প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া

 

পয়তাল্লিশ বছর বয়স থেকেই কাশেম সাহেবের চুল পাকা শুরু করে। প্রথম প্রথম একটা দুইটা চুল পাকত। তার স্ত্রী রোকেয়ার কাশেম সাহেবের পাকা চুল তুলতে ভাল লাগত। কোন কোন চুল আধাপাকা ছিল। আধাপাকা চুল ধরে টান দিলে কাশেম সাহেব “উহ” করে মাথা ঝেংটা মেরে সরিয়ে ফেলতেন। আর তুলতে দিতেন না। রোকেয়া স্বামীর মিঠে কিল মেরে প্রতিবাদ করতেন। কিল খেতে ভালই লাগত কাশেম সাহেবের। সু্যোগ পেলে আবার তুলতেন। বিশ্রামের সময় আধো আধো ঘুম গেলে রোকেয়া স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। মাঝে মাঝে পুটুস করে পাকা চুল তুলে ফেলতেন। সময়ের সাথে চুল পাকা বেড়েই চলত। পাকতে পাকতে প্রায় অর্ধেক পেকে গেল। কয়টি আর তুলবে? কাশেম সাহেব দাড়ি চেঁচে মোছ রাখতেন। মোটা মোছ ছিল। মোছও পেকে গেল। তাই তিনি ক্লিন সেইভ করতেন। তাতে বয়স একটু কম মনে হত। স্মার্ট লাগত। নায়ক নায়ক ভাব আসত। ষাট বছর বয়সের দিকে চুল প্রায় সবই পেকে গেল। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখেন কলপ দিয়ে সাদা চুল কালো করার। চুল কালো করে বৃদ্ধ মানুষ যুবক হয়ে যাচ্ছেন। কাশেম সাহেবেরও ইচ্ছা হল। সেলুনে গিয়ে কলপ দিয়ে আসল মাথায়। রোকেয়া দেখে তাজ্জব বনে গেলেন। এতো দেখছি ইয়াং স্বামী। শেলিকা বললেন

: দুলাভাইর চেয়ে আপাকেই বেশী বয়সের মনে হচ্ছে। অথচ আপনারা দুইজনেই এক ব্যাচে পড়তেন।

শপিং সেন্টারের সেলসম্যানরা কাশেম সাহেবকে এখন ভাইয়া ডাকেন। আগে ডাকতেন আংকেল বলে। কিন্তু কাশেম সাহেবের সামনেই যখন সেলস ম্যানরা রোকেয়াকে আন্টি ডাকেন তখন রোকেয়ার খারাপ লাগে। সেলুন থেকে কলপ লাগালে একটু বেশী খরচ হয়। তাই একদিন দোকান থেকে একটি বিদেশী ভাল ব্রান্ডের কলপ কিনে বাসায়ই টুথব্রাশ দিয়ে মাথায় লাগালেন কাশেম সাহেব। পরের দিন মাথার সমস্ত চামড়া লাল হয়ে ফুলে উঠল। প্রচণ্ড চুলকানি হল। চর্মরোগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার জানালেন কলপটি নকল ছিল।

: আমি তো বিদেশী ভাল ব্রান্ডের কলপ কিনেছি।

: ভাল জিনিসের নকল হয়। কমদামী জিনিসের নকল হয় না।

 

ডাক্তারের চিকিৎসায় কাশেম সাহেবের মাথার এলার্জি ভাল হল। এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে মাথায় প্রাকৃতিক মেয়েদী লাগালেন। লাগালে লোকেরা আবার আংকেল ডাকা শুরু করল। রোকেয়া সাচ্ছন্দ বোধ করলেন। তবলিগ জামাতের আমির সাহেব হেদায়ত করলেন দাড়ি রাখার জন্য। জানতে পারলেন দাড়ি রাখা মুসলিমদের সুন্নত। হাসরের দিন যেদিন সবাই দাড়িসহ রসুলুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবেন সেদিন দাড়ি ছাড়া কাশেম সাহেব লজ্জিত হবেন। এই মুহুর্তে যদি তার মৃত্যু হয় তবে দাড়ি ছাড়া তাকে কবরে যেতে হবে। এমন চিন্তা করে কাশেম সাহেব লম্বা দাড়ি রাখলেন। সুন্নত মনে করে দাড়িতে মেহেদীও লাগালেন। এখন তাকে পাক্কা আলেমের মত দেখায়।

রাস্তাঘাটে বেশী বেশী সালাম পান।

 

কদিন যাবৎ কাশেম সাহেবের একটু ঘনঘন প্রশ্রাব হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা। আগে রাত ১১ টায় শুয়ে পড়তেন। ভোরে ফজরের নামাজের পুর্বে অজুর আগে প্রশ্রাব করতেন। কিন্তু ইদানিং দুইবার ঘুম থেকে উঠতে হয় প্রশ্রাব ধরার কারনে। কোন কোন সময় বাথরুমে যেতে যেতেই কাপড়ে প্রশ্রাব লেগে যায়। বড় যন্ত্রণাদায়ক। কাশেম সাহেব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এটা কি কোন রোগ? কিশোর বয়সে হাটে বাজারে ক্যানভাস করে অনি ডাক্তারকে বনাজি ঔষধ বিক্রি করতে দেখেছেন। সেই ঔষধে ধাতু রোগ ভাল হত। ধাতু রোগের বিবরণ দিতে গিয়ে অনি ডাক্তার বলতেন “ধাতু হল এমন রোগ যে রোগের লক্ষণ হল ঘন ঘন প্রশ্রাব হওয়া, অল্প অল্প প্রশ্রাব হওয়া, চিকন ধারায় প্রশ্রাব হওয়া, প্রশ্রাব আটকে আটকে আসা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ কাশেম সাহেবের আছে। তাহলে কি ধাতু হল? কাশেম সাহেবের গ্রামের রকমান মিয়া ধাতু রোগের গাছান্ত ঔষধ দিতেন। তিনি এখনো বেচে আছেন। কাশেম সাহেব গ্রামে গিয়ে রকমান মিয়ার কাছে গেলেন। সব শুনে রকমান মিয়া ধাতু রোগই সাব্যস্ত করলেন। বেশ কিছু বটিকা কৌটায় ভরে দিলেন। খাওয়ার নিয়ম বলে দিলেন। ঔষধ দিয়ে তিনি হাদিয়া নেন না। শুধু তার পীর সাবের মাযারে শিন্নি দেয়ার জন্য পাচ হাজার টাকা রাখলেন। কাশেম সাহেব ঔষধ নিয়ে বাসায় এসে পরলেন। রকমান মিয়ার দেয়া নিয়ম অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে লাগলেন।
সকালে খালিপেটে একজগ ঠান্ডা পানি খান। নাস্তা করার পর এক বটিকা খেয়ে এক গ্লাস পানি খান । রাতেও এক বটিকা খেয়ে এক গ্লাস পানি খান। বেশী বেশী পানি খাওয়ার দরূণ প্রশ্রাবের বেগের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেল। কাশেম সাহেব মহা বিপদে পড়লেন। মনে পড়ল ট্রেনে যাতায়াতের সময় এক ভ্রাম্যমাণ কবিরাজ ছিরিপুরের ট্যাবলেট বিক্রি করছিলেন ধাতু রোগের জন্য। তিনি সেই লোকের কাছে গেলেন। ছিরিপুরের ট্যাবলেট আনলেন এক কোর্স। কবিরাজ বলে দিয়েছেন “আমার এই ট্যাবলেটে পারদ আছে । এই ট্যাবলেট খেলে পেটের দুষিত ধাতু বের করে দিবে প্রশ্রাবের রাস্তা দিয়ে। বের হবার সময় তীব্র যন্ত্রণা হবে। এই সময় পুকুরে নামতে হবে। কাশেম সাহেবের বেলায় তাই হল। তীব্র যন্ত্রণায় মইলানি পুকুরে গিয়ে নামলেন। কোমর পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে রইলেন। কোমরের দুপাশ থেকে কি যেন ভেংগে চুরে এসে প্রশ্রাবের রাস্তা দিয়ে বেড়িয়ে পানির সাথে মিশে যাচ্ছিল। বাম হাত দিয়ে এনে দেখলেন রক্ত মাখা ময়লা পদার্থ। পানি থেকে উঠে এসে ঘটনাটা হাশেম সাহেবকে জানালেন। হাশেম সাহেব তার সকাল বেলার হাটুয়া পার্টির বন্ধু। তিনি পাশের এক চেম্বারে এক জুনিয়র ডাক্তারকে ঘটনাটি খুলে বললেন। ডাক্তার বললেন

: আপনি বড়ির সাথে পারদ খেয়েছেন। পারদ কিডনির কোস বিনষ্ট করে। সেই নষ্ট কোষগুলি দলা পাকিয়ে প্রশ্রাবের রাস্তা দিয়ে বেড় হয়। পানিতে নেমে থাকলে ভুক্তভোগী দেখতে পায় না। তাই সে পারদের ক্ষতিকর বিষয়টি জানতে পারে না। এই ভাবে কত মানুষের কিডনির ক্ষতি হচ্ছে এই বড়ি খেয়ে তার হিসাব কেউ রাখে না। আমি আপাতত কিছু ঔষধ লিখলাম। আপনি ইউরোলি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সানোয়ার সাহেবের পরামর্শ নিন।

 

পরদিন সকালে তিনি তারা ডাক্তারকে দিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করালেন। তারা মিয়া আসলে ডাক্তার না। কিন্তু সবাই তাকে ডাক্তার ডাকেন। তারা মিয়া আগে রাস্তার মোড়ে খিলি পানের দোকান করতেন। সামান্য লেখা পড়া জানতেন। কিছুদিন ডায়াবেটিসের ডাক্তার লিয়াকত সাহেবের চেম্বারে রুগীর সিরিয়াল মেইন্টেইন করতেন। এখন তিনি একটি সাদা এপ্রোন গায়ে দিয়ে সকাল বেলা রাস্তার মোড়ে টেবিল ফেলে গ্লুকোমিটার দিয়ে আংগুলে প্রিক করে রক্তের ডায়াবেটিস দেখার গ্লুকোজ লেভেল পরীক্ষা করে দেন। ব্লাড প্রেসার ও ওজন মেপে দেন। ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার রুগীদের প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেন। একরে তিনি একজন জুনিয়র এম বি বি এস ডাক্তারের চেয়েও ভাল ইনকাম করেন। ঘন ঘন প্রশ্রাব হওয়ায় কাশেম সাহেবের ডায়াবেটিস হয়েছে বলেও সন্দেহ হয়। তাই তিনি গ্লুকোজ পরীক্ষাটা করালেন। কিন্তু তারা ডাক্তার বলে দিলেন তার ডায়াবেটিস নাই।

বিকেলে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে কাশেম সাহেব ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সানোয়ার সাহেবের চেম্বারে গেলেল। সব শুনে ডাক্তার সাহেব বললেন

: আপনার খুব সম্ভব প্রোস্টেট বড় হয়ে গেছে।

: এটা কি আবার?

: প্রোস্টেট হল একটা গ্রন্থি। প্রশ্রাবের থলির নিচে মুত্রনালীর শুরুতে একটা শুপারির মত দেখতে। এর মাঝখান দিয়ে প্রশ্রাবের নালী বের হয়ে এসেছে। এটা বড় হয়ে গেলে চতুর্দিক থেকে নালীর উপর চাপ পড়ে। তাই প্রশ্রাব আটকে আটকে যায়।

: আমার তো ঘন ঘন প্রশ্রাব হয়। তা হয় কেন?

: আপনি প্রশ্রাব করা শেষ করার পরও আপনার থলিতে বেশ কিছু প্রাশ্রাব থেকে যায়। যেটুকু খালি থাকে সেটুকু আবার অল্পতেই ভরে যায়। ভরে গেলেই প্রশ্রাবের চাপ আসে। যেমন ধরেন, এই পানির বোতলটি অর্ধেক ভরা আছে। পানি ঢুকালে অল্পক্ষনেই ভরে যাবে। যদি খালি বোতলে পানি ঢুকাতাম তবে সময় বেশী লাগতো। প্রোস্টেট গ্লান্ডের চাপের কারনে আপনার ব্লাডার সম্পুর্ণ খালি হয় না। তাই ঘন ঘন চাপ আসে।

: এখন কি করতে হবে?

: এটা আমার সন্দেহ। এখন আমি শারীরিক পরীক্ষা করে দেখব আসলেই বড় হয়েছে কিনা।

: কিভাবে দেখবেন?

: আপনি এই টেবিলে কাত হয়ে শুবেন। আমি ডান হাতে গ্লাভ পড়ে তর্জনি আংগুলে পিছলা পদার্থ লিকুইড প্যারাফিন লাগিয়ে আপনার পায়খানার রাস্তা দিয়ে আংগুল ঢুকিয়ে প্রোস্টেট ফিল করব। বড় হলে আংগুলে লাগবে।

: ডাক্তার সাব, আপনার কি রাগ পাইছে? এটা কেমন কথা বললেন? আমার সমস্যা প্রশ্রাবের রাস্তায়, আংগুল দিবেন পায়খানার রাস্তায়?

: রাগ করব কেন। এটা একটা শারীরিক পরীক্ষা। এই ধরনের রুগীর বেলায় করতে হয়। এতে কোন খরচ নেই। ব্যাথাও নেই। একদম সহজ। পায়খানার রাস্তার সামনেই প্রোস্টেট থাকে। তাই এই রাস্তায় আংগুল দেয়া হয়।

: বড় বড় দামী দামী রুগীর বেলায়ও কি তাই করেন?

: যত দামী লোকই হোক, পরীক্ষা এই ভাবেই। এটাই সবচেয়ে কার্যকরী পরীক্ষা। এটাকে বলা হয় পার র‍্যাক্টাল এক্সামিনেশন। সংক্ষেপে পি আর।

এই সময় কাশেম সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকালেন। স্ত্রী হাসি চেপে ধরে চোখের ইশারায় রাজি প্রকাশ করলেন।

কাশেম সাহেব বললেন

: আমার স্ত্রীও ইদানীং ঘন ঘন প্রাস্রাব করছে। তারও কি প্রোস্টেট বড় হয়েছে? তাকেও কি পি আর করবেন?

রোকেয়া চমকে গেলেন। লজ্জায় কালো হয়ে গেল মুখ। মাথা নিচু করে রইলেন। ডাক্তার বললেন

: এই সেরেছেন! প্রোস্টেট হল ছেলেদের গ্ল্যান্ড। এটা মেয়েদের থাকে না। মেয়েদের এই সমস্যা নেই। আপনার স্ত্রীর ডায়াবেটিস আছে কি না দেখে নিয়েন।

: ঠিক আছে। আমার পরীক্ষা করেন। একটু আস্তে দিয়েন।

পরীক্ষার পর ডাক্তার সাব বললেন

: ঠিক বলেছিলাম। বড় হয়েছে। মনে হচ্ছে বিনাইন এনলার্জমেন্ট অব প্রোস্টেট।

: এখনো বলছেন মনে হচ্ছে। তার মানে এখনো সিউর না?

: সাধারণত দুইটি কারনে বড় হয়। একটা হল হাইপারপ্লাসিয়া। আরেকটা খুব কম হয়, ক্যান্সার।

: ক্যান্সার?

: না, আপনার সম্ভাবনা নেই। তবু মাথায় রাখতে হবে। আমি কয়েকটি পরীক্ষা করার জন্য এডভাইস লিখে দিচ্ছি। এগুলি করে নিয়ে আসুন। রক্তের পি এস এ লেভেল বেশী হলে ক্যান্সার সন্দেহ করতে হবে। সাভাবিক থাকলে হাইপারপ্লাসিয়া মনে করতে হবে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে প্রোস্টেট কত টুকু বড় হয়েছে তা জানা যাবে। সাথে পি ভি আর রিপোর্ট দেখে প্রশ্রাবের করার পরও কি পরিমান প্রশ্রাব ব্লাডারে থেকে যায় তা জানা যাবে।

: যদি ক্যান্সার হয় তবে কি করব?

: আমি অপারেশন করে প্রোস্টেট বের করব। এটাকে হিস্টোপ্যাথলিক্যাল বা বায়োপ্সি পরীক্ষা করাতে হবে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ দিয়ে। তিনিই রিপোর্ট দিবেন এটা হাইপারপ্লাসিয়া না ক্যান্সার। ক্যান্সার হলে ক্যান্সারের চিকিৎসা চলবে। না হলে আর কিছু করার নেই। ভাল হয়ে যাবেন।

: অপারেশন করবেন কি ভাবে?

: অবশ করে প্রশ্রাবের রাস্তা দিয়ে একটা যন্ত্র ঢুকিয়ে প্রোস্টেট নারিকেল কোরানোর মতো করে কোরিয়ে কোরিয়ে আনবো। আগে আমরা পেট কেটে প্রোস্টেট ছিড়ে নিয়ে আসতাম। এখন উন্নততর পদ্ধতিতে আমরা অপারেশন করছি।

: আমার মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো।

: বলুন।

: এই রোগটা হইল কিভাবে?

: আমি মনে করি ক্যান্সার আপনার হয় নাই। কান্সার হওয়ার অনেক কারন আছে। তারমধ্যে খাবারে ভেজাল ও পরিবেশ দূষণ অন্যতম। ছেলেদের বয়স বাড়ার সাথে শারীরিক কিছু পরিবর্তন আসে। যেমন চুল পাকতে থাকে। পাকতে পাকতে এক সময় সব সাদা হয়ে যায়। এগুলি হরমোনের তারতম্যের কারনে হতে পারে। সেই ভাবে শরীরের ভিতরেও পরিবর্তন হতে থাকে। যেমন, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হতে থাকে। তবে কিছু কিছু ঔষধ আছে সেগুলি খেলে প্রোস্টেটের বৃদ্ধির হার কমিয়ে রাখা যায়। আপনার বেলায় অপারেশন করতে হবে।

: ঠিকই বলছেন ডাক্তার সাব। আমার চুলও এভাবে পেকেছে। প্রথম প্রথম কালো কলপ দিতাম। পড়ে মেহেদী। এখন কিছুই লাগাই না। বুড়াকালে রঙ দিয়া আর কি হইব?

: তো ঠিক আছে। পরীক্ষাগুলি করে রিপোর্ট নিয়ে আসুন।

: পরীক্ষা আমি করিয়ে আসছি। তবে অপারেশন করাতে কয়েকদিন সময় লাগবে। ছেলে আমার দেশের বাইরে থাকে। বিয়ে ঠিক করে রেখেছি। বাড়ি আসলে অনুষ্ঠান করব। অপারেশন লাগলে তারিখটা একটু পিছিয়ে দিতে হবে। সুস্থ হয়ে ইনশাআল্লাহ অনুষ্ঠান করব। আপনার অনেক সময় নিলাম। বাইরে অনেক রুগী অপেক্ষা করছে। কিছু মনে নিয়েন না যে। আর আমি এখন থেকে যাকেই শুনব ঘন ঘন অল্প অল্প প্রশ্রাব হয় তাকেই সন্দেহ করব প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া হয়েছে। আপনি তাদেরকে পি আর করে দিবেন।
[১৪/৫/২০১৮]

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *