ঘাউড়া রুগীর প্রেসক্রিপশন

(ছোট ছোট সংলাপ)
-বসুন। আপনার নাম কি?
-নাম জানার দরকার কি?
-প্রেসক্রিপশনে নাম না লিখলে কোনটা কার প্রেসক্রিপশন তা বুঝা যাবে না। তাই নাম লিখা প্রয়োজন।
-ঘাউড়া মিয়া।
-এটা আবার কেমন নাম?
-ছোট বেলা থাইকাই আমি একটু ঘাউড়ার মত তো তাই সবাই আমাকে ঘাউড়া ডাকত। পরে ঘাউড়া মিয়া আমার নাম অইয়া গেছে।
-বয়স কত?
-ডাক্তার সাব, আমার বয়স দিয়া আপনে কি করবাইন? রোগের কথা জিজ্ঞাস করুন।
-প্রেসক্রিপশনে বয়স লিখা আমাদের নিয়ম আছে তাই বলতে হয়।
-একটু দেড়িতে বিয়ে করেছি তো, তাই বয়সটা একটু কমাই দিছি । এই ধরেন চল্লিশ বছর।
-আপনি থাকেন কোথায়?
-চকির উপর। গ্রামের মানুষ তো। অবস্থা বেশী ভাল না। আমাদের চেয়ারম্যান সাব থাকে খাটের উপর।
-আমি তা জানতে চাই নি। জানতে চাচ্ছি আপনার বাড়ি কোথায়?
-আমার বাড়ি চেয়ারম্যান বাড়ির উত্তর পাশে।
-চেয়ারম্যান বাড়ি কোথায়?
-আমার বাড়ির দক্ষিণ পাশে।
– আপনার গ্রামের নাম কি?
-গ্রামের নাম রিহিলা।
-আপনার সমস্যা কি কি?
-সমস্যা ম্যালা। চারদিকে খালি সমস্যা। বউয়ে কথা শুনে না, ছেলে টো টো কইরা ঘুইরা বেড়ায়। ফসল নষ্ট অইয়া যাইতাছে। চিন্তায় মাথা পোন পোন করে।
-আপনি যে সমস্যার জন্য আমার কাছে এসেছেন সেই সমস্যার কথা বলুন।
-আমার পেটে ব্যাথা।
-পায়খানা কেমন?
-গরীবের আবার পায়খানা। তিন দিকে সোলার বেড়া সামনে চট।
-মানে?
-মাটিতে গর্ত খুইরা দুইটুকরা কাঠ ফালাইছি বসার জন্য। টিনের ঢালা কাইত কইরা গর্তে ফিট করছি। পায়খানা কইরা পানি ঢাইলা দিলে চেলচেলি গিয়া গর্তে পড়ে। পাটের সোলা দিয়া বেড়া বানাইছি। সামনে চট ঝুলাইয়া দিছি দরজা হিসাবে। উচা কইরা ঢুইকা পড়ি। কাচা পায়খানা আমার। আমগো চেয়ারম্যান সাবেরডা পাকা পায়খানা।
-আমি আপনার পায়খানা ঘরের কথা বলিনি। আপনার পেটের পায়খানা কেমন হয়?
-পরিষ্কার অয় না।
-মানে?
-মানে, পায়খানা করার পরও মনে অয় কিছু রইয়া গেল।
-তার মানে কন্সটিপেশন।
-কি পেশন?
-কন্সটিপেশন।
-বাংলায় কইন।
-কোষ্টকাঠিন্য।
-এটাতো আরো কঠিন হইয়া গেল।
-প্রচুর শাক-শব্জি খাবেন।
-ঔষধ কি খামু তাই লিখে দেন।
-ঔষধের চেয়ে শাক-শব্জি বেশী কাজে আসবে।
-তবু কিছু ঔষধ লেইখা দেইন।
-এই নিন আপনার প্রেসক্রিপশন।
-কি লিখলাইন?
-ইছবগুলের ভুষি।
-ডাক্তার সাব, রাগ পাইছেন?
-কেন?
-আমাকে ভুষি খাইতে কইছেন?
-না, এটা তো কোষ্টকাঠিন্যের ভাল ঔষধ।
-খাওয়ার নিয়ম?
-ফার্মেসী থেকে বুঝে নিবেন।
….
-ভাই, এই ঔষধটা দিন ত।
-নিন।
-খাওয়ার নিয়ম কইয়া দেইন।
-এক গ্লাস পানিতে এই প্যাকেটের গুড়া ঔষধগুলি ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে সরবতের মত খেয়ে ফেলবেন।
-আমি যদি প্যাকেটের ঔষধটুকু ছাতুর মত শুকনা খাইয়া এক গ্লাস পানি খাই তা ঠিক অইব না? কারন, পেটে গিয়া ত পানির সাথে মিশে সরবত অইতে পারে। গ্লাসে গোলার দরকার কি?
-ঘাউড়ামি বাদ দিয়ে যেভাবে খেতে বলেছি সেভাবে খাবেন।
==
(কাল্পনিক সংলাপ)
[৮/৩/২০১৮]

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *