পানি খেয়ে দম গেলো

পানি খেয়ে দম গেলো
(স্মৃতিচারণ)

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মতিউর রহমান তালুকদার ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। বাটাজোর তালুকদার বাড়ির। চান মিয়া তালুকদার সাহেবের ভাই। তিনি আমার পরিচিত ছিলেন। আমি যখন ১৯৮৬ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ইনসার্ভিস ট্রেইনিং করি সেই সময় তিনি আমাদের ইউনিটে ৭ নং ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। আমি ঐ ওয়ার্ড-এর ২২ নং বেডের রোগী পরীক্ষা করছিলাম। মতি ভাই ছিলেন ৩নং বেডে। ওয়ার্ডের গেইটের কাছেই। তিনি একুট এবডোমেন নিয়ে কনজার্ভেটিভ চিকিৎসাধীন ছিলেন। নাথিং বাই মাউথ অর্ডার ছিল। অর্থাৎ মুখ দিয়ে কিছু খাওয়া নিষেধ ছিল। আইভি ফ্লুইড দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ রগে সেলাইন দেয়া ছিল। এভাবে তাকে মুখে কিছু না দিয়ে আনুমানিক ১০-১২ দিন রাখা হয়েছিল। আমি দৈনিক তাকে কিছু সময় দিতাম। Continue reading “পানি খেয়ে দম গেলো”

ডাক্তার মৃত্যুর আভাস দিলেন

ডাক্তার মৃত্যুর আভাস দিলেন
(স্মৃতিচারণ)

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মঞ্জুরুল হক সাহেবের চেম্বার ছিল আমার চেম্বারের কাছেই। তিনি অনেক রোগী দেখতেন। তার চেম্বারে এটাচড টইলেট রুম ছিল না। মাঝে মাঝে আমার টয়লেট রুম শেয়ার করতেন। একদিন রাত ১১ টার দিকে তিনি দ্রুত বেগে আমার রুমে ঢুকলেন। তার পেছনে পেছনে দ্রুত এক বয়স্ক রোগীও ঢুকলেন। ডাক্তার সাব দ্রুত টয়লেটে ঢুকে পরলেন। আমি লোকটাকে বললাম Continue reading “ডাক্তার মৃত্যুর আভাস দিলেন”

মাটি ডলেছে কে?

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতেলের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগে আমার ইনসার্ভিস ট্রেইনিং চলছিল ১৯৮৬ সনে। আমরা ৫ নং ওয়ার্ডের ডক্টরস রুমে বসতাম। রুমের কাছেই এক রুগীর সীট ছিল। সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন হয়ে এক শিশু জন্মেছিল প্রফেসর ডাঃ জোবায়েদ স্যারের অধীন। ক্লিনিকাল এসিস্টেন্ট (সি এ) ছিলেন খুব সম্ভব ডাঃ আনন্দ দা। এখন সি এ কে এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার বলা হয়। আমি সি এ-র সাথে রাউন্ড দিতাম। নবজাতকের বড় বোনটির বয়স প্রায় ৫ ববৎসর ছিল। সারাক্ষণ কটকট করে কথা বলত। একবার মেয়েটি তার কাছে আসা তারই বয়সের আরেক মেয়ের কাছে বলছিল “একটা বাচ্চা মানুষ করা চাট্টিখানি কথা না। ” তার পাকা কথা শুনে আমরা আশ্চর্য হলাম। হয়ত সে বড়দের আলাপ শুনেছিল। বড়রা হয়ত এমন কথা বলেছিল। সেটাই নকল ক Continue reading “মাটি ডলেছে কে?”

জগের ভিতর আস্ত ডাব

(স্মৃতিচারণ)

জগের ভিতর আস্ত ডাব
ব্রিগেডিয়ার জহির স্যার ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক। তিনি তখন কর্নেল ছিলেন। সবাই সংক্ষেপে কর্নেল সাব বলতো। তিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং সাহসী পরিচালক ছিলেন। তার সময় চিকিৎসকগণ নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে কাজ করতেন। হাসপাতাল ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হাসপাতালে অহেতুক কোন লোক ঠুকতে পারত না। তিনি সারাক্ষণ একটা ছড়ি হাতে নিয়ে তিড়িংতিড়িং করে হাসপাতাল চষে বেড়াতেন। কর্মচারীরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতো। হাসপাতাল নোংরা হয় এমন কোন জিনিস গেইট দিয়ে ঢুকতে পারতো না। বিশেষ করে পান ও আস্ত ডাব কেউ নিয়ে ঢুকতে পারতো না। Continue reading “জগের ভিতর আস্ত ডাব”

গাছগুলি কেটে ফেলতে হবে

আমার ছোট মেয়ে ডাঃ মার্জিয়া ইসলাম দীনা তখন ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়তো। আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাসভবনে থাকতাম। মাঝে মাঝেমাঝে আমি তাকে স্কুলে নিয়ে যেতাম। বাসা থেকে কোয়ার্টারের গেইট পর্যন্ত হেটে গিয়ে রিক্সায় উঠতাম। কয়েকদিন একটানা হাল্কা বৃষ্টি হল। ছাতা মাথায় দিয়ে গেইট পর্যন্ত যেতাম। তাতে দীনার জামা কিছুটা ভিজে যেতো। কোয়ার্টার এরিয়ায় অনেক গাছ ছিল সুন্দর সুন্দর। দীনা বিরক্ত হয়ে বলল Continue reading “গাছগুলি কেটে ফেলতে হবে”