ছাপার অক্ষর

স্মৃতির পাতা থেকে

ক্লাশ থ্রিতে পড়ার সময় বাড়ীর কাজ ছিল পড়া মুখস্ত করা এবং বাংলা ও ইংরেজি ১ পাতা করে হাতের লিখা। হাতের লিখা খুব সুন্দর হলে দশে দশ পাওয়া যাবে। কেউ দশ পায় না। আমার ইচ্ছা হল দশ পেতে হবে। আমি খুব প্রকৃতি প্রেমিক ছিলাম। বাড়ীর পাশে ঝোপ জংগলে নানা রকম গাছের সাথে আমার ছিল ভালবাসা। অনেক গাছের নাম জানতাম। অনেক বন্য ফুলের নাম জানতাম। অনেক পাখীর নাম জানতাম। কোন পাখী কোন পাখীর বউ আমি Continue reading “ছাপার অক্ষর”

ঢোলেও আমার পড়া বলত

 

ক্লাস ফোর থেকে আমাদের ইংলিশ বই পাঠ্য হল। ইংরেজি বর্নমালা শিখছিলাম। B অক্ষর শিখানোর জন্য সেন্টেন্স ছিল এই রকম।
Bring.
Bring, bring.
Bring the duster.
আমার মাথায় সারাক্ষন পড়া ঘুরাফিরা করত। ১৯৬৯ সাল। সামনে ১৪ ই আগস্ট দেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুসঠান হবে। স্কুলে স্কুলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুসঠান হবে। বাশার ভাই মেট্রিক পাশ করে খুইংগারচালায় নতুন প্রতিসঠিত বেসরকারি প্রাইমারী স্কুলে যোগদান করেছেন। বাশার ভাইর পুর্ন নাম মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন Continue reading “ঢোলেও আমার পড়া বলত”

ক্লাসে সীটে বসা নিয়ে মারামারি

১৯৬৮ সনে ক্লাস টুতে পড়তাম ঘোনারচালা ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে। আমার বয়স ৭/৮ হবে। আমাদের স্যার ছিলেন চার জন। হেড স্যার ছিলেন মোঃ খোরশেদ আলম। সেকেন্ড স্যার ছিলেন আমার চাচা মোঃ সোলায়মান তালুকদার। থার্ড স্যার ছিলেন মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। ফোর্থ স্যার ছিলেন মোঃ আ: লতিফ। আমাদের ক্লাসে সাতটি বেঞ্চ ছিল। স্যার বসার সামনা সামনি সারিবদ্ধ তিন সারিতে ছয়টি। স্যারের ডান পাশে আড়া আড়ি ভাবে একটি। সামনের দুই Continue reading “ক্লাসে সীটে বসা নিয়ে মারামারি”

ক্লাস টুর পড়া

১৯৬৮ সনে ক্লাস টুতে উঠে বাংলা ও অংক বিষয়ের সাথে যোগ হল সমাজপাঠ। ভুগোল, পৌরনীতি ও ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারের বই ছিল সমাজ পাঠ। ওখানে দিক নির্নয় শিক্ষার জন্য একটা লেসন ছিল। সুর্য যে দিকে উদয় হয় তাকে পুর্ব দিক বলা হয়। উদিয়মান সুর্যের দিকে ঘুরে দাড়ালে হাতের ডান দিক দক্ষিন, হাতের বাম দিক উত্তর এবং পিছনের দিক পশ্চিম। মাথার উপরের দিক উর্ধ এবং পায়ের নিচের দিক অধ। এইভাবে বই পড়ে Continue reading “ক্লাস টুর পড়া”

আব্দুল বাচিলাম

শুনে শুনে দেখে দেখেই ছোট ওয়ানের বই মুখস্ত করে ফেলাতে আমাকে বড় ওয়ানে অটো প্রমোশন দেয়া হল। বার্ষিক পরীক্ষা হল ছয় মাস পরেই। বারী ফার্স্ট, আমি সেকেন্ড ও লুতফর থার্ড হয়ে ক্লাস টুতে উঠলাম । ওটা ছিল ১৯৬৮ সাল। আমার বয়স হবে ৭/৮ বছর। পরীক্ষার পর স্কুল ছুটি চলছে। আমি ইয়ার মামুদ ভাইর কাছ থেকে পুরাতন বই এনে নিজে নিজেই পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে অনেক রাত বাজিয়ে দিলাম। টিম টিম করে বাতি Continue reading “আব্দুল বাচিলাম”

আমার প্রথম অভিনয়

স্মৃতির পাতা থেকে

১৯৬৯ সন। আমি ঘোনারচালা সরকারি ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। বাংলা পড়াতেন সাখাওয়াত স্যার (সাকে মাস্টার)। সম্রাট আকবরকে নিয়ে একটি গল্প ছিল। গল্পটি ছিল এইরকম। এক বিকেলে সম্রাট আকবর তার নবরত্নের এক রত্ন মোল্লা দোপে আজাকে নিয়ে বাগানে পায়চারী করছিলেন। সম্রাট বললেন
Continue reading “আমার প্রথম অভিনয়”

ছোট বেলার গাধু কাক্কু

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমরা চাচাদেরকে কাকুর সাথে আরেকটা অতিরিক্ত ক লাগিয়ে কাক্কু ডাকতাম। বাবার চাচাত ভাই চোট কাক্কু তার বড় চার ভাইদেরকে যথাক্রমে বড় ভাই, মাঝ ভাই, সাঝ ভাই, ও মিয়া ভাই ডাকতেন। সেটা অনুকরন করে আমরা ডাকতাম বড় কাক্কু, ডাক্কার কাক্কু, সাঝ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। পাড়া প্রতিবেশী চাচাদেরকে শুধু কাক্কু ডাকতাম।

Continue reading “ছোট বেলার গাধু কাক্কু”

আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের গ্রামের বাড়ীর এখন যেখানে টিউব ওয়েল আছে তখন ওখানে একটা ডোবা ছিল। ঐ ডোবাতে অনেক বড় বড় সোনাব্যাঙ থাকতো। সোনা ব্যাঙকে আমরা বাইয়া ব্যাঙ বলতাম। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ডোবা পানিতে ভরে যেত। বাইয়া ব্যাঙগুলি পানিতে লাফালাফি করত। উচ্চস্বরে ডাকত। মাঝারী সাইজের কোনো ব্যাঙ নিম্নস্বরে ডাকত। ব্যাঙের ডাকের সাথে কথা মিলাতাম। এক বাইয়া ব্যাঙ তার ডোবা থেকে বলত “এগাও আমার।” আরেক বাইয়া Continue reading “আমার ছেলেবেলার খেলাধুলা”

আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৯৬৩ সন হতে পারে। আমার বয়স তখন ৫/৬ বছর হবে। রৌহা নানাবাড়ি ছিলাম। বিকেলে হালট পাড়ে তেতুল গাছের পাশের খেতে গোদুল্লা খেলছিলাম। এক সময় আমার চেয়েও সামান্য ছোট আমার এক মামাতো বোন বলল “মাষ্টর দাদার এডুতে আইজকা আইতে টাটক অব।” অর্থাৎ রাতে আমার ছোট নানা কাজীম উদ্দিন মাষ্টারের রেডিওতে নাটক হবে। নাটককে সে টাটক বলেছে। আমিতো তাও জানি না। যাহোক রাত দশটায় বাড়ীর সবাই Continue reading “আমার নাটকের প্রতি আগ্রহ”