মুক্তাগাছার মন্ডা

 

(স্মৃতির পাতা থেকে)

১৯৮৪ সনে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষে পড়তাম। সে সময় ৪র্থ বর্ষে কমিউনিটি মেডিসিন বিষয়ে পড়তে হতো। এই বিষয়ের অংশ হিসাবে দুই সপ্তাহ ফিল্ড ট্রেইনিং করতে হতো। উপজেলা লেভেলে গ্রামে গিয়ে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য অবস্থা জরিপ করতে হতো। আমাদের ব্যাচের ফিল্ড নির্ধারিত ছিল মুক্তাগাছার আশেপাশে। জরিপের বিষয় ছিল ঐ এলাকায় শিশু মৃত্যুর হার বের করা। আমাদের ক্লাশের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদেরকে Continue reading “মুক্তাগাছার মন্ডা”

রুটি ও ভাজির বরকত

১৯৮৪ সাল। আমি তখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষ এম বি বি এস -এর ছাত্র। রেগুলার নামাজ, রোজা করি আবার নাটক সিনেমাও দেখি। কিছু কিছু বন্ধু নাটক সিনেমা দেখত না। এক বন্ধু খবরের সময় টিভির সামনে বসে খবর দেখত কিন্তু টিভির দিকে তাকাত না। কিছু বন্ধু রেগুলার তবলীগে যেত। তারা বাস্তব জীবনে খুব ভাল ছিল। আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় সময় দেয়ার জন্য দাওয়াত দিত। আমার যেতে ইচ্ছে হত। তাবলীগে গেলে Continue reading “রুটি ও ভাজির বরকত”

রেল স্টেশনে এক রাতে

 

(স্মৃতির পাতা থেকে)

মা ইন্তেকাল করেছেন ১৯৭৯ সনের জুনের ২ তারিখে। সেদিন জৈষ্ঠ্যমাসের ২০ তারিখ ছিল। আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলাম ডিসেম্বর মাসের ১৭ তারিখে। প্রথম কিছুদিন জেসি গুহ রোডের সাময়িক ছাত্রাবাসে থাকতাম শাহ আলম তালুকদার চাচার রুমে ডাব্লিং করে। চাচা এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। তারপর বাঘমারা এনাটমি বিল্ডিং হোস্টেলে আমার সীট হয়। সুরুচি ম্যাসে Continue reading “রেল স্টেশনে এক রাতে”

হাই স্যারের ভয়ে

প্রফেসর ডাঃ আব্দুল হাই ফকির স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। এনাটমির শিক্ষক। আমার অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক। সব চেয়ে ভয় পেতাম যে শিক্ষককে। ১৯৮০ সনে সবে এম বি বি এস ক্লাস শুরু হয়েছে। আমার পাশে বসা বন্ধু ক্লাসে একটু ঝিমিয়ে পরছিল। স্যার, বেত হাতে মঞ্চ থেকে নেমে আসলেন। এসে আমার সেই ক্লাস মেটকে বললেন “হাত তোল। ঘুম ছাড়িয়ে দেই। হাত পাত। গুনে গুনে ৫ টি বেত মারব। হাত নামাবে না। ” এই বলে খুব Continue reading “হাই স্যারের ভয়ে”

ডাক্তার মানুষ না

(স্মৃতির পাতা থেকে)

খুব সম্ভবত ১৯৮০ সন । আমি তখন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ি । কলেজ ছুটিতে গ্রামে এসেছি । বাড়ীর সামনে বসে আছি । আমার চাচা শামসুদ্দিন তালুকদার ছিলেন একজন নামকরা পল্লী চিকিৎসক । গ্রামের লোক তাকে ডাকতেন শমে ডাক্তর বলে । সকাল ১০ টা পর্যন্ত নিজ বাড়ীতে আসা রুগি দেখার পর গ্রামের Continue reading “ডাক্তার মানুষ না”

আমার মেডিকেলে ভর্তি যাত্রা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৫ ই ডিসেম্বর ১৯৭৯। দুলাভাই একটি চিরকুট নিয়ে আমাদের বাড়ী এলেন বিকেলে। লিখা “সাদেক, তোমার এমবিবিএস ভর্তির তারিখ ১৭ ই ডিসেম্বর। অবশ্যই ১৭ তারিখে আসবে। না আসলে বিরাট ক্ষতি হবে।” লিখেছেন আমার চাচা শাহ আলম তালুকদার। তিনি তখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ২য় বর্ষ শেষের দিকে, ম-১৫ ব্যচ (আমি ছিলাম ম-১৭)। তিনি এখন এই কলেজে শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান। তিনি এক Continue reading “আমার মেডিকেলে ভর্তি যাত্রা”

প্রিন্সিপাল এএফএম গোলাম কিব্রীয়া এবং মায়ের ইন্তেকাল

(স্মৃতির পাতা থেকে)
এএফএম গোলাম কিব্রীয়া স্যার ছিলেন আমার শিক্ষক। তিনি কালিহাতির আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। স্বাধীনতার পরপরই কালিহাতির অদুরে নোয়াবাড়ীতে জনতা কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। কয়েক মাস চলার পর কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৩ সনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী স্যার কলেজটি তার বাড়ী ছাতিহাটির কাছে আউলিয়াবাদে স্থানান্তরিত করে তার দাদার নামে নামকরন করেন আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ। Continue reading “প্রিন্সিপাল এএফএম গোলাম কিব্রীয়া এবং মায়ের ইন্তেকাল”

ডাঃ এইচ আর খান

(স্মৃতির পাতা থাকে)
মা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। আমার চাচা গ্রাম ডাক্তার শামসুদ্দিন তালুকদার (শমে ডাক্তার) চিকিৎসা করে ভাল করতে পারেন না। আরো অভিজ্ঞ গ্রাম ডাক্তার হাছেন আলী ডাক্তার দিয়েও কিছু হল না। বাজারের ফার্মেসী বা ঔষধের দোকান থেকে সমস্যার কথা বলে বড় বড় মোটা বোতলের সিরাপ এনে খাওয়ানো হয় কাজ হয় না। শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছেন। আমি তখন এইচ এস সি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। ১৯৭৮ সন। বর্ষাকাল। আব্দুস সালাম তালুকদার Continue reading “ডাঃ এইচ আর খান”

আমার এস এস সি রেজাল্ট

 

আমি ভালুকা উপজেলার বাটাজোর বি এম হাই স্কুল থেকে ১৯৭৭ সনে এস এস সি পাস করেছি। এই পরীক্ষার রেজাল্ট সংগ্রহ নিয়ে যে কাহিনী হয়েছিল তা আজ আমি লিখব। এস এস সি রেজাল্ট বের হবার ঘোষনা রেডিওতে দিয়েছে তিন দিন হয়। ডাকযোগে স্কুলে রেজাল্ট পৌছতে সময় লাগার কথা দুই দিন কিন্তু তিন দিন হয়ে গেল কিছুই জানতে পারলাম না। চিন্তায় পরে গেলাম। চতুর্থ দিন বাড়ী থেকে বের হলাম। বলে গেলাম কচুয়া যাচ্ছি। কচুয়া Continue reading “আমার এস এস সি রেজাল্ট”

নায়ক রাজ্জাক এবং আবুল হোসেন স্যার

 

১৯৭০ /৭১ সনে আমি ক্লাস ফোর/ফাইভে পড়তাম। তখন থেকেই আমার সিনেমার প্রতি আগ্রহ। গ্রামের শিক্ষিতরা চলতচিত্রকে সিনেমা ও ছবি বলতেন। কম শিক্ষিতরা টগি বলতেন। যেমন, গত সপ্তাহে আমি একটা সিনেমা দেখেছি। অমুক ছবি দেখে টাকা পয়সা নষ্ট করছে। রেডিওতে বলা হত ছায়াছবি। যেমন, এখন শুনবেন ছায়াছবির গান। সিনেমা আবিষ্কাররের প্রথমদিকে শব্দবিহিন বা নির্বাক সিনেমা ছিল। পরে বিজ্ঞানীরা এর সাথে কথা বা টক Continue reading “নায়ক রাজ্জাক এবং আবুল হোসেন স্যার”