ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা

ফেইসবুক পোস্টের প্রাইভেসি ও শেয়ার করা
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ফেইসবুকে যেকোনো একটা পোস্ট দেয়ার আগে প্রাইভেসি সেট করে নিতে হয়। এটা নির্ভর করে যিনি পোস্টটি দিচ্ছেন এটি কে কে দেখতে পারবেন তার উপর । একটা অপশন আছে ‘me only’। এটা সেট করা হলে নিজে ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবে না। কিছু কিছু নিজের দরকারি তথ্য আছে যেগুলি অন্যের প্রয়োজন নাই। তাহলে অন্যকে দেখায়ে তার সময় ও পয়সা কেনো নষ্ট করা হবে? মনে করতে হবে, যে কোন পোস্ট পড়ে একজন কিছু সময় ব্যয় করে। পোস্ট পড়তে কিছু ডাটা খরচ হয়। ডাটা খরচ হওয়া মানে টাকা খরচ হওয়া। একটা অতি গোপনীয় তথ্যও এই অপশনে রেখে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে বন্ধুদের জন্য। আরেকটা অপশন আছে “Friends”। এই অপশন সেট করা হলে শুধু ফ্রেন্ড লিস্টে যারা আছে তারাই দেখতে পারবে। এই ধরনের পোষ্ট দেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে এটা আমার সব ফেইসবুক বন্ধু দেখার মতো কি না। আমি আমার শিক্ষক, ক্লাসমেট, বন্ধু, আত্বীয় ও অপরিচিত অনেককেই ফেইসবুক ফ্রেন্ড হিসাবে লিস্টে রেখেছি। তাই বলে কি আমি আমার ক্লোজ বন্ধুদেরকে যা দেখাতে পারবো তা সব বন্ধুকে দেখাতে পারব? আমার ছাত্ররা তাদের নিজেদের মধ্যে হাল্কা তামাশা করে নানা রকম পোস্ট দেয়। যেগুলি হয়তো বাস্তবে আমার সামনে করবে না। তাহলে ফেইসবুকে কেন সেটা দেখাবে। অথবা তার বন্ধুকে নিয়ে শর্ট ড্রেস পরে কিছু ছবি পোস্ট করলো। বাস্তবে কি আমার সামনে এই ভাবে দাড়াতে পারবে? তবে ইচ্ছা হলে ক্লোজ বন্ধুদের কাছে মেসেঞ্জারে শেয়ার করতে পারা যায়। “Friends except” নামে একটা অপশন আছে। এই অপশনে দেখে দেখে কয়েকজন ফ্রেন্ডকে পোস্ট দেখা থেকে বাদ দেয়া যেতে পারে। আরেকটা অপশন হলো “Public”। মানে সবাই দেখতে পারেন। এই পোস্টগুলি নিজের লিস্টের সব ফ্রেন্ড ও ফলোয়ারদের নিউজ ফিডে চলে যায় এক যোগে। এই ধরনের পোস্ট অধিকাংশ ফেইসবুক ইউজারদের উপকারে আসতে পারে মনে করে ছাড়া হয়। নিজের চিন্তাধারা বা মতামত অনেক মানুষের সাথে শেয়ার করাই পাবলিক পোস্টের উদ্দেশ্য।

নিজের কথা অন্যকে জানানোকে শেয়ার করা বলা হয় সামাজিক মাধ্যমে। প্রাইভেসি সেট করে আমরা নিজের মনের কথা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকি। অন্যের পোস্টও ভালো লাগলে শেয়ার করা যায়। পোস্টে শেয়ার অপশন থাকে। এর মানে হলো আমরা নিজেদের টাইম লাইনে এটা শেয়ার করতে পারি, কপি পেস্ট করে নয়, শেয়ারে ক্লিক করে। তাতে পোস্ট দাতার নাম ছবি সহ হুবহু পোস্ট ইউজাররা দেখতে পারে। ফেইসবুক পোস্ট একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি। শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করে এই প্রোপার্টির আইন লংঘন হয় না। যদি শেয়ার অপশন না থাকে তবে মনে করতে হবে পোস্ট দাতা চান না এটা কেউ শেয়ার করুক। কিন্তু আমরা দেখতে পাই কেউ কেউ অন্যের পোস্ট কপি পেস্ট করে শেয়ার করছেন। এতে কপিরাইট আইন লংঘন হচ্ছে। কি দরকার, একজন যেটা চান না সেটা করতে। কেউ কেউ মনে করেন পেস্ট করে পোস্ট দাতার নাম লিখে দিলেই হবে। তাও ঠিক না। তবে অন্য কোনভাবে অনুমতি নেয়া হলে অসুবিধা নাই।

যিনি পোস্টে প্রাইভেসি দিয়ে রেখেছেন ফ্রেন্ড অনলি হিসাবে। সেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে পাবলিকের কাছে শেয়ার করাও ফেইসবুক প্রাইভেসি আইনের পরিপন্থী।

তাই নিজের বা অন্যের কোন পোস্ট শেয়ার করার সময় প্রাইভেসির কোন ক্ষতি করা হচ্ছে কিনা ভেবে নিতে হবে।
২৭/৮/২০১৯ খ্রী.

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমরা নিজের ছবি ছাড়াও অন্যের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে থাকি। নিজের সাথে অথবা পৃথক ভাবে। যেভাবেই দেই অন্যের ছবি দেয়ার ব্যাপারে কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। এমন কোন ছবি দেব না যাতে যার ছবি তিনি মনে কষ্ট পাবেন বা তার অসম্মান হয়। যেমন, একটি সভা চলছে। প্রধান অতিথি ভাষন দিচ্ছেন। সভাপতি ঘুমুচ্ছেন মঞ্চে বসে। অথবা নাকের পশম ছিড়ছেন। অথবা কানে আঙুল দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন। এই ছবি সভার নিউজের সাথে ফেইসবুকে পোস্ট করা হলো। এই ক্ষেত্রে একজনের ভালো করতে গিয়ে আরেকজনের ক্ষতি করা হল। সিলেটের জাফলং গিয়ে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি হাফপ্যান্ট পরে খালি গায় পানিতে পাথরের উপর গড়াগড়ি করলেন আনন্দ করে। বুড়াকালে একটু দূরে গিয়ে আনন্দ করলেন। কয়েকজন পাকা লম্বা দাড়িওয়ালা লোককে এ অবস্থায় দেখে একজনের ভালো লাগলো। ছবি তুলে দিয়ে দিলেন ফেইসবুকে। এলাকার মানুষ ফেইসবুকে তাদেরকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে কি মনে করবেন? এলাকায় এসে কি তারা সবার সামনে খালি গায় গড়াগড়ি পারবে?

অনেকসময় স্কুল কলেজে সাংস্কৃতিক নাইটে ডাঞ্চের সাথে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে কোন কোন শিক্ষক নেচে গেয়ে আনন্দ দেন। সেই সময় সেই পরিবেশে ব্যাপারটা তেমন বেমানান না। কিন্তু সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিলে বেমানান।

একবার একজনে একটি কলেজের ছবি পোস্ট দিয়েছিল ফেইসবুকে। সেই ছবিতে দুইজন ছাত্র ছাত্রী ছাদের বারান্দায় বসেছিল। যিনি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি সেটা লক্ষ করেন নাই। এই পোস্ট নিয়ে আপত্তি হয়েছিল।

কোন কোন সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ আসামী ধরে হাতকরা পরিয়ে নিয়ে যান। সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দেয়া ঠিক না। দেখা গেছে অনেকেই এমন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। কিন্তু তার আগেই ফেইসবুকে তাকে বেইজ্জতি করা হয়ে গেছে।

অনেকে তাদের নাতি পুতিদের উলঙ্গ ছবি ফেইসবুকে দিয়ে মজা পান। এই ছবিগুলি সেই নাতি বা নাত্নি বড় হওয়া পর্যন্ত থেকে যাবে। সেই ছবি দেখে কি সে লজ্জা পাবে না?

মনে করেন আপনার বান্ধবী মুসলিম কিন্তু হিজাব পরেন না। এই অবস্থার একটি ছবি আজ আপনি পোস্ট দিলেন। পাচ বছর পর সেই বান্ধবি সংসারি হয়েছেন এবং হিজাব পরেন। তখন যদি আপনার ফেইসবুক থেকে তার আগের দিনের ছবি ভাইরাল হতে থাকে তবে কি তিনি অসন্তুষ্ট হবেন না?

তাই, আমার মতে অন্যের ছবি পোস্ট করার আগে একটু ভেবে নিতে হবে।
২৩/৮/২০১৯ খ্রী.

 

ফেইসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করা

ফেইসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করা
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

যারা ফেইসবুক ব্যবহার করে তাদের প্রায় সবার হাতেই মোবাইল ফোন থাকে। বিভিন্ন ইভেন্টে নিজের ছবি তুলে অনেকেই টাইমলাইনে পোস্ট দিয়ে বন্ধুদের শেয়ার করে থাকেন। ছবি দেখে বন্ধুরা লাইক, কমেন্ট করে। লাইক অপশন আছে, কিন্তু ডিজলাইক অপশন নাই। তাই অনেকে লাইক বাটনে ক্লিক করে লাইক কাউন্ট বাড়িয়ে দেন কিন্তু অপছন্দ হলেও ডিজলাইক করে কাউন্ট কমিয়ে দিতে পারেন না। কেউ কেউ কেউ লাইক করলেও লাইক-এ ক্লিক দেন না। তাদের অন্তরে জুজুর ভয়। হায়, লাইক দিলে আবার কে বেজার হয়! আবার কেউ কেউ ডিজলাইক করলেও চামচামি করে লাইক দিয়ে দেন। কাজেই ছবি তুলেই ফেইসবুকে পোস্ট করে ফেলা ঠিক না। ভেবে দেখতে হবে যে ছবিটি পোস্ট করছি সে ছবিটি কারা কারা দেখতে পারে? তাদের মধ্যে অধিকাংশ ফ্রেন্ড কি ছবি দেখে খুশি হবে? যে অবস্থায় বা যে ড্রেস পড়ে ছবি উঠানো হয়েছে, বাস্তবে সেই অবস্থায় কি ঐ বন্ধুর সামনে দেখাতে পারবে। যেমন, মি. আবুল সাহেব সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শর্ট প্যান্ট পরে খালি গায় পানিতে নেমে ছবি তুলে পোস্ট করে দিলেন। অনেকেই লাইক দিলেন। কিন্তু কেউ খারাপ কমেন্ট করলেন না। তাই বলে কি ছবিটি দেখানো ঠিক হলো। বাস্তবে বি এই ড্রেসে তিনি তার সামনে যেতে পারবেন? ছবি দেখে তিনি কি লজ্জা পাবেন না?

কেউ কেউ বিয়ের মঞ্চে নতুন বউয়ের সাথে বিভিন্ন ভংগিতে ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়ে দেন। ফেইসবুকে এমনও ফ্রেন্ড তার আছেন যিনি এই ছবি দেখে লজ্জা পাবেন। অনেকের বাবা মা আছে তাদের ফেইসবুক ফ্রেন্ড। তারাই বা কি মনে করবেন।

বন্ধুদেরকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে দুই একটি ছবি পোস্ট করা যেতে পারে। তাই বলে সকালে একটা বিকেলে একটা ছবি দিবেন? হে, ছবির সাথে যদি আরো দেখার মতো কিছু থাকে তাহলে তা দেয়া যেতে পারে। যেমন, তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি দিলেন। তাকেও দেখা হলো, তাজমহলকেও দেখা হলো।

আসুন আমরা বেহুদা ছবি পোস্ট করা থেকে বিরত থাকি।
২৩/৮/২০১৯ খ্রী.

 

ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার

ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ফেইসবুক বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় এবং ব্যবহার যোগ্য ওয়েববেইজড ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের অনেক বন্ধু আছে তারা ফেইসবুক ব্যাবহার করে না। তারা ফেইসবুক কি তা বুঝে না অথবা ফেইসবুক ভালো না মনে করে ফেইসবুক করতেও চায় না। যারা না পারে তারা লোকমুখে শুনে শুনে এর ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করে। নানা রকম মন্তব্য করে বসে, যেমন, Continue reading “ফেইসবুক ও এর প্রোফাইল পিকচার”

ফেইসবুকে ডেডবডির ছবি দেয়া প্রসংগে

ফেইসবুকে ডেডবডির ছবি দেয়া প্রসংগে

লক্ষ করা গেছে যে কেউ কেউ ফেইসবুকে মৃত্যু সংবাদ বা শোক সংবাদ প্রচারের সাথে মৃত ব্যাক্তির মৃত অবস্থার ছবি দিয়ে থাকেন।
আমি মনে করি, চেনার জন্য মৃত ব্যক্তির জীবিত কালের কোন একটি ভালো ছবি দেখানো যেতে পারে, মৃত অবস্থার না। অনেকেই মৃত অবস্থার ছবি দেখতে চান না। কিন্তু না চাইলেও তার সামনে ফেইসবুক পোস্টের ছবি এসে যায়। তাতে তিনি বিরক্ত বোধ করতে পারেন। বন্ধুত্বের খাতিরে হয়ত কমেন্টে তার অব্জেকশনটি লিখেন না। কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির জানাজায় এসে মৃত ব্যাক্তির মুখ দেখালেও তিনি দেখেন না। কারন, তিনি চান তার প্রিয় ব্যক্তিটির চেহারা তার হৃদয়ে জীবিত অবস্থার মতই থাকুক। মানুষ সবার শেষ দেখার চেহারাটাই বেশী মনে রাখে। ফেইসবুকে মৃত মুখ এসে গেলে সে তখন বিরক্তি বোধ করতে পারে। কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির খালি গায়ের ছবিও দিয়ে বসেন। আমার মতে, এটা মোটেও ঠিক না।

১৮/৮/২০১৯ খ্রী

নবাগত এমবিবিএস ছাত্রছাত্রীদের প্রতি

নবাগত এমবিবিএস ছাত্রছাত্রীদের প্রতি
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজ থেকে ৩৯ বছর আগে আমি তোমাদের মতই মহান চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। তোমরা আমার পেশা শিক্ষা করার জন্য মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছ। তোমাদের স্বাগতম জানাচ্ছি। আমি এই পেশায় আসতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি এবং মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। তোমরাও এই পেশায় আসতে পেরেছ বলে নিজেকে ধন্য মনে করবে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
Continue reading “নবাগত এমবিবিএস ছাত্রছাত্রীদের প্রতি”

জাহাংগীরনগর

জাহাঙ্গীরনগর
(বিবিধ)
মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তার শৈশবের বন্ধু এবং সেনাপতি শেখ আলাউদ্দিন চিশতীকে ইসলাম খান নাম দিয়ে ১৬০৮ সনে বাংলার সুবেদার করে পাঠান। তিনি ছিলেন সেলিম চিশতীর নাতী। বাংলার বড় ভুঁইয়াদের বাধার মুখে ঢাকা Continue reading “জাহাংগীরনগর”