ক্লাস টুর পড়া

১৯৬৮ সনে ক্লাস টুতে উঠে বাংলা ও অংক বিষয়ের সাথে যোগ হল সমাজপাঠ। ভুগোল, পৌরনীতি ও ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারের বই ছিল সমাজ পাঠ। ওখানে দিক নির্নয় শিক্ষার জন্য একটা লেসন ছিল। সুর্য যে দিকে উদয় হয় তাকে পুর্ব দিক বলা হয়। উদিয়মান সুর্যের দিকে ঘুরে দাড়ালে হাতের ডান দিক দক্ষিন, হাতের বাম দিক উত্তর এবং পিছনের দিক পশ্চিম। মাথার উপরের দিক উর্ধ এবং পায়ের নিচের দিক অধ। এইভাবে বই পড়ে Continue reading “ক্লাস টুর পড়া”

আব্দুল বাচিলাম

শুনে শুনে দেখে দেখেই ছোট ওয়ানের বই মুখস্ত করে ফেলাতে আমাকে বড় ওয়ানে অটো প্রমোশন দেয়া হল। বার্ষিক পরীক্ষা হল ছয় মাস পরেই। বারী ফার্স্ট, আমি সেকেন্ড ও লুতফর থার্ড হয়ে ক্লাস টুতে উঠলাম । ওটা ছিল ১৯৬৮ সাল। আমার বয়স হবে ৭/৮ বছর। পরীক্ষার পর স্কুল ছুটি চলছে। আমি ইয়ার মামুদ ভাইর কাছ থেকে পুরাতন বই এনে নিজে নিজেই পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে অনেক রাত বাজিয়ে দিলাম। টিম টিম করে বাতি Continue reading “আব্দুল বাচিলাম”

আমার প্রথম অভিনয়

স্মৃতির পাতা থেকে

১৯৬৯ সন। আমি ঘোনারচালা সরকারি ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। বাংলা পড়াতেন সাখাওয়াত স্যার (সাকে মাস্টার)। সম্রাট আকবরকে নিয়ে একটি গল্প ছিল। গল্পটি ছিল এইরকম। এক বিকেলে সম্রাট আকবর তার নবরত্নের এক রত্ন মোল্লা দোপে আজাকে নিয়ে বাগানে পায়চারী করছিলেন। সম্রাট বললেন
Continue reading “আমার প্রথম অভিনয়”

ছোট বেলার গাধু কাক্কু

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমরা চাচাদেরকে কাকুর সাথে আরেকটা অতিরিক্ত ক লাগিয়ে কাক্কু ডাকতাম। বাবার চাচাত ভাই চোট কাক্কু তার বড় চার ভাইদেরকে যথাক্রমে বড় ভাই, মাঝ ভাই, সাঝ ভাই, ও মিয়া ভাই ডাকতেন। সেটা অনুকরন করে আমরা ডাকতাম বড় কাক্কু, ডাক্কার কাক্কু, সাঝ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। পাড়া প্রতিবেশী চাচাদেরকে শুধু কাক্কু ডাকতাম।

Continue reading “ছোট বেলার গাধু কাক্কু”

আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের গ্রামের বাড়ীর এখন যেখানে টিউব ওয়েল আছে তখন ওখানে একটা ডোবা ছিল। ঐ ডোবাতে অনেক বড় বড় সোনাব্যাঙ থাকতো। সোনা ব্যাঙকে আমরা বাইয়া ব্যাঙ বলতাম। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ডোবা পানিতে ভরে যেত। বাইয়া ব্যাঙগুলি পানিতে লাফালাফি করত। উচ্চস্বরে ডাকত। মাঝারী সাইজের কোনো ব্যাঙ নিম্নস্বরে ডাকত। ব্যাঙের ডাকের সাথে কথা মিলাতাম। এক বাইয়া ব্যাঙ তার ডোবা থেকে বলত “এগাও আমার।” আরেক বাইয়া Continue reading “আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা”

আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৯৬৩ সন হতে পারে। আমার বয়স তখন ৫/৬ বছর হবে। রৌহা নানাবাড়ি ছিলাম। বিকেলে হালট পাড়ে তেতুল গাছের পাশের খেতে গোদুল্লা খেলছিলাম। এক সময় আমার চেয়েও সামান্য ছোট আমার এক মামাতো বোন বলল “মাষ্টর দাদার এডুতে আইজকা আইতে টাটক অব।” অর্থাৎ রাতে আমার ছোট নানা কাজীম উদ্দিন মাষ্টারের রেডিওতে নাটক হবে। নাটককে সে টাটক বলেছে। আমিতো তাও জানি না। যাহোক রাত দশটায় বাড়ীর সবাই Continue reading “আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ”

আমার সংগীতের সাথে পরিচয়

(স্মৃতির পাতা থেকে)
ছোটবেলা থেকেই আমার গান বাজনার প্রতি আগ্রহ একটু বেশী ছিল। আমাদের তালুকদার বাড়ীতে গান বাজনা করা ও যাত্রা দেখা নিষিদ্ধ ছিল। শুনেছি নাহার আপার বিয়ের এক বছর পর নাহার আপা কথা প্রসংগে বলেছিলেন তার স্বামী হাশেম দুলা ভাই যাত্রা দেখতে গিয়েছিলেন। কথাটা মেছের উদ্দিন তালুকদার, আমার দাদার মেঝো ভাই, যাকে আমরা দাদু ডাকতাম তার কানে গিয়েছিল। শুনে আপাকে শশুরবাড়ী যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। শত অনুনয় Continue reading “আমার সংগীতের সাথে পরিচয়”

আমার প্রথম পাঠ

মায়ের সাথে নানাবাড়ি গিয়েছিলাম। মা প্রতি বছর শীতকালে ২০/৩০ দিন এবং বর্ষা কালে ২০/৩০ দিন নানাবাড়ি নাইয়োর থাকতেন। নানাবাড়ি কালিহাতির রৌহা গ্রামে। নিচু ভুমি। মাটি দিয়ে অনেক উচু ভিটা নির্মাণ করে অনেকগুলি পরিবার ঘন ঘন ঘর নির্মাণ করে থাকতেন। খুব ছোট ছিলাম। একদিন সকাল বেলা ঘরের চিপা দিয়ে Continue reading “আমার প্রথম পাঠ”

আমার প্রথম হাট দর্শন

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের বাড়ীর কাছে হাট ছিল না। আমাদের এলাকায় হাট ও বাজারের মধ্যে পার্থক্য ছিল। হাটে সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি বা দুইটি বারে কেনা বেচার উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা হত। সাধারণত দুপুরের পর হাট বেশী জমত। হাট বসার স্থানে অথবা অন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে সকাল নয়টা দশটার দিকে প্রতিদিন কিংবা নির্দিষ্ট দিন অল্প কয়েকটি জিনিষ বিশেষ করে গাভীর দুধ বিক্রি হত। সেটাকে বলা হত বাজার। আর ঐ সময়টাকে বলা হত Continue reading “আমার প্রথম হাট দর্শন”

ওয়াবক ও অজগরের ভয়

(স্মৃতির পাতা থেকে)
ছোট বেলায় যখন আমাদের ঘুম আসত না তখন ভয় ভিতিকর গল্প বলে মা আমাদেরকে চুপ করিয়ে ফেলতেন। শীতের রাতে লেপের নিচেও যেতে চাইতাম না। হঠাৎ বাতি নিভিয়ে দিয়ে মা বলতেন “এই ওয়া বক আইল।” ওয়া বক একটি কাল্পনিক আজব বক ছিল। বাড়ির পাশে ছেছড়া গাছে এক ঝাক শারষ পাখি থাকত। আমার কল্পনায় এর চেয়েও বড় বিভৎস এক ধরনের লম্বা ঠোট ওয়ালা পাখী হতে পারে ওয়াবক। মনে হত সিলিং এর উপর বসে Continue reading “ওয়াবক ও অজগরের ভয়”