প্রমোশন

মেয়েটি তার রুমের সামনে দাড়িয়েছিল। কয়েকদিন আগে আমি আমার সিনিয়র দুইজন প্রফেসরের সাথে বারান্দা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। মেয়েটি সভাবসুলভ মৃদু হেসে আদাব দিল। আমি ও সে একই মেডিকেল কলেজের ছাত্র। সে এই মেডিকেল কলেজের টিচার। আমি অন্য কলেজের। এম বি বি এস -এ আমার থেকে ১৫ বছরের জুনিয়র। সে আমার সরাসরি ছাত্রী ছিল। এম ফিল-এ মনে হয় ১৫ বছরের জুনিয়র হবে। একজন মেয়েটিকে আরেকজনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন
-এ এবার এসোসিয়েট প্রফেসর কনফার্ম করেছে।
-কংগ্রেচুলেশন।
মেয়েটি মৃদু হেসে আমার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে হাসি দিল।
প্রফেসর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন
-আপনি তো অনেক আগেই প্রফেসর হয়েছেন।
আমি একটি ফ্যাকাসে হাসি দিয়ে বললাম
-না স্যার। আমিও এসোসিয়েট প্রফেসর এর ক্যান্ডিডেট ছিলাম। হয় নি।
-কেন, আপনি না মনে হয় ১৯৯৮ সনে এসিস্টেন্ট প্রফেসর লিখতেন?
-আমি এখনো লিখি।
-কেন, পাব্লিকেশন নেই?
-স্যার, আমার ৮৩ টি পাব্লিকেশন আছে। প্রয়োজন হল মাত্র ৩ টি।
-তাইলে হয় না কেন?
-তা তো জানি না।
-বুঝছি। অন্য সমস্যা। চলেন।

সবাই বলে অন্য সমস্যা। এই অন্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাব কবে? ভাবছি যদি মেয়েটি কারেন্ট চার্জ নিয়ে এখন অধ্যাপক হয় আর নতুন কোন মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হয় আর সেখানে আমি বদলী হই তবে আমার প্রিন্সিপাল হিসাবে আমার এ সি আর নম্বর সে ৯৮ এর কম দিবে না। ইতিপূর্বে কোন বস আমাকে ৯৫ এর কম দেন নি।
=====
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ফেইসবুক পোস্ট
স্মৃতির পাতা থেকে
২৫/৯/২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *