হোটেলের অপরিত দুই মেহমান

হোটেলের অপরিত দুই মেহমান
(সামাজিক ছোট গল্প)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জুম্মার নামাজ শেষ করে মসজিদের পাশের হোটেলে গিয়ে বসলাম। গরম লেগেছিল বেশ। ফ্যান ছাড়তে বললাম। ফ্যানের বাতাসে লাকরির চুলার ধুয়া এসে লাগছিল। বিরক্ত হয়ে ফ্যান বন্ধ করে দিতে বললাম। আট বছর আমি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চাকরি করেছি। এই সময় আমি শুক্রবারেও প্রাক্টিস করতাম। ঢাকার বাইরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলিতে শুক্রবারে বেশী রোগী আসে। কারন, শুক্রবারে ছুটির দিন থাকাতে ডাক্তারগণ বেশী সময় প্রাক্টিস করতে পারে। যতদিন ফ্যামিলি নিয়ে থেকেছি ততদিন আমি শুক্রবারে প্রাক্টিস করি নাই। দিনাজপুর ফ্যামিলি না যাওয়াতে শুক্রবারেও প্রাক্টিস করতাম। দুপুরের খাবার হোটেলেই খেয়ে নিতাম। রোস্তমের হোটেলের গরুর গোস্ত সবার কাছেই ভালো লাগতো। তাই, যে একবার এই হোটেলের গরুর গোস্ত খেতো সে বারবার যেতো গোস্তো খেতে। ইন্টারনিক চিকিৎসক ও ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা ছিল এই হোটেলের প্রধান কাস্টমার। মাঝে মাঝে আমি অনেকের কাছে এই হোটেলের গরুর গোস্তের স্বাদের প্রশংসা করেছি। তাতে আমার উছিলায় এই হোটেল বেশী বেশী কাস্টমার পেতো।

আমি একাগ্রচিত্তে খাচ্ছিলাম। একজন যুবক এসে দাঁড়ালো হোটেল মালিকের সামনে কাউন্টারে। শিক্ষিত যুবক মনে হলো দেখে। শার্ট প্যান্ট দেখে মনে হলো বহু বছর যাবৎ এই কাপড় সে পরছে। শরীরের গঠন বেশ সুঠাম কিন্তু পুষ্টি কম আছে তাতে। পর্যাপ্ত খাবার হয়ত খেতে পাননা অভাবে। তিনি দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে একটু দেখে নিলেন। তারপর অতি সতর্কতার সাথে হোটেল মালিকে বললেন
– আমাদের বস আমার খাবার ব্যাপারে কিছু বলেছেন?
– আপনার বস কে?
– হাসান সাব।
– হাসান সাব কে?
– পলাশ ফার্মার এরিয়া ম্যানেজার। ঐজে গত রাতে খেয়ে গেলেন। আমিও তার সাথে খেলাম। ওনি আমার এখানে খাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেছেন?
– না, কিছু বলেন নাই তো?
– আমার গতকাল এই কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। তিনি বলেছেন আমাকে এই হোটেলে খেতে। টাকা তিনি দিয়ে দেবেন।
– এমন আলাপ তিনি আমাদের সাথে করেন নাই।
– আমাকে তো তাই বলে গেছেন যে আমি খেয়ে বাকী খাতায় সই করবো, তিনি পরে টাকা পরিশোধ করে দিবেন।
– এখানে খেলে নগদ টাকায় খেতে হবে। এই যে দেখেন বড় বড় করে লিখা আছে বাকী চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।
লোকটি ইতস্তত এদিক সেদিক কিছুক্ষণ তাকালেন। কিছুক্ষণ অন্যের খাবারের দিকেও তাকিয়ে রইলেন। তারপর চলে যেতে উদ্ধত হলো। আমি ডাকলাম
– হ্যালো, এই যে, হ্যালো।
– কিছু বলবেন?
– এখানে বসেন।
– কেন, কি হয়েছে?
– না, বসেন।
– বলেন।
– বসেন।
লোকটি আমার খাবার টেবিলের সামনে বসলেন।
– আপনি আমার মেহমান। খাবেন।
– আপনি কে?
– আমি কে পরে বলবো। আগে খান। এই এখানে ভাত দাও।
– না। আমি খাব না।
– আপনি তো খেতেই এসেছিলেন। খাবেন না কেনো?
– আমি পরে খাবো।
– না, এখনই খাবেন। আমি খাওয়াচ্ছি।
– আপনি খাওয়াবেন কেনো।
– এমনি খাওয়াব। আপনি আমার মেহমান।

হোটেল বয় টেবিলে ভাত দিয়ে দাঁড়ালো।

– মাছ না মাংস?
– মাছ মাংস খাব না।
– কেনো, মাছ মাংস খান না?
– খাই, এখন খাব না।
– কোন সমস্যা নাই, আমি খাওয়াব।
– না, শুধু ভাজি দেন।
– শুধু ভাজি দেবে কেমনে? মাছ বা মাংস কিছু একটা নেন।

লোকটি এক প্লেট ভাত ও ভাজি ছাড়া আর কিছু নিলেন না। বিল আমি দিয়ে দিলাম। লোকটি আমার ঠিকানা চেয়ে বললেন যে তিনি এই টাকা পরিশোধ করবেন। আমি বললাম আপনি আমার মেহমান। খেলেন মাত্র ২০ টাকার ভাত আর ১০ টাকার ভাজি। তা আবার ফেরৎ দিতে চাচ্ছেন? আপনি যদি না খেয়ে চলে যেতেন তাতে আমি অনেকদিন কষ্ট পেতাম। আমি আমার কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই আমি আপনাকে খাওয়াছি। আমার সার্থেই আমি আপনাকে খাইয়েছি। লোকটি চোখ টলমলো চোখে আমার দিকে চাকিয়ে রইল। চলে গেলাম চেম্বারে।

কয়েকদিন আগে চরপড়ার ব্যাংক বুথ থেকে টাকা উঠাতে গিয়েছিলাম। বুথে প্রবেশের আগে পেটে ক্ষুধার উদ্রেক হলো। একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম। কি খাব ভেবে ওয়ালে টাংগানো খাবারের মেনুটা দেখছিলাম। অনেক খাবারের মাঝে চায়ের মুল্যের তালিকার প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। লিখা ছিল
রঙ চা ৫ টাকা
দুধ চা ১০ টাকা
রোজ চা ১৫ টাকা

রঙ চা ও দুধ চা বুঝলাম। কিন্তু রোজ চা বুঝলাম না। হোটেল বয়কে জিজ্ঞেস করলাম
– এই রোজ চা আবার কি?
– রোজ চা চিনেন না? মেশিনে বানায়।
– মেশিনে বানায় রোজ চা?
– জি।
– আমাকে একটা সিংগারা দাও। তারপর একটা রঙ চা দিও।

সিংগারার সাথে একটা কাচা মরিচ ও কিছু পিয়াজ কুচি দেয়া হলো। সিংগারা গরম তেলে সেকা খেয়ে হয়ত জীবাণুমমুক্ত হয়েছে। কিন্তু পিয়াজকুচি তো কাচা। জীবাণু থাকার সম্ভাবনা আছে যেনেও খেলাম। কি আছে জীবনে, একটু মজা করেই যদি খেতে না পারি। খেতে খেতে ভাবলাম, বেচে থাকলে কত কিছুই খাওয়া যায়। রোজ চার নামই শুনি নি কখনো। আজ শুনেও খেলাম না। খাওয়া উচিৎ ছিল। অভিজ্ঞতা হত। গত বছর বেল চা খেয়েছিলাম। বেল গুড়া করে যে চায়ের মত দানা করে চা বানিয়ে খায় এটা তো জান্তামই না। বেল চাও খাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোজ চা খাওয়া হয় নাই। নিশ্চই রোজ চা বানায় গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। অনেকে তুলসি পাতা দিয়েও নাকি চা বানিয়ে খায়। তবে আমি চায়ের সাথে পুদিনাপাতা মিশিয়ে জাল দিয়ে খাই। তাতে শরীর বেশীক্ষণ চাংগা থাকে। টিপা ফলের নামই আমি জানতাম না। কিছুদিন আগে টিপাফল খাওয়া হয়েছে। বেঁচে থাকলে আরও নতুন নতুন খাবার খাওয়া যাবে। এমন ভাবনা ভাবছিলাম। এমন সময় এক অতি বৃদ্ধলোক এসে আমার সামনে বসলেন। টুপি মাথায় লম্বা দবদবে সাদা দাড়ি। মাড়িতে একটা দাঁতও নেই। টেবিলটা একটু ছোট সাইজের। একটু অসস্তি বোধ করছিলাম। আমার কাছে ভিক্ষুক মনে হচ্ছিল। আবার মনে হলো ভিক্ষুক নাও হতে পারে। গ্রাম থেকে হয়ত শহরে কোন আত্বীয় বাড়ি এসেছে। পাঞ্জাবী বেশ পরীস্কার। লোকটি হোটেল বয়কে ইশারায় ডেকে কাছে এনে দাঁতের মুথুল্লা বের করে একটু লাজুক হাসি দিয়ে ফিসফিস করে যেন কি বললেন। বয় হাফ বাটি সবজি এনে দিলো। পাঞ্জাবীর সাইড পকেট থেকে দুইটি রুটি বের করে রোল করে ছিড়ে ছিড়ে মুখে দিলেন ভাজি লাগিয়ে লাগিয়ে। দাঁতের মুথুল্লা দিয়ে সেই রুটি সজোরে চিবাচ্ছিলেন আর পানি দিয়ে গিলছিলেন। যেন কত দিনের ক্ষুধার্ত ছিল লোকটি। আমি লোকটি নিয়ে ভাবা শুরু করলাম না না কিছু। ভাবতে ভাবতে লোকটি সব খেয়ে বাটি চেটে খাওয়া শুরু করল। আমি বললাম
– বাড়ি থেকে রুটি এনেছিলেন?
– লোকটে লজ্জার হাসি হেসে বললেন “না, ঐ হোটেল থেকে দুইটা রুটি দিছে, কিন্তু হুদা রুটি খাবার পাই না। তাই একটু ভাজি নিলাম।
– এখানে কয় টাকার ভাজি দিয়েছিলো?

মুস্কি হাসি দিয়ে বুঝেলেন যে “ফ্রি”।

– আমি আপনাকে খাওয়াই?
– খাইছিই তো।
– এখন দুপুর। ভাত খান।

মুস্কি হেসে রাজি হলেন।

আমি হোটেল বয়কে বললাম
– এখানে ভাত দাও।
– বিল কি আপনে দিবেন?
– হ্যা, আমি দেব।

ভাত দেয়ার পর লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম
– ভাতের সাথে কি নিবেন।
-( মৃদু স্বরে বললেন) গোস্ত।
– এই, এখানে গোস্ত দাও।

লোকটি গোস্ত আঙুল দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে ভাতের সাথে মুখে দিচ্ছিলেন আর থুরা থুরা করে কিছুক্ষণ চিবিয়ে গোস্তের রস চুষে গিলে ফেলছিলেন। মনে হলো কতদিন যেন তিনি গোস্তের স্বাদ গ্রহন করেন নাই। এক প্লেট ভাত শেষ করলে আরেক প্লেট দিতে বললাম। দুই প্লেটে শেষ হলে আরও দিতে চাইলে তিনি হাত ইশারায় মানা করলেন। খাওয়ার সময় তাকে অন্য কিছুর দিকে তাকাতে দেখি নাই। খাওয়া শেষ করে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি হাসলেন। সেই হাসি যে দেখে নাই তাকে আমি বলে বুঝাতে পারব না।
আমি কাউন্টারে বিল দিতে গেলাম। হাত মুছতে মুছতে কেশ কাউন্টারের বাম পাশে রাখা মেশিনের দিকে চোখ পড়লো। মেশিনের গায়ে লেখা দেখলাম “রোজ ক্যাফে” যেমনটি লেখা থাকে “নেস ক্যাফে।” আমি নেস ক্যাফে চিনতাম আগে থেকে। রোজ ক্যাফে দেখলাম আজই। আমি কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলাম
– রোজ ক্যাফের দাম কত?
– রোজ কফি ২০ টাকা আর রোজ চা ১৫ টাকা।
– আমার বিল কত হয়েছে?
– আপনি খেয়েছেন ১০ টাকা আর উনি খেয়েছেন ২০০ টাকা। মোট ২১০ টাকা।

কম পড়ে কিনা এই ভেবে সঙ্কিত হয়ে আমি পকেটে হাত দিলাম ।

৯/১০/২০১৯ খ্রি.

লেপ তোষকের কারিগর

লেপ তোষকের কারিগর
(সামাজিক ছোট গল্প)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

শীত এসে গেলো। নতুন করে লেপ বানাতে দিলাম। লাল সালু কাপড় ও খাটি কার্পাস তুলা পছন্দ করে দিলাম। যেদিন লেপ সরবরাহ করার কথা ছিল সেদিন লেপের দোকানে গেলাম। দেখলাম লেপ বানানো হয় নাই। তুলা ধুনানো হচ্ছে। তুলা ধুনা উড়ে উড়ে নাক দিয়ে ঢুকছিল। আমি একটু সরে দাঁড়ালাম। ধুনানো শেষ হলে লাল সালুর খোলে ভরা শুরু করলেন লেপের কারিগর । দোকান মালিক কাউন্টারেই ছিলেন। কর্মচারীকে বললেন আমাকে একটা চেয়ার দিতে। আমি তুলা ভরা দেখছিলাম চেয়ারে বসে। বললাম
– তুলা নিয়ে কাজ করেন। একটু সাবধানে থাকবেন।
লোকটি তুলাভরা শেষ হলে আমার দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত হয়ে বললেন
– তুলা নিয়া কাম করি তাই কি মনে করেন? নিজেরা চোর আর সবারে চোর মনে করেন। সেই কখন থেকে ধরার জন্য চেষ্টা করতাছেন যে আমি খারাপ তুলা মিশাতাছি কি না। আপনে দেখলেও যা দিতাম, না দেখলেও তা দিতাম। তুলাওয়ালাদেরকে আপনারা চোর মনে করেন। আপনেগো মতো শিক্ষিত মানুষই বেশী চোর। আমরা টেলিভিশনে দেখতাছিনা, কেরা কত টেহা চুরি করতাছে কলমের পেচ মাইরা। একটা বালিশ কিন্না কত টেহা খরচ দেহায় দেহি নাই। একটা লেপের দাম কত দেহাইছে দেহি নাই? বালিশ তোষক কেনাকাটা কইরা কোটি কোটি টেহা মাইরা দেয় নাই? আপনে আইছেন তুলা চোর ধরতে। এহানে চোর ধরনের দরকার নাই। যান সাব বড় বড় চোর ধরেনগা। সবগুলায় চুরি করে আর সন্দেহ করে খালি তুলাওয়ালারে।
– আপনি এসব কি বলছেন?
– কি কইছি মানে? আপনি আমারে সন্দেহ করবেন আর আমি চুপ কইরা থাকমু। গরীব অইতে পারি। চোর না।
– আরে, আমি কি বললাম, আর আপনি কি মনে করলেন।
– আর আমারে বুঝাতে অইব না।
– আমার কথাটা শুনুন।
– কইন, আপনে কি কইবার চাইন।
– আমি একজন ডাক্তার। আমি লক্ষ করছি আপনি তুলা ধুনাচ্ছেন নাক মুখ খোলা রেখে। তুলার কণা আপনার নাকমুখ দিয়ে চলে যাচ্ছে ফুসফুসে। ফুসফুসে গিয়ে আটকে যাচ্ছে।
– আমি ১২ বছর ধইরা এই কাম করতাছি। আমার ফুসফুসে তো তুলা আটকে নাই।
– ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তুলাকণা দীর্ঘদিন পর্যন্ত জমা হতে হতে লাংগস-এ নিউমোকনিওসিস নামে একটা গ্রেনুলোমাটাস ইনফ্লামেটরি ডিজিজ হয়। তাতে লাংগসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। অল্পতেই হয়রান লাগে। খুসখুসি কাশি হয়। শরীর শুকিয়ে যায়। অনেকে যক্ষা মনে করে। তখন আর লেপ বানানোর শক্তি পাবেন না।
– কি রোগের কথা কইলেন?
– নিউমোকনিওসিস।
– ইংরাজিতে না কইয়া বাংলায় কন।
– নিউমোকনিওসিস-এর বাংলা নাম কি হবে তা আমার জানা নেই। তবে বুঝলেই হলো।
– বুঝলাম না তো।
– ঔ যে বললাম, গ্রেনুলোমাটাস ইনফ্লামেশন।
– আবারও তো ইংরাজি কইলেন।
– ও, মানে, ফুসফুসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোটা গোটা দানা বেঁধে অক্সিজেন ধরার ক্ষমতা কমে যায়।
– বুঝলাম। তয় কি করতে অইব?
– নাকেমুখে মাস্ক বেঁধে কাজ করতে হবে। ঔষধের ফার্মেসীতে ও ফুটপাতের দোকানেও আজকাল মাস্ক পাওয়া যায়। দাম মাত্র পাঁচ দশ টাকা।
– ও, আজকালকার পোলাপানরা দেখি মুখের মধ্যে কাপড়ের ঠোনা পরে। কতক পোলাপান কি যে পরে, কালা কাপড়ের মাঝখানে লাল জিহবার মত কাপড় লাগায়। কেমন বিশ্রি দেয়া যায়।
– ওরা আসলে ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক পরে। অল্প বয়সের পোলাপান তো। সব কিছুতেই ফ্যাসান খুঁজে। মাস্কেও একটু ফ্যাসান করে। আপনি সাদা কাপরের মাস্ক কিনে নিয়েন। টিস্যু কাপরেরও সুন্দর সুন্দর মাস্ক পাওয়া যায়। বেশী দিন বেঁচে থাকতে কার মন না চায়? মাস্ক পরে কাজ করুন। বেশী দিন বেঁচে থাকবেন। আর কতক্ষণ লাগবে সেলাই শেষ করতে?
– ডাক্তার সাব, কিছু মনে করুন না যে। না বুইঝা কইছি। আপনেরে কই নাই। টেলিভিশনের অফিসারগুলারে কইছি। আপনের জন্য একটা চা আনাই। দুধ চা, না রঙ চা?
– চা খাব না। আর কয় মিনিট লাগবে?
– আর পাঁচ দশ মিনিট লাগবে। আপনি চা খাইতে খাইতেই অইয়া যাবে।
– রঙ চা দিতে বলেন। আর, মনে রাখবেন, শিক্ষিত লোকের মধ্যে মাত্র গুটি কয়েক চোর আছে। সবাই না।
– এই, স্যারেরে একটা রঙ চা দেও।
২/১০/২০১৯ খ্রি.

ইয়াদ আলীর স্বপ্ন

ইয়াদ আলীর স্বপ্ন
(গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ইয়াদ আলী বাইরে বেশী বেড়ুতে চান না। ঘরের বাইরে গেলেই তার কাছে কেমন অস্বস্তি অনুভব হয়। গলির মাথায় ৫/৭ জনের একটি কিশোরের দল সারাক্ষণ আড্ডা দেয়। সিগারেট খায়। একে অপরের সাথে এমন আচরণ করে যেন মনে হবে মারামারি Continue reading “ইয়াদ আলীর স্বপ্ন”

ধৈর্য

ধৈর্য
(গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ রুহুল আমীন খান স্যার গল্প করতে পছন্দ করেন। একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শুরুর আগে আমরা Continue reading “ধৈর্য”

ইভটিজিং

ইভটিজিং
(ছোট গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

তখন সারাদেশে যেন ইভ টিজিং মহামারীর আকার ধারন করেছিল । একদিন খবরের কাগজে সংবাদ বের হলো যে কোন একটি Continue reading “ইভটিজিং”

বাসা থেকে জেলখানা পর্যন্ত

বাসা থেকে জেলখানা পর্যন্ত
(ছোট গল্প)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আর্মি শাসিত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন দেশ চলছিল। রাস্তার ধারের স্থাপনার অবৈধ অংশগুলি অনবরত হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে ভাংগা হচ্ছিল। সেই হাতুরির আঘাত অনেকের মাথায় লাগছিল। তাদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। বড় বড় নেতাদেরকে ধরে ধরে Continue reading “বাসা থেকে জেলখানা পর্যন্ত”

মেডিকেলের ইরানী মেয়েটি

লেইলা ইরানী মেয়ে। ১২ বছর ধরে মেডিকেলে পড়ছিল। এই ১২ বছরে মাত্র এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত উঠেছিল। ইরানে “এ” লেভেল পর্যন্ত পড়ে বাংলাদেশে এসেছিল মেডিকেলে পড়তে। তার বাবা ইরানে সরকার বিরোধী কমুনিস্ট পার্টি করতেন। তাই তাকে জীবনের বেশীভাগ সময়ই জেলে কাটতে হয়েছে। বাবার সান্নিধ্য লেইলা খুব কমই পেয়েছে। লেইলারা ৫ বোন। পাঁচ সন্তান নিয়ে লেইলার মা খুব পেরেশানি করে সংসার চালিয়েছেন। Continue reading “মেডিকেলের ইরানী মেয়েটি”

হুজুরের টিউশন ফি

রফিক সাহেব জুম্মার নামাজের খুতবার বাংলা তরজমা শুনার পর থেকেই মন খারাপ করেছেন। দুপুরের খাবারও কম খেয়েছেন। সাধারণত জুম্মার নামাজের পর খাবার খেয়ে আছর নামাজ পর্যন্ত একটা লম্বা ঘুম দেন। সদিলাপুর উপজেলার একাউন্ট অফিসার তিনি। এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। ঢাকার তাজমহল রোডে তিনি একটি ফ্লাট ভাড়া করে থাকেন। শুক্র ও শনিবার অফিস ছুটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ঢাকায় আসেন রবিবার ফিরে যান Continue reading “হুজুরের টিউশন ফি”

কয়েক দিনেই সব শেষ

রফিক সাহেবের জ্বর সারছেই না। প্রথম তিন তিন প্যারাসিটামল খেয়েছিলেন। তিব্র জ্বর। প্যারাসিটামলে কিছুই হল না। ডান পায়ের বৃদ্ধাংগুলে পচন ধরেছিল। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রুগীর বেলায় এমনই হয়। দশ বার বছর হয় রফিক সাহেবের ডায়াবেটিস হয়েছে। ডাক্তার দেখায়েছেন অনেকবার। কোন ঔষধ ও কোন ডাক্তারেই তার সন্তুষ্টি নেই। তাই যখন যে তাকে যে ডাক্তার দেখাতে বলেন তখন সেই ডাক্তারই দেখান। বেশীর ভাগ ডাক্তারই তাকে ইন্সুলিন ইঞ্জেকশন নিতে বলেন। কিন্তু তিনি ইঞ্জেকশন নেন না। ট্যাবলেট ও বনাজি ঔষধ খেতেই তিনি সাচ্ছন্দ বোধ করেন। তার পায়ে তিব্র ইনফেকশন হয়েছিল। জীবাণু ধ্রুত তার রক্তে মিশে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। Continue reading “কয়েক দিনেই সব শেষ”

রবির বনভোজন

লাইব্রেরিয়ানের বড় মেয়েটা খুব মেধাবী। গতবার এমবিবিএস পাস করে ডাক্তার হয়েছে। লাইব্রেরিয়ানের স্বপ্ন ছিল তার মেয়াটা ডাক্তার হবে। মেয়েটা মায়ের সব কথা শুনে। গত মাসে ইন্টার্নির প্রথম ভাতা পেয়েছে। বিশ হাজার টাকা ভাতা পেয়েছে। তা থেকে পনর হাজার টাকা দিয়ে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনে তার মাকে গিফট দিয়েছে। বাবা অফিস সহকারী। আগামী মাসে ভাতা পেয়ে তার বাবাকেও অনুরূপ একটা মোবাইল গিফট দেয়ার ইচ্ছা তার আছে। Continue reading “রবির বনভোজন”