ছোট বেলার গাধু কাক্কু

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমরা চাচাদেরকে কাকুর সাথে আরেকটা অতিরিক্ত ক লাগিয়ে কাক্কু ডাকতাম। বাবার চাচাত ভাই চোট কাক্কু তার বড় চার ভাইদেরকে যথাক্রমে বড় ভাই, মাঝ ভাই, সাঝ ভাই, ও মিয়া ভাই ডাকতেন। সেটা অনুকরন করে আমরা ডাকতাম বড় কাক্কু, ডাক্কার কাক্কু, সাঝ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। পাড়া প্রতিবেশী চাচাদেরকে শুধু কাক্কু ডাকতাম।

Continue reading “ছোট বেলার গাধু কাক্কু”

আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের গ্রামের বাড়ীর এখন যেখানে টিউব ওয়েল আছে তখন ওখানে একটা ডোবা ছিল। ঐ ডোবাতে অনেক বড় বড় সোনাব্যাঙ থাকতো। সোনা ব্যাঙকে আমরা বাইয়া ব্যাঙ বলতাম। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ডোবা পানিতে ভরে যেত। বাইয়া ব্যাঙগুলি পানিতে লাফালাফি করত। উচ্চস্বরে ডাকত। মাঝারী সাইজের কোনো ব্যাঙ নিম্নস্বরে ডাকত। ব্যাঙের ডাকের সাথে কথা মিলাতাম। এক বাইয়া ব্যাঙ তার ডোবা থেকে বলত “এগাও আমার।” আরেক বাইয়া Continue reading “আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা”

আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৯৬৩ সন হতে পারে। আমার বয়স তখন ৫/৬ বছর হবে। রৌহা নানাবাড়ি ছিলাম। বিকেলে হালট পাড়ে তেতুল গাছের পাশের খেতে গোদুল্লা খেলছিলাম। এক সময় আমার চেয়েও সামান্য ছোট আমার এক মামাতো বোন বলল “মাষ্টর দাদার এডুতে আইজকা আইতে টাটক অব।” অর্থাৎ রাতে আমার ছোট নানা কাজীম উদ্দিন মাষ্টারের রেডিওতে নাটক হবে। নাটককে সে টাটক বলেছে। আমিতো তাও জানি না। যাহোক রাত দশটায় বাড়ীর সবাই Continue reading “আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ”

আমার সংগীতের সাথে পরিচয়

(স্মৃতির পাতা থেকে)
ছোটবেলা থেকেই আমার গান বাজনার প্রতি আগ্রহ একটু বেশী ছিল। আমাদের তালুকদার বাড়ীতে গান বাজনা করা ও যাত্রা দেখা নিষিদ্ধ ছিল। শুনেছি নাহার আপার বিয়ের এক বছর পর নাহার আপা কথা প্রসংগে বলেছিলেন তার স্বামী হাশেম দুলা ভাই যাত্রা দেখতে গিয়েছিলেন। কথাটা মেছের উদ্দিন তালুকদার, আমার দাদার মেঝো ভাই, যাকে আমরা দাদু ডাকতাম তার কানে গিয়েছিল। শুনে আপাকে শশুরবাড়ী যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। শত অনুনয় Continue reading “আমার সংগীতের সাথে পরিচয়”

আমার প্রথম পাঠ

মায়ের সাথে নানাবাড়ি গিয়েছিলাম। মা প্রতি বছর শীতকালে ২০/৩০ দিন এবং বর্ষা কালে ২০/৩০ দিন নানাবাড়ি নাইয়োর থাকতেন। নানাবাড়ি কালিহাতির রৌহা গ্রামে। নিচু ভুমি। মাটি দিয়ে অনেক উচু ভিটা নির্মাণ করে অনেকগুলি পরিবার ঘন ঘন ঘর নির্মাণ করে থাকতেন। খুব ছোট ছিলাম। একদিন সকাল বেলা ঘরের চিপা দিয়ে Continue reading “আমার প্রথম পাঠ”

আমার প্রথম হাট দেখা

আমার প্রথম হাট দেখা

(স্মৃতিচারণ)

আমাদের বাড়ীর কাছে হাট ছিল না। আমাদের এলাকায় হাট ও বাজারের মধ্যে পার্থক্য ছিল। হাটে সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি বা দুইটি বারে কেনা-বেচার উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা হত। সাধারণত দুপুরের পর হাট বেশী জমত। হাট বসার স্থানে অথবা অন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে সকাল নয়টা দশটার দিকে প্রতিদিন কিংবা নির্দিষ্ট দিন অল্প কয়েকটি জিনিস, বিশেষ করে গাভীর দুধ বিক্রি হত। সেটাকে বলা হত বাজার। আর ঐ সময়টাকে বলা হত বাজার বেলা। যেমন বলা হত “সে বাজার বেলা এসেছিল।” মানে সে সকাল নয়টা-দশটায় এসেছিল। আমি যে সময়টার কথা বলছি সেটা ষাটের দশকের দিকে। Continue reading “আমার প্রথম হাট দেখা”

ওয়াবক ও অজগরের ভয়

(স্মৃতির পাতা থেকে)
ছোট বেলায় যখন আমাদের ঘুম আসত না তখন ভয় ভিতিকর গল্প বলে মা আমাদেরকে চুপ করিয়ে ফেলতেন। শীতের রাতে লেপের নিচেও যেতে চাইতাম না। হঠাৎ বাতি নিভিয়ে দিয়ে মা বলতেন “এই ওয়া বক আইল।” ওয়া বক একটি কাল্পনিক আজব বক ছিল। বাড়ির পাশে ছেছড়া গাছে এক ঝাক শারষ পাখি থাকত। আমার কল্পনায় এর চেয়েও বড় বিভৎস এক ধরনের লম্বা ঠোট ওয়ালা পাখী হতে পারে ওয়াবক। মনে হত সিলিং এর উপর বসে Continue reading “ওয়াবক ও অজগরের ভয়”

আমার ছোটবেলার নানাবাড়ি

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমার নানাবাড়ি টাংগাইল জেলার, কালিহাতি উপজেলার রৌহা গ্রামে। কালিহাতি থেকে ৪/৫ কিলোমিটার পুর্বে বংশী নদীর Continue reading “আমার ছোটবেলার নানাবাড়ি”

আমার দাদাবাড়ী

আমার দাদাবাড়ী টাংগাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ভিয়াইল গ্রামের দক্ষিন পাড়ায়। কালিহাতি শহর থেকে ৪/৫ কিলোমিটার পুর্বে। বংশী নদীর ১ কিলোমিটার পশ্চিমে। এলাকাটি খুব নিচু।অল্পতেই বন্যা হয়। স্থানীয় ভাষায় ভর অঞ্চল বলা হয়। দাদার নাম মোকসেদ আলী তালুকদার ওরফে মোকসে তালুকদার। দাদারা ছিলেন ৫ ভাই। কায়েম উদ্দিন তালুকদার, মেছের উদ্দিন তালুকদার, মোকসেদ আলী তালুকদার, জয়নাল আবেদীন তালুকদার (আজ তালুকদার) ও মাজম আলী তালুকদার (মাজ তালুকদার)। মাজ তালুকদারকে আমি দেখি নাই। তিনি বিয়ে করার Continue reading “আমার দাদাবাড়ী”