আমার মেডিকেলে ভর্তি যাত্রা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৫ ই ডিসেম্বর ১৯৭৯। দুলাভাই একটি চিরকুট নিয়ে আমাদের বাড়ী এলেন বিকেলে। লিখা “সাদেক, তোমার এমবিবিএস ভর্তির তারিখ ১৭ ই ডিসেম্বর। অবশ্যই ১৭ তারিখে আসবে। না আসলে বিরাট ক্ষতি হবে।” লিখেছেন আমার চাচা শাহ আলম তালুকদার। তিনি তখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ২য় বর্ষ শেষের দিকে, ম-১৫ ব্যচ (আমি ছিলাম ম-১৭)। তিনি এখন এই কলেজে শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান। তিনি এক Continue reading “আমার মেডিকেলে ভর্তি যাত্রা”

প্রিন্সিপাল এএফএম গোলাম কিব্রীয়া এবং মায়ের ইন্তেকাল

(স্মৃতির পাতা থেকে)
এএফএম গোলাম কিব্রীয়া স্যার ছিলেন আমার শিক্ষক। তিনি কালিহাতির আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। স্বাধীনতার পরপরই কালিহাতির অদুরে নোয়াবাড়ীতে জনতা কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। কয়েক মাস চলার পর কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৩ সনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী স্যার কলেজটি তার বাড়ী ছাতিহাটির কাছে আউলিয়াবাদে স্থানান্তরিত করে তার দাদার নামে নামকরন করেন আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ। Continue reading “প্রিন্সিপাল এএফএম গোলাম কিব্রীয়া এবং মায়ের ইন্তেকাল”

ডাঃ এইচ আর খান

(স্মৃতির পাতা থাকে)
মা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। আমার চাচা গ্রাম ডাক্তার শামসুদ্দিন তালুকদার (শমে ডাক্তার) চিকিৎসা করে ভাল করতে পারেন না। আরো অভিজ্ঞ গ্রাম ডাক্তার হাছেন আলী ডাক্তার দিয়েও কিছু হল না। বাজারের ফার্মেসী বা ঔষধের দোকান থেকে সমস্যার কথা বলে বড় বড় মোটা বোতলের সিরাপ এনে খাওয়ানো হয় কাজ হয় না। শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছেন। আমি তখন এইচ এস সি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। ১৯৭৮ সন। বর্ষাকাল। আব্দুস সালাম তালুকদার Continue reading “ডাঃ এইচ আর খান”

আমার এস এস সি রেজাল্ট

 

আমি ভালুকা উপজেলার বাটাজোর বি এম হাই স্কুল থেকে ১৯৭৭ সনে এস এস সি পাস করেছি। এই পরীক্ষার রেজাল্ট সংগ্রহ নিয়ে যে কাহিনী হয়েছিল তা আজ আমি লিখব। এস এস সি রেজাল্ট বের হবার ঘোষনা রেডিওতে দিয়েছে তিন দিন হয়। ডাকযোগে স্কুলে রেজাল্ট পৌছতে সময় লাগার কথা দুই দিন কিন্তু তিন দিন হয়ে গেল কিছুই জানতে পারলাম না। চিন্তায় পরে গেলাম। চতুর্থ দিন বাড়ী থেকে বের হলাম। বলে গেলাম কচুয়া যাচ্ছি। কচুয়া Continue reading “আমার এস এস সি রেজাল্ট”

নায়ক রাজ্জাক এবং আবুল হোসেন স্যার

 

১৯৭০ /৭১ সনে আমি ক্লাস ফোর/ফাইভে পড়তাম। তখন থেকেই আমার সিনেমার প্রতি আগ্রহ। গ্রামের শিক্ষিতরা চলতচিত্রকে সিনেমা ও ছবি বলতেন। কম শিক্ষিতরা টগি বলতেন। যেমন, গত সপ্তাহে আমি একটা সিনেমা দেখেছি। অমুক ছবি দেখে টাকা পয়সা নষ্ট করছে। রেডিওতে বলা হত ছায়াছবি। যেমন, এখন শুনবেন ছায়াছবির গান। সিনেমা আবিষ্কাররের প্রথমদিকে শব্দবিহিন বা নির্বাক সিনেমা ছিল। পরে বিজ্ঞানীরা এর সাথে কথা বা টক Continue reading “নায়ক রাজ্জাক এবং আবুল হোসেন স্যার”

সামাদ স্যার

সামাদ স্যার ছিলেন আমার হাই স্কুল জীবনের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। আব্দুস সামাদ বি এস সি স্যার। ক্লাসে সাধারণ গণিত, নৈর্বাচনিক গণিত ও পদার্থবিদ্যা পড়াতেন। এই তিনটি বিষয়েই আমি ভাল করতাম তাই আমাকে অন্যদের থেকে বেশি স্নেহ করতেন। খুব সরল ছিলেন। সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন। ১৯৭৫/৭৬ সনে ভালুকার বাটাজোর বি এম হাই স্কুলে স্যার আমাকে নবম ও দশম শ্রেনীতে পড়িয়েছেন। ১৯৭৭ সনের এস এস সি পরীক্ষায় Continue reading “সামাদ স্যার”

আংগুর ফল

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের গ্রামের বাড়ীটা সখিপুরের পাহাড় অঞ্চলে। দাদাবাড়ী ও নানাবাড়ী কালিহাতির নিচু অঞ্চলে। এই নিচু অঞ্চলকে আমরা ছোট বেলায় বলতাম ভর অঞ্চল। পাহার অঞ্চলের মানুষ ছিলাম বলে আমার ভর অঞ্চলের কাজিনরা আমাকে ঠাট্টা করে বলত পাহাইড়া। উলটা আমি বলতাম তোমরা ভৌরা। তখন পাহাইড়াদেরকে একটু কম বুদ্ধি সম্পন্ন মনে করা হত। অবস্য যারা আমাকে ঠাট্টা করত পাহাইড়া বলে বাস্তবে মনে হয় আমি তাদের চেয়ে Continue reading “আংগুর ফল”

আমার যাদু শিক্ষা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
ছোট বেলায় প্রথম যাদু দেখি বেদেদের কাছে। বেদেরা গ্রামে বাড়ি বাড়ি এসে বাহির বাড়িতে পাটি বিছিয়ে বসে ঝোলার ভিতর থেকে যাদুর সরনঞ্জাম বের করে ছোট ছোট যাদু দেখাত ছোট ছোট পোলাপানকে খুশী করার জন্য। যাদু দেখার পর আমরা এক পট করে চাউল দিয়ে দিতাম। যাদু দেখে আমি মজা পেতাম। এক গুটি থেকে তিন গুটি, গুটি ভেনিশ করে ফেলা, রুমাল ভেনিশ করে বেলা ইত্যাদি যাদু দেখানো হত। যাদু শিখার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল।

Continue reading “আমার যাদু শিক্ষা”

বাহাত্তুরা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৯৭২ সন। সবেমাত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সবার মাঝে স্বাধীন স্বাধীন ভাব। কেউ কাউকে মানতে চায়না। আমাদের গ্রামে তখন স্বেচ্ছা সেবক বাহিনীর তৎপরতা নাই। অনেকেই শক্তি খাটানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ বাহিনী তখনো শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। নেই পর্যাপ্ত সরকারি বিচার ব্যাবস্থা। বংগবন্ধু যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশগড়া নিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। বন্ধুদেশগুলি থেকে ত্রান সামগ্রী আসছে। অনেকে সেইগুলি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যাস্ত। সুযোগ বুঝে অনেকে Continue reading “বাহাত্তুরা”

স্কুল কলেজের আমাদের ক্লাসের মেয়েরা

(স্মৃতির পাতা থেকে থেকে)
ক্লাস সিক্স, সেভেন ও এইটে আমি কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে পড়তাম। আমাদের কাসের ছাত্র সংখ্যা খুব সম্ভব ৫০ এর উপরে হবে। এর মধ্যে ৪/৫ জন মাত্র মেয়ে ছিল। তাদের জন্য একটি মাত্র বেঞ্চ নির্ধারিত ছিল। বেঞ্চটি শিক্ষক বসার বাম পাশে আড়া আড়ি ভাবে ছিল। সারাস্কুলের সব ক্লাস মিলে ২০/২২ জন মেয়ে ছিল। এই মেয়েগুলিকে গাদাগাদি করে একটি রুমে রাখা হত। রুমটির নাম ছিল মেয়েদের কমন রুম। কমন রুম বলতে ওটাকেই বুঝানো Continue reading “স্কুল কলেজের আমাদের ক্লাসের মেয়েরা”