পরীক্ষার জন্য কোন সময়ের প্রস্রাব নিবো?

পরীক্ষার জন্য কোন সময়ের প্রস্রাব নিবো?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আপনারা যারা ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন চিকিৎসার জন্য ডাক্তার আপনার শরীর পরীক্ষা করেই দেখবেন কিছু ইনভেস্টিগেশন করার জন্য লিখে দেন। এর মধ্যে থাকে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, পায়খানা পরীক্ষা বা অন্য কোনো পরীক্ষা – যেমন এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি। তবে প্রস্রাব পরীক্ষাটা দেখবেন প্রায় সবার ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রস্রাবের রুটিন এক্সামিনেশন পরীক্ষা। রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রস্রাবের রুটিন টেস্ট হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা জানা যায়, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন বা অন্য কোনো সমস্যার কথা জানা যায়, শরীরের অন্যান্য অংগের রোগের খবরও জানা যায়। সেসব রোগে প্রস্রাবের যে পরিবর্তন হয় সেগুলি প্রস্রাবের রিপোর্টে পাওয়া। প্রস্রাবের বিভিন্নরকম পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ের সেম্পল বা নমুনা নিতে হয়। পরীক্ষার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে সকালের প্রস্রাব বা মর্নিং সেম্পল নিতে হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ফ্রেশ সেম্পল বা যেকোন সময়ের প্রস্রাব নিতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারাদিন রাতের ২৪ ঘন্টার প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় যতোটুকু প্রস্রাব হয় তার সম্পুর্ন পরীক্ষা করাতে হয়।

সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা লেখা হয় ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন বা আর ই। আর ই পরীক্ষায় মূলত প্রশাবের কালার বা রঙ, এলবুমিন, সুগার, অতিরিক্ত ফসফেট, পাস সেল, ইপিথেলিয়াল সেল, আরবিসি এবং বিভিন্ন রকম ক্রিস্টাল-এর রিপোর্ট দেওয়া হয়। বিভিন্ন রোগে বিভিন্ন কালার হয়। প্রস্রাবের সাথে এলবুমিন গেলে সাধারণত কিডনির সমস্যা আছে ধরে নেয়া হয়। সুগার যায় সাধারণত ডায়াবেটিস মেলাইটাস রোগে। কিছু কিছু রোগে অতিরিক্ত ফসফেট যায় প্রস্রাবের সাথে। প্রতি হাই পাওয়ার ফিল্ডে ৫ টার বেশী পাস সেল পাওয়া গেলে ইউরিনারি ট্রাক্টে ইনফেকশন হয়েছে সন্দেহ করা হয়। কিডনির রোগে প্রস্রাবে আরবিসি পাওয়া যায়। আর ই পরীক্ষার জন্য প্রস্রাব যত ফ্রেস হবে তত ভালো। ল্যাব খোলা থাকা কালীন এক টেস্ট টিউব পরিমান অথবা একটা ইউনিয়ন কালেকশন বোতলে প্রস্রাব দিতে হয়। বাসায় কালেকশন না করে ল্যাবের টয়লেটে গিয়ে কালেকশন করা উত্তম। যাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয় তাদেরকে ইউরিন কালচার ও সেনসিটিভিটি বা সিএস পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেয়া হয়। সিএস করতে জীবাণুমুক্ত টেস্ট টিউবে প্রস্রাব কালেকশন করতে হয়। এজন্য ল্যাব থেকে এই ধরনের টেস্ট টিউব সংগ্রহ করতে হয়। এই পরীক্ষার জন্য যেকোন সময়ের প্রস্রাব নিলেও চলে। তবে সকালের প্রথম প্রস্রাবটা বেশী ভালো হয়। কারন, সকালের প্রস্রাবে জীবাণুর ঘনত্ব বেশী থাকে।

ব্লাড সুগার পরীক্ষার সাথে সাধারণত করোসপন্ডিং ইউরিন সুগার (CUS) করতে বলা হয়। অর্থাৎ যে সময়ের রক্ত সুগার লেভেল দেখার জন্য নেয়া হলো তখন প্রস্রাবে সুগার এসেছিলো কি না। কাজেই আগে থেকে পেটের ইউরিনারি ব্লাডারে জমে থাকা ইউরিন প্রস্রাব করে ফেলে দিতে হবে। তার ১৫/২০ মিনিট পর প্রস্রাব দিতে হবে। সিইউএস দেখার জন্য এক এমএল প্রস্রাবই যথেষ্ট। আগে থেকে জমে থাকা প্রস্রাবে যখন তার সুগার লেভেল বেশী ছিলো তখনকারটা দেখাতে পারে।

চব্বিশ ঘন্টার প্রস্রাবের পরীক্ষার মধ্যে সবচেয়ে বেশী করা 24 hours urine protein বা urinary total protein (UTP) বা ২৪ ঘন্টার প্রস্রাবের প্রোটিন। দিনে রাতে একেক সময় একেক পরিমাণে প্রোটিন যায় প্রস্রাবের সাথে। তাই একবারের নমুনা দেখে কি পরিমাণ প্রোটিন যায় তা বলা মুশকিল। এইজন্য ২৪ ঘন্টার প্রস্রাব কালেকশন করে সম্পুর্ন প্রস্রাব ল্যাবে জমা দিতে হয়। এটা করতে গিয়ে অনেকেই উল্টাপাল্টা কাজ করে বসে। তাতে পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল আসে। কেউ কেউ ২৪ ঘন্টার প্রস্রাব কালেকশন করে ভুল করে সেখান থেকে মাত্র এক বোতল প্রস্রাব ল্যাবে জমা দেয়। বিশেষ করে খিটখিটে মেজাজের রোগী হলে বলেই ফেলে “ডাক্তারের কি মাথা খারাপ হইছে নাকি যে জগ ভইরা প্রস্রাব দিতে হইবো?” ল্যাব যদি জানতে না পারে যে কম পরিমান সাপ্লাই দিয়েছে তবে প্রোটিনের হিসাব ভুল হবে। ২৪ ঘন্টার হিসাব নিয়েও খটকা আছে। কেউ কেউ মনে করেন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব করে ধরে, সারাদিন ও রাতের প্রস্রাব ধরে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রস্রাব করে বৈয়ামে কালেকশন করতে হবে। এই ভুলটা সচরাচর করে থাকে রোগীরা। হিসাব করে দেখুন এক্ষেত্রে কয় ঘন্টা হয়েছে। মনে করুন, রাত ১০ টায় রোগী টয়লেটে প্রস্রাব করে ফেলে দিয়েছে। সকাল ৬ টায় প্রথম প্রস্রাব করে বৈয়ামে রেখে দিলো। সারাদিন রাতে যা হলো তাও রেখে দিলো। পরদিন সকালেরটা ধরে শেষ করলো। কয় ঘন্টা হলো? রাত ১০ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টা সকাল ৬ টা থেকে পরদিন সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা। মোট ৩২ ঘন্টার প্রস্রাব দিয়েছে রোগী। রিপোর্টে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী আসবে। এটা ভুল রিপোর্ট। চিকিৎসাও ভুল হবে এই রিপোর্ট দেখে। সঠিক নিয়মটা হলো এরকম। রোগী যে কোন সময় থেকেই প্রস্রাব ধরা শুরু করবেন। মনে করুন বিকেল ২ টা থেকে। এই সময় তিনি টয়লেটে প্রস্রাব করে ফেলে দেবেন। তারপর থেকে যতবার প্রস্রাব হবে সব বোতলে ধরবেন এবং পরিস্কার বৈয়ামে রাখবেন। প্রিজার্ভেটিভ হিসাবে বৈয়ামে এক দুই এমএল টলুইন, না পাওয়া গেলে ফরমালিন দেয়া যেতে পারে। ল্যাব থেকে এটা সাপ্লাই দেয়া হয়। পরদিন বিকেল ২ টার সময় শেষ প্রস্রাব করে বোতলে নিতে হবে। প্রস্রাবের চাপ না থাকলেও নির্দিষ্ট শেষ সময়টায় প্রস্রাব ধরতে হবে, এক দুই ফোটা যাই হোক। যদিও আগের দিন ২টার সময় প্রস্রাব করে ফেলে দেয়া হয়েছে তবু সেই সময় থেকেই গণনা শুরু করতে হবে। কারন, সেই সময় থেকেই প্রস্রাব থলিতে জমা হইতে থাকে। হিসাব করে দেখুন এবার ২৪ ঘন্টার প্রস্রাবই পাওয়া গেছে। শুধু ২ টা থেকে নয় যখন পরীক্ষার জন্য লেখা হলো তখন থেকেই শুরু করা যায় টয়লেটে প্রস্রাব করে। তাতে সময় বাচবে। এজন্য রোগীকে আগেই বলে দেয়া ভালো যে কখনকার প্রস্রাব কিভাবে কালেকশন করবেন এবং পরীক্ষার জন্য ল্যাবে জমা দেবেন। সঠিক চিকিৎসার জন্য চাই সঠিক ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশন।

প্রেগন্যান্সি হয়েছে কিনা দেখার জন্য প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। বলা হয় প্রেগন্যান্সি টেস্ট। প্রেগন্যান্সিতে প্লাসেন্টার কোরিওনিক ভিলাই থেকে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রোপিন (HCG) তৈরি হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। এই হোরমোন তৈরি হয়ে প্রস্রাবে আসতে কয়েকদিন সময় নেয়। সাধারণত পেরিয়ড বা মাসিক যেদিন শুরু হবার সম্ভাব্য তারিখ ছিল তার ৪-৫ দিন পর থেকে প্রস্রাবে এই হরমোনের উপস্তিতি প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। প্রথমদিকে এই হরমোনের ঘনত্ব প্রস্রাবে কম থাকে। তাই সকালের প্রস্রাব নিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়। মাসিক বন্ধের দুই মাস হয়ে গেলে সকালের প্রস্রাব প্রয়োজন পড়ে না। যে কোন সময়ের প্রস্রাব হলেই হবে।

প্রস্রাবের রিপোর্ট সঠিক পাওয়ার জন্য এবং রোগীর হয়রানি কমানোর জন্য চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো পরীক্ষার নিয়ম কানুন একটু বলে দেয়া এবং রোগীর দায়িত্ব হলো তা বুঝে নেয়া। পরীক্ষার রেজাল্ট যেমন হবে, চিকিৎসাও তেমন হবে।
১৩/১১/২০২০
ময়মনসিংহ
Rate on this writing:

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


সমস্যাঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

সমস্যাঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসাকে ডাক্তারি ভাষায় ফ্রিকুয়েন্সি অফ মিকচুরেশন বলা হয়। ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ হলে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে, ঘনঘন ঘুম ভেঙ্গে যায়। দিন রাত ২৪ ঘন্টায় যদি তিন লিটারের বেশি প্রস্রাব হয় তবে এটাকে পলিইউরিয়া বা বহুমুত্র বলা হয়। বাথরুমের পৌঁছার আগেই যদি প্রস্রাব করে কাপড় নষ্ট হয়ে যায় তখন বলা হয় ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স।

 

পেটের ভেতর মেরুদণ্ডের দু’পাশে দু’টি কিডনি থাকে। কিডনি রক্ত থেকে ছেকে দূষিত পদার্থ পানির সাথে বের করে দেয়। এটাই ইউরিন বা প্রস্রাব। সর্বদায়ই কিডনি থেকে প্রস্রাব তৈরি হচ্ছে। সেই প্রস্তাব ইরেটার নালী দিয়ে এসে তলপেটে মূত্রথলি বা ইউরিনারি ব্লাডারে জমা হচ্ছে। জমতে জমতে ব্লাডার পূর্ণ হয়ে গেলে প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়। তখন বাথরুমে গিয়ে প্রস্রাব করে ব্লাডার খালি করতে হয়। বেশিরভাগ মানুষ ২৪ ঘন্টায় প্রস্রাব করে ছয় – সাত বার। বাচ্চাদের থলি যেহেতু ছোট থাকে সেহেতু তারা বড়দের থেকে বেশি ঘন ঘন প্রস্রাব করে।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ

 

কেউ কেউ আছেন ঘন ঘন পানি খান। ঘন ঘন পানি খেলে তো ঘন ঘন প্রস্রাব হবে, এটা সহজ কথা। বিশেষ করে রাতে ঘুমাবার আগে বেশি পানি খেলে ঘুম থেকে উঠতে হবে ঘন ঘন প্রস্রাব করার জন্য। শীতের দিনে শরীর কম ঘামে তাই শীতের দিনে কম পানি খেলেও চলে। শীতের দিনে বেশী পানি খেলে আরও ঘন ঘন প্রস্রাব হবে। কোনো কোনো রোগী আছে তাদের অনেক প্রকার ঔষধের সাথে অনেক পানি খেতে হয়। এটা অতিরিক্ত পানি। অতিরিক্ত পানি খাওয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হবে। কোন কোন বাচ্চা ঘনঘন বাথরুমে যায় তার শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকলেও। এটাকে বলা হয় টিক। কোন একটা কাজ বারবার করলে বলা হয় টিক। প্রস্রাব করাও একটা কাজ। বাচ্চাদের প্রস্রাব করার ঠিক হতে পারে। এসব বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করতে বাথরুমে যাবে। কিছু কিছু বাচ্চা আছে তারা লেখাপড়া করা তেমন পছন্দ করে না। তাই বাড়িতে হাউজ টিউটর এলেই বাথরুমে প্রবেশ করে। কোন কোন বাবাও আছেন বাইরে থেকে বাসায় এসেই বাচ্চাকে পড়া ধরেন। ভয়ে বাবা বাসায় আসার শব্দ শুনেই বাচ্চা বাথরুমে প্রবেশ করে। এসব সমস্যা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 

বেশি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলো হল কিডনি ইউরেটার ব্লাডার এবং প্রোস্টেট সমস্যা অথবা অন্য কোনো রোগ, যেমন ডায়াবেটিস মেলাইটাস, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ও প্রেগ্ন্যাসি। আরো কিছু কিছু কারণ আছে যেমন দুশ্চিন্তা বা এংজাইটি, প্রস্রাব বৃদ্ধিকারী ঔষধ সেবন, ইনফেকশন, ক্যান্সার স্টোন বা পাথর, ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার ইত্যাদি।

ইউরিনারি ব্লাডার-এর যদি ইনফেকশন হয় তাহলে ব্লাডার অল্পতেই সংবেদনশীল হয়ে প্রশ্রাবের চাপ হয়। ব্লাডারে পাথর হলে প্রস্রাবের রাস্তার মুখে ঘষাঘষি করে। ফলে প্রস্রাবের চাপ হয়। পুরুষের মুত্রনালীর শুরুতে এবং মুত্রথলির সংযোগ স্থলে সুপারির সমান একটি নরম গ্রন্থি আছে যাকে বলা হয় প্রোস্টেট গ্লান্ড। ষাট বছর বয়সের কাছাকাছি এসে অনেকেরই এই গ্রন্থি হাইপারপ্লাসিয়া হয়ে অথবা ক্যান্সার হয়ে বড় হয়ে যায়। যেহেতু প্রস্রাবের নালী এই গ্লান্ডের ভেতর দিয়ে এসেছে সেহেতু এই নালীর চারপাশে চাপ পড়ে। ফলে নালী সরু হয়ে যায়। সাভাবিক গতিতে এবং সাভাবিক পরিমাণে তখন প্রস্রাব বের হয় না। প্রস্রাব করার পরও কিছু প্রস্রাব ব্লাডারে থেকে যায়। এটাকে বলা হয় পোস্ট ভয়েড রেসিডিউয়াল (পিভিআর) ইউরিন। যেহেতু আগে থেকেই ব্লাডার কিছুটা ভরা থাকে সেহেতু বাকীটুকু ভরতে বেশী সময় লাগে না। ফলে অল্পক্ষণ পরই আবার প্রস্রাব ধরে। এজন্য প্রোস্টেট হাইপারপ্লাসিয়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীরা ঘন ঘন বাথ রুমে যায়।

 

এমন সমস্যা হলে ডাক্তার দেখাতে হবে। শারীরিক কোন সমস্যা না থাকলে যে কারনে ঘনঘন প্রস্রাব হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে তা পরিহার করলেই হলো। ইনফেকশন সন্দেহ হলে প্রস্রাবের রুটিন টেস্ট করা হয় প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে। প্রোস্টেট বড় হয়ে গেছে কিনা তার সহজ পরীক্ষা হলো ডাক্তার সাব হাতে গ্লাবস পরে আংগুলে পিচলা গ্লিসারিন লাগিয়ে পায়খানার রাস্তা দিয়ে আংগুল দিয়ে প্রোস্টেটের উপর চাপ দিয়ে অনুভব করেন। এটাকে বলা হয় ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন। ক্যান্সার সন্দেহ হলে রক্তের পি এস এ পরীক্ষা করা হয় ল্যাব থেকে। ক্যান্সার হলে এটার লেভেল বেড়ে যায়। প্রোস্টেট বড় হলে অপারেশন করে ফেলে দেয়া হয়। তাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়। ক্যান্সার আছে কিনা তার জন্য হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করা হয়। অপারেশনের আগে সূঁই দিয়ে প্রোস্টেট থেকে সেম্পল নিয়েও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করা হয়। অপারেশন শেষে পুরা প্রোস্টেটের হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করা হয়। এসব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ইউরোলজিস্ট বলা হয়। প্রস্রাবের সমস্যা হলে নিয়ম হলো প্রাথমিক ভাবে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দেখানো। তিনি প্রাথমিক কারন নির্ণয় করে ইউরোলজিস্টের নিকট রেফার্ড করবেন।

৬/১১/২০২০

ময়মনসিংহ

 

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 1.00 out of 5)
Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


ভুল রিপোর্ট ও ভুয়া রিপোর্ট

ভুল রিপোর্ট ও ভুয়া রিপোর্ট

(স্বাস্থ্য কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ভুল রিপোর্ট এবং ভুয়া রিপোর্ট-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। রিপোর্ট বলতে আমি বুঝাচ্ছি প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট। বৈধ প্যাথলজি ল্যাব থেকে, মনে করুন, আপনি একটা কিছুর সেম্পল পরীক্ষা করালেন। এই পরীক্ষা কিন্তু একজনে করেননি। একজন ল্যাব এসিস্ট্যান্ট, ফ্লেবোটমিস্ট অথবা টেকনোলজিস্ট সেম্পল কালেকশন করেছেন। কালেকশন করার নিয়ম আছে। নিয়মমতো কালেকশন না করলে আপনার রিপোর্ট ভুল আসবে। কালেকশন করার পর টেকনোলজিস্ট পরীক্ষার জন্য প্রসেস করেছিলেন। টেকনোলজিস্টের দক্ষতার কমতি থাকলে আপনার পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল আসতে পারে। টেকনোলজিস্ট প্রসেস করে ফাইনাল স্টেপ সমাধান করার জন্য প্যাথলজিস্টের নিকট দিয়েছিলেন। প্যাথলজিস্টের দক্ষতার কমতি থাকলে আপনার পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল আসতে পারে। প্রসেস করতে রিএজেন্ট দরকার। রিএজেন্ট খাটি না হলে আপনার পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল আসতে পারে। রিএজেন্ট সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ফ্রিজ। এটা ঠিকমতো কাজ না করলে রিএজেন্ট কার্যকরীতা হারাবে। রিপোর্ট ভুল আসবে।

এবার আসি ভুয়া রিপোর্টে। ভুয়া রিপোর্ট করা হয় অসাধু পথে টাকা কামানোর জন্য। যারা একাজে জরিত তারা অমানুষ। কিন্তু জানোয়ার নয়। জানোয়ার এদের চেয়ে ভালো। ভুয়া রিপোর্টকারীরা সংঘবদ্ধ থাকে। তারা রোগী ধরে ভুলিয়েভালিয়ে ভুয়া ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যায়। ভুয়া ডাক্তার একগাদা পরীক্ষা লিখে দেয় প্যাডে। তারা ভুয়া ল্যাবে নিয়ে যায় পরীক্ষা করাতে। সেখানে কম্পিউটার দিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলে তেমন লোকজন দেখা যায় নায়। রোগীর কাছ থেকে সেম্পল নিয়ে বালতিতে ফেলে দেয়। এটাকে অনেকে বলে থাকেন বালতি পরীক্ষা। কম্পিউটার দিয়ে কম্পোজ করে অফসেট পেপারে চকচকে রিপোর্ট তৈরি করে ডেলিভারি দেয়া হয় রোগীকে। এটাই হলো ভুয়া রিপোর্ট।

ভুয়া রিপোর্ট আসল রিপোর্ট থেকে দেখতে ভালো মনে হয় সাধারণত। একটু সচেতন হলেই বুঝতে পারবেন আপনি আসল, ভুল, না ভুয়া রিপোর্ট নিলেন। ভুয়া রিপোর্ট থেকে বাঁচতে হলে মন্দ লোকের পরামর্শ নিবেন না।

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/


৭/১০/২০২০ খ্রি.

ক্যান্সারের রোগী কতদিন বাঁচে?

ক্যান্সারের রোগী কতদিন বাঁচে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ এটা অনেকেই মনে করেন। আসলে সব ধরনের ক্যান্সার মারাত্নক না। তবে বেশিরভাগ ক্যান্সার মারাত্নক। তাই, কারো ক্যান্সার রোগ ধরা পরলে আত্বীয় স্বজন সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। আমি একজন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। সাইটোপ্যাথলজি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করে আমি ক্যান্সার রোগ নির্ণয় করে থাকি। রোগী বা রোগীর আত্বীয় স্বজন পরীক্ষার রিপোর্ট নেয়ার সময় আমাকে জিজ্ঞেস করে থাকে কী রোগ ধরা পড়লো। ক্যান্সার রোগের কথা শুনলে অনেকক্ষণ থ মেরে থাকে কেউ কেউ। তারপর জিজ্ঞেস করে “কোন স্ট্যাজে আছে?” অথবা “কতদিন বাঁচতে পারে?” অথবা “এর চিকিৎসা আছে কি?”

কতদিন বাঁচবে তা নির্ভর করে অনেক কিছুর উপর। হায়াত মউত আল্লাহর হাতে। ডাক্তার রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। চিকিৎসা করে দেখা গেছে অনেক রোগী ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং সাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। ক্যান্সারের ধরন, ক্যান্সার হবার স্থান, প্যাথলজিক্যাল গ্রেড, ক্লিনিক্যাল স্ট্যাজ, চিকিৎসার ধরন ইত্যাদির উপর নির্ভর করে বলা যায় রোগীর পরিনতি কি হতে পারে। তবে কত দিন বাঁচবে এমন কথা কোন ডাক্তার বলেন না। তবে আমি গ্রামের আড্ডায় অনেক মুখরোচক গল্প শুনেছি এমন “আমার এক খালাতো ভাইয়ের ক্যান্সার হয়েছিল। ডাক্তার বলে দিয়েছিলো রোগী আর মাত্র ২৮ দিন বাঁচবে, যা খাওয়ার তাই খাওয়ায়ে দিন। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে? রোগী কোন চিকিৎসা ছাড়াই ৫ বছর ধরে বেঁচে আছে।” শুনতে চমকপ্রদ মনে হলেও এমন আলাপ আমি বিশ্বাস করি না। তবে এমন আলাপই অনেকে শুনতে পছন্দ করে।

ক্যান্সার হলে রোগী কেনো মারা যায়? এর উত্তরে বলা যায় ক্যান্সার হলো শরীরের একটি পরগাছার মতো। শরীরের একটি সাভাবিক কোষ কোন কারনে কোনভাবে পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার কোষে রুপান্তর হয়। তারপর এগুলোর একটা থেকে দুইভাগ হয়ে দুইটা, চারটা, ষোলটা, চৌষট্টিটা, এইভাবে অসংখ্য কোষ তৈরি হয়ে টিউমার আকার ধারন করে। যে কারনে সাভাবিক কোষ ক্যান্সার কোষে রুপান্তর হয় সেই কারনটি উঠিয়ে নিলেও ক্যান্সার কোষ তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ঔষধ প্রয়োগ করে ক্যান্সার সেল মেরে ফেলা যায়। সাথে সাভাবিক কোষেরও মৃত্যু হতে পারে।

ক্যান্সার কোষ বিভিন্ন পথে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে বাসা বাঁধতে থাকে। শরীরের পুষ্টিতে ভাগ বসায়। তাই, রোগী রুগ্ন হতে থাকে। ক্যান্সার স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী রক্ত শুন্য হয়ে পড়ে। ক্যান্সার কোষ থেকে সাইটোকাইন নিঃসৃত হয়ে রোগীর ক্ষুধামান্দ ও সাভাবিক কোষের ক্ষতি করতে থাকে। রোগী শুকিয়ে যায়। ক্যান্সার স্থানে ঘা হয়ে পঁচে দিয়ে দুর্ঘন্ধ ছড়ায়। মাছি বসে ডিম দিয়ে পোকা ফেলে। লাংস, লিভার ও ব্রেইনে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যু তরান্বিত করে। মুখে ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হলে খাদ্য গিলতে না পেরে অনাহারে রোগী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। পায়ু পথে ক্যান্সার হলে পায়খানা বন্ধ হয়ে রোগী মারা যায়।

প্যাথলজিক্যালি ক্যান্সার মূলত দু’রকম – কারসিনোমা ও সারকোমা। চিকিৎসা না করালে সারকোমার রোগীরা তারাতারি মারা যায়। শরীরের বাইরের বা ভেতরের আবরনের কোষে ক্যান্সার হয়ে যদি আবরণেই সীমাবদ্ধ থাকে তবে তাকে কারসিনোমা ইন সিটো বলা হয়। যদি আবরনের সীমানা ভেদ করে নিচের স্তরে প্রবেশ করে তখন তাকে ইনভেসিভ কারসিনোমা বলে। ইনভেসিভ কারসিনোমা লসিকা ও রক্তনালি দিয়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে মেটাস্টাসিস বলা হয়। কার্সিনোমা ইন সিটো অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে আবরণসহ ক্যান্সারের অংশটুকু ফেলে দিলে ক্যান্সার শরীর থেকে চলে যায়। অর্থাৎ কারসিনোমা রোগী মুক্তি পেয়ে যায় ক্যান্সার থেকে। ইনভেসিভ কারসিনোমা কেটে ফেলে দিলেও সন্দেহ থেকে যায় ক্যান্সার কোষ মেটাস্টেসিস হয়ে কোথাও লুকিয়ে আছে কিনা। ক্যান্সার ছড়াছড়ির উপর নির্ভর করে ক্লিনিসিয়ানগণ চারটি স্টেজে ভাগ করেন ১ থেকে ৪ পর্যন্ত। স্টেজ নাম্বার যতো বেশি হবে রোগীর পরিনতি ততো খারাপ হবে। কিছু কিছু ইনভেসিভ ক্যান্সার আছে সেগুলো মেটাস্টেসিস না হয়ে আশেপাশের টিস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকে। এগুলোকে লোকালি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলা হয়।

ক্যান্সার কোষ দেখে চিনতে পারেন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ। শরীরের বিভিন্ন রকমের কোষ আছে যেগুলোকে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখে চেনা যায়। সাভাবিক কোষ ক্যান্সার কোষে রুপান্তর হলে অন্য রকম হয়ে যায় বা চেনা সাভাবিক কোষের মতো নয়। সাভাবিক কোষের কাছাকাছিও হতে পারে অথবা অচেনা চেহারারও হতে পারে। যতোই অচেনার দিকে যাবে তার উপর ভিত্তি করে প্যাথলজিস্টগণ গ্রেড নির্ণয় করে থাকেন ১ থেকে ৪ পর্যন্ত। গ্রেড ১ হলো সাভাবিক কোষের কাছাকাছি এবং গ্রেড ৪ হলো অচেনা বা সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার কোষ থাকা। গ্রেড যতো বেশি হবে রোগীর পরিনতি ততো খারাপ হবে। তত তারাতাড়ি রোগ ছড়িয়ে পড়বে।
রোগ ধরা পড়ার পর চিকিৎসা দিলে এক রকম পরিনতি না দিলে আরেক রকম পরিনতি। যদি সম্ভব হয় ক্যান্সার অংশটুকু আশেপাশের কিছু ভালো অংশসহ অপারেশন করে ফেলে দেয়া হয়। এটাকে বলা হয় সার্জারি। রগে ইনজেকশন দিয়ে ও মুখে ঔষধ সেবন করে ক্যান্সার কোষ মেরে ফেলা হয়। এটাকে বলা হয় কেমোথেরাপি। অনেকসময় সার্জারি করার আগে ক্যান্সার কোষগুলোকে আধমরা করার জন্য কেমোথেরাপি দিয়ে নেয়া হয়। সার্জারি করার উপযোগী না হলে সরাসরি কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কোন কোন জাতের ক্যান্সার আছে রেডিওথেরাপি দিলে তারাতাড়ি ক্যান্সার কোষ মারা যায় এগুলোকে রেডিওসেন্সিটিভ ক্যান্সার বলা। এগুলো রেডিওথেরাপি দিয়ে নির্মূল করা যায়। কাজেই, যখন যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিতে হবে তখন সে পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারলে রোগী সেরে উঠবে, না পারলে পরিনতি খারাপের দিকে যাবে। সার্জনের দক্ষতার কমবেশি আছে। যার সার্জনের দক্ষতা ভালো তার পরিনতিও ভালো, না হলে খারাপ। শুধু সার্জনই না, প্যাথলজিস্ট তেমন দক্ষ না হলে ডায়াগনোসিস ও গ্রেড সঠিক হবে না। পরিনতিও ভালো হবে না। যিনি কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি দেবেন তার দক্ষতার উপরও রোগীর পরিনতি নির্ভর করবে।
ঔষধের ধরনের উপরও চিকিৎসার ফলাফল নির্ভর করে। কেমোথেরাপির ঔষধ বিভিন্ন রকমের আছে। এদের কার্যকারিতাও কমবেশি হয়। ভালো ঔষধ খেলে তারাতাড়ি ভালো হবার সম্ভাবনা থাকে।

আমার কাছে ক্যান্সার ধরা পরার পর চিকিৎসাকালিন ফলোআপ দেয়ার সময় আমার কাছে অনেক রোগী এসে তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে তার থেকে দু’চারটি রোগীর কথা উল্লেখ করছি আপনাদের ধারণাটা আরও পরিস্কার হবার জন্য। আমার এক চিকিৎসক শিক্ষকের স্ত্রীর স্তনে ক্যান্সার হয়েছিল প্রায় ২৫ বছর আগে। আমি দু’বছর আগে স্যার থেকে জানতে পেলাম ম্যাডাম সম্পুর্ন ক্যান্সারমুক্ত সুস্থ্য আছেন। আমার এক আত্মীয়া জরায়ু মুখের ক্যান্সার ধরা পড়ে প্রায় ১৮ বছর আগে আমার কাছেই। গাইনিকোলজিস্ট ম্যাডাম পরীক্ষা করে বলেন সারা তল্ পেটে ক্যান্সার ছড়িয়ে লেগে লেগে আছে। অপারেশনযোগ্য না। তাকে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দিয়ে ভালো করা হয়। এখনো দিব্বি ভালো আছেন। আরেক আত্মীয়ের গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে প্রায় ১৫ বছর আগে। রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত জীবন যাপন করে গত বছর হার্ট এটাকে মারা গেছেন। একই সময় একই জায়গায় তার বেয়াইএর ক্যান্সার ধরা পড়ে। দেশী-বিদেশি বিভিন্ন ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা করেও অল্পদিনেই মারা যান তিনি। প্রায় চার বছর স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা করছিলেন এক রোগী। তার স্বামীর ধারনা হয়েছিলো যে রোগী বাঁচানো আর সম্ভব না। রোগীর স্বামী ক্যান্সার চিকিৎসককে বললেন “ডাক্তার সাব, আমার স্ত্রী আর কতদিন বাঁচবে?” ডাক্তার উত্তর দিলেন “আপনার স্ত্রীর শরীরে ক্যান্সারের কোষ নাই বলেই আমি মনে করি। তিনি অন্য একজন সাভাবিক মানুষের মতই বেঁচে থাকবেন। ” শুনে লোকটি বললেন “কন কি ডাক্তার সাব, আমার আরেকটা বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আরেক মেয়ের সাথে। এখন উপায়?” এমন অনেক ঘটনা জানা আছে আমার। তবে আমি দেখেছি যারা চিকিৎসার প্রতি আস্থা হারিয়ে একবার এলোপ্যাথি, একবার হোমিওপ্যাথি, একবার কবিরাজি, একবার ফকিরি চিকিৎসা করান তারাই তারাতাড়ি মারা যান। সবার ক্ষেত্রেই সব ঔষধ কাজ করে না। রোগী মারা যাবার এটাও একটি কারন।
এখনও কি প্রশ্ন করবেন “ক্যান্সার হলে রোগী কতদিন বাঁচে?”
২/১০/২০২০ খ্রি.
ময়মনসিংহ