বা নিজস্ব চেম্বারে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক চাকরি বা প্রেক্টিস করতে পারেন। প্রেক্টিস করার জন্য তিনি তার নির্ধারিত ফি বা ভিজিট নিতে পারেন। তবে তার ফি বা ভিজিট কত হবে তা তিনি চেম্বারের সামনে ও ভিতরে প্রদর্শন করিয়ে থাকেন। কোন ডাক্তার প্রাইভেট প্রেক্টিস নাও করতে পারেন। এমবিবিএস পাশ করার পর কোন বিষয়ের উপর পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা অথবা ডিগ্রী অর্জন করলে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলা হয়। চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণকে মোটামুটি ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা প্রিক্লিনিক্যাল, প্যারাক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল। প্রিক্লিনিক্যাল বিশেষজ্ঞগন সাধারণত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসাবে প্রাইভেট প্রেক্টিস করেন না। এই বিষয়গুলির মধ্যে পড়ে এনাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি। প্যারাক্লিনিক্যাল বিষয়ের বিশেষজ্ঞগন অনেকেই প্রাইভেট প্রেক্টিস করেন। এইগুলির মধ্যে পড়ে প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি, ফরেনসিক মেডিসিন ও কমিউনিটি মেডিসিন। ক্লিনিক্যাল বিষয়ের চিকিৎসকগণ বেশী বেশী প্রাইভেট প্রেক্টিস করে থাকেন। ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলি আবার ৩ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিকোলজি এন্ড অবস্ট্রেটিক্স।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞগণ সাধারণত ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন। সার্জারি বিশেষজ্ঞগণ সাধারণত অপারেশনের কেইজগুলি দেখেন। গাইনি ও অবস্ট্রেটিক্স-এর বিশেষজ্ঞগণ মহিলাদের জরায়ু সংক্রান্ত রোগ মেডিসিন ও সার্জারি করে চিকিৎসা করেন এবং গর্ভবতী ও প্রসুতির সমস্যাগুলি দেখেন। মেয়েদের স্তনরোগ দেখেন সার্জারি বিশেষজ্ঞ।

মেডিসিন – ইন্টারনাল মেডিসিন (সাধারণ মেডিসিন) , কার্ডিওলজি (হৃদরোগ), পেডিয়াট্রিক্স (শিশু রোগ মেডিসিন), নিউরোমেডিসিন/নিউরোলজি (স্নায়ু রোগ), সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ), রেস্পাইরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি), হেপাটোলজি (লিভার বা যকৃৎ), গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (পরিপাকতন্ত্র), নেফ্রোলজি (কিডনি রোগ), এন্ডোক্রাইনোলজি (হরমোন ও ডায়াবেটিস), রিউমাটোলজি, হেমাটোলজি (রক্ত রোগ) এবং স্কিন এন্ড ভিডি (চর্ম ও যৌন রোগ)।

সার্জারি – জেনারেল সার্জারি (সাধারণ সার্জারি), নিউরোসার্জারি (ব্রেইন ও মেরুদণ্ড), ই এন টি (নাক, কান গলা), কার্ডিওভাস্কুলার এন্ড থোরাসিক (হার্ট ও বক্ষ), প্লাস্টিক সার্জারি (ঠোট কাটা, তালুকাটা, পোড়া ইত্যাদি), অর্থোপেডিক্স (হাড় ভাংগা), পেডিয়াট্রিক্স সার্জারি (শিশু সার্জারি), অফথালমোলজি (চক্ষু), এনাসথেসিওলজি (অজ্ঞান), রেডিওলোজী এন্ড ইমেজিং (এক্সরে, আল্টাসনোগ্রাফী, এম আর আই, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি), অনকোলজি (ক্যান্সার) ও ইউরোলজি (কিডনি, ব্লাডার, প্রোস্টেট ইত্যাদি)।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট হিসাবে প্রেক্টিস করেন প্যাথলজিস্ট, মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট ও মেডিকেল বায়োকেমিস্টগণ। বিশেষজ্ঞ হিসাবে রেডিওলজিস্টগণ এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফী, সিটি স্ক্যান, এম আর আই ইত্যাদি।

পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা – ডিসিএইচ, ডিসিপি, ডিজিও, ডিও, ডিএলও, ডি অর্থ, ডিএ ইত্যাদি।

পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রী – এম ফিল, এম ডি, এম এস, পি এইচ ডি ইত্যাদি।

পোস্টগ্রাজুয়েট ফেলোশীপ – এফসিপিএস, এফআরসিএস, এফআরসিপি, এফআরসি প্যাথ, ইত্যাদি।

পোস্টগ্রাজুয়েট মেম্বারশীপ – এমসিপিএস, এমআরসিপি ইত্যাদি।

জেনারেল প্রেক্টিশনার:
কোন ডাক্তার চাকরি না করে চিকিৎসা পেশায় জড়িত থাকলে তাকে বলা হয় জেনারেল প্রেক্টিশনার বা জিপি। জিপিগণ নিজস্ব চেম্বারে বসে সকাল বিকাল রুগী দেখেন। অপারেশন করেন। ইচ্ছা করলে মহল্লায় রুগীর বাড়ি গিয়েও রুগী দেখতে পারেন। তবে তিনি কারো বাড়ী যেতে বাধ্য নন।

বেসরকারি চাকুরিরত চিকিৎসক :
বেসিক ডিগ্রীধারী যে কোন রেজিস্টার্ড ডাক্তার কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার অথবা প্রভাষক হিসাবে চাকুরিতে প্রবেশ করতে পারেন। পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রী থাকলে তিনি রেগুলার প্রোমোশন নিয়ে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রমোশন পাওয়া সহজতর। এইসব ডাক্তারগণ চাকুরির পাশাপাশি প্রাইভেট প্রেক্টিস করতে পারেন।

সরকারি চাকুরিরত চিকিৎসক :
চিকিৎসকগণ সাধারণত বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন পদে চাকুরিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু কর্মস্থলে সহকারী সার্জন নামে তারা পরিচিত নহেন। তারা মেডিকেল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার, প্রভাষক ইত্যাদি পদবীতে চাকুরী করেন।

কিছু কিছু চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালনার বা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেন না। কিছু কিছু চিকিৎসক আছেন তারা শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কিছু কিছু আছেন তারা শুধু কলেজে শিক্ষকতা করে থাকেন। কেউ কেউ আছেন শিক্ষকতা ও চিকিৎসা দুইটিতেই জড়িত।

যে ডাক্তার সরকারি চাকুরি করেন তিনি ইচ্ছা করলে তার ডিউটি টাইমের বাইরের সময়ে প্রাইভেট প্রেক্টিস করতে পারেন চেম্বার নিয়ে। নিজস্ব চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে বসে তিনি রুগী দেখতে পারেন। প্রাইভেট হাসপাতালে তিনি অফিস টাইমের বাইরে অপারেশন করতে পারেন। প্যাথলজিক্যাল, রেডিওলোজীক্যাল ও বিভিন্ন রকম রিপোর্ট করতে পারেন।

প্রাইভেট প্রেক্টিস ডাক্তারের ব্যাক্তিগত সময়ের ব্যাক্তিগত পেশা বা কাজ। তাই, তিনি এটা করতেও পারেন, নাও পারেন। বিনে পয়সায়ও করতে পারেন, পয়সা নিয়েও করতে পারেন। তবে তিনি কত নিয়ে চিকিৎসা করবেন তা রুগীকে জানিয়ে দিতে হবে। যেসব রুগীর সামর্থ কম তারা সাধারণত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নেন কম মুল্যে অথবা বিনামুল্যে।

বর্তমান প্রেক্ষিতে সরকারের একার পক্ষে সকল নাগরিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব না। তাই, বেশ কিছু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দিতে। এদের মধ্যে অনেকগুলিই আন্তার্জাতিক মান সম্পন্ন।

সকল চিকিৎসকের চিকিৎসা দেয়ার দক্ষতা সমান নয়। তাই, একই ডিগ্রিধারী ডাক্তার হয়ে কেউ বেশী রুগী পান আবার কেউ কম রুগী পান। এই জন্য কেউ কেউ বেশী ফি নেন আবার কেউ কেউ কম ফি নেন। কেউ কেউ মানবিক কারনে কম ফি নেন বা নেন না। কেউ কেউ মনে করেন প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তারদের ফি সরকার কর্তৃক বেঁধে দেয়া উচিৎ। কেউ কেউ মনে করেন ফি বেঁধে দিলে আমরা ভালো ভালো ডাক্তার হারাবো। বেশী বেশী আয়ের আশায় তারা বিদেশ পাড়ি দেবে। ইতিমধ্যেই আমাদের অনেক মেধাবী ডাক্তার দেশ ছেড়ে গিয়ে উন্নত দেশগুলিতে বেশ সুনাম করেছে। আমাদের দেশের পয়সাওয়ালা রুগীরাও দেশের মুদ্রা দিদেশে ঢেলে দিয়ে আসবে।

কেউ কেউ মনে করেন সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্রেক্টিস বন্ধ করতে হবে। জনগণ সরকারি হাসপাতালে বেশী বেশী সেবা পাবে। আবার এর উল্টো দিকও আছে। সরকারি ডাক্তারগণ তো অফিস সময়ে প্রাইভেট প্রেক্টিস করেন না। প্রাইভেট প্রেক্টিস বন্ধ করে দিলে সরকারি চিকিৎসকগণ চাকরি ছেড়ে শুধু প্রাইভেট প্রাক্টিস করবেন। তাতে সরকারি হাসপাতাল ও কলেজগুলিতে চিকিৎসক ও শিক্ষকের সংকট হবে। ধরে রাখার জন্য বেতন বাড়িয়ে দিলে অন্য ক্যাডারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিবে। কাজেই, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারলে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারন নাই।

চিকিৎসকদের পদবী ও কাজের ধরন:
মেডিকেল অফিসার
যেকোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার আউটডোর বা ইনডোরে রুগী চিকিৎসা দেন। এটি চাকরিতে প্রবেশের প্রথম ধাপ। যারা বহিঃবিভাগের রুগী দেখেন তাদের বলা হয় আউটডোর মেডিকেল অফিসার। যারা অন্ত:বিভাগে ভর্তি করা রুগী চিকিৎসা দেন তাদের বলা হয় ইনডোর মেডিকেল অফিসার বা আইএমও। কিছু কিছু ডাক্তার তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিনা বেতনে ভালো সরকারি হাসপাতালে অধ্যাপকের অধীন কাজ করেন। তাদের বলা হয় অনারারি মেডিকেল অফিসার। নির্দিষ্ট সময় পর অধ্যাপক একটি ট্রেইনিং সার্টিফিকেট দেন। তখন এই সব ডাক্তারগণ প্রেস্ক্রিপশন প্যাডে এমবিবিএস ডিগ্রির পর ‘পিজিটি’ লিখে থাকেন কেউ কেউ। পিজিটি-এর পূর্ণনাম হলো ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনিং’। ইউনিয়ন সাবসেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, জেলাসদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কলেজ এবং বিশেষ বিশেষ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে মেডিকেল অফিসার কাজ করেন।

উপজেলা হেলথ এন্ড ফ্যামিলি প্লানিং অফিসার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, কিউরেটর ইত্যাদি মেডিকেল অফিসারের আপগ্রেড পোস্ট। হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্ট্রার ও রেজিস্ট্রারও সিনিয়র মেডিকেল অফিসারদের মধ্য থেকে নিয়ে নেয়া হয়। তবে এদের মূল পদ সহকারী সার্জন।

সিভিল সার্জন:
জেলার সব মেডিকেল অফিসারদের কন্ট্রোলিং অফিসার হলেন সিভিল সার্জন। মেডিকেল অফিসার থেকে প্রমোশন পেয়ে সিভিল সার্জন হন। তিনি সিভিল সার্জন অফিসে বসেন। মূলত প্রশাসনিক কাজ করেন। তাকে সহযোগীতা করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ও মেডিকেল অফিসার। এই পদ পাওয়ার জন্য পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই।

পরিচালক :
ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা করেন পদোন্নতি প্রাপ্ত পরিচালক। তাকে পোস্টগ্রাজুয়েট করার প্রয়োজন নাই। এটাও প্রশাসনিক পদ। ডেপুটি পরিচালক ও সহকারী পরিচালক তাকে সহযোগীতা করেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসকও হতে পারেন নাও হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আর্মি পারসন থেকে ডেপুটেশনে পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

প্রভাষক :
প্রভাষকগণ মেডিকেল কলেজের প্রথম ধাপের শিক্ষক। পোস্টগ্রাজুয়েট হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রভাষকগণ শুধু ছাত্র পড়ান। রুগী চিকিৎসা করেন না। এদের মূল পোস্ট সহকারী সার্জন। তবে এরা অফ টাইমে প্রাইভেট প্রেক্টিস করতে পারেন।

কনসালটেন্ট :
জুনিয়র পোস্টগ্রাজুয়েট করা সহকারী সার্জন পদোন্নতি পেয়ে জুনিয়র তারপর সিনিয়র কনসালটেন্ট হন। কনসাল্টেন্টগন শুধু রুগীর চিকিৎসা করেন। তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা। সরকারের বিশেষ অর্ডারে তারা বর্তমানে মেডিকেল কলেজের ক্লাস নিচ্ছেন, পাশাপাশি রুগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। সিনিয়র কনসালটেন্ট থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহযোগী অধ্যাপক হতে পারেন। উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, জেলাসদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে কনসালটেন্টগণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। তারা হাসপাতালের পরিচালকের অধীন কাজ করেন।

ক্লিনিকাল প্যাথলজিস্ট:
পোস্ট গ্রাজুয়েট করা প্যাথলজিস্ট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্যাথলজিতে বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট হিসাবে কাজ করেন।

কিউরেটর :
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে মিউজিয়ামের দায়িত্ব সিনিয়র মেডিকেল অফিসারদের আপগ্রেড দিয়ে কিউরেটর হিসাবে নিয়োগ দেন।

সহকারী অধ্যাপক :
প্রথম পদোন্নতিপ্রাপ্ত পোস্টগ্রাজুয়েট করা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। ছাত্রদের ক্লাস নেন ও হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করন।

সহযোগী অধ্যাপক :
পোস্টগ্রাজুয়েট করা, নূনতম ৩ টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশনা ও ৩ বছরের সহকারী অধ্যাপক অথবা কনসালটেন্ট হিসাবে চাকুরির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পদোন্নতিপ্রাপ্ত মেডিকেল কলেজ বা পোস্টগ্রাজুয়েট ইন্সটিটিউট-এর শিক্ষক। তিনি হাসপাতালেও চিকিৎসা দেন।

অধ্যাপক :
নূনতম ৫ টি প্রকাশনা ও ৫ বছরের সহযোগী অধ্যাপকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেডিকেল কলেজের অথবা ইনস্টিটিউয়ের শিক্ষক। তিনি হাসপাতালেও চিকিৎসা দেন।

অধ্যক্ষ :
অধ্যাপকদের থেকে পদোন্নতি দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি কলেজের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রধান। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা দিতেও পারেন। তাকে সহযোগীতা করেন একজন উপাধ্যক্ষ।

ডাইরেক্টর জেনারেল :
ডাইরেক্টর জেনারেল বা ডিজি হেলথ সারাদেশের চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রধান। তাকে সহযোগীতা করেন প্রতি ডিভিশনের ডিভিশনাল ডাইরেক্টর এবং ডিজি অফিসের বিভিন্ন ব্রাঞ্চের ডাইরেক্টর, ডেপুটি ডাইরেক্টর ও এসিস্টেন্ট ডাইরেক্টরগণ। তিনি শুধু প্রশাসনিক দিক দেখেন। হাসপাতালে চিকিৎসা দেন না। মন্ত্রণালয় থেকে গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন ডিজি হেলথ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় :
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি পলিসি বাস্তবায়ন করান তাদের অধীন সেক্রেটারি বা সচিবের মাধ্যমে। স্বাস্থ্য সচিব ডাক্তার বা নন-ডাক্তার হতে পারেন। সচিব স্বাস্থ্য সেক্টরের সর্বোচ্চ অফিসার। তাকে সহযোগীতা করেন এডিশনাল সেক্রেটারি, জয়েন্টসেক্রেটারি, সিনিয়র এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ও অন্যান্য অফিসারগণ।

আর্মি চিকিৎসক :
বাংলাদেশ আর্ম ফোর্সে চাকরিরত ডাক্তারগণ বিভিন্ন র‍্যাংকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও আর্ম ফোরসেস মেডিকেল কলেজে চাকরি করেন। তারা সশসস্ত্রবাহিনীর রুগীদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি বেসামরিক রুগীরও চিকিৎসা করেন। তারা অফ টাইমে প্রাইভেট চেম্বারেও রুগী দেখেন।

নবীন ডাক্তার:
বাংলাদেশে বেশ কিছু সরকারি নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করায় এবং অনেক প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় বেশ কিছু নবীন ডাক্তার বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু সেই তুলনায় তাদের কর্মক্ষেত্র তৈরি হয় নি। তাই অনেকেই বেকার হয়ে পড়ছে। তবে এখনো জনসংখ্যার তুলনায় ডাক্তারের সংখ্যা অনেক কম। প্রয়োজন পরিকল্পিত ভাবে তাদের কর্মসংস্থান করা। তাদের জন্য নুতুন ধরনের কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে হবে।

ফ্রিলান্সিং চিকিৎসক :
ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা বলতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করাকে বুঝায়। আর কাজ গুলো বেশিরভাগ সময়েই বিদেশি ক্লাইন্ট দিয়ে থাকে তাই আমরা আউটসোর্সিংও বলে থাকি। সফটওয়্যার কাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের দেশের অনেক বেকার ও চাকরিজীবী তরুন ও যুবক আউটসোর্সিং করে বেশ আয় করছে। প্রথম দিকে শুধু সফটওয়্যার কাজের ফ্রিলান্সিং ছিলো। এখন অন্যান্য কাজেও ফ্রিলান্সিং হচ্ছে। উবার নামে ফ্রিলান্সিং প্রগ্রামের মার্কেট প্লেস থেকে প্রাইভেট কার, টেক্সি ও মোটর বাইক ভাড়া করে সারা বিশ্বে এখন জনপ্রিয় হয়েছে। এর আদলে পাঠাও নামে আরো একটি মার্কেট বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ফ্রিলান্সিং ওয়েবসাইটে কাজ দাতা (ক্লায়েন্ট) ও সেবা দাতার প্রোফাইল লিস্ট থাকে। এখান থেকে সার্চ করে বীড করে কাজ সংগ্রহ করা হয়। শুনেছি ঢাকায় কয়েকজন তরুন ডাক্তার মিলে একটি গ্রুপ করেছেন সেখানে যোগাযোগ করলে ডাক্তার মিলে। তারা বাড়ি গিয়েও চিকিৎসা দেন। অনেকে এর সমালোচনা করেন। বাড়ি গিয়ে রুগী দেখা অসম্মানের কিছু নাই। আমরা আগে মোটর সাইকেল নিয়ে কলে যেতাম। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিয়ে কলে গেলে অসুবিধার কিছু নাই। কাজেই ফ্রিলান্সিং সংস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করে বেকার ও চাকরিরত ডাক্তারগণ প্রেক্টিস করলে দোষের কিছু নাই। বরং রুগী ও ডাক্তার উভয়েই উপকৃত হবেন।

পরিশেষে বলতে চাই এখন দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানও এখন অনেক। একটু সচেতন হয়ে কর্ম পরিকল্পনা করে কাজ করলে দেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও এগিয়ে যাবে।


তারিখ : ১৬/২/২০১৯ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ জার্নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *