চরামদ্দি থেকে বিদায়

 চরামদ্দি থেকে বিদায়

আগস্ট ১৯৮৯ সন। চরামদ্দি ইউনিয়ন সাবসেন্টারে চাকুরির ১ বছর পুর্ন হয়েছে। সিভিল সার্জন স্যার অবসরে যাওয়াতে মনটা দুর্বল হয়ে গেল। পাগলা ফার্মাসিস্ট বদলী হয়ে নিজ জেলায় চলে গেলেন। একজন নির্ভরশীল লোক হারালাম। নতুন পিওনটা সোজাশান্ত। নিজেকে অসহায় বোধ করছিলাম। এর মধ্যে এসে গেল আরেক ফার্মাসিস্ট। এর নাম আগেও শুনেছিলাম। আগেও এই হাসপাতালে অনেকদিন চাকরী করেছে। এখানেই তার Continue reading “চরামদ্দি থেকে বিদায়”

ভান ধরা এক রুগী

 

১৯৮৮ সনে আমার বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ কেন্দ্রে পোস্টিং হয়। এটাই আমার প্রথম পোস্টিং। নবীন ডাক্তার আমি। গ্রাম এলাকা। সরকারী ডিউটির পর আমি প্রাইভেট প্রাক্টিস করতাম। মাঝে মাঝে আশে পাশে কলে যেতাম। একদিন আসরের নামাজের পর ২০/২৫ বছরের এক লোক আসল। অনুনয় করে বলল

Continue reading “ভান ধরা এক রুগী”

বরিশালের দুরা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমাদের এলাকায় কচ্ছপ ছিল তিন রকম। সুন্দর সুন্দর ছোট সাইজের চেপ্টা কচ্ছপকে বলতাম কাছিম। ছোট বেলায় কাছিম দেখে মজা পেতাম। শীতকালে পুকুরে ডুবানো নৌকার গলুইয়ে বসে কাছিম রৌদ পোহাত। আমি পাতিল ভাংগা চেরা দিয়ে ঢিল ছোড়তাম। কাছিম ঢিল দেখে টুব করে ডুব দিত। পানিতে পানার নিচে আরেক প্রকার সামান্য একটু বড় সাইজের কচ্ছপ ছিল তাদের পীঠ উটের পিঠের মত উচু ছিল। এদের বলতাম দুরা। দুরা দেখতে Continue reading “বরিশালের দুরা”

নাড়িভুড়ী

 

১৯৮৮ সনের কথা। আমার মেডিকেল অফিসার হিসাবে প্রথম পোস্টিং হয়েছে বরিসালের এক ইউনিয়ন হেলথ সাবসেন্টারে। একা থাকি। পাশের বাড়ির দফাদার খুব ভাল মানুষ। আমাকে সংগ দেন। প্রাইভেট চেম্বারে রুগী দেখার অবসরে তার সাথে গল্প করি। এই সেন্টারে ইতিপুর্বে কোন এম বি বি এস পান নি। আমাকে পেয়ে সবাই খুশী। সারা দিন রুগী দেখি। দফাদার অনেক রুগী নিয়ে আসেন। একদিন তিনি বললেন
Continue reading “নাড়িভুড়ী”

আমার প্রথম কর্মস্থলের প্রথম ভয়াবহ দিনগুলি

(স্মৃতিরর পাতা থেকে)

১৯৮৮ সনে ৩ জুলাই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করে প্রস্তুতি মুলক ছুটি নিয়ে টাংগাইল এসেছিলাম। দুই একদিন থেকে বেডিংপত্র, একটি হারিকেন, একটি ছোট রেডিও ও এক সেট পাতিল নিয়ে কর্মস্থলে থাকার উদ্দেশ্যে দুপুরের দিকে টাংগাইল থেকে রওনা দিলাম। পরেরদিন সকাল ১০ টায় চরামদ্দি পৌছলাম। কাটাদিয়া বাজার থেকে একটা রেইনট্রি গাছের চৌকি Continue reading “আমার প্রথম কর্মস্থলের প্রথম ভয়াবহ দিনগুলি”

আমার প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের কাহিনী

 

সময়টা ১৯৮৮ সালের ২ জুলাই।  পোস্টিং অর্ডার হাতে পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথ কী হবে তার খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। এ ব্যাপারে সুলতান নামে আমার এক আত্মীয় তার সহকর্মীদের সাথে আলাপ করে একটা রোড ম্যাপ করে দিল। সে ওখানে চাকরি করে।
বাসে করে সাতক্ষীরায় তার বাসায় গেলাম। রাতের খাবার খেয়ে সেখান থেকে হুলার হাট গেলাম। একা জার্নি, খুব Continue reading “আমার প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের কাহিনী”

বন্ধু বিচ্ছিন্ন

 

ডাঃ নজরুল ইসলাম। বর্তমানে টাংগাইলের নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ এফসিপিএস সার্জন। তার সাথে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব শুরু হয় ১৯৭৭ সনে কালিহাতির আউলিয়াবাদে আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজে ভর্তি হবার পর থেকেই। হোস্টেলে পাশাপাশি রুমে থাকতাম। একসাথে বেড়াতাম, মন খুলে গল্প করতাম। পালাকরে গান গাইতাম। ওদের বাড়ীতেও গিয়েছি। খালাম্মার হাতে রান্নাও খেয়েছি।

Continue reading “বন্ধু বিচ্ছিন্ন”

যন্ত্রে ঠিকই ধরা পরল

(স্মৃতির পাতা থেকে)
আমার গ্রামের বাড়ী টাংগাইল জেলার সখিপুর উপজেলার ঢ্নডনিয়া গ্রামের বড়বাইদ পাড়ার তালুকদার বাড়ী। আমার বাবা ছিলেন দলিল উদ্দিন তালুকদার। দলু তালুকদার নামে পরিচিত ছিলেন। ঢনডনিয়া গ্রামে ১৩টি পাড়া আছে। চনপাড়া ও নওপাড়া আমাদের বাড়ীর নিকটেই। ছোট বেলায় বড়বাইদ পাড়া, নওপাড়া ও চনপাড়ার সব বাড়ী আমার নিজের বাড়ীর মতই মনে হতো। প্রত্যেক বাড়ীর সদস্যদেরকে আমি কোন না কোন আত্বীয়তার সম্পর্ক Continue reading “যন্ত্রে ঠিকই ধরা পরল”

মুক্তাগাছার মন্ডা

 

(স্মৃতির পাতা থেকে)

১৯৮৪ সনে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষে পড়তাম। সে সময় ৪র্থ বর্ষে কমিউনিটি মেডিসিন বিষয়ে পড়তে হতো। এই বিষয়ের অংশ হিসাবে দুই সপ্তাহ ফিল্ড ট্রেইনিং করতে হতো। উপজেলা লেভেলে গ্রামে গিয়ে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য অবস্থা জরিপ করতে হতো। আমাদের ব্যাচের ফিল্ড নির্ধারিত ছিল মুক্তাগাছার আশেপাশে। জরিপের বিষয় ছিল ঐ এলাকায় শিশু মৃত্যুর হার বের করা। আমাদের ক্লাশের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদেরকে Continue reading “মুক্তাগাছার মন্ডা”

রুটি ও ভাজির বরকত

১৯৮৪ সাল। আমি তখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষ এম বি বি এস -এর ছাত্র। রেগুলার নামাজ, রোজা করি আবার নাটক সিনেমাও দেখি। কিছু কিছু বন্ধু নাটক সিনেমা দেখত না। এক বন্ধু খবরের সময় টিভির সামনে বসে খবর দেখত কিন্তু টিভির দিকে তাকাত না। কিছু বন্ধু রেগুলার তবলীগে যেত। তারা বাস্তব জীবনে খুব ভাল ছিল। আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় সময় দেয়ার জন্য দাওয়াত দিত। আমার যেতে ইচ্ছে হত। তাবলীগে গেলে Continue reading “রুটি ও ভাজির বরকত”