কোলকাতা ভ্রমণ

কোলকাতা ভ্রমণ
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কোলকাতা ভ্রমণ করেছি ২ বার। প্রথমবার জানুয়ারি ২০০৬ সনে এবং দ্বিতীয়বার ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সনে। প্রথমবার যখন কলকাতা ভ্রমনের ইচ্ছা করেছিলাম তার আগে সরকারি ছুটি ও ভিসা পাওয়ার জন্য ইন্টার্নেটে ভারতের কোথাও প্যাথলজিস্টদের কোন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আছে কিনা খোজ করছিলাম। একটা কনফারেন্স পছন্দ হলো। তারিখ জানুয়ারির ২৬-২৮, ২০০৬ সন। স্থান কলকাতা। কনফারেন্সের টাইটেল “INTERNATIONAL CME 2006” সংক্ষেপে “INTCME2006″। যৌথ ভাবে আয়োজন করা হচ্ছে ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন অব প্রেক্টিসিং প্যাথলজিস্ট এবং সোসাইটি অব Continue reading “কোলকাতা ভ্রমণ”

তিল কাটতে গিয়ে নাক কাটা

তিল কাটতে গিয়ে নাক কাটা
(রম্য)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

একবার এক কৃষক বেকি (বাগি) নিয়ে তিল কাটতে যাচ্ছিলেন। বেকি হলো কাস্তের মতো বাঁকা কিন্তু খুব ধারালো, অনেক লম্বা। এটা দিয়ে মূলত পাট কাটা হতো। পাট কাটা হয় দাঁড়িয়ে অথবা সামান্য বাঁকা হয়ে। বেকি দিয়ে পানির নিচে পাটের গোড়ায় ফেস দেওয়াও সুবিধা। অনেকেই পাট কাটার সময় পা কেটে ফেলতেন। তিল কাটতেও বেকি ও কাস্তে বা কাঁচি ব্যবহার করা হতো। তিল পাটের মতো লম্বা না। তবে সাধারণত কোমর পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছে তিল পাকার পর গাছের গোড়ায় কেটে আটি বেঁধে বাড়ি আনা হয়।

তো, একদিন সেই কৃষক বেকি হাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাঠের দিকে। পাশের বাড়ির এক মুরুব্বি জিজ্ঞেস করলেন,
– এই, বেকি নিয়ে কই যাচ্ছো?
– তিল কাটতে যাচ্ছি।
– সাবধান, তিল কাটার সময় নাক কেটে ফেলিস না যেনো।
– আচ্ছা।

লোকটি তিল খেতে গিয়ে মুরুব্বির কথাটা মনে করে বেকি হাতে নিয়ে “এই তিল” বলে বেকি তিল গাছের গোড়ায় ছোয়ালেন এবং “এই নাক” বলে বেকি নাকের আগায় ছোয়ালেন। নাকের আগা কেটে মাটিতে পড়ে গেলো। তিনি বলতে চেয়েছিলেন “এই তিল আর এই নাক, কাটবে কেমনে?” বলা শেষ করার আগেই নাক কেটে গেলো। মুরুব্বির সাবধান বাণী তার কাজে লাগলো না।

তিল কাটতে গিয়ে লোকটি নাক কেটে ফেললো। অথচ তিল কাটতে গেলে নাক কাটার কথা না। কথা ছিল পা কাটার।
১৮/৮/২০১৯ খ্রী

ফেইসবুকে ডেডবডির ছবি দেয়া প্রসংগে

ফেইসবুকে ডেডবডির ছবি দেয়া প্রসংগে

লক্ষ করা গেছে যে কেউ কেউ ফেইসবুকে মৃত্যু সংবাদ বা শোক সংবাদ প্রচারের সাথে মৃত ব্যাক্তির মৃত অবস্থার ছবি দিয়ে থাকেন।
আমি মনে করি, চেনার জন্য মৃত ব্যক্তির জীবিত কালের কোন একটি ভালো ছবি দেখানো যেতে পারে, মৃত অবস্থার না। অনেকেই মৃত অবস্থার ছবি দেখতে চান না। কিন্তু না চাইলেও তার সামনে ফেইসবুক পোস্টের ছবি এসে যায়। তাতে তিনি বিরক্ত বোধ করতে পারেন। বন্ধুত্বের খাতিরে হয়ত কমেন্টে তার অব্জেকশনটি লিখেন না। কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির জানাজায় এসে মৃত ব্যাক্তির মুখ দেখালেও তিনি দেখেন না। কারন, তিনি চান তার প্রিয় ব্যক্তিটির চেহারা তার হৃদয়ে জীবিত অবস্থার মতই থাকুক। মানুষ সবার শেষ দেখার চেহারাটাই বেশী মনে রাখে। ফেইসবুকে মৃত মুখ এসে গেলে সে তখন বিরক্তি বোধ করতে পারে। কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির খালি গায়ের ছবিও দিয়ে বসেন। আমার মতে, এটা মোটেও ঠিক না।

১৮/৮/২০১৯ খ্রী

ভি আই পি রুগী

ভি আই পি রুগী
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি। চাকরির নিয়ম কানুন কিছুই শেখা হয় নি। ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং-এর সময় চাকুরি বিধি ভালো করে শেখানো হয়। এমবিবিএস পড়ার সময় পরীক্ষা পাসের জন্য যেটুকু জানা দরকার তা শিখেছিলাম। রুগী ম্যানেজমেন্ট-এর বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল এসিস্টেন্ট-এর সাথে ডিউটি করে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং করা হতো। এখন ক্লিনিক্যাল এসিস্টেন্ট (সিএ)-কে এসিস্টেন্ট Continue reading “ভি আই পি রুগী”

দিল্লী -জয়পুর -আগ্রা ভ্রমণ

দিল্লী -জয়পুর -আগ্রা ভ্রমণ
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে কলোকাতা থেকে দিল্লী পৌছলাম ৩১/১/২০০৯ তারিখে। দিল্লী পৌছে ট্রাভেল এজেন্ট-এর সাথে কন্ট্রাক্ট করলাম আমাদেরকে দিল্লী, জয়পুর ও আগ্রা ভ্রমণ ও থাকার ব্যবস্থা করতে। দুপুর ২ টার দিকে দিল্লী শহরের একটা চার তারকা হোটেলে নেয়া হলো একটা মাইক্রোবাসে করে। হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। বিকাল ৫ টার দিকে সঞ্জয় নামে একজন ২৫/২৬ বছরের যুবক এলেন ৮ সীটের একটা টাভেল কার নিয়ে। বললো “আমাকে আপনাদের জন্য সার্বক্ষণিক ট্রাভেল গাইড ও ড্রাইভার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আমি আপনাদেরকে দিল্লী, জয়পুর ও আগ্রা দেখাব। যতদিন আছেন Continue reading “দিল্লী -জয়পুর -আগ্রা ভ্রমণ”

মাথা থেঁতলানো এক রুগী

মাথা থেঁতলানো এক রুগী
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৮৭ সনের দিকে আমি যখন টাংগাইলের নাহার নার্সিং হোমের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছিলাম তখন একজন রুগীর গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি অপারেশন হয়েছিল। প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন করালেও তার আর্থিক অবস্থা তত ভালো ছিল না। ক্রনিক ডিওডেনাল আলসার রুগীর চিকিৎসা না করালে আলসার শুকিয়ে এক সময় পাকস্থলীর শেষের অংশ অর্থাৎ পাইলোরিক পার্ট সরু হয়ে যায়। তখন বলা হয় পাইলোরিক স্টেনোসিস। এই অবস্থায় পাকস্থলীর খাবার সহজে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করতে পারে না। তাই বলা হয় গ্যাস্ট্রিক আউটলেট অবস্ট্রাকশন। রুগীর বমি হয়। পচা ঢেঁকুর উঠে। সার্জন অপারেশন করে পাকস্থালীর সাথে জেজুনামের (ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ) লাইন করে দেন। এটাকেই বলা হয় গ্যাস্ট্রোজেনোস্টোমি। সেই রুগীর আমরা এই অপারেশন করেছিলাম। সার্জন ছিলেন ডাঃ রেজাউল ইসলাম।বি এস এম এম ইউ-এর মাননীয় সাবেক ভিসি, বর্তমানে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান খান তখন টাংগাইলে মেডিকেল অফিসার ছিলেন। তিনি এবং আমি সহকারী সার্জন হিসাবে ছিলাম এই অপারেশনে। রহস্যজনক ভাবে লক্ষ করেছি লোকটাকে দেখতে আসার মতো তেমন কেউ ছিল না। তাই আমি তার বিশেষ যত্ন নিতাম। লোকটা খুব নিরিহ প্রকৃতির ছিল। বয়স ৫৪/৫৫ বছর হবে। Continue reading “মাথা থেঁতলানো এক রুগী”

মশা মারা

মশা মারা
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রথম স্প্রে মেশিন আমি দেখেছি খুব সম্ভব ১৯৬৪ কি ১৯৬৫ সনের দিকে। খুব ছোট ছিলাম আমি। মেঝ দাদার কাছারি ঘরে অনেক লোক এলেন স্প্রে মেশিন নিয়ে। সবার পিঠে একটা করে স্প্রে মেশিন ছিল। অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের মত সিলিন্ডার পিঠে ছিল। ডান হাতে ছিল পাইপ লাগানো স্প্রে এবং বাম হাতে ছিল পাম্পের হাতল। পাম্প করে সিলিন্ডারের ভিতর প্রেসার বৃদ্ধি করা হতো। স্প্রে টিগারে চাপ দিলে ফোস ফোস করে তরল কিটনাশক ছড়িয়ে পড়তো। এই দলের একজন প্রধান ছিলেন, তার বাড়ি ছিল ইন্দ্রজানি। আমি তার নাম জানি না। আমার ভগ্নিপতি মাওলানা সালাউদ্দিনের আত্বিয় হবেন। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারি চাকরি করতেন। সারাদেশ থেকে ম্যালারিয়া পারাসাইট প্লাসমোডিয়াম বাহী এনোফিলিস মশা নিধনের জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহন করেছিল। এক যোগে সারা দেশে মশার আবাসস্থলে কিটনাশক ডিডিটি পাউডার পানিতে গুলে স্প্রে করার প্রোগ্রাম করা হয়। একাজে সহায়তা করার জন্য স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে এলাকার যুবক শ্রেণীর লোক দিয়ে প্রতিটি ঘড়ের বেড়ার ভিতর ও বাহির এবং বাড়ির আশে পাশের আনাচে কানাচে ঝোপঝাড়ে ডিডিটি স্প্রে করা হয়। একসাথে ১২/১৩ জন যখন স্প্রে মেশিন নিয়ে বের হতেন তখন মনে হতো যে ইনারা যুদ্ধে বেরোচ্ছেন। আমার মনে আছে, এই বাহিনীতে জামাল ভাই, গাদু কাক্কু ও আবুল মামু ছিলেন। তারা সরকার থেকে টাকাও পেয়েছিলেন। এমন কাজ করে সরকার থেকে টাকা পেলে এখন আমরা আউট সোর্সিং বলি।
Continue reading “মশা মারা”

ঔষধ বানায় কি দিয়ে?

ঔষধ বানায় কি দিয়ে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রায় সব রোগই যেমন প্রাকৃতিক কোন না কোন কারনে হয় তেমনি প্রায় সব রোগের ঔষধই প্রকৃতিতে আছে। বেশীরভাগ রোগ শরীরে জীবাণু সংক্রমণের জন্য হয়। তাই শরীরে জীবাণু ধ্বংস কারী এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে সংক্রমণ ভালো করা হয়। শরীরে হরমোন কমে গেলে রোগ হয়। শরীরে হরমোন প্রয়োগ করে তাই চিকিৎসা করা হয়। নানান কারনে রক্তের প্রেসার বেড়ে হাইপারটেনশন রোগ হয়। এন্টিহাইপারটেনসিভ ড্রাগ দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমানো হয়। নানান কারনে শরীরে জ্বর হয়, শরীর ব্যাথা হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর কমানো হয়, ব্যথা কমানো হয় । এমন হাজারো সমস্যার আছে হাজারো ঔষধ । সবারই মনের একটা ইচ্ছা আছে ‘আমি যদি সব রোগের ঔষধ জানতে পারতাম।’ ডাক্তারগণ অনেক রোগের কারণ জানতে পেরেছেন, যেগুলি আবিষ্কার হয়েছে। আবার বেশ কিছু রোগের কারণ এখোনো আবিষ্কার হয় নি। এইগুলিকে বলা হয় ইডিওপ্যাথিক রোগ। অনেক রোগের ডায়াগনোসিস ডাক্তারগণ করতে পারেন। কিন্তু সব রোগের চিকিৎসা করতে পারেন না। কারন কিছু কিছু রোগের ঔষধ এখনো আবিস্কার হয় নাই। হলেও কিছু কিছু ঔষধের ক্ষেত্রে ভেজাল ঢুকে গেছে। চিকিৎসার জন্য যেমন ভালো ডাক্তার চাই, তেমনি ভালো ঔষধেরও প্রয়োজন। সবাই চায় হাতের কাছেই যদি ভালো ঔষধ পাওয়া যেতো।
Continue reading “ঔষধ বানায় কি দিয়ে?”

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জীবনে প্রায় সবারই জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। জ্বর কিন্তু কোন রোগের নাম নয়। জ্বর হলো রোগের একটি লক্ষণ। যে পর্যন্ত কি রোগের লক্ষণ হিসাবে জ্বর হয়েছে তা জানা না গেছে সে পর্যন্ত রোগীকে পাইরেক্সিয়া অব আননোন অরিজিন হিসাবে চিহ্নিত করে রুগীকে ইনভেস্টিগেশন করে জ্বরের কারন নির্নয় করা হয়। সাধারণত শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশন হওয়ার কারনে জ্বর হয়। ইনফেকশন থেকে ইনফ্লামেশন হয়। ইনফ্লামেশন স্থানে শরীর গরমকারী কেমিকেল মেডিয়েটর তৈরি হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শরীর গরম হয়। যাকে বলা হয় জ্বর। যারা ডাক্তার নন তারা সাধারণত রুগীর কপালে ডান হাতের তালু রেখে গরম অনুভুত হলে জ্বর বলে থাকেন। মায়েরা সন্তানের পেটে হাতের তালু রেখে বলেন যে তার সন্তানের জ্বর হয়েছে। আসলে হাত দিয়ে জ্বর দেখতে হলে হাতের আংলের পিঠের দিক রাখতে হবে কপালে। হাতের তালুয় সঠিক তাপমাত্রা অনুভুত হয় না। তাপমাত্রা সঠিক নির্নয় করার জন্য থার্মোমিটার প্রয়োজন। থার্মোমিটার বড়দের মুখে এবং বাচ্চাদের মলদ্বারে থার্মোমিটার রাখলে তাপমাত্রা বা জ্বর সঠিক মাপা হয়।
Continue reading “জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা”

কোহিনূর

কোহিনূর
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

এই কোহিনূরকে আপনারা চিনবেন না। এই কোহিনূর একজন গরীবের মেয়ে। দেখতে ছিল রবি ঠাকুরের গানের কৃষ্ণকলির মতো। তার বাবার কাছে ছিল বৃটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মোগল সম্রাজ্ঞীর ব্যবহার করা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হীরা কোহিনূরের মতো। ত্রিশ বছরেরও বেশী আগে আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছিল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসাবে। চিকিৎসা পেশার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকায় দুঃসাহসিক ইচ্ছা নিয়ে আমি সেই গ্রামের জরাজীর্ণ টিনসেড হাসপাতালে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা দিতে থাকি। পাশে একটা পরিত্যক্ত সরকারি বাসস্থান ছিল মেডিকেল অফিসারের জন্য। ইতিপূর্বে কোন এমবিবিএস ডাক্তার সেখানে পোস্টিং হয় নাই। আমিই প্রথম। ১০০ টাকা দামের চৌকি কিনে সেই বাসাতেই আমি থাকা শুরু করলাম। সাথে একটা রান্নাঘর ছিল। ওটার ভিতর কোহিনূরের বাবা ধানের ক্ষর রেখেছিলেন। আরেকটা বৈঠককখানা ছিল। ওটার ভিতর কোহিনূরের বাবা ধানের আটি রেখেছিলেন স্তুপ করে। বাড়ীর চারিদিকে পরিত্যক্ত সিমেন্টের খুটি ছিল টিনের বেড়ার। কিন্তু টিন ছিল না। একটা কামলা নিয়ে বাঁশ কিনে সেই খুটিতে বাঁশ বেঁধে বাঁশের উপর দিয়ে কলাপাতা ভাজ করে ঝুলিয়ে বেড়া তৈরি করালাম। বাড়ির পশ্চিমপাশ সংলগ্ন একটা বিরাট জমিদারি পুকুর ছিল। খুব স্বচ্ছ ছিল তার পানি। সেই পানিতে জ্যোৎস্নার আলো ঝলমল Continue reading “কোহিনূর”