মশা মারা

মশা মারা
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রথম স্প্রে মেশিন আমি দেখেছি খুব সম্ভব ১৯৬৪ কি ১৯৬৫ সনের দিকে। খুব ছোট ছিলাম আমি। মেঝ দাদার কাছারি ঘরে অনেক লোক এলেন স্প্রে মেশিন নিয়ে। সবার পিঠে একটা করে স্প্রে মেশিন ছিল। অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের মত সিলিন্ডার পিঠে ছিল। ডান হাতে ছিল পাইপ লাগানো স্প্রে এবং বাম হাতে ছিল পাম্পের হাতল। পাম্প করে সিলিন্ডারের ভিতর প্রেসার বৃদ্ধি করা হতো। স্প্রে টিগারে চাপ দিলে ফোস ফোস করে তরল কিটনাশক ছড়িয়ে পড়তো। এই দলের একজন প্রধান ছিলেন, তার বাড়ি ছিল ইন্দ্রজানি। আমি তার নাম জানি না। আমার ভগ্নিপতি মাওলানা সালাউদ্দিনের আত্বিয় হবেন। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারি চাকরি করতেন। সারাদেশ থেকে ম্যালারিয়া পারাসাইট প্লাসমোডিয়াম বাহী এনোফিলিস মশা নিধনের জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহন করেছিল। এক যোগে সারা দেশে মশার আবাসস্থলে কিটনাশক ডিডিটি পাউডার পানিতে গুলে স্প্রে করার প্রোগ্রাম করা হয়। একাজে সহায়তা করার জন্য স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে এলাকার যুবক শ্রেণীর লোক দিয়ে প্রতিটি ঘড়ের বেড়ার ভিতর ও বাহির এবং বাড়ির আশে পাশের আনাচে কানাচে ঝোপঝাড়ে ডিডিটি স্প্রে করা হয়। একসাথে ১২/১৩ জন যখন স্প্রে মেশিন নিয়ে বের হতেন তখন মনে হতো যে ইনারা যুদ্ধে বেরোচ্ছেন। আমার মনে আছে, এই বাহিনীতে জামাল ভাই, গাদু কাক্কু ও আবুল মামু ছিলেন। তারা সরকার থেকে টাকাও পেয়েছিলেন। এমন কাজ করে সরকার থেকে টাকা পেলে এখন আমরা আউট সোর্সিং বলি।
Continue reading “মশা মারা”

কোহিনূর

কোহিনূর
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

এই কোহিনূরকে আপনারা চিনবেন না। এই কোহিনূর একজন গরীবের মেয়ে। দেখতে ছিল রবি ঠাকুরের গানের কৃষ্ণকলির মতো। তার বাবার কাছে ছিল বৃটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মোগল সম্রাজ্ঞীর ব্যবহার করা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হীরা কোহিনূরের মতো। ত্রিশ বছরেরও বেশী আগে আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছিল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসাবে। চিকিৎসা পেশার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকায় দুঃসাহসিক ইচ্ছা নিয়ে আমি সেই গ্রামের জরাজীর্ণ টিনসেড হাসপাতালে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা দিতে থাকি। পাশে একটা পরিত্যক্ত সরকারি বাসস্থান ছিল মেডিকেল অফিসারের জন্য। ইতিপূর্বে কোন এমবিবিএস ডাক্তার সেখানে পোস্টিং হয় নাই। আমিই প্রথম। ১০০ টাকা দামের চৌকি কিনে সেই বাসাতেই আমি থাকা শুরু করলাম। সাথে একটা রান্নাঘর ছিল। ওটার ভিতর কোহিনূরের বাবা ধানের ক্ষর রেখেছিলেন। আরেকটা বৈঠককখানা ছিল। ওটার ভিতর কোহিনূরের বাবা ধানের আটি রেখেছিলেন স্তুপ করে। বাড়ীর চারিদিকে পরিত্যক্ত সিমেন্টের খুটি ছিল টিনের বেড়ার। কিন্তু টিন ছিল না। একটা কামলা নিয়ে বাঁশ কিনে সেই খুটিতে বাঁশ বেঁধে বাঁশের উপর দিয়ে কলাপাতা ভাজ করে ঝুলিয়ে বেড়া তৈরি করালাম। বাড়ির পশ্চিমপাশ সংলগ্ন একটা বিরাট জমিদারি পুকুর ছিল। খুব স্বচ্ছ ছিল তার পানি। সেই পানিতে জ্যোৎস্নার আলো ঝলমল Continue reading “কোহিনূর”

সনাক্তকরণ চিহ্ন

সনাক্তকরণ চিহ্ন
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ছোট বেলা থেকেই আমি রেডিওর পোকা ছিলাম। খুব রেডিও শোনতাম। আমার বয়সী পোলাপানরা কেউ রেডিও শোনত না। কেউ কেউ শুনলেও পল্লীগীতি শুনতো। আমি পল্লীগীতি, নাটক, খবর ও খেয়াল শোনতাম। রেডিওতে খেয়াল শুরু হলে সবাই Continue reading “সনাক্তকরণ চিহ্ন”

ঘড়ি

ঘড়ি
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আগের দিনে কারো কারো কাছে ঘড়ি একটি বিলাসিতার বস্তু ছিল। আগেরদিন বলতে আমি বুঝাচ্ছি আমার শৈশবের দিনগুলি। তখন সবচেয়ে দামী যে লুঙ্গী ছিল সেইটার নাম ছিল টুইচ লুঙ্গী। সেই লুঙ্গীর দাম ছিল ৪ টাকা। এমন দামের লুঙ্গী পরলে মানুষ মনে করতেন ফেরাংগী করে। সেই যুগে একটি ঘড়ির দাম ছিল ১০০/২০০ টাকা। তার মানে এটা একটা দামী জিনিস ছিল। ঘড়ির কাজ ছিল সময় দেখানো। যারা স্কুলে যেতেন বা অফিসে Continue reading “ঘড়ি”

যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম

যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

যথাসময়ে পাস করা এবং যথাসময়ে চাকরি পাওয়া আমার জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। তাই আমি কোন কারনেই পরীক্ষা পিছানো পছন্দ করতাম না। কিন্তু নেতৃস্থানীয় ক্লাসমেটদের ইচ্ছার বিরোদ্ধে কথা বলার সাহস আমার ছিল না। পরীক্ষা দেয়াটা সবার কাছে ভীতিকর ব্যাপার ছিল। সামান্য একটু অযুহাত দেখাতে পারলেই পরীক্ষা পিছানোর সংগ্রাম করতো। আর সংগ্রামে নেতৃত্ব Continue reading “যেভাবে সরকারি চাকরি পেলাম”

রেডিও

রেডিও
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি প্রথম রেডিও দেখি একদম ছোট বেলায়। সন্ধার সময় আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে রেডিও হাতে নিয়ে ছোট চওনার শওকত ডাক্তার সাহেব হেটে যাচ্ছিলেন। ঘাড় কন্ঠের কথা শুনে আমরা বিস্মিত হই। এগিয়ে গিয়ে দেখি একজন হাতে করে একটা বাক্স নিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকেই কথা বের হচ্ছে। আমি, ভাই ও বুবু এগিয়ে গেলাম ছোট কাক্কু সালাম তালুকদারের ঘরে। ছোট কাক্কু শওকত ডাক্তার সাহেবের বন্ধু ছিলেন। তিনি রেডিও কিনে বন্ধুকে দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছিলেন। Continue reading “রেডিও”

সাইকেল

সাইকেল
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাই-সাইকেলকেই আমরা ছোট বেলা থেকে সাইকেল বলে অভ্যস্ত হয়েছি। বাই মানে দুই, সাইকেল হলো চাকা। দুই চাকার গাড়ী বলেই এটাকে বাই সাইকেল বলা হয়। পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে চেইনের মাধ্যমে চাকা ঘুরিয়ে চলে যাওয়াটা হলো সাইকেল চালানো। এই সাইকেল চালানোটা হলো সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহারিত সহজ যান। জালানি তেল খরচে মোটর যন্ত্র সাইকেলে Continue reading “সাইকেল”

সরল বিশ্বাসে সার্টিফিকেট

সরল বিশ্বাসে সার্টিফিকেট
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রায় ৩১ বছর আগের কথা। সবেমাত্র আমার সরকারি চাকরি হয়েছে গ্রামে। উপজেলা থানা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। পুলিশি নিরাপত্তা ছিল কল্পনার বাইরে। নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাছেই ছিল। এলাকার জনগনের সাথে খাতির দিয়ে মোটামুটি নিরাপদেই ছিলাম। একা থাকতাম একটা পরিত্যক্ত টিনসেড বাড়িতে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে। তাও ভয় পেতাম না। উঠানে চেয়ারে বসে গভীর রাত পর্যন্ত মেঘের ভিতর চাঁদের লুকোচুরি উপভোগ করতাম। অল্পদিনের এই জীবন ছিল জীবনের অন্যরকম এক অধ্যায়।
Continue reading “সরল বিশ্বাসে সার্টিফিকেট”

এনাটমির পড়া

এনাটমির পড়া
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

এম বি বি এস ক্লাস শুরু হয় আমাদের এনাটমি দিয়েই। ১৯৭৯ সনের ডিসেম্বরের ১৮ বা ১৯ তারিখে ভর্তি হলেও ক্লাস শুরু হয় আমাদের ১৯৮০ সনের জানুয়ারি মাস থেকে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ আমাদের টাংগাইল থেকে কাছে হওয়াতে এবং কম খরচে পড়তে পারব এই চিন্তা করেই আমি ভর্তির দরখাস্ত ফর্মে প্রথম পছন্দ ময়মনসিংহ দিয়েছিলাম। তাই আমি Continue reading “এনাটমির পড়া”

রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে

রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে
(স্মৃতির পাতা থেকে)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

সিদ্ধান্ত নিলাম আমি, দোস্ত ইকবাল ও আমিনুল ভাই এক সাথে দিল্লী, আগ্রা জয়পুর ভ্রমণ করব। ইকবাল মানে আমাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের আমাদের এম-১৭ ব্যাচের ইকবাল, বর্তমানে প্রফেসর ডাঃ এ এফ এম সালেহ, এই মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান।
Continue reading “রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে”