মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি গ্রামে বড় হয়েছি। ইন্টারমেডিয়েট পাশ করার পর থেকে নিয়মিত গ্রামে থাকা হয় না। গ্রামের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জাম খুব কাছে থেকে দেখেছি । এখনো গ্রামের বাড়ি যাই মাঝে মাঝে । লক্ষ্য করছি গ্রামের কৃষিকাজের পদ্ধতি দ্রূত আধুনিকায়ন হচ্ছে । তাই অনেক সরঞ্জাম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । সোনালী শৈশবে যা যা দেখেছি তার জন্য কেমন যেন মায়া লাগে। গত কয়েকদিন আগে নিউজ পেলাম সখিপুর উপজেলায় লাঙ্গুইলা গ্রামে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে । লাঙ্গুইলা গ্রামের নাম বহুদিন পর পনে পড়লো । কিন্তু লাঙ্গুইলা গ্রামটা সখিপুরের কোন দিকে এটা আমি মনে করতে পারলাম না । আমি গ্রামের একজনকে মোবাইল করে জানতে চাইলাম লাঙ্গুইলা গ্রামটি কোন দিকে যেনো । জানা হলো । এরপর শুরূ হলো লাঙ্গুইলা শব্দটি যেনো কোথায় শুনেছি । মনে পড়লো এটা ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করার একটা কৃষি সরঞ্জাম ছিলো । অনেকদিন না দেখতে দেখতে নামই ভুলে গেছি । মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো আমার শৈশবে দেখা মান্দাতার আমলের কৃষিকাজ ও কৃষি সরঞ্জামের স্মৃতি । এমনই হয় মাঝে মাঝে আমার ব্রেইনে । যেদিন যেটা মাথায় আসে সেদিন সেটা সারাদিনই মাথায় খেলতে থাকে । বাধ্য হয়ে লিখে ফেলি এন্ড্রয়েড মোবাইলের নোট প্যাডে। কপি করে পেস্ট করে দেই ফেইসবুক পোস্টে । আজও তাই করলাম ।

Continue reading “মান্দাতার আমলের কৃষি সরঞ্জাম”

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

(স্মৃতিচারণ)

ডা.  সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

মোবাইল ফোন কেনা হল। কিন্তু তেমন কাজে লাগলো না। মোবাইল করার মতো মাত্র কয়েকজন ব্যবহারকারী ছিল তখন। বাসায় বাসায় তখন বিটিসিএল বা টিএন্ডটি-র ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। ১৯৯৭ সনের ডিসেম্বর মাসে আমাকে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলী করা হয়। আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে। লেগে গেলাম বদলী ফেরানোর তদবিরে। ঘনঘন ঢাকায় সচিবালয়ে যাই। কাজ হয় না। অফিস সহকারীদের সাথে মোটামুটি ভাল পরিচিত হয়ে যাই। টেলিফোন করে তাদের থেকে আমার ফাইলের আপ-ডাউন খবর নেই। ফাইল একবার উঠে, আবার নামে। প্রিন্সিপাল স্যারের টেলিফোন ব্যবহার করতাম স্যারের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু কতবার অনুমতি নেয়া যায়! অনুমতি নিতেও লজ্জা পেতাম। তখন হাসপাতাল জরুরী বিভাগের সাথে একটা টেলিফোন বুথ ছিল। প্রিপেইড কার্ড কিনে বুথের বাক্সে ফেলতাম। দেশে বিদেশে কথা বলা যেতো স্বাধীন ভাবে। কলরেট পোস্টপেইড ফোনের মতই ছিল। লোকাল কল মিনিটে ২ টাকা। অন্য জেলায় মিনিটে ৭ টাকা। আমেরিকায় মিনিটে ১৪ টাকা। সৌদিআরব, কাতার মিনিটে ২২ টাকা। আমার কলগুলো সাধারণত লোকাল, ঢাকা, টাংগাইল, আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারে ছিল। প্রচুর খরচ হতো কল করে। তখনকার ১ টাকার সমান এখনকার ২০১৮ সনের ১০ টাকা। কল করতে আবার যেতে হতো বুথে। ওখানে গিয়েও আবার লাইনে দাড়াতে হতো। এটা ছিল বড় কষ্টের। একদিন বুথের কাছে  অল্প বয়সের এক ছেলে আমাকে চুপি চুপি বলল Continue reading “বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ”

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে

আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে
(স্মৃতিচারণ)

৯/৪/২০১৯ ও ১৬/৪/২০ ১৯ তারিখের স্মৃতিচারণ একসাথে
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৯৬ সনের মার্চ মাসে আমি আবার প্রভাষক পদে প্যাথলজি বিভাগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ফিরে আসি। এমফিল (প্যাথলজি) পাসের রেজাল্ট হয়েছিল ১৯৯৫ সনের শেষের দিকে। পদায়ন হতে সময় লেগেছিলো। আমি এর আগেও প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলাম ১৯৯২ সনের জানুয়ারি থেকে ১৯৯৩ সনের জুন পর্যন্ত। ১৯৯৮ সনের মে মাসে আমি সহকারী অধ্যাপক (চঃ দাঃ) পদে যোগদান করি। ২০০৭ সনের শেষ পর্যন্ত আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজেই ছিলাম। সেই হিসাবে আমি এই মেডিকেল কলেজের এম ২৪ নাম্বার ব্যাচ থেকে এম ৪৪ নাম্বার ব্যাচ আমার ছাত্র হিসাবে পেয়েছি। ২৬ ও ২৭ নাম্বার ব্যাচের আমি ক্লাস নিতে পারি নি কারন আমি তখন পিজি কোর্সে ছিলাম আইপিজিএমআর (বিএসএমএমইউ) ঢাকায়। ৪৩ ও ৪৪ ব্যাচের ক্লাস আমি নিতে পারি নি কারন তারা তখন ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে। প্যাথলজি ক্লাস হয় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে। আমি নিজে ছিলাম এম-১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র। আমার মেয়ে ডাঃ মার্জিয়াও ১৭ নাম্বার ব্যাচের ছাত্রী ছিল। তবে ময়মনসিংহে না দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের। যেহেতু ভুটানের ছাত্র লোটে শেরিং এম-২৮ নাম্বার ব্যাচের ছাত্র ছিলেন সেহেতু তিনি আমার সরাসরি ছাত্র। আজ তিনি ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার মেডিকেল কলেজের আমারই সরাসরি একজন ছাত্র একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়াতে আমি গর্ববোধ করছি। সেই দেশেরই আমার আরেক ছাত্র এম-২৪ নাম্বার ব্যাচের ডাঃ টান্ডি দর্জি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরো ভালো লাগার কথা না? শুধু তাই না, খোদ বাংলাদেশেরই, এমনকি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপি-ও এম-৩০ নাম্বার ব্যাচের সরাসরি ছাত্র। এরা শুধু আমার ছাত্রই না আমার কলেজের ছোট ভাই। গর্বে প্রাণ ভরে যায়। আমি এখন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের টিচার । আগামী ১৪ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসে তার স্মৃতিমাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ভিজিট করবেন। সাক্ষাৎপ্রার্থির জন্য কড়াকড়ি নিয়ম। আমি অধ্যক্ষের নিকট অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। নাম ঠিকানা ও ৫ কপি ছবি জমা দিয়েছি চেষ্টকার্ড তৈরি করার জন্য। এই ৫ কপি ছবি নাকি ৫ স্তরের সিকিরুটির নিকট চলে যাবে। কত দামী আমার ছাত্রটি! Continue reading “আমার ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে”

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
(স্মৃতিচারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের ঘোনারচালা প্রাইমারী স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে দেখি নি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি হাই স্কুলে গিয়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অটোপ্রমোশন নিয়ে ক্লাস সিক্স-এ ভর্তি হই কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ১৯৭২ সনের প্রথম দিকে। বাংলা পড়াতেন মাওলানা সালাউদ্দিন স্যার। তিনি ধর্ম বিষয়ে লেখাপড়া করলেও ধর্ম বিষয় পড়াতেন না। ধর্ম বিষয় পড়াতেন ইনসান স্যার এবং আব্দুল্লাহ স্যার। মাওলানা স্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পছন্দ করতেন। স্কুলে ছাত্র সংসদ ছিল। ছিল ভিপি, জিএস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। ক্লাস রুমের পার্টিশন খুলে দিয়ে রুম বড় করে হল রুম বানিয়ে আমরা অনুষ্ঠান করতাম। প্রতি বুধবার সাংস্কৃতিক সম্পাদক একটা হাফ খাতা হাতে নিয়ে ক্লাসরুমের সামনে এসে বলতেন Continue reading “আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান”

মুর্গির মরক

মুর্গির মরক

স্মৃতিচারণ

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আগেরদিনে গ্রামের মানুষ একই ভিটায় কয়েকটা করে  পরিবার বাস করতো। প্রত্যেক পরিবারই দেশী জাতের মুর্গি পালন করতো । একেক পরিবারের ২০-৩০টা করে মুর্গি ছিল । মুর্গিরা সারা বাড়িময় ও আলানে-পালানে ঘুরে ঘুরে খাবার খেতো । তাদের জন্য আলাদা খাবার কেনার চিন্তা করতে হতো না ।  পরিবারের উচ্ছিষ্ট খাবারও হাস-মুর্গিরা খেতো । মাঝে মাঝে দুইএকটা মুর্গি জমাই করে খাওয়া হতো । কিন্তু কোন কোন সময় মুর্গি ভাইরাসে একযোগে আক্রান্ত হয়ে মরে সাব হয়ে যেতো । এই অবস্থাকে বলা হতো মুর্গির মরক লাগা । মরার আগে মুর্গির গায়ে জ্বর হতো । এই অবস্থায় হাটে নিলে জ্বরযুক্ত মুর্গি কেউ কিনত না । তাই মুর্গির মরক লাগার সাথে সাথে জীবিত মুর্গিগুলো জবাই করে খেয়ে ফেলা হতো । তখন ফ্রিজের ব্যবস্থাও ছিল না যে রেখে রেখে খাবে ।

 

বাচ্চা পোলাপানদের অভ্যাস ছিল ভালো কোন কিছু খেলে বন্ধুদেরকে দেখায়ে দেখায়ে খেতো। খাওয়া দেখে বন্ধুদের জিহবায় পানি এসে যেতো । এটাই ছিল দেখায়ে খাওয়ার মজা ।

 

একবার মাসুদের চাচীদের মুর্গির মরক লাগলো । সেই মুর্গি জবাই করা হলো । মাসুদের চাচাত বোন মাসুদদের ঊঠানের বিপরীত বারান্দায় বসে মাসুদকে দেখিয়ে দেখিয়ে মুর্গির রান খাচ্ছিল । দেখে মাসুদের জিহবায় পানি এলো । মাসুদ আক্ষেপ করে চাচাত বোনকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো “আমাগও মুর্গি আছে, আমাগো মুর্গিরও মরক লাগবে। আমরাও সেগুলো জবাই করমু। হেসুম আমরাও দেখাইয়া দেখাইয়া খামু।”

২০/৪/২০২০ খ্রি.
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

আমার মা

আমার মা

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আমার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। নানা-নানী ডাকতেন ফতে বলে। আমার মার বড় ভাই ছিলেন তিনজন। বোনের মধ্যে মা-ই বড়। মামাদের নাম হোসেন আলী, সিবা উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিন। আমার একমাত্র খালার নাম লাল বানু। নানার নাম আমির উদ্দিন। নানা বাড়ি কালিহাতির পূর্বে রৌহা গ্রামে। নানা ছিলেন কাজেম উদ্দিন মাস্টার নানার বড় ভাই। সব কথা আমি মা-র কাছে শুনেছি। ব্যবসার জন্য বাবা দীর্ঘদিন বাহিরে থাকতেন। মা আমাদের নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। মাঝে মাঝে নানা এসে মাকে দেখে যেতেন। আসার সময় নানা মার জন্য অনেক কিছু আনতেন। লাঠির আগায় পোটলা ঝুলিয়ে কাঁধে নিয়ে আসতেন। সেই পোটলায় থাকতো ছেই (আস্ত কাঁচা খেসারী কলাই), খেশারীর ডাল অথবা বিভিন্ন রকমের মসলা। এসবই নানারা চাষ করতেন। এগুলো আমাদের কিনতে হতো না। নানা শুয়ে শুয়ে আমাকে গল্প শুনাতেন। গল্প ও ছড়াকে আমরা বলতাম হাস্তর। নানা অনেক শিক্ষামূলক হাস্তর বলতেন। তাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ), তার মেয়ে ফাতেমা (রাঃ) ও মেয়ে-জামাই হজরত আলী (রাঃ)-এর কাহিনী থাকতো। Continue reading “আমার মা”

আমার বাবা

আমার বাবা

(স্মৃতিচারণ)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমার বাবার নাম দলিল উদ্দিন তালুকদার। জন্মগ্রহণ করেন কালিহাতির ভিয়াইল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় তালুকদার বাড়ি। আমার দাদা ছিলেন মোকছেদ আলী তালুকদার। বাবার ডাক নাম ছিল দলু ।  বাবার শরীরে ইমুনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল। তাই, ঘনঘন অসুস্থ্য হতেন । অসুস্থ থাকার কারনে বাবা পরিশ্রমের কাজ করতে পারতেন না। একজন কৃষক হয়েও কৃষিকাজ তেমন করতেন না। যার দরুন অনেক জমি জমা থাকলেও তিনি তেমন সচ্ছল ছিলেন না।

বাবা বেশিরভাগ সময়ই ঘুরে বেড়াতেন। লাইলি বুবু ও আকবর ভাইর জন্মের পরই দাদা বাবাকে পাঠিয়ে দেন পাহাড় অঞ্চলের জমি দখল করে আবাদ করার জন্য। বাবা ঢনডনিয়া গ্রামে এসে বাড়ি করেন। মা আমাকে গর্ভে করে নিয়ে আসেন আমাদের নতুন বাড়িতে। তাই, আমার জন্ম হয়েছে এই গ্রামে আনুমানিক ১৯৫৮ সনে । তখন এটা কালিহাতি থানার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন এটা পড়েছে সখিপুর উপজেলার অধীন। Continue reading “আমার বাবা”

তাওয়ার চাঁন

তাওয়ার চাঁন

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মা চন্দ্র মাসের হিসাব রাখতেন। চন্দ্র মাসের তারিখ দেখে দেখে আমল করতেন। রাতে আমাকে প্রশাব করাতে উঠানে নিয়ে গিয়ে চাঁদ দেখিয়ে বলতেন

– এটা সাবানের চাঁন। ১৫ চান্দের রাতে সবে বরাত।

– সবে বরাত কি?

– সবে বরাতের রাতে আল্লাহ মানুষের ভাগ্য লিখে রাখেন। আগামী এক বছরে বান্দার ভাগ্যে কি আছে তা সবে বরাতের রাতে লিখে রাখেন। এই রাতে জেগে জেগে মানুষ আল্লাহর ইবাদাত করে। সারারাত জেগে নামাজ পড়ে। যে বেশি বেশি রাত জেগে এবাদত জিকির আজগার করবে তার ভাগ্যে তত বেশি বেশি লেখা নেকি হবে। Continue reading “তাওয়ার চাঁন”

ঔষধ লিখাতেই কৃমি পড়ে যায়

ঔষধ লিখাতেই কৃমি পড়ে যায়
১৯৮৬ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ইনসার্ভিস ট্রেইনিং নেয়ার সময় প্রফেসর ডাঃ হামিদ শেখ স্যারের সাথে রাউন্ড দিচ্ছিলাম। একজন শিশু রোগী দেখে স্যার আমাকে বললেন “কৃমির ঔষধ লিখে দাও।” আমি ফাইলে কৃমির ঔষধ লিখে দিলাম। রাতে অন্যান্য ঔষধের সাথে সিস্টার শিশুটিকে কৃমির ঔষধ খাইয়ে দেন। কিন্তু রোগীর মা জানতেন না যে কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। পরদিন সকালে পায়খানার সাথে অনেক কৃমি পড়ে।

স্যার রাউন্ডে এসে জিজ্ঞেস করেন
– কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে?
রোগীর মা বললেন
– কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয় নাই। শুধু এই ডাক্তার সাব খাতায় লিখে দিয়েছেন। তয় সকালে অনেক কৃমি পড়েছে।
স্যার হেসে বললেন
– দেখছেন, আমাদের এই ডাক্তার কেমন এক্সপার্ট। ঔষধ লিখাতেই কৃমি পড়ে যায়!

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
২৩/৬/২০১৮

লালমাটি-হাইলমাটির বাড়ি

লালমাটি-হাইলমাটির বাড়ি

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের পাহাড়ি এলাকার বাড়ি-ঘর ভর এলাকার বাড়ি-ঘরের সাথে পার্থক্য ছিল। ভর এলাকায় প্রতি বছর বন্যা হত। বন্যায় ফসল নষ্ট হতো। খরায় ফসল পুড়ে যেত। পাহাড়ে বন্যা হতো না। বন্যায় যাতে বাড়ি-ঘর ডুবে না যায় সেজন্য মাটি উঠিয়ে উচু উচু ভিটা তৈরি করে সেই ভিটার উপর বাড়ি করতো ভৌরারা। কোন কোন বছর এমন বন্যা হতো যে বাড়ির উঠানে পানি উঠতো, এমন কি ঘরের মেঝেতে পানি ঢুকতো। তখন ধর্নার উপর মাচা পেতে মাচার উপর মানুষ বসে থাকতো। বিলের বড় বড় বোয়াল-শৈল-গজার মাছ ঢুকে পড়তো ঘরের ভিতরে। কেউ কেউ কোচ দিয়ে ঘাঁ মেরে ধরে ফেলত সেই মাছ। শুনেছি, একজন রাতের অন্ধকারে ঘরের মেঝেতে যখন মাছ এসে কল কল করছিল তখন কোচ দিয়ে ঘাঁ মেরে গেঁথে ফেলে সেই মাছ। কাছে এনে তুলে দেখে তার নিজের শিশু সন্তান। ঘুমের ভিতর মাঁচা থেকে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিল পানির মধ্যে। কি করুণ ছিল সেই কাহিনী শুনতে! গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার পর থেকে এখন আর সেই রকম বন্যা হয় না। বন্যার পানিতে পলিমাটি এসে ভরের জমি উর্বর হত। সেই জমিতে প্রচুর চামারা ধান উৎপন্ন হতো। উৎপন্ন হতো প্রচুর সোনালী আঁশ পাট। কোন বাড়ির পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে নতুন করে মাটি তুলে বাড়ির ভিটা বাড়াতে হতো। তাতে প্রচুর খরচ হতো। তাই অনেকে বাড়িতে গিজাগিজি করে ঘর বানাতো। ভরের মামাতো ভাইরা জিজ্ঞেস করত “তোদের পাহাড়ে বন্যা হয় না? ” আমি বলতাম “তোদের ঘরের চালের টুই পর্যন্ত বন্যার পানি উঠলেও আমাদের পাহাড়ের বাড়িতে পানি উঠবে না। ” একবার আষাঢ় মাসে অতি বৃষ্টি হয়ে এমন পানি হয়েছিল যে বাইদ পানিতে ভরে যায়। এই সুযোগে কাশতলার ছোট ফুফা আব্দুল হামিদ ডাক্তার (পল্লী চিকিৎসক) নৌকা নিয়ে চলে আসেন ছোট চওনার ঝোড়া, ঢনডনিয়া বাইদ, চটানের বাইদ হয়ে নওপাড়ার ঘুনী দিয়ে একদম আমাদের বাড়ির দক্ষিণ চালা পর্যন্ত। দক্ষিণ চালায় আমাদের একটা বিরাট ফুটি কদম গাছ ছিল। এতবড় কদম গাছ আমি কোথাও দেখি নি। ফুফা সেই গাছটি নৌকা দিয়ে নেয়ার জন্য কাটলেন। আমি মন খারাপ করেছিলাম। মা বুঝিয়ে বলবেন “তোমার ফুফা তোমার দাদার ছোট মেয়ে-জামাই। তিনি মেয়ে জামাইকে গাছটি দিয়েছেন। এনিয়ে মন খারাপ করবে না।” ফুফা খুব দ্রুত করাতি ডেকে গাছ কেটে নৌকায় করে নিয়ে যান। কারন, বাইদের পানি সহসাই নেমে যায়। নৌকা নিয়ে পাহাড়ে আটকা পড়তে হবে। উল্লেখ্য, ফুফা বৃষ্টির আগেই নৌকা নিয়ে ছোট চওনার ঘাট পর্যন্ত এসেছিলেন। ঢলের পানির সুযোগ নিয়ে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত নৌকা নিয়ে আসেন। সেই গাছটি কাটার শোক আমার অনেকদিন ছিলো। Continue reading “লালমাটি-হাইলমাটির বাড়ি”