আবেগ, বেগ ও জীবনের প্রতিষ্ঠা

আবেগ, বেগ ও জীবনের প্রতিষ্ঠা
(প্রবন্ধ )
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমার এই লেখাটি মুলত স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। সবাই স্কুল কলেজে যাচ্ছে পড়াশুনা করার জন্য। প্রতি বছর পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে উপরের ক্লাসে ওঠছে। কারো কারো কাছে পড়াশুনা করে উপরের ক্লাসে ওঠাই উদ্যেশ্য। কারো কারো কাছে পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করাই উদ্যেশ্য। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগেই পড়াশুনা করে। কেউ কেউ বাবা-মার চাপে পড়ে পড়াশুনা করে। কেউ কেউ পরকালে সুখে থাকতে বা আত্বীয় সজনকে সুখে রাখতে পড়াশুনা করছে। কেউ কেউ বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে পড়াশুনা করছে। যে যে কারনেই পড়াশুনা করুক না কেনো পড়াশুনা করার একটাই উদ্যেশ্য থাকতে হবে, সেটা হল ভালো মানুষ বা আলোকিত মানুষ হয়ে যে কোন পেশায় প্রতিষ্ঠা লাভ করা। পেশা আছে অসংখ্য। স্কুল কলেজে পড়া অবস্থায়ই মনস্থির করতে হবে কি পেশায় তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এমন পেশা পছন্দ করতে হবে যেন জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়ে হিসাব করে বলা যায় তার কর্মময় জীবনে কি করা হয়েছে। পৃথিবীকে কি দেয়া হয়েছে। তার নিজের কাছেই যেন নিজের কর্মময় জীবনের জন্য ভালো লাগে। একজন ১০০ বছর আয়ু প্রত্যাশী মানুষ ৩০ থেকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত কর্মময় জীবন আশা করে। অনেকেই কাছের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে দেখে নিজেরটা ঠিক করে। অনেকের বাবা-মা ঠিক করে দেন কি পেশায় তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। বাবা-মাও হয়ত কাছের প্রতিষ্ঠিত মানুষদের দেখে সন্তানদের জীবনের উদ্যশ্য ঠিক করে দেয়। সব যুগে সব পেশার চাহিদা এক রকম থাকে না। এজন্য আগাম কিছুটা ধারনাও রাখতে হয় তার পেশার ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে। প্রতিষ্টিত হতে পারলে কোন পেশাই কোন পেশার চেয়ে কম না। এজন্য একটু বাড়তি পড়াশুনা করতে হবে কোন পেশার কি কাজ এবং সেই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কি কি যোগ্যতা থাকতে হয় এবং কি কি ভাবে তা অর্জন করা যায়। আবার এটাও দেখতে হবে যে পেশাটি পছন্দ করা হচ্ছে সেই পেশার পড়াশুনায় তার আদৌ আগ্রহ আছে কি না। ভালো না লাগলে আগেই সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হবে। যে বিষয়ে মন থেকে বেশী ভালো লাগে সেই বিষয়ই বেছে নিতে হবে। অভিষ্ট লক্ষে পৌছার জন্য যা যা করনিয় তা ঠিক সময়ে করতে হবে।

অভিষ্ট লক্ষ হল তীর ধনুক খেলার মতো। যিনি তীর ছোড়েন তার কাজ হল সোজাভাবে ধনুক থেকে ছুটে গিয়ে টার্গেট বা লক্ষস্থানে তীর লাগা। ছাত্র ভবিষ্যতে যা হতে চাইবে তা হল টার্গেট বা লক্ষ। ছাত্রটি হলো এখানে তীর। ছাত্রের জন্য ধনুক কি সে বিষয়ে পরে আসছি।

এখন আসছি এই অভিষ্ট লক্ষে পৌছতে গেলে কি কি করতে হবে। অবশ্যই সেই বিষয়ে বেশী বেশী শিখতে হবে। সেই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত মানুষের জীবনী সম্পর্কেও পড়তে হবে। যেমন, যারা রাজনীতিবিধ হতে চায় তাদেরকে বড় বড় দেশী বিদেশী রাজনীতিধদের জীবনী পড়ে জানতে হবে। যারা ডাক্তার হতে চায় বড় বড় নামকরা দেশী বিদেশী ডাক্তারদের জীবনী জানতে হবে। যারা ধর্মীয় বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত বক্তা বা শায়খ হতে চায় তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত বক্তা বা শায়খগনের জীবনী পড়তে হবে, জানতে হবে। এই রকম যে যে বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে চায় সেই সেই বিষয়ের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির জীবনী জানতে হবে।

এখন আসছি আবেগ ও বেগ কিভাবে জীবনের প্রতিষ্ঠা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। অভিষ্ট লক্ষে পৌছতে হলে আবেগ পিছনের দিকে টেনে ধরে। প্রতিষ্ঠা পেতে হলে বেশী আবেগ থাকতে নেই। যেমন, দেখা গেলো আগামীকাল ফাইনাল পরীক্ষা। কোন কারনে বাবায় একটু বকা ঝকা করেছে। অভিমান করে ছাত্র না খেয়ে না পড়ে ঘুমিয়ে পড়লো। পরীক্ষা খারাপ হলো। অথবা আগামীকাল প্রমোশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা ইন্টার্ভিউ আছে। মামা মারা গেলেন। কান্নাকাটি করে ইন্টার্ভিউ না দিয়েই বাড়ী চলে এলেন। এখানে আবেগ কাজ করেছে। আবেগ না থেকে যদি শুধু বেগ থাকতো তবে ইন্টার্ভিউ দিয়ে প্রমোশন নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতো। কাজেই বেগ মানুষকে অভিষ্ট লক্ষের দিকে নিয়ে যায়। আর আবেগ পিছনের দিকে টেনে ধরে। আবেগপ্রবণ মানুষের মানষিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে না। তারা হৃদরোগ ও স্নায়ু রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। অভিষ্ট লক্ষে পৌছতে হলে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকতে হয়।

জীবনের লক্ষে পৌছতে হলে তীরের মত সোজা যেতে হবে। তীর ছোড়ার সময় তীরের পিছনে ধনুকের সাপোর্ট বা ঠেলা বা সহযোগীতা লাগে। প্রতিটা রাস্ট্র পরিচালনা করেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিধ। প্রতিটা নাগরিকের ভিতর রাজনীতির আদর্শ ও পছন্দ থাকে। এই রাজনীতি ও রাজনীতিবিধরা নাগরিকের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধনুকের মতো কাজ করে।

কাজেই, জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে ভালো আদর্শের রাজনীতির সাপোর্টার হতে হবে, পেছনে ভালো ক্ষমতাবান রাজনীতিবিধের সাপোর্ট থাকতে হবে, আবেগ থাকা যাবে না শুধু থাকবে বেগ, তীরের বেগ।


তারিখ : ৮/৫/২০১৯ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ জার্নি