জানালা দিয়ে দেখলাম

জানালা দিয়ে দেখলাম
(নিজের চোখে দেখা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
আমি ১৯৯৩ জুলাই থেকে ১৯৯৫ জুলাই, এই দুই বছর পিজির “এ” ব্লকের হোস্টেলের চতুর্থ তলার উত্তর পাশের এক রুমে থাকতাম। উত্তর পাশের জানালা দিয়ে বটতলা চত্ত্বর, এ ও বি ব্লকের মাঝের খালি মাঠ ও বি ব্লকের বারান্দা দেখা যেতো। আমরা যেটাকে পিজি বলতাম সেটার পূর্ণ নাম ছিল ইন্সটিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ, সংক্ষেপে আইপিজিএমআর। তখন অন্যান্য ইন্সটিটিউটের মতো এটাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ছিলো। তাই, এর কিছুটা দৈন্যদশা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়ে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর দৈন্যদশা দুর হয়। এখন এর নাম হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সংক্ষেপে বিএসএমএমইউ।
অফিস টাইমে বটতলা চত্ত্বর জমজমাট থাকতো। পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্ররা বসে বসে ঝালমুড়ি, ছোলা বুট ও বাদাম খেতো। জানালা দিয়ে দেখা যেতো। আমার হোস্টেল বিল্ডিং এর সেপ্টি টেংকি একটা ঢাকনা ছিলো না। আগের দিনে এটা একটা কমন দৃশ্য ছিল। এই ঢাকনাগুলো নেশা খোররা তুলে বিক্রি করে নেশা করতো। হাসপাতালের আউটডোর টয়লেটের মেটালিক টেপ একটাও থাকতো না। নেশাখোররা নিয়ে বিক্রি করে নেশা করতো। ঐ ম্যানহোলের ঢাকনা দিয়ে পায়খানার দুর্ঘন্ধ বের হতো। সেইখানে এসে বসতো স্কুল ড্রেস পড়ুয়া দুইজন ছেলে মেয়ে। সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটা /পাচটা পর্যন্ত কি আলাপই যে তারা করতো! তাদের নাক দিয়ে পায়খানার দুর্ঘন্ধ প্রবেশ করলেও তারা কাবু হতো না। এমন নেশায় কাটতো তাদের সময়। নিজ চোখে তাদের এমন ধৈর্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। দুজন যুবক আসতো বিকেল তিনটার পর। তাদের দেখে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান বলে মনে হতো। তাদের পরনে কাবুলি কুর্তা থাকতো। বি ব্লকের কার্যক্রম বিকেল তিনটার পর শেষ হয়ে যেতো। এসময় বারান্দায় কেউ থাকতো না। এখন যেখানে কেন্টিন হয়েছে। সেই বারান্দায় আসন বিড়ায়ে বসতো যুবক দু’জন। পকেট থেকে কি যেনো বের করে বাম হাতের তালুতে নিয়ে বুইড়া আঙ্গুল দিয়ে তামাক ডলার মতো করে ডলতো। কাগজের মধ্যে আগুন ধরিয়ে নাক দিয়ে ধুয়া নিতো। কোন কোন সময় কাগজ মুড়িয়ে বিড়ি বানিয়ে টানতো। তারা প্রতিদিন এই বিকেল বেলায় এই কাজ করতো। এটাকে আমার কাছে রহস্যময় মনে হতো। আমার কাছে মনে হলো এরা নেশা করছে। রহস্যটা বুঝার জন্য আমাদের পিজিতে পড়ুয়া এক ডাইলখোর ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করলাম ওরা কি করে? ডাইলখোর বললেন যে ওরা হিরোইন সেবন করে। যারা ফেসসিডিলে আসক্ত ছিলো তাদেরকে ডাইলখোর বলা হতো। ফেন্সিডিলে নাকি হালকা নেশা হয়। তাই, ফেন্সিফিডিলের নেশাখোররাও পড়াশোনা করতে পারতেন। এভাবে আমি ঐ দুই যুবককে অনেকদিন হিরোইন খেতে দেখেছি। কাউকে কিছু বলিনি। শুধু আমার পোস্ট গ্রাজুয়েট এম ফিল (প্যাথলজি) পড়া পড়েছি।
বি ব্লকের পশ্চিম গেটের রাস্তার পাশে ছোট একটা পাটি বিছিয়ে এক ফকির বসে ফকিরান্তি করতেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হতাশাগ্রস্ত রোগীরা এই ফকিরের কাছে এসে বসতো। ফকির পানি পড়া নিতেন। তাবিজ দিতেন। রাতে তিনি বি ব্লকের বারান্দায় পাটি বিছিয়ে ঘুমাতেন। হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতেন। সকালে টয়লেটে গোসল করে বারান্দায় পাটিতে বসে সারা শরীরে তেল মাখতেন। লুঙ্গি পরে খালি গায়ে থাকতেন। সাথে একটা সাপের পতো লাঠি থাকতো। কাপড়ের একটা ঝোলাও ছিলো কাবুলিওয়ালার মতো। মাথায় বাবরি চুল ছিলো। তার শরীর পরিস্কার ছিল। তেল মেখে তেলে তেলে থাকতেন। মাড়িতে দাঁত ছিলো না, কিন্তু তিনি তত বৃদ্ধও ছিলেন না। হাসপাতালের একটা আয়াকে প্রায় প্রতিদিন তার কাছে বসে অনেকক্ষণ গল্প করতে দেখেছি নিজ চোখে জানালা দিয়ে। মেয়েটার দুই আড়াই বছরের এক বাচ্চাও ছিলো। বাচ্চাটাকে ফকিরের পিঠ ঘেঁষে খেলা করতেও দেখেছি।
একদিন আমার কৌতুহল জাগলো ফকিরের সাথে কথা বলতে। ক্লাস থেকে ফেরার সময় লোকটার কাছে গিয়ে জিগালাম
– আপনার বাড়ি কোথায়?
– জি, আমি এই হানেই থাহি।
– তা বুঝলাম। আপনার জন্ম স্থান কোথায়?
– জি, আমার বাড়ি যশোর জেলায়।
যশোর না অন্য জেলায় আমি এখন মনে করতে পারছি না।
– আপনি এখানে থাকেন কেনো?
– আমিতো ফকির, বাবা!
– আপনার ছেলে মেয়ে নাই?
– আছে। ছেলেও আছে মেয়েও আছে আল্লাহর মাল।
– বাড়ি ঘর নাই?
– বাড়ি আছে।
– তয় এখানে পড়ে থাকেন কেনো?
– আমিতো ফকির !
– আপনার ছেলেরা কিছু করেন না?
– আমার দুই ছেলেই মাশাল্লাহ চাকরি করে। একছেলে আর্মিতে চাকরি করে। আরেক ছেলে মীলে চাকরি করে। ভালাই বেতন পায়।
– তারপরও আপনি এভাবে বারান্দায় ঘুমান। আর সারাদিন মাঠে পাটি বিছিয়ে বসে থাকেন।
– বাবা, আমিতো ফকির !
তিনি দাঁতের মুথুল্লা বের করে চোখটাকে এমন ভাব করে ‘আমিতো ফকির ‘ কথাটা বলেন যে ওটা আপনাকে বলে আমি বুঝাতে পারবো না।
– আপনার এখানে একটা মেয়ে একটা বাচ্চাসহ আসে। ওটা কে হয় আপনার?
– ও এখানকার হাসপাতালের আয়া। ঐ মেয়েটার দুনিয়ায় কেউ নাই। আয়ার কাম কইরা খায়। আমার কাছে আহে। বাবা ডাকে আমারে। বাচ্চাডায় আমারে নানা ডাহে। মেয়েডা খুব ভালা।
– আপনি যে বাড়ি ছেড়ে এখানে পড়ে থাকেন আপনার চাকরি করা ছেলেরা লজ্জা পান না?
– লজ্জা পাবো কেন? আমি তো ফকির ! এই কইরাই আমি তাগরে পড়াইছি।
ফকিরের সাথে কথায় না পেরে আমি হোস্টেলে চলে গেলাম। জানালা দিয়ে ফকিরের দিকে চেয়ে থাকতাম আর বিচিত্র মানুষের কথা ভাবতাম। আয়া বেটির কথাও ভাবতাম। দুনিয়ায় তার কেউ নাই। আল্লাহ তাকে ফকির বাবা জোগার করে দিয়েছে। বাচ্চাটাকে নানা বানিয়ে দিয়েছে আল্লাহ।
আমি ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়েই পড়তে বসতাম। পড়তাম বিছানায় বসে। একদিন এভাবে জানালার পাশে বসে পড়ছিলাম। অনেকে তখনও ঘুমাচ্ছিলো। বাইরে কেউ ছিলো না। বি ব্লকের বারান্দায় পাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে ফকির বাবা বিড়ি টানছিলেন। দুই তিন ফুট দূরে বারান্দার কিনারে পা ঝুলিয়ে বসা ছিলো এক টোকাই। টোকাই বসে বসে ঝিমাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল তার ঘুম ভাঙ্গেনি এখনো। হয়ত ফকির বাবার অদূরেই সে খালি বারান্দার মেঝেতে ঘুমিয়েছিল গত রাতে। ছিন্নমূল শিশুদের তখন টোকাই বলা হতো। তারা সারাদিন হাবিজাবি জিনিসপত্র টুকিয়ে ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে ভাত রুটি কিনে খেয়ে জীবন বাচাত বলে তাদেরকে টোকাই বলা হতো। টোকাইদের নিয়ে প্রতিদিন চিত্রশিল্পী রফিকুন্নবী (রনবী) কার্টুন আঁকতেন। কার্টুনের টোকাইদের উক্তির মাধ্যমে শিল্পী সমাজের অনেক অসংগতি তুলে ধরতেন। তারপর সরকার এদের নাম দেয় পথশিশু। পথশিশুদের অনেককেই পূনর্বাসনের ব্যাবস্থা করে সরকার, কিছু করে বিদেশি সংস্থা, কিছু পাচার হয়ে যায়। এখনো কিছু কিছু পথ শিশু আছে। যাহোক, সেই টোকাইর বয়সটা হয়তো আট কি দশ বছর হবে। তাকে দেখে আমার খুব মায়া হলো। খালি গায়। পরনে কুড়িয়ে পাওয়া নোংরা পুরাতন প্যান্ট। তাকে নিয়ে অনেক্ক্ষণ ভাবলাম। কে তাকে জন্ম দিয়েছিল, কে তাকে পেটে ধারণ করেছিলো, মায়ের স্নেহ সে পায় নি, বাবার আদর ও শাসন কি সে তা পায় নি। পশু পাখির মতো তার দিনের খাবার দিনে যোগার করতে হয়। এমন ভাবনা তাকে নিয়ে ভাবছিলাম আর তাকে দেখছিলাম জানালা দিয়ে। ছেলেটা এদিক সেদিক নড়াচড়াও করছিলো না ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে। ফকির বাবা দীর্ঘ সময় বিড়ি টানলেন। অনেকে পায়খানার বেগ আনতেও বিড়ি টানে। এমনও হতে পারে পায়খানার বেগ আনতে বিড়ি টানছিলেন। বিড়িটানা শেষ করে সবকিছু ভাজ করে ঝুলিতে ঢুকালেন। ঝুলি থেকে কাশার লোটা বের করে লোটা নিয়ে তিনি টয়লেটে প্রবেশ করলেন। এবার টোকাই ছেলেটা হটাৎ নড়াচড়া দিয়ে উঠে খোরঘোষের মতো এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে ফকিরের ঝুলির ভেতর হাত ঢুকিয়ে মানিব্যাগটা বের করে আনলো। সব টাকা বের করে প্যান্টের পকেটে নিয়ে মানিব্যাগটা আগের যায়গায় রেখে পূর্ব পাশের গলি দিয়ে চলে গেলো। আমি জানালা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। সে চলে গেলো। নিয়ে গেলো সব টাকা মানি ব্যাগের। যা কিছু কামিয়েছিলেন ফকির বাবা। সব নিয়ে গেলো। চেয়ে চেয়ে দেখলাম। আমার করার কিছু ছিলো না।
১৬/৯/২০২০ খ্রি.
ময়মনসিংহ

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


ভেনিটি ব্যাগ

ভেনিটি ব্যাগ

(নিজ চোখে দেখা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ঢাকা থেকে নাইট কোচে যাচ্ছিলাম খুলনা। ফেরি পার হবার সময় কোচ থেকে নেমে হাটাহাটি করছিলাম। ফেরির টয়লেটের সামনে দাড়ালাম। ইচ্ছে হলো একটু টয়লেটে যাই। দেখা গেল এক মহিলা টয়লেটে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি থেমে দাড়ালাম মহিলাকে আগে চাঞ্চ দিতে। মহিলার সাথে একজন পুরুষ লোক ছিলো। স্বামী হয়, না কি হয় বুঝতে পারলাম না। মহিলা তার ভেনিটি ব্যাগটা পুরুষ লোকটার হাতে দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করলেন।

 

লোকটা ভালো করে দেখে নিশ্চিত হলেন মহিলা টয়লেটে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করেছেন কিনা। তারপর ধীরস্থির ভাবে ভেনিটি ব্যাগের চেইনটা খুললেন। পকেট হাতিয়ে পার্সটা বের করে টাকাগুলো গুণে দেখলেন। অল্পকিছু টাকা ওখান থেকে সরিয়ে তার মানিব্যাগে ঢুকিয়ে মানিব্যাগটা পেন্টের পেছনের পকেটে ঢুকিয়ে আরামে দাড়ালেন। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। কিছুও বললাম না। মহিলা বেরিয়ে এলেন। মহিলার হাতে ব্যাগটা তুলে দিলেন। আমি টয়লেটে প্রবেশ করলাম। আমার বলার কিছু ছিল না। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।

১৪/৯/২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ
কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


বক্তৃতায় বিভ্রাট

বক্তৃতায় বিভ্রাট

(স্মৃতি কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

গত ২০১৭ সনের শীতে বাটাজোর গিয়েছিলাম আজিজ মাস্টার ভাইর ছেলের বিয়ের দাওয়াত খেতে। সেই সুজোগে বাটাজোর বি এম হাই স্কুলেও যাওয়া হলো। এর আগে বাটাজোর গিয়েছিলাম ২০০৪ সনে, ২০০৫ সনে হজ্জে যাওয়ার আগে দোয়া নিতে। সেদিন ক্লাসমেট বন্ধু খোরশেদকে নিয়ে ঘুরেছিলাম। সেই বন্ধুকে এবার পেলাম না। ২০০৮ সনে হার্ট এটাকে মারা গেছে। পেলাম ক্লাস মেট বন্ধু কাশেমকে। কাশেম এখন এই স্কুলেরই শিক্ষক। এবার ঘুরলাম কাশেম ও মীরজাহান তালুকদারকে নিয়ে। ঘুরলাম আর বারবার খোরশেদকে মনে পড়লো। তারও অনেক আগে একবার পরিবার নিয়ে বাটাজোর গিয়েছিলাম। তার আগে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়। কাজেই, ১৯৭৭ সনে বাটাজোর থেকে এস এস সি পাস করার পর মাত্র চার/পাঁচ বার যাওয়া হয়েছে। আমাদের সময় অত্র অঞ্চলে এই স্কুল সবচেয়ে ভালো ছিলো। তাই এই স্কুলে পড়ার জন্য আমি ক্লাস নাইনে উঠে চলে আসি কচুয়া পাবলিক হাই স্কুল থেকে। বাড়ি থেকে এই স্কুল প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। তাই, এখানে অবস্থান করতে হয়েছে আজিজ ভাইদের বাড়িতে এক বছর এবং মুক্তার আলী মন্ডল চাচার বাড়িতে এক বছর এবং শেষের দু’তিন মাস হোস্টেলে। আজিজ ভাই তখন এস এস সি পাস করে কলেজে ভর্তি হলেন। সহিদ মন্ডল মাস্টার ও সাইদুর রহমান দলু মন্ডল মাস্টার তখন পড়া শুরু করলো মাত্র।

 

ঐদিনের তিন জায়গার তিনটা ঘটনা আমি এখানে তুলে ধরব। ভোরে ময়মনসিংহ থেকে রওনা দিয়ে সকাল আটটার দিকে আজিজ ভাইদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছলাম। উপহার বক্সটা ড্রপ করে নাস্তা করে চলে এলাম স্কুলে। স্কুল থেকে গেলাম সহিদ মন্ডলদের বাড়িতে। সেখান থেকে গেলাম আজিজ ভাইদের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতের প্যান্ডেলে। বিয়ের দাওয়াতে আমাদের এলাকা থেকেও অনেক মেহমান গিয়েছিলেন। আজিজ ভাই আমাদের এলাকায় বড় চওনা হাই স্কুলের শিক্ষক। সব শিক্ষক গিয়েছিলেন দাওয়াতে। আমার বন্ধু ছমির মাস্টারও ছিল সেখানে। সবাইকে পেয়ে বেশ ভালোই লাগছিলো। আজিজ ভাই আমাকে পেয়ে আনন্দে গদগদ ছিলেন। আমাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন টেবিলে ঘুরে ঘুরে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন এভাবে “এই যে আমার খালাতো ভাই ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার, বিভাগীয় প্রধান।” সবাই আমার হাতে হাত মিলাচ্ছিলেন। আমি লজ্জাবোধ করছিলাম। আজিজ ভাইর কানে কানে বললাম “ভাই, ওভাবে না বলে বলুন সহকারী অধ্যাপক ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান, কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ। সবাই মনে করছে আমি ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান।” তিনি সামান্য বিরক্তির সাথে বললেন “আরে রাখো তোমার সহকারী। বিশ বছর ধইরা খালি সহকারী সহকারী বলতাছি। শুনতে কেমন শোনা লাগে ! যা বুঝে বুঝুক।” আমি বললাম “ভাই, আমি তো সতের বছর আগেই প্রমোশনের যোগ্যতা অর্জন করেছি। মন্ত্রণালয় প্রমোশন দেন । কোন ইন্টারভিউ দিতে হয় না। কাগজপত্র দেখে প্রমোশন দেন। আমার কেনো হয় না তা কেউ বলতে পারে না। কেনো হয়নি তার কেউ সৎ ব্যাখ্যা আমাকে দিতে পারেনি। হতাস হয়ে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছি। আল্লাহ যা করেন আমার ভালোর জন্যই করেন। আপনার কষ্টের জন্য আমি লজ্জিত।” আজিজ ভাইর কষ্টের জন্য আমার মনের কষ্টটা এক মাত্রা বেড়ে গেলো।

 

সহিদ মন্ডলদের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে হালকা নাস্তা করে দেখতে চাইলাম আমি যে ঘরে থাকতাম সেই বাংলাঘরটা। দলু মন্ডল বলল “কাকা, ওটা তো আগে কোঠাঘর ছিল। ওটা ভেংগে আবার ঘর দিয়েছি। আমি পরিবার নিয়ে থাকি সেই ঘরে। ওটা এখন বাংলাঘর না। আমার ঘর। চলুন সেই ঘরে।” আমরা সেই ঘরে প্রবেশ করলাম। দলু ঘরের কাঠের ধর্না দেখিয়ে বললো “কাকা, এই যে আপনার হাতের লেখা।” আমি এই ঘরে এক বছর ছিলাম ১৯৭৬ সনে। আমার বেডের উপরের কাঠের ধর্নায় সাদা চক দিয়ে বাংলায় ও হিন্দিতে আমার নাম লিখেছিলাম মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার। সেই চকে লেখা নাম এখনো দেখা যাচ্ছে। হিন্দি লেখাটুকু একটু অস্পষ্ট হয়েছে। আমি বললাম

– এখানে চক দিয়ে লিখেছিলাম ১৯৭৬ সনে। আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর আগে। ন্যাকড়া দিয়ে সামান্য ঘষা দিলেই উঠে পড়ার কথা। এতদিন কি সেই লেখা ছিল? তোমরা কি তার উপর দিয়ে চক দিয়ে আবার লিখেছো?

– না, কাকা। সেই লেখাই। আমরা আপনার স্মৃতিতে হাত দেইনি। ঘর ভাঙ্গার সময় খুব সাবধানে ধর্না নামিয়েছি যেনো লেখা না মুছে যায়। যতদিন পারি আমরা এই স্মৃতি ধরে রাখবো।

 

আমি আবেগে প্রায় বাকরুদ্ধ হলাম। ৪২ বছর চকের লেখা টিকিয়ে রেখেছে ! বাড়ির সামনের নারিকেল গাছটার প্রতি চোখ গেলো। আকাশ চুম্বি হয়ে গেছে সেই গাছটা। আমি যখন ছিলাম তখন এর উচ্চতা আমার সমান ছিলো। মৃদুমন্দ বাতাসে নারিকেল গাছের পাতা দোল খেতো। আমি বারান্দায় বসে বসে দেখতাম। হিন্দি লেখা দেখে আমি মোসলেমের কথা মনে করলাম। মোসলেম ছিলো কচুয়া স্কুলে ক্লাসমেট। এইট পর্যন্ত তার সাথে পড়েছি। কিডনি ফেইল করে মারা গেছে। দীর্ঘ দিন ব্যায়বহুল চিকিৎসাধীন ছিলো। এরমধ্যে তার ছেলে গুরতর অসুস্থ হলে নিজের চিকিৎসা ক্ষান্ত করে ছেলের চিকিৎসা করান। মোসলেমের কাছ থেকে হিন্দি বর্ণমালা শিখেছিলাম।

স্কুলে পৌঁছেছিলাম সকাল ৯ টার দিকে। দেখলাম স্কুলের চেহারা বদলে গেছে। বাউন্ডারি ওয়াল হয়েছে। আগের মূল টিনের স্কুলটি আছে আগের জায়গায়ই। নতুন নতুন বিল্ডিং উঠেছে বহুতল বিশিষ্ট চারটি। শুনলাম এগারশর মতো ছাত্রছাত্রী আছে। সবাই স্কুল ড্রেস পড়া। আমাদের সময় হয়তো চারশোর মতো ছিলো। আমরা লুঙ্গি পড়েই স্কুল করতাম। এদের সাথে আমাদের তুলনা করতে লাগলাম। ক্লাস শুরু হয়নি, তাই তারা ছুটাছুটি করছিলো। আমি তাদের সাথে পরিচয় দিয়ে ফটো সেসন করলাম। আমি যে হোস্টেল বিল্ডিং-এ থাকতাম সেটা এখন পরিত্যাক্ত। আমার থাকার রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে ছবি তুললাম। স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান লিটন এসে দেখা করলো। লিটন নজিবুর রহমান মন্ডল ভাইর ছেলে। ১৯৭৫ সনে তাকে খুব ছোট দেখেছি, হয়ত চার/পাঁচ বছর বয়স ছিলো। সেই ছেলে চেয়ারম্যান এখন। ভালো লাগলো। সে কি কি উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তা আমার কাছে বললো। আমি হেড মাস্টারের কক্ষে প্রবেশ করলাম। দেখলাম চেয়ারে বসা এক অতিকায় বিরাট লোক বসা। আমাদের সময়ের জামাল স্যারের মতো ভারী শরীর। হাপভাব সেই রকম। মনে হলো আমার থেকেও বয়সে বড়। সালাম দিয়ে কুশল মিনিময় করে বললাম

– স্যার, ক্লাস শুরুর আগে আমি সব ছাত্রদের সাথে একটু গল্প করতে চাই।

– ছি, ভাই, আমাকে স্যার বলছেন কেনো?

– আমি যে স্কুলে পড়েছি সেই স্কুলের হেড মাস্টার তো স্যারই।

 

ওয়াসরুমের কাজটা সেরে বের হলে হেড মাস্টার আব্দুল কদ্দুস বললেন “চলেন ভাই, এখন এসেম্বলি হবে। ওখানেই ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলা যাবে। হাজারের উপর ছাত্রছাত্রী সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়েছে। আমি ও শিক্ষকগণ তাদের সামনে নিয়ে পতাকা স্ট্যান্ডের কাছে দাড়ালাম। হারমোনিয়ামে জাতীয় সংগীত বাঁজিয়ে গেয়ে গেয়ে পতাকা উত্তোলন করা হলো। তারপর ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর আমার ক্লাসমেট বন্ধু আবুল কাশেম মাস্টার ছাত্রছাত্রীদের কিছু শারীরিক কসরত করালো। হেড মাস্টার মাইকের কাছে গিয়ে বক্তৃতা দেয়া শুরু করলেন। তিনি বললেন “সেই ১৯৭৫ সনে। ” আমি পাশের জনকে বললাম ৭৫ না, ৭৭ হবে। তিনি হেড মাস্টারের কানের কাছে গিয়ে বললেন “৭৫ না, ৭৭ হবে।” হেড মাস্টার আবার শুরু করলেন “সেই ১৯৭৫ সনে।” কাশেম হেড মাস্টারকে বললেন “৭৫ না, ৭৭ সন। সাদেক ভাই আমার সাথেই ৭৭ সনে পাস করেছেন।” হেড মাস্টার বিরক্ত হয়ে বললেন “আগে আমাকে বলতে দেন, যা বলতে চাই।” আমি বললাম “হেড স্যারকে বলতে দেন, যা বলতে চান।” তিনি বক্তৃতা দিলেন –

সেই ১৯৭৫ সনে যখন ক্লাস সিক্সে এই স্কুলে ভর্তি হলাম তখন আমি ফজলু ভাই ও সাদেক ভাইয়ের দিকে চেয়ে থাকতাম। ওনারা পড়তেন ক্লাস নাইনে। সবাই এই দুই ছাত্রর প্রশংসা করতো। তাই চেয়ে চেয়ে দেখতাম……..

এভাবে তিনি অনেকক্ষণ আমার ও ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর প্রশংসা করলেন। ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ারেরও প্রশংসা করলেন। বললেন “সাদেক ভাইর সমান নম্বর এখন পর্যন্ত কেউ পায়নি। ওনারা পাস করে চলে যাওয়ার পরে সামাদ স্যার ক্লাসে বলতেন সাদেকের মতো হতে হবে, ফজলুর মতো হতে হবে। সেই সাদেক ভাই আজ এসেছেন।” প্রশংসা শুনে ভালো লাগলেও বিরক্তি লাগছিলো এই কারনে যে, এতক্ষণ তিনি সময় নিলে আমি কি সময় পাবো? অনেক কথা জমিয়ে রেখেছি। ৪২ বছর পর অনেক কথা বলবো। ময়মনসিংহ থেকে আসার সময় কথা গুছিয়ে রেখেছি। ভালো একটা বক্তৃতা দেব। হেড মাস্টারের পরে কাশেম তো বলবেই ক্লাসমেট হিসাবে। তারপরও অন্য টিচাররাও বলতে পারে। ছাত্রছাত্রীরাও বলতে পারে। যদিও শীতের দিন। রৌদ্রের প্রখরতা কম। তুবু এতক্ষণ বাচ্চাদের দাড়িয়ে রাখা ঠিক হবে? এমন ভাবনা ভাবছিলাম। ঠিক তাই। এভাবেই অনেকক্ষণ সময় বক্তৃতায় খেয়ে ফেললো। হেড মাস্টারের বক্তৃতা শুনে জানতে পারলাম তিনি বয়সে আমার থেকে অনেক ছোট। বড় বড় ভাব ধরেছেন মোটা হবার কারনে। শেষে আমি শুরু করলাম। কিভাবে এই স্কুলে এলাম, কিভাবে পড়েছি, কোন কোন স্যার পড়িয়েছেন ইত্যাদি বলতে লাগলাম। বলছিলাম যে আমরা প্রাইভেট পড়িনি। স্যারেরাও প্রাইভেট পড়াননি। প্রতিযোগিতা করে পড়তাম। ফজলু আমাকে ডাউন দিতে চাইতো। আমি ফজলুকে ডাউন দেবার চেষ্টা করতাম। ডাউন দিতে গিয়ে উভয়েই বেশি বেশি পড়েছি। বেশি পড়েই ভালো ছাত্র হিসাবে পরিচিত হয়ে গেছি। চেষ্টা করে করে এস এস সি টেস্ট পরীক্ষায় আমি ফজলুকে দুই নাম্বার বেশি পেয়ে ডাউন দিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিলো। ১০/১২ মিনিট বক্তৃতা দেয়ার পর এক মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সবার মনোযোগ সেই দিকে। ডাক্তার হিসাবে এগিয়ে গেলাম। পালস-রেস্পাইরেশন ভালো। বুঝলাম অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকলে কারো কারো এমন হয়। মাথায় রক্ত চলাচল কমে গিয়ে এমন হয়। এটাকে বলা হয় সিনকোপ। মেয়েদেরকে বললাম কমন রুমে নিয়ে গিয়ে চিনির সরবত খাইয়ে শোয়ায়ে রাখতে, ঠিক হয়ে যাবে। আমার বক্তৃতায় ছন্দ পতন হলো। কাশেম বাঁশীতে ফুঁ ফিয়ে সবাইকে আবার লাইনে দাড়া করালো। আবার শুরু করলাম বক্তৃতা। আগের মতো বলতে পারলাম না। ছেলেমেয়েরাও রোগী নিয়ে সংকিত মনে হলো। আমারও ভয় হলো আরও দুই এক জন আবার পড়ে যায় কি না সিনকোপ হয়ে। খবর হয়ে যাবে আমাদের। অল্পতেই বক্তৃতা শেষ করে দিয়ে বললাম “এবার তোমাদের মধ্যে থেকে যেকোনো একজন এমন কিছু বলো, বা করো যাতে আমি খুশি হই এবং অনেকদিন মনে থাকে। সবাই ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া রাজ্জাক মাস্টারের মেয়েকে পাঠালো সামনে। রাজ্জাক খোরশেদের ভাতিজা। রাজ্জাকের বাবা হারমোনিয়াম বাঁজিয়ে গান গাইতেন। তার নাত্নী এলো গান গাইতে। মানে আমারও নাত্নি। নাত্নি গাইলো “শুধু গান গেয়ে পরিচয় / চলার পথে ক্ষণিক দেখা, একি শুধু অভিনয়।” ছায়াছবির গান। তাও আবার আমাদের সময়ের। শিশুদের মুখে বড়দের গান শুনলে আমার কিছুটা অস্বস্তি লাগে। এখন সবখানে তাই হচ্ছে। টেলিভিশন, ইউটিউব সব জায়গায়। এটা আমাদেরই দোষ। আমরা ওদের জন্য গান লিখি না, তাই। আমাদের সময় শিশুরা গাইতো কাজী নজরুল ইসলামের ছোটদের জন্য লেখা গান। অথবা অন্য গীতিকারের দেশাত্ববোধক গান। কিছুটা অস্বস্তি ফিল করলেও তার কন্ঠ ছিলো সুমধুর, নোটেশনেও ছিল নির্ভুল। উৎসাহ দেয়ার জন্য হাততালি দিয়ে শেষ করে দিলাম।

 

আমি আবার যেতে চাই বাটাজোর। ফজলুর সাথে কথা বলেছি। আগামী শীতে যেতে চাই আমি, ফজলু, দেলোয়ার ও সাইফুল্লাহ (আছির) এক সাথে।

১/৯/২০২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক

http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


গফুর গেলো

গফুর গেলো

(স্মৃতি কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

গফুর কাক্কুকে দেখতে ছোট দেখা গেলেও মার কাছে শুনেছি তিনি আমার থেকে সামান্য বড়। কাক্কু ডাকলেও আসলে তিনি আমার আপন চাচা নন। তিনি নওপাড়ার নজ দাদার (নজর মাহমুদ) বড় ছেলে। নজ দাদার বোন আমার ছোট দাদার ছোট স্ত্রী। শুনেছি ছোট দাদার বিয়ের অনেক বছর পার হলেও দাদীর ঔরসে কোন সন্তান ধরেনি। তাই, দাদার মন খারাপ থাকতো। পাহাড়ের জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য তিনি মাঝে মাঝে এখানে আসতেন খামার বাড়িতে। বাড়িটা ছিল আমাদের এখনকার বাড়ির দক্ষিণ পাশে তুলা (শিমুল) গাছটার সাথে। পড়ে ঐ খামার বাড়িতেই ১৯৫৮ সনে ছোট দাদা ও বাবা এক ভিটায় বাড়ি করে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে থাকেন। সেই বছর সেই বাড়িতেই আমার জন্ম হয়। সেই ভিটায় মা একটা আম গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই গাছটা এখন নেই। আমি বুঝমান হয়ে সেই বাড়ি-ভিটার চিহ্ন দেখেছি।

 

এই গ্রামে বাড়ি করার আগের ঘটনা। ছোট দাদা বাইদের ও ঘোনার কিছু জমিতে আবাদ করতেন। নিজেও কোদাল দিয়ে ক্ষেতের বাতর সাইজ করতেন। গরমের দিনে দুপুর বেলা ঘোনার ক্ষেতে কোদাল মেরে দাদা পিপাসার্ত হয়ে পড়েন। ঘোনার টানেই নজ দাদার বাড়ি। সেই বাড়ির বাও বেড়ার কাছে গিয়ে দাদা বলেন “বাড়িতে কেউ আছেন গো? আমাকে এক গ্লাস পানি দিবেন?” বাড়িতে নজ দাদার বোন একা ছিলেন। তিনি ঘুমটা দিয়ে মুখ ঢেকে বাওবেড়ার দরজার ফাঁক দিয়ে হাত বের করে এক গ্লাস পানি সাধেন দাদাকে। তার হাত দেখে দাদা মুগ্ধ হয়ে যান। পানি নেয়ার ছলে দাদা সেই রমনীর মুখটাও দেখে নেন। দাদার মাথায় আউলা ঝাউলা লেগে যায়। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন রমনীর দুই মেয়ে হবার পর স্বামী মারা গেছেন। এক মেয়ে ছোট চওনার শমশের হাজী সাব দত্তক নিয়েছেন। আরেক মেয়ে মায়ের সাথেই থাকে। দাদা ভাবলেন “এই মহিলার গর্ভে দু’জন সন্তান হয়েছে। কাজেই আরও হবার সম্ভাবনা আছে। বড় ঘরে তো অনেক বছর হলো সন্তান হয় না। হবে না বলে মনে হচ্ছে। কাজেই এই মেয়েটাকেই বিয়ে করা যেতে পারে।” তিনি তাই করলেন। দাদার বড় স্ত্রীকে ভিয়াইলের বাড়িতে রাখলেন এবং ছোট স্ত্রীকে পাহাড়ের বাড়িতে রাখলেন। ছোট দাদীর আগের ঘরের মেয়ে কমলা ফুফুকে সাথেই রাখলেন। ফুফুর বিয়ে হয় খসরু কাক্কুর সাথে। একটা মেয়ে জন্মেছিল ফুফুর । অল্প দিনেই শিশুটা মারা যায়। তারপরই ফুফুর হাটুতে একটা ফোড়া হয়। সেই ফোড়া ছয় মাসেও পাকে না। ফুলে ডুপির সমান হয়ে যায় হাটু। অনেকেই বলে পাড়ার এক বুড়ি ফোড়া দেখে গু খেয়েছে। গ্রামের মানুষের ধারনা ছিলো উক্ত বুড়ি ফোড়া দেখলে আড়ায় গিয়ে শুকনো গু চিবিয়ে খায়। তাতে সেই ফোড়া আর পাকে না। তাই, কারো ফোড়া হলে উক্ত বুড়িকে কেউ দেখাতো না। ফুফুকে শেষ চিকিৎসা করার জন্য মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরিয়ে দেন। ফুফু মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। মৃত্যুর দু’একদিন আগে আমি ফুফুকে দেখতে গিয়েছিলাম। উত্তর শিতানে শোয়ায়েছিল উঠানে চৌকির উপর। মাকে সেই হাটু দেখানোর সময় আমি দেখেছিলাম। একটা পাতিলের সমান ফুলে উঠেছিল সেই হাটুটা। চামড়া টান টান ছিল তার উপর। এমন ফোড়া আমি কখনো দেখিনি। সেই রোগেই কমলা ফুফু মারা যান। সবাই জানে ফোড়া না পাকার কারনেই ফুফু মারা গেছে। আর সেই বুড়ির গু খাওয়ার কারনেই ফোড়া পাকেনি। আমিও তাই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার সময় বুঝতে পারলাম আসলে ফুফুর হাড়ে ক্যান্সার হয়েছিল। খুব সম্ভবতঃ অস্টিওসার্কোমা। ফোড়া নয়। ফোড়া হলে পাকতো, গলতো, ভালো হয়ে যেতো। গু খাওয়ার সাথে ফোড়া না পাকার কোন সম্পর্ক নাই।

 

এই কমলা ফুফুর মামাতো ভাই হলো গফুর কাক্কু। ওনাদের বাড়ি আর আমাদের বাড়ির মাঝে আর কোন বাড়ি নেই। আমাদের জমি তাদের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। তাই প্রতিবেশী হলেও বাড়িটা একটু দূরে এবং অন্য পাড়ায় পড়েছে। তালুকদার বাড়ির ছেলেদের থেকে গফুর কাক্কুর সাথে বন্ধুত্ব করে আমি বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করতাম। স্বভাবে গফুর কাক্কু বেশ শান্ত ছিলেন। ছোট বেলায় আমরা একে অপরকে নাম ধরে ডাকতাম। বড় হবার পর একে অপরকে কাক্কু ডাকি। তবে আপনি না বলে তুমি বলি। গফুর কাক্কুরা ৫ ভাই। এক বছর পর পর জন্ম গ্রহণ করেছেন সম্ভবত। আমার মনে আছে, একদিন খেলতে যাওয়ার জন্য আমি গফুর কাক্কুদের বাড়ি গেলাম। রান্নাঘরে ঢেকির উপর বসলাম। কাক্কুরা ৫ জন রান্নাঘরের মেজেতে পিড়িতে বসে একযোগে খাচ্ছিলেন। দাদী সবার পাতে ভাত ও সালুন বেড়ে দিচ্ছিলেন চামচ বাড়িয়ে বাড়িয়ে। কী সুন্দর ছিলো সেই দৃশ্য! গফুর কাক্কুর সাথে আমার স্বভাবের অনেক মিল ছিলো। আমরা ফুল, গাছ ও পাখি পছন্দ করতাম। বসন্ত কালে এক সাথে ঘুরে ঘুরে পলাশ ও শিমুল ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথতাম। বন থেকে নানা রকম নাম জানা নাজানা ফুল ছিড়ে আনতাম। বনে একটা সুন্দর ফুল ফুটতো দুপুর বেলা। ওটার নাম ছিলো দুপুইরা ফুল। বনের টেওরাকাটা গাছের ফুল ছিলো খুব সুন্দর। কিন্তু কাটা থাকার জন্য ছেড়া যেতো না। সেই ফুলে অতি বেগুনি রঙের খুবই সুন্দর এক ধরনের ভ্রমর বসে থাকতো। এক গাছ থেকে আরেক গাছে উড়ে বেড়াতো পাখায় মুধুর গুন গুন শব্দ করে। আমরা চুপিসারে পেছন থেকে দুই আংগুল দিয়ে দু’পাশে চাপ দিয়ে ধরে ফেলতাম সেই কাজল ভ্রমর। ভ্রমরের হাটু ভাজ করে মোনকাটা ঢুকিয়ে দিতাম। সেই মোনকাটার সাথে সোলা লাগিয়ে ছেড়ে দিলে ভ্রমর কাটাসহ ঘুরতে থাকতো অবিরাম। আর গুন গুন শব্দ হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। ভ্রমরের যে কষ্ট হতো সেটা আমরা বুজতাম না। এটা ছিল আমাদের কাছে খেলা।

আমরা এক সাথে ছোট দাদার পাগাড়ে জাপ পাড়তাম। দূর থেকে দৌড়িয়ে পানিতে গিয়ে পড়লে অথবা গাছ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়াকে বলতাম জাপ পাড়া। দাদার গজারিগাছের আগায় উঠে বানরের মতো ঝাপিয়ে পড়তাম পাগারের পানিতে। সাঁতার কাটাকে বলতাম হাতুর পাড়া। ডুপ পাড়াকে ডুপ পাড়াই বলতাম। গুনে গুনে ডুপ পারতাম। মাথা বের করতাম আর বলতাম এক, দুই, তিন, …. নিরানব্বই, একশো…. দুইশ, ইত্যাদি। নাক মুখ দিয়ে নোংরা পানি প্রবেশ করতো। খুক খুক করে কাশতাম। সেই দৃশ্য এখন কল্পনাও করা যায় না। কি করে করতাম! পানিতে নল খেলতাম। পাতা ভাসিয়ে দিয়ে তার উপর হাতের তালু মেরে থাপ থুপ খেলতাম আমি ও গফুর কাক্কু।

 

গফুর কাক্কু অল্প কিছু পড়াশোনা করেছিলেন। বড় ছেলে হিসাবে বাপের সাথে মাঠে কাজ করতে হয়েছে অভাবের সংসারে। আমি নিজের বুদ্ধিমত পড়তে থাকি। পড়ে পড়ে শেষে ডাক্তার হয়ে যাই। সরকারি মেডিকেল অফিসার হই। মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করি। সেই ১৯৭৫ সন থেকে নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে থাকা হয় না। বছরে মাত্র কয়েকদিন বাড়িতে গিয়ে থাকি। যেখানেই থাকি বাল্যবন্ধু গফুর কাক্কুকে মনে পড়ে। বাড়ি গেলে গফুর কাক্কুর সাথে দেখা করি-ই। দেখা করি গফুর কাক্কুর মা বাবার সাথে। সবাই আমাকে পেয়ে খুশী হন।

 

কয়েকবছর আগের কথা। গফুর কাক্কু খিল ক্ষেতের মরিচ টালে কাজ করছিলেন। আমাদের এলাকার পাহাড়ি জমির একটু উচু ক্ষেতকে খিল বলে। গফুর কাক্কুদের বাড়ির সাথের খিল ক্ষেতটা আমাদের ছিলো। এই খিল ক্ষেতের মাঝখানে ফাঁকা অংশে খুব কাচামরিচ উৎপন্ন হতো। পাশে একটা বিরাট ছেচরা গাছ ছিলো। মদন টাক পাখি থাকতো সেই গাছ ভর্তি। আমরা এই পাখিকে আরং বলতাম। ১৯৭৪ সনের দুর্ভিক্ষের সময় বাবা এই খিল ক্ষেতটা মিয়া কাক্কুর কাছে বেচে দেন। কয়েক বছর পর সেই ক্ষেত নজ ভাই কিনে নেন। নজ ভাই এখনো সেই ক্ষেতে কাচা মরিচ আবাদ করেন। সেই ক্ষেতে গফুর কাক্কু কাজ করছিলেন। আমি ক্ষেতের সাথে কাঠাল গাছের ছায়ায় বসলাম। বেশ কয়েকজন পোলাপান আশেপাশে খেলা করছিলো। ওদের খেলতে দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে হলো। মনে হলো এমন বয়সে আমি এই মরিচটালে বাবার সাথে অনেক মরিচ তুলেছি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বড় চওনা হাটের দিন। এক মন, দেড় মন করে মরিচ তোলা হতো প্রতি হাটের দিন। গাছের ছায়ায় আমার কাছে কিছুক্ষণ বসলেন গফুর কাক্কু। কিছুক্ষণ পড় উঠে পাশের বনের দিকে গেলেন। ওটা আমাদের বন। দু’টা দুপুইরা ফুল তুলে এক বাচ্চা পোলাপানের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন সেই ফুল। আমি বুঝতে পারলাম গফুর কাক্কুর ছোট বেলার কথা মনে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললেন “ভোমরা বিচরাইলাম, পাইলাম না। টেওরাকাটা গাছগুলা কাইটা ফালানে ভোমরা আসে না। বুঝলাম আমরা দু’জনই সেই শৈশবে চলে গিয়েছি।

 

গফুর কাক্কু নিঃসন্তান। গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ যুবক প্রবাসে গিয়ে চাকরি করলেও গফুর কাক্কুরা বিদেশ যাননি। এক ভাই দু’একজন সন্তান হবার পর মারা গেছে। কৃষি কাজে একটু কষ্ট হয় বলে কিছুদিন কাপড় চোপড়ের দোকান করেন হাটে বসে। আরেকটু আরামের জন্য তিনি দর্জির কাজ করতে থাকেন। আমাদের এলাকায় দর্জিকে বলা হয় খলিফা। তাই, তিনি গফুর খলিফা নামে পরিচিতি পান। কয়েক বছর খলিফার কাজ করার পর তার কোমর ও মেরুদণ্ড ব্যাথা রোগ হয়। এরপর তিনি বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট ঘর তুলে সামনে কাস্টমার বসার জন্য একটা ঘোড়াকাঠ বানিয়ে চা ও মনোহারি দোকান করেন। আমি ঐ ঘোড়াকাঠে বসে চা বিস্কুট খাই আর গল্প করি। তার সাথে সব সময় নাতি নাতকুর বসে থাকে। খালি গায়ে বসে থাকেন বেশী ভাগ সময়। দোকানটা ত্রিরাস্তার মোরে হওয়ায় ভালোই বেচাকেনা হয়। আমার হাত থেকে টাকা নেন না। নাতিদের হাতে মজা খাওয়ার জন্য কিছু দেই। নাতিরা সবসময় তার পিঠের সাথে ঘষাঘষি করে। গাল হাতায়। গলা হাতায়। কয় জনের ভাগ্যে হয় এমন সুখ?

 

গফুর কাক্কুকে নিয়ে একটা মজার ঘটনা শুনেছি। গফুর কাক্কু যখন ছোট্ট ছিলেন, হয়ত তিন কি চার বছর বয়সের, তখনকার কথা। গফুর কাক্কুর জ্যাঠাতো বোন মালেকা ফুফু গফুর কাক্কু থেকে সামান্য ছোট ছিলো। তারা দু’জন ছোট দাদার পাগাড় পাড়ে খেলা করছিলেন। গফুর কাক্কুর মা, মানে, আমাদের দাদী, পাগাড়ের পানিতে কাপড় কাচ্ছিলেন। তখনকার দিনে গ্রামের মায়েরা বড় বড় পাতিলে সোডা দিয়ে ময়লা কাপড় ও কাথা সিদ্ধ করে লম্বা কাঠের পিড়িতে কাপড় বাইরাইয়া ময়লা পরিস্কার করতেন। পিড়িকে আমরা ফিড়া বলতাম। কাপড় সিদ্ধ করাকে বলা হতো কাপড় খারে দেয়া। ডিস ভর্তি করে খারে দেয়া কাপড় পাগাড় পাড়ে নিয়ে পরিস্কার করতেন। কাপড় লম্বা করে ভাজ করে ধরে কাঠের ফিড়ার উচু অংশে দাড়িয়ে নিচু অংশের উপর কাপড় বাইরানো হতো। মাঝে মাঝে বাইরানো অংশ পাগাড়ের পানিতে চুবানো হতো। ছোট ছোট পোলাপান মায়ের কোমর ধরে দোল খেতো কাপড় বাইরানোর সময়। তাতে মায়েরা বিরক্ত হতো। গফুর কাক্কুও এমন ভাবে দাদীকে বিরক্ত করছিলেন। দাদীর মন চাইছিল যেনো গফুর কাক্কু বাড়িতে চলে যায়। তাই বলছিলেন “যাছে, আলুজা (বিরক্ত) করিস না, ছে।” গফুর কাক্কু মালেকা ফুফুর সাথে পাগাড়ের ওপারে চলে যায়। দাদী মনোযোগ দিয়ে কাপড় বাইরাইতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর মালেকা ফুফু বলে “চাচী, গফুর গেলো।” চাচীর ভালো লাগে। আর বিরক্ত করবে না। চলে যাক বাড়িতে। মালেকা ফুফু আবার বলে “চাচী, গফুর গেলো গ।” দাদীর আরো ভালো লাগে। মালেকা ফুফু আমার চেয়ে বয়সে সামান্য ছোট। তাই, আপনি বলি না। বেশ কিছুক্ষণ পর মালেকা ফুফু বলে “এল্লা, গফুর ভাইসা উঠছে গ, চাচী।” দাদী মাথা তুলে চেয়ে দেখেন গফুর কাক্কু পানি খেয়ে পেট ফুলে চিত হয়ে ভেসে উঠেছেন। তারাতাড়ি তুলে নিয়ে যান বাড়িতে। তারপর সাহেব আলী দাদা গফুর কাক্কুর পা ধরে চারদিকে ঘুরাতে থাকেন। গলা দিয়ে সজোড়ে পানি বেরুতে থাকে। অবশিষ্ট পানি বের করার জন্য পেটটা দাদার মাথার উপর রেখে পিঠে চাপ দেন। তারপর উঠানে পাটিতে শোয়ায়ে রাখেন উত্তর শিতানে করে। পাড়ার সবাই তামাশা দেখতে আসে। আর বলে “কিবায় পানিত পড়লো? মায় কি করছিলো? পোলাপান দেইখা রাখতে পারে না?” ইত্যাদি। মায়ে কয় “আমার কাছেই আছিলো। বিরক্ত করছিলো। আমি বাড়িত যাইতে কইছিলাম। কিছুক্ষণ পর মালেকা ছেড়িডায় কয়, চাচী, গফুর গেলো। আমি মনে করছি গফুর বাড়ি গেলো। ভালাই অইল। নিপরতাশি যদি কয় যে গফুর পানিতে ডুইব্বা গেলো তাইলে ত আমি বুঝতাম। তা না কইয়া খালি কয় গফুর গেলো। আমার বাবা পানি খাইয়া পেট ডিগডিগ অইয়া ভাইসা উঠছে যেসুম হেসুম কয় গফুর ভাইসা উঠছে।” গফুর কাক্কু হা করে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে কো করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিলেন। সবাই বলে উঠলো “গফুর বাইচা আছে গ।”

 

আমার ময়মনসিংহের বাসার ছাদে বাগান করেছি। প্রায় ১৫০ টার মতো বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজি আছে। প্রায় প্রতিদিন অল্পক্ষণের জন্য ছাদে যাই। গ্রামের আমেজ পাই। গতকাল ছাদে ঢেড়ষের ফুল দেখে গ্রামের বনের দুপুইরা ফুলের কথা মনে পড়লো। মনে পড়লো গফুর কাক্কুর কথা। তাই লিখে ফেললাম মোবাইলে টাইপ করে কাজের ফাঁকে ফাঁকে। স্মৃতি কথার নাম দিতে চেয়েছিলাম গফুর। কিন্তু এই নামে শরত বাবুর একটা গল্প আছে। তাই গেলো লাগিয়ে দিলাম নামের সাথে। আমি মালেকা ফুফুর উক্তি “গফুর গেলো” ভুলতে পারি না।

৩১/৮/২০২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক

http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/

 


usg report writing software

– Ultrasonography Report Writing Software.
– It is used for making USG report.

Features:
– Manage database report.
– Make report with a few click.
– Save database in server.
– No need of expert.