Home Post

Mobile Prescription

Welcome to website of Dr. Sadequel Islam Talukder


Dr. Md. Sadequel Islam Talukder
MBBS, M Phil (Pathology), MACP
Associate Professor and Head
Department of Pathology
Mymensingh Medical College
Mymensingh Bangladesh
.

 

Send your comment to: sadequel@yahoo.com

মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি গ্রামে বড় হয়েছি। ইন্টারমেডিয়েট পাশ করার পর থেকে নিয়মিত গ্রামে থাকা হয় না। গ্রামের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জাম খুব কাছে থেকে দেখেছি । এখনো গ্রামের বাড়ি যাই মাঝে মাঝে । লক্ষ্য করছি গ্রামের কৃষিকাজের পদ্ধতি দ্রূত আধুনিকায়ন হচ্ছে । তাই অনেক সরঞ্জাম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । সোনালী শৈশবে যা যা দেখেছি তার জন্য কেমন যেন মায়া লাগে। গত কয়েকদিন আগে নিউজ পেলাম সখিপুর উপজেলায় লাঙ্গুইলা গ্রামে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে । লাঙ্গুইলা গ্রামের নাম বহুদিন পর পনে পড়লো । কিন্তু লাঙ্গুইলা গ্রামটা সখিপুরের কোন দিকে এটা আমি মনে করতে পারলাম না । আমি গ্রামের একজনকে মোবাইল করে জানতে চাইলাম লাঙ্গুইলা গ্রামটি কোন দিকে যেনো । জানা হলো । এরপর শুরূ হলো লাঙ্গুইলা শব্দটি যেনো কোথায় শুনেছি । মনে পড়লো এটা ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করার একটা কৃষি সরঞ্জাম ছিলো । অনেকদিন না দেখতে দেখতে নামই ভুলে গেছি । মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো আমার শৈশবে দেখা মান্দাতার আমলের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জামের স্মৃতি । এমনই হয় মাঝে মাঝে আমার ব্রেইনে । যেদিন যেটা মাথায় আসে সেদিন সেটা সারাদিনই মাথায় খেলতে থাকে । বাধ্য হয়ে লিখে ফেলি এন্ড্রয়েড মোবাইলের নোট প্যাডে। কপি করে পেস্ট করে দেই ফেইসবুক পোস্টে । আজও তাই করলাম ।

Continue reading “মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম”

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

(স্মৃতিচারণ)

ডা.  সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

মোবাইল ফোন কেনা হল। কিন্তু তেমন কাজে লাগলো না। মোবাইল করার মতো মাত্র কয়েকজন ব্যবহারকারী ছিল তখন। বাসায় বাসায় তখন বিটিসিএল বা টিএন্ডটি-র ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। ১৯৯৭ সনের ডিসেম্বর মাসে আমাকে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলী করা হয়। আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে। লেগে গেলাম বদলী ফেরানোর তদবিরে। ঘনঘন ঢাকায় সচিবালয়ে যাই। কাজ হয় না। অফিস সহকারীদের সাথে মোটামুটি ভাল পরিচিত হয়ে যাই। টেলিফোন করে তাদের থেকে আমার ফাইলের আপ-ডাউন খবর নেই। ফাইল একবার উঠে, আবার নামে। প্রিন্সিপাল স্যারের টেলিফোন ব্যবহার করতাম স্যারের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু কতবার অনুমতি নেয়া যায়! অনুমতি নিতেও লজ্জা পেতাম। তখন হাসপাতাল জরুরী বিভাগের সাথে একটা টেলিফোন বুথ ছিল। প্রিপেইড কার্ড কিনে বুথের বাক্সে ফেলতাম। দেশে বিদেশে কথা বলা যেতো স্বাধীন ভাবে। কলরেট পোস্টপেইড ফোনের মতই ছিল। লোকাল কল মিনিটে ২ টাকা। অন্য জেলায় মিনিটে ৭ টাকা। আমেরিকায় মিনিটে ১৪ টাকা। সৌদিআরব, কাতার মিনিটে ২২ টাকা। আমার কলগুলো সাধারণত লোকাল, ঢাকা, টাংগাইল, আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারে ছিল। প্রচুর খরচ হতো কল করে। তখনকার ১ টাকার সমান এখনকার ২০১৮ সনের ১০ টাকা। কল করতে আবার যেতে হতো বুথে। ওখানে গিয়েও আবার লাইনে দাড়াতে হতো। এটা ছিল বড় কষ্টের। একদিন বুথের কাছে  অল্প বয়সের এক ছেলে আমাকে চুপি চুপি বলল Continue reading “বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ”

শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?

শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রশ্নটার উত্তর দেয়ার আগে একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আগের দিনে আমাদের এলাকায় উপজাতিরা বন্য খরগোশ শিকার করে খেতো। দিনের বেলা খরগোশ ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকতো। সন্ধ্যার সময় বেরিয়ে আসত মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য। খরগোশ ঘাস খেয়ে জীবন ধারণ করে। শিকারি ঝোপঝাড়ের আশে পাশে ফাঁদ পেতে লুকিয়ে থাকতো। খরগোশ ঘাস খেতে বেরিয়ে এসে ওই ফাঁদে আটকা পড়তো। সন্ধ্যার আগে শিকারি মাঠে খরগোশের গোবর খুঁজে বেড়াতো। যদি মাঠে খরগোশের কাঁচা গোবর দেখতে পেতো তাহলে মনে করে নিতো পাশের ঝোপে খরগোশ আছে। আগের রাত্রে খরগোশ এই মাঠে খাওয়া-দাওয়া করেছে। যদি শুকনা গোবর থাকতো তাহলে সন্দেহ ছিল যে খরগোশ আছে কিনা। কাঁচা গোবর পেলেই তারা ফাঁদ পাততো। Continue reading “শরীরে জীবাণু না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হতে পারে?”

সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব

সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জীবাণু দিয়ে যেসব রোগ হয় সেগুলিকে সংক্রমণ রোগ বলে। ইংরেজিতে বলা হয় ইনফেকশাস ডিসিজ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, রিকেটশিয়া, প্রটোজোয়া, ফাংগাস ইত্যাদি দিয়ে সংক্রমণ রোগ হয়। রোগ জীবাণু একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। কিছু কিছু রোগ জীবাণু সরাসরি একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। আবার কিছু কিছু জীবাণু বহন করতে মাঝখানে ভেক্টরের প্রয়োজন পড়ে যেমন মশা, মাছি, পোকা ইত্যাদি। কিছু কিছু জীবাণু রোগীর হাঁচি-কাঁশি থেকে পড়ে গিয়ে জিনিসপত্রের উপর লেগে থাকে সেখানে হাত দিয়ে কেউ হাত মুখে বা নাকে দিলে সেই জীবনে তার শরীরে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করে। যেমন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। রোগী বা বাহকের শরীরে জীবাণু আছে কিনা তা জানার জন্য প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করা হয়। Continue reading “সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব”

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে
(স্মৃতিচারণ)

৯/৪/২০১৯ ও ১৬/৪/২০ ১৯ তারিখের স্মৃতিচারণ একসাথে
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৯৬ সনের মার্চ মাসে আমি আবার প্রভাষক পদে প্যাথলজি বিভাগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ফিরে আসি। এমফিল (প্যাথলজি) পাসের রেজাল্ট হয়েছিল ১৯৯৫ সনের শেষের দিকে। পদায়ন হতে সময় লেগেছিলো। আমি এর আগেও প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলাম ১৯৯২ সনের জানুয়ারি থেকে ১৯৯৩ সনের জুন পর্যন্ত। ১৯৯৮ সনের মে মাসে আমি সহকারী অধ্যাপক (চঃ দাঃ) পদে যোগদান করি। ২০০৭ সনের শেষ পর্যন্ত আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজেই ছিলাম। সেই হিসাবে আমি এই মেডিকেল কলেজের এম ২৪ নাম্বার ব্যাচ থেকে এম ৪৪ নাম্বার ব্যাচ আমার ছাত্র হিসাবে পেয়েছি। ২৬ ও ২৭ নাম্বার ব্যাচের আমি ক্লাস নিতে পারি নি কারন আমি তখন পিজি কোর্সে ছিলাম আইপিজিএমআর (বিএসএমএমইউ) ঢাকায়। ৪৩ ও ৪৪ ব্যাচের ক্লাস আমি নিতে পারি নি কারন তারা তখন ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে। প্যাথলজি ক্লাস হয় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে। আমি নিজে ছিলাম এম-১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র। আমার মেয়ে ডাঃ মার্জিয়াও ১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্রী ছিল। তবে ময়মনসিংহে না দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের। যেহেতু ভুটানের ছাত্র লোটে শেরিং এম-২৮ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র ছিলেন সেহেতু তিনি আমার সরাসরি ছাত্র। আজ তিনি ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার মেডিকেল কলেজের আমারই সরাসরি একজন ছাত্র একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়াতে আমি গর্ববোধ করছি। সেই দেশেরই আমার আরেক ছাত্র এম-২৪ নাম্বার ব্যাচের ডাঃ টান্ডি দর্জি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরো ভালো লাগার কথা না? শুধু তাই না, খোদ বাংলাদেশেরই, এমনকি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপি-ও এম-৩০ নাম্বার ব্যাচের সরাসরি ছাত্র। এরা শুধু আমার ছাত্রই না আমার কলেজের ছোট ভাই। গর্বে প্রাণ ভরে যায়। আমি এখন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের টিচার । আগামী ১৪ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসে তার স্মৃতিমাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ভিজিট করবেন। সাক্ষাৎপ্রার্থির জন্য কড়াকড়ি নিয়ম। আমি অধ্যক্ষের নিকট অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। নাম ঠিকানা ও ৫ কপি ছবি জমা দিয়েছি চেষ্টকার্ড তৈরি করার জন্য। এই ৫ কপি ছবি নাকি ৫ স্তরের সিকিরুটির নিকট চলে যাবে। কত দামী আমার ছাত্রটি! Continue reading “আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে”

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের ঘোনারচালা প্রাইমারী স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে দেখি নি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি হাই স্কুলে গিয়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অটোপ্রমোশন নিয়ে ক্লাস সিক্স-এ ভর্তি হই কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ১৯৭২ সনের প্রথম দিকে। বাংলা পড়াতেন মাওলানা সালাউদ্দিন স্যার। তিনি ধর্ম বিষয়ে লেখাপড়া করলেও ধর্ম বিষয় পড়াতেন না। ধর্ম বিষয় পড়াতেন ইনসান স্যার এবং আব্দুল্লাহ স্যার। মাওলানা স্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পছন্দ করতেন। স্কুলে ছাত্র সংসদ ছিল। ছিল ভিপি, জিএস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। ক্লাস রুমের পার্টিশন খুলে দিয়ে রুম বড় করে হল রুম বানিয়ে আমরা অনুষ্ঠান করতাম। প্রতি বুধবার সাংস্কৃতিক সম্পাদক একটা হাফ খাতা হাতে নিয়ে ক্লাসরুমের সামনে এসে বলতেন Continue reading “আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান”