এফএনএসি রিপোর্টের অর্থ

এফএনএসি রিপোর্টের অর্থ
(সাধারণ স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

শরীরের টিউমার বা সন্দেহ জনক ক্যান্সার অথবা ক্ষতস্থান থেকে এক সুই পরিমান নমুনা নিয়ে প্রসেস করে মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়াকে এফএনএসি পরীক্ষা বলা হয়। এর পুর্ননাম হলো ফাইন নিডল এসপাইরেশন সাইটোলজি। এই পরীক্ষাটি করেন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। নমুনা কালেকশন ক্লিনিশিয়ানও করতে পারেন। তবে একই প্যাথলজিস্ট কালেকশন ও পরীক্ষা করতে পারলে রোগ ডায়াগনোসিস বেশী সঠিক হয়। এই রিপোর্টে মাইক্রোস্কোপিক ফাইন্ডিং বিস্তারিত লিখা থাকে। তবে যিনি রিপোর্ট দেখেন তিনি সাধারণত কমেন্ট বা ডায়াগনোসিস সেকশনটাই দেখে থাকেন। কমেন্ট সেকশনে যদি “প্লিজ, সি দা ডেস্ক্রিপশন” লিখা থাকে তখন তিনি সব সেকশন পড়ে দেখেন। তবে সাধারণ মানুষও তার নিজের এফএনএসি রিপোর্ট-এর অর্থ বুঝতে চান। তাই আমি আজ সাধারনের জন্য এফএনএসি রিপোর্ট-এর কয়েকটি নমুনা কমেন্ট লিখে তার অর্থ লিখার চেষ্টা করছি। কোন কোন এলাকার সাধারণ লোকের মধ্যে ইংরেজি টার্ম-এর অর্থ নিয়ে সমস্যা আছে আমি তা লক্ষ করেছি। আমরা জানি নর্মাল মানে স্বাভাবিক। কিন্তু এমনও লোক আছে তারা নর্মালকে “ভালো না” মনে করে। যেমন বলে “তার বাবার অবস্থা খুবই নর্মাল।” বুঝাতে চায় তার বাবার অবস্থা খুব খারাপ। কাজেই কমেন্টে নর্মাল লিখলে তিনি মনে করবেন এবনর্মাল। নেগেটিভ মানে নাই। নিল মানে নাই। পজিটিভ মানে আছে। পজিটিভ ভালোও হতে পারে আবার খারাপও হতে পারে। তেমনি, নেগেটিভ ভালোও হতে পারে আবার খারাপ হতে পারে। দেখতে হবে কি পজিটিভ বা কি নেগেটিভ। আমি একবার একটা এফএনএসি রিপোর্ট-এ নেগেটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল লিখেছিলাম। রোগীর স্বামী রিপোর্ট পড়ে মন খারাপ করে বললেন
– নেগেটিভ হয়েই গেলো!
– হ্যা, নেগেটিভ।
– আমার ভাগ্যটাই খারাপ। প্রথম বউটা সন্তান ডেলিভারি হবার সময় মারা গেলো। এই বউটাও নেগেটিভ।
– তাতে, মন খারাপের কি আছে?
– নেগেটিভ মানে তো মাইনাস। তার মানে আমার স্ত্রী নেগেটিভ। তাই না?
– না, তা না। মানে আপনার স্ত্রীর ক্যান্সার নেগেটিভ, মানে, ক্যান্সার নাই।

এমনি অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী মানুষ আমাদের সমাজে আছে।
ক্লিনিসিয়ান যখন রোগী পাঠান এফএনএসি করাতে তখন এডভাইসে ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস লিখে দেন সাধারণত। যাতে প্যাথলজিস্ট সেই বিষয়ের উপর বিশেষভাবে খেয়াল করেন মাইক্রোস্কোপি করার সময়। ক্লিনিসিয়ানের ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস এবং প্যাথলজিস্ট-এর প্যাথলজিকাল ডায়াগনোসিসের সমন্বয়ে ফাইনাল ডায়াগনোসিস হয়। কাজেই প্যাথলজিস্ট-এর কাছে ক্লিনিক্যাল ইনফর্মেশন থাকা ভালো। তাতে পরীক্ষার পর প্যাথলজিস্ট রোগীকেও তার রোগের পরিণতি কি হতে পারে তার একটা ধারনাও দিতে পারেন।

এফএনএসি পরীক্ষা হিস্টোপ্যাথলজি (বায়োপ্সি) পরীক্ষার সমান সঠিক না। হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করার হয় টিস্যুর নিয়ে। আর এফএনএসি পরীক্ষা করা হয় টিস্যু থেকে মাত্র কিছু সেল (কোষ) নিয়ে। হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল ডায়াগনোসিস এর একুরিসি প্রায় ১০০% এর কাছাকাছি হয়। কিন্তু এফএনএসির একুরেসি তা হয় না, একটু কম হয়। তাই চিকিৎসা দেয়ার আগে হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা, বিশেষ করে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, করে নেয়া হয়।

কমেন্টে “পজিটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল” লিখার মানে হল “এফএনএসি পরীক্ষা অনুযায়ী এটা ক্যান্সার।” সেইরূপ
নেগাটিভ ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল = ক্যান্সার সেল পাওয়া যায় নি। ক্যান্সার থাকতেও পারে, তবে পাওয়া যায় নি। আকাশে চাঁদ দেখা যায় নি বলে কি আকাশে চাঁদ নেই? থাকতে পারে, দেখা যায় নি হয়ত।
সাসপিসিয়াস ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল = যে সেলগুলি পেলাম সেগুলিকে ক্যান্সার সেল বলে সন্দেহ হলো। তবে আমি নিশ্চিত না। তয় কি করা যায়? ক্লিনিক্যাল ডাটার সাথে মিলিয়ে দেখেন। মিলে গেলে ক্যান্সার। না মিললে ক্যান্সার না। হিস্টোপ্যাথলজি করে সন্দেহ দূর করা যেতে পারে।
সাজেস্টিভ অব ম্যালিগন্যান্ট সেল = সেলগুলি দেখে মনে হলো ক্যান্সার। তবে সিউর না। ক্লিনিক্যাল ডাটার সাথে মিলে গেলেই নিশ্চিত ক্যান্সার।
পসিবিলিটি অব ম্যালিগন্যান্ট সেল = ক্যান্সার সেল হওয়ার সম্ভাবনা। তবে মনের জোড় কম। ক্লিনিসিয়ান সিধ্যান্ত নিবেন কি করবেন। আরেকবার এফএনএসি করাতে পারেন। অথবা হিস্টোপ্যাথলজি করাতে পারেন।

ইনফ্লামেশন বা প্রদাহজনিত রোগাক্রান্ত স্থান থেকে এফএনএসি করলে ইনফ্লামেটরি সেল পাওয়া যায়। বেশী ভাগ সেল নিউট্রোফিল থাকলে কমেন্টে লিখা হয় “একুট ইনফ্লামেটরি লেশন। ” বেশীভাগ সেল লিম্ফোসাইট হলে কমেন্টে লিখা হয় “ক্রনিক নন-স্পেসিফিক ইনফ্লামেশন।” তবে স্মল লিম্ফোসাইটিক লিম্ফোমা এবং নন-হজকিন নামক ক্যান্সার এফএনএসি পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। ক্লিনিক্যালি ক্যান্সার সন্দেহ হলে বায়োপ্সি করাই ভালো। অনেক ইপিথেলিওয়েড সেল পাওয়া গেলে কমেন্টে লেখা হয় “গ্রনুলোমাটাস ইনফ্লামেশন।” এই ধরনের ইনফ্লামেশনের অনেক কারন আছে। আমাদের দেশের কমন কারন হলো টিউবারকুলোসিস। ইপিথেলিওয়েড সেলস, ল্যাংহ্যান্স টাইপ জায়ান্ট সেল ও ক্যাজিয়েশন নেক্রোসিস পেলে কমেন্টে লিখা হয় “কনসিস্টেন্ট উইথ টিউবারকুলোসিস।” তবে কনফার্ম না। কনফার্ম লিখতে গেলে টিউবারকিউলোসিস-এর জীবাণু পেতে হবে। ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রির সাথে মিলে গেলে অথবা এম টি পরীক্ষাও পজিটিভ হলে কনফার্ম টিউবারকিউলোসিস। ইপিথেলিওয়েড সেলস এবং ল্যাংহ্যান্স টাইপ জায়ান্ট সেল পেলেও “কনসস্টেন্ট উইথ টিউবারকিউলোসিস।” এমনকি ইপিথেলিওয়েড সেলস এবং ক্যাজিয়েশন নেক্রোসিস পেলেও “কনসিস্টেন্ট উইথ টিউবারকিউলোসিস।” শুধু মাইক্রোস্কোপিক ফাইন্ডিং দিয়ে সাইটলজিক্যাল ডায়াগনোসিস করা না গেলে ক্লিনিসিয়ানের ডাগনোসিসের পক্ষে মাইক্রোস্কোপি ফাইন্ডিং-এর মিল থাকলে তখন লিখা হয় “কম্পাটিবল উইথ…..। ” যেমন “কম্পাটিবল উইথ টিউবারকুলোসিস।” এমন অনেক টার্ম আছে এফএনএসি রিপোর্ট-এ। এই টার্মগুলির সঠিক অর্থ বুঝতে না পাড়ার কারনে অনেক রোগী প্যাথলজি রিপোর্ট নিয়ে ভুল বুঝে থাকে। আমার এই লেখা পড়লে আশা করি সেই ভুল বুঝাবুঝি কমে যাবে।
১২/১০/২০১৯ খ্রি.

সুস্থ্য শরীরে ক্যান্সারের পরীক্ষা

সুস্থ্য শরীরে ক্যান্সারের পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

কয়েকদিন আগে প্রবাস থেকে একজন আমাকে মোবাইল করে জানতে চাইলেন যে তিনি দেশে ফিরে রক্ত পরীক্ষা করাবেন। কি জন্য রক্ত পরীক্ষা করাবেন জানতে চাইলে বললেন
– শরীরে ক্যান্সার আছে কি না জানতে চাই।
– তা শারীরিক সমস্যা কি কি?
– না, শরীরে কোন সমস্যা নাই।
– সমস্যা নাই, তাও পরীক্ষা করাবেন কেন?
– অনেকেই তো ক্যান্সার হয়ে মারা গেলো। আমার শরীরের ভিতরে ক্যান্সার আছে কি না জানতে চাই।
– দেশে ফিরে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।

এভাবে যারা অতি-স্বাস্থ্য সচেতন তারা আগাম কিছু পরীক্ষা করাতে চান। এই সুযোগে অনেক দালালের সুবিধা হয়। তারা দেশী বিদেশী বড় বড় ডায়াগনোসিস্টিক সেন্টারে মোটা কমিশনের বিনিময়ে প্যাকেজ করে শরীর চেক আপ করার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়। সহজ উপায়ে বেশী টাকা কামাই করলে সাধারণত এমন সখ হয়। বিদেশ ভ্রমণও হলো, চেক আপ করাও হলো। চেক আপ করার পর বন্ধুদের সাথে মোবাইলে তার বিদেশে গিয়ে চেক আপের কথা বলে বেড়ায় গশর্ব করে। আর দেশী ডায়াগনোসিস্টিক সেন্টারের বদনাম করে যেভাবে দালালদের মুখ থেকে শুনেছে। অনেক সময় বিদেশ যেতে ভিসা পেতে দালালরা ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ভিসা সংগ্রহ করে। আজব আজব রোগের নাম লিখা থাকে সেই সব রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট যখন বিদেশী ডাক্তারের হাতে পড়ে তখন তারা প্রচার করে বাংলাদেশী ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ভুল হয়। এমন রিপোর্ট স্ক্যান করে কেউ কেউ ফেউস বুকেও ভাইরাল করেছে।

কয়েক বছর আগে একটা রিপোর্ট পেলাম মহিলা রোগীর। তিনি বড় একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন একজন পল্লী চিকিৎসকের এডভাইস অনুযায়ী। তিনি চিকিৎসককে বলেছিলেন যে তার শরীরে ক্যান্সার আছে কি না তা জানার জন্য কোন রক্ত পরীক্ষা লাগলে লিখে দেয়ার জন্য। সেই অনুযায়ী তিনি সাত আটটা পরীক্ষা করিয়েছেন। মজার কথা হলো তিনি প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন (PSA) টেস্টটাও করিয়েছেন। সব পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো। কিন্তু যেখান থেকে পরীক্ষা করিয়েছেন সেখানকার প্যাথলজিস্ট-এর দেখা তিনি পান নি। রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি পাশ করা একজন পার্সন। তিনি মেডিকেল পার্সন নন। তাই, তার রিপোর্ট বুঝার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। মনে রাখবেন, অধিক মুনাফা করার জন্য কেউ কেউ মেডিকেল পার্সনের পরিবর্তে অন্য প্রফেসনের লোক দিয়ে প্যাথলজি করাতে পারেন। প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন পজিটিভ হয় প্রোস্টেট ক্যান্সারে সাধারণত। ছেলেদের পুরুষাংগের গোড়ায় ও মুত্রথলির নিচে মুত্রনালীর বেষ্টন করে প্রোস্টেট থাকে। মেয়েদের প্রোস্টেট নাই। প্রোস্টেটে ক্যান্সার হলে মুত্রনালী বন্ধ হয়ে প্রশ্রাব আটকে যায়। আগাম কেউ রক্ত পরীক্ষা করালে রক্তের পিএসএ বেশী দেখে প্রোস্টেট ক্যান্সার সন্দেহ করতে পারে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিল এই মহিলা রোগীর পিএসএ পরীক্ষা করানো হলো কেন? নিজে নিজেই চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করলাম। মহিলা যখন পল্লী চিকিৎসককে উপদেশ লিখে দিতে বলেছেন তখন তিনি গুগলে সার্চ দিয়েছেন ক্যান্সার রোগের রক্ত পরীক্ষা কি কি আছে। মহিলা/পুরুষ বিবেচনা না করে সবগুলি লিখে দিয়েছেন। এও হতে পারে বেশী কমিশন পাওয়ার আশায় সবগুলি পরীক্ষা লিখে দিয়েছেন।

সিবিসি (CBC) নামে রক্তের একটা পরীক্ষা খুব করা হয়। সাভাবিক অবস্থায় যদি অনেকগুলি রোগীর রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করা হয় তবে ইনসিডেন্টাল ফাইন্ডিং হিসাবে দুই এক জনের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়বে। কারন, প্রথম দিন থেকেই রোগীর শারীরিক সমস্যা নাও হতে পারে। রক্তকণিকার অনেক পরিবর্তন হবার পর ব্লাড ক্যান্সারের উপসর্গ শুরু হয়। উপসর্গ শুরুর আগেই রক্তে ক্যান্সার সেলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
সাভাবিক সংখ্যার চেয়ে যদি অপরিক্ক রক্ত কণিকার পরিমাণ বেড়ে যায় তবে ব্লাড ক্যান্সার সন্দেহ করা হয়। যে ব্লাড ক্যান্সারে অপরিপক্ব কোষ থাকে তাকে একুট লিউকেমিয়া বলে। যে ব্লাড ক্যান্সারে পরিপক্ব কনিকা থাকে তাকে ক্রনিক লিউকেমিয়া বলে। পরিপক্ব কোষের সংখ্যা অসম্ভব বেশী হয়ে গেলেই ক্রনিক লিউকেমিয়া বলা হয়।

অনেক মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার হয়। সার্ভাইকাল ক্যান্সার বলে যাকে। এই ক্যান্সার কিন্তু এক দুই দিনে হয় না। পুরাপুরি ক্যান্সার হয়ার আগে, কোন কোন ক্ষেত্রে ৪/৫ বছর আগে থেকে সার্ভিক্স-এর কোষে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রাথমিক ভাবে ভিআইএ (ভায়া) টেস্ট করে সন্দেহ করা হয়। ভায়া টেস্ট পজিটিভ হলে অথবা গাইনিকোলজিস্ট মনে করলে পেপ টেস্ট করে সার্ভিক্স-এর অস্বাভাবিক সেল ডিটেক্ট করে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সন্দেহ করেন। গাইনিকোলিস্ট পেপ স্মিয়ার কালেকশন করেন। প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ পেপ টেস্ট পরীক্ষা করেন। ভায়া সেন্টারে ভায়া পরীক্ষা হয়।

ক্যান্সার মার্কার নামে রক্তের কিছু পরীক্ষা আছে। এগুলি কনফার্ম পরীক্ষা না। উপসর্গ দেখে ক্যান্সার সন্দেহ হলে অথবা চিকিৎসা দেয়ার সময় ঔষধে কেমন কাজ করছে তা দেখার জন্য এইসব মার্কার দেখা হয়। অনেক মার্কার আছে। তার মধ্যে PSA, AFP, beta-HCG, CA-125, Carcinoemryonic antigen সচারাচর করা হয়।

পিএসএ(PSA)-এর কথা আগেই বলা হয়েছে যে প্রোস্টেট ক্যান্সার হলে সাধারণত এটা পজিটিভ হয়।

এএফপি (AFP) সাধারণত পজিটিভ হয় ওভারি(ডিম্বাধার) ও টেস্টিসের (অন্ডকোষ)-এর ক্যান্সার এবং লিভারের ক্যান্সারে (হেপাটোসেলুলার ক্যান্সার)।

CA-125 পজিটিভ হয় সাধারণত ওভারিয়ান ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার, লাংস (ফুসফুস) ক্যান্সার, ব্রেস্ট (স্তন) ক্যান্সার ও পরিপাক তন্ত্রের ক্যান্সারে।

বিটা-এইচসিজি (HCG) পজিটিভ হয় প্লাসেন্টাল ক্যান্সার (কোরিওকার্সিনোমা) ও জার্মসেল ক্যান্সার (ওভারি ও টেস্টিস) ক্যান্সারে।

কার্সিনোএম্ব্রায়োনি এন্টিজেন পজিটিভ হয় পরিপাক তন্ত্রের, সারভিক্স, লাংস, ওভারি ও ব্রেট ক্যান্সারে।

যাহোক, খামখা কেউ যদি ক্যান্সারের আগাম কোন পরীক্ষা করাতেই চান তবে উপরে উল্লেখিত পরীক্ষাগুলি করাতে উপদেশ দেয়া যেতে পারে। তবে মনে রখতে হবে কোনটি মেয়েদের আর কোনটি ছেলেদের পরীক্ষা।
৫/১০/২০১৯ খ্রী.

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস

নাড়ী ঢিলা রোগ আইবিএস
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

অনেকে পেটের পাকস্থলীকে ভুড়ি আর অন্ত্রকে নাড়ী বলে। একসাথে বলে নাড়ী- ভুড়ি। আবার হাতের কব্জিতে রক্তনালীর উপর আঙুল রেখে রক্ত চলাচলের ঢেউ গণনা করে হার্ট রেট বা পাল্স গণনাকেও অনেকে নাড়ী দেখা বলে। মানুষ জানে যে অন্ত্রের ভিতর পায়খানা থাকে। ছাগল গরু জবাই করে অনেকেই দেখেছে যে নাড়ীর ভিতর পায়খানা থাকে। কাজেই অনেকেই মনে করে নাড়ী ঢিলা থাকলে পায়খানা ধরে রাখা যায় না। খাবার হজম না হয়েই পড়ে যায়। দেখবেন, অনেকেই এমন আছেন, সকালে নাস্তা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পেটে একটা মোচর দিয়ে পায়খানার বেগ হয়। দৌড়ে যেতে হয় লেট্রিনে। কমোডে বসলে কলকলি সব পায়খানা পড়ে যায় কমোডে। নরম পায়খানা। আগের দিনে গ্রামের অনেকেই লোটা অথবা বদনা নিয়ে দৌড়ে যেতেন আড়া জংগলে। এসে বলতেন পেটের সব পড়ে গেছে গেলগেলি। অথচ এই সব লোক সুস্থ মানুষের মতোই। অন্য কোন সমস্যা নেই। নেই কোন জ্বরজারি। শুধু বলে মুখটা একটু তামা তামা লাগে। বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলে নাড়ী ঢিলা মানুষ।

আসলে এই নাড়ী ঢিলা রোগটিকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘আইবিএস’। এর ফুল মিনিং ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম। যে সব রোগের কারন জানা গেছে সেসব রোগের চিকিৎসাও সহজ হয়েছে। যেসব রোগের প্রকৃত কারন এখনো জানা যায় নি সেসব রোগের ভালো চিকিৎসাও নেই। আইবিএস হলো এমন রোগ যার প্রকৃত কারন এখনো জানা যায় নি। ধারনা করা হচ্ছে এই রুগীরা একটু বেশী শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করে। বাওয়েল বা অন্ত্রের মুভমেন্ট বা ঢেউ অসামঞ্জস্যপুর্ণ। কোন সময় বেশী চলে কোন সময় কম চলে। তাই কয়েকদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে আবার কয়েকদিন ডাইরিয়া থাকে। তিন চার দিন পায়খানা না হয়ে যখন রুগী কমোডে বসে তখন কমোড ভরে যায় পায়খানায়। একটু উল্টাপাল্টা খেলে আরো বেশী পায়খানা হয়। এজন্য রুগী ভয়ে এটা সেটা খেতে চায় না।

অল্প কিছু কার্যকরী ঔষধ আছে এই রোগের। কিন্তু তাতে রুগীরা তেমন সন্তুষ্ট না চিকিৎসা নিয়ে। তাই তারা কিছুদিন পরপর ডাক্তার বদলায়। প্রতিটি ডাক্তার তার সিম্পটম শুনেই রোগ ধরতে পারেন। তারপরও বেশ কিছু দামী দামী পরীক্ষা নিরিক্ষা করান অন্য কোন খারাপ রোগ আছে কিনা জানার জন্য। পরীক্ষার রিপোর্ট সবসময় ভালো আসে। রুগী এইসব রিপোর্ট প্রেসক্রিপশন ফাইলে সুন্দর করে ক্লিপ দিয়ে সাজিয়ে রাখে। একটা রিপোর্টও হারাতে চান না। তাতে তার কাছে এক গাদা কাগজ জমা হয়। এই কাগজ আবার নতুন ডাক্তারকে দেখার জন্য অনুরোধ করে। না দেখলে অসন্তুষ্ট হয়। এটাও একটা লক্ষন আইবিএস রুগীর। রুগী সামর্থ্য থাকলে ডাক্তার বদলাতে বদলাতে সুদুর ব্যাংকক পর্যন্ত চলে যায়। তারাও রুগীকে কয়েক বার ঘুরায় ফলো আপ দেয়ার জন্য। শেষে এই রুগের রহস্যটা বলে দেয়। লাখ লাখ টাকা ভাংগার পর রুগী চিকিৎসা ক্ষান্ত দিয়ে হতাসার আলাপ শেয়ার করে বন্ধুদের সাথে। বন্ধুরা হতাস না হয়ে হার্বাল মেডিসিনের আশ্রয় নিতে বলে। সেখান থেকে হতাস হয়ে হোমিওপাথি মেডিসিন সেবন করে বহু বছর কাটায় কেউ কেউ। কিন্তু নাস্তা করার পর পেটে কামর দিয়ে লেট্রিনে যাওয়ার অভ্যাসটা তার থেকেই যায়। কারন, আইবিএস এর এখনো কোন কারন জানা যায় নি এবং এর কার্যকরী চিকিৎসাও আবিষ্কার হয় নি। কিন্তু যিনি চিকিৎসা করেন তিনি রুগীকে কিছুটা আশ্বাস দেন যে তার ঔষধ খেয়ে ভালো হবার সম্ভাবনা আছে। রুগী তখন তার পূর্বের চিকিৎসকে দোষারোপ করে এবং নতুন বিশ্বাসে কিছুদিন ঔষধ খেয়ে মানষিক প্রশান্তি লাভ করে।

চিকিৎসকগণ সিম্পটম কমানোর জন্য ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে বলেন। তৈলাক্ত খাবার খেতে নিষেধ করেন। পেট ভরে না খেয়ে অল্প অল্প খাবার ঘনঘন খেতে বলেন। কপি ও ব্রুকলি খেতে নিষেধ করেন। রোগের সম্পর্কে ধারনা নিয়ে মনের জোড় বাড়ালে আইবিএস এমনি এমনি কমে যায়।
২৫/৮/২০১৯ খ্রী.

 

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দেশে কিন্তু অনেক রুগী আছে গাস্ট্রিকের। কিন্তু গ্যাস্ট্রিক নামে এমবিবিএস পাঠ্য বইয়ে কোন রোগ নেই। তাহলে মানুষ গ্যাস্ট্রিক গ্যাস্ট্রিক বলে যে ঔষধ কিনে খাচ্ছেন ওটা কোন রোগ? আজ আমি সেই বিষয়টা একটু পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। পাকস্থলীর ইংরেজি হলো স্টোমাক। এই স্টোমাক থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নামে একটা তরল এসিড এসিড উৎপন্ন হয় যা খাবার হজম করতে সহায়তা করে। এসিডের কিছু অংশ গ্যাস আকারে স্টোমাকের উপরের দিকে থাকে। কোন কোন সময় অতিরিক্ত গ্যাস খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমরা তখন বলি ঢেকুর তোলা। এই গ্যাস যেহেতু এসিড জাতীয় সেহেতু এটা খাধ্যনালী জ্বালিয়ে দেয়। তাই আমরা বলি বুক জ্বলে। এসিডে কিন্তু স্টোমাক জ্বলে না, কারন, স্টোমাকের ভিতরে এসিড নিউট্রাল করার মিউকাসের একটা আবরণ থাকে। কোন কারনে এই আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্টোমাক জ্বলে। তাতে পেটে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস যখন স্টোমাক পার হয়ে ডিউডেনামে প্রবেশ করে তখন ডিউডেনাম জ্বলে। ডিউডেনাম ব্যাথা করে নাভির কাছে। রুগী মনে করে গ্যাসের কারনেই এসব হচ্ছে। তাই বলে ‘গ্যাস্ট্রিক’। দোকানে গিয়ে বলে “আমাকে গ্যাসের ঔষধ দেন।” যাদের মাথার বিষ বা শরীরের বিষ আছে তারা বলে “আমাকে বিষের বড়ি দেন।” কাজেই গ্যাস্ট্রিক হলো রুগীগের মুখে বলা রোগের নাম যেটা আসলে গাস্ট্রিক এসিড সংক্রান্ত জটিলতার কারনে হয়। স্টোমাকের আরেক নাম গ্যাস্ট্রোন। কাজেই গ্যাস্ট্রিক মানে হলো স্টোমাকের। যেমন, গ্যাস্ট্রিক আলসার, গাস্ট্রিক ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক এসিড। অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক থেকে গ্যাস্ট্রাইটিস, গাস্ট্রিক আলসার, ডিউডেনাইটিস, ডিউডেনাল আলসার, ইওসোফেজাইটিস, ইওসোফেজিয়াল আলসার ইত্যাদি সমস্যা হয়। এইসব ক্ষেত্রে রুগীর পেটে গ্যাস অনুভুত হয়, পেট ব্যাথা ও বুক ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করে। এক কথায় তারা বলে গাস্ট্রিক হইছে। স্টোমাক ও ডিউডেনামে হেলিকোব্যাক্টার পাইলো ইনফেকশন হলে প্রদাহ হয়ে আলসার বা ঘা হয় তাতেও ব্যাথা জয়। কোন কোন খাবার খেলে কারো কারো গাস্ট্রিক এসিড বেশী বেশী তৈরি হয়। তাই সেইসব খাবার পরিহার করলে গ্যাস্ট্রিক রোগ কম হয়। গাস্ট্রিক এসিড কমানোর জন্য ডাক্তারগণ এন্টাসিড দেন। গাস্ট্রিক এসিড তৈরি কম করানোর জন্য বেশ কিছু ঔষধ আছে। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন থাকলে ডাক্তারগণ এন্টিবায়োটিক দেন। রক্ত পরীক্ষা করে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন আছে কিনা জানা যায়। পেটে ক্যান্সার হলেও গ্যাস্ট্রিকের অনুরূপ সিম্পটম হয়। এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করে স্টোমাকে, ডিওডেনামে ও ইওসোফেগাসে প্রদাহ ও আলসার (খত) অথবা ক্যান্সার আছে কি না তা দেখা যায়।
কাজেই কারো গ্যাস্ট্রিক সিম্পটম দেখা দিলে ফার্মেসী থেকে নিজের ইচ্ছা মতো গাস্ট্রিকের ঔষধ না খেয়ে আসলে কি রোগ হয়েছে তা ডাক্তার দেখায়ে নির্নয় করে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
২৪/৮/২০১৯ খ্রী.

 

একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলি জীবাণুর কারনে হয়। বলা হয় ইনফেকশন। সাধারণত ব্যাক্টেরিয়া ও ফাংগাস ইনফেকশনে এন্টিবায়োটিক ও এন্টিফাংগাস ঔষধ প্রয়োগ করে ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস (ছত্রাক) ধ্বংস করা হয় । এই ঔষধ প্রয়োগ করার নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময় আছে যা একজন এমবিবিএস ডাক্তার জানেন। এই ওষুধ যদি সঠিক নিয়মে সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা না হয় তাহলে এক পর্যায়ে জীবাণু এন্টিবায়োটিকের বা এন্টিফাংগাসের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে। ফলে এই ওষুধে আর কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘এন্টিবায়োটিক /এন্টিফাংগাস রেজিস্টেন্স’। অর্থাৎ যখন ব্যাকটেরিয়ার /ফাংগাস ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের/এন্টিফাংগাসের কার্যকারিতা থাকে না।

কেউ কেউ আছেন জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া হলে চট করে ফার্মেসী থেকে একটি বা দুইটি এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপ্সুল এনে খেয়ে ফেলেন। প্রকৃতপক্ষে এই চারটি রোগ সারাতে এন্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। এই চারটি কন্ডিশনে এন্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনো দেখেছি, দাওয়াতে গিয়ে বেশী পরিমানে খেয়ে একটা এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেয়ে নিচ্ছেন। কেনো খেলেন জিজ্ঞেস করলে বলেন “যদি পেট খারাপ হয়, তাই ট্যাবলেট খেয়ে নিলাম।” পেট খারাপ হতে পারে মনে করে একটা এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেলেন। আবার পেট খারাপ হয়ে গেছে সেই ক্ষেত্রেও দেখেছি ফার্মেসি থেকে একটি বা দুইটি ট্যাবলেট এনে খেলেন। পেট খারাপ ভালো হলে আর খেলেন না। একদিন পর আবার পেট খারাপ হলো, আবার একটা ট্যাবলেট খেলেন। এই সব ক্ষেত্রে জীবাণুরা এই এন্টিবায়োটিকের বিরোদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই এই এন্টিবায়োটিক দিয়ে এই জীবাণুকে মারা আর সম্ভব হবে না।

যারা সবসময় ঘরের ভিতর থেকে অভ্যস্ত তাদের যদি অনেকক্ষণ রৌদ্রে দাড়া করে রাখা হয় তারা রৌদ্রে কাবু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এমনটি মারাও যেতে পারে। কিন্তু একজন কৃষক সারাদিন রৌদ্রে কাজ করেও অসুস্থ হন না বা মারাও যান না। কারন, তিনি রৌদ্রে কাজ করে করে রৌদ্রের প্রতি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলেছেন। জীবাণুও তেমনি একটু একটু করে এন্টিবায়োটিক পেয়ে এর বিরোদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলে। তাই, অসুখ বিসুখ হলে একটা দুইটা এন্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক না। খেলে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হয়। তখন এই ঔষধে আর কাজ করে না। খেতে হলে, বিএমডিসি রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক খাবেন।
২৪/৮/২০১৯ খ্রী.

 

ঔষধ বানায় কি দিয়ে?

ঔষধ বানায় কি দিয়ে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রায় সব রোগই যেমন প্রাকৃতিক কোন না কোন কারনে হয় তেমনি প্রায় সব রোগের ঔষধই প্রকৃতিতে আছে। বেশীরভাগ রোগ শরীরে জীবাণু সংক্রমণের জন্য হয়। তাই শরীরে জীবাণু ধ্বংস কারী এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে সংক্রমণ ভালো করা হয়। শরীরে হরমোন কমে গেলে রোগ হয়। শরীরে হরমোন প্রয়োগ করে তাই চিকিৎসা করা হয়। নানান কারনে রক্তের প্রেসার বেড়ে হাইপারটেনশন রোগ হয়। এন্টিহাইপারটেনসিভ ড্রাগ দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমানো হয়। নানান কারনে শরীরে জ্বর হয়, শরীর ব্যাথা হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর কমানো হয়, ব্যথা কমানো হয় । এমন হাজারো সমস্যার আছে হাজারো ঔষধ । সবারই মনের একটা ইচ্ছা আছে ‘আমি যদি সব রোগের ঔষধ জানতে পারতাম।’ ডাক্তারগণ অনেক রোগের কারণ জানতে পেরেছেন, যেগুলি আবিষ্কার হয়েছে। আবার বেশ কিছু রোগের কারণ এখোনো আবিষ্কার হয় নি। এইগুলিকে বলা হয় ইডিওপ্যাথিক রোগ। অনেক রোগের ডায়াগনোসিস ডাক্তারগণ করতে পারেন। কিন্তু সব রোগের চিকিৎসা করতে পারেন না। কারন কিছু কিছু রোগের ঔষধ এখনো আবিস্কার হয় নাই। হলেও কিছু কিছু ঔষধের ক্ষেত্রে ভেজাল ঢুকে গেছে। চিকিৎসার জন্য যেমন ভালো ডাক্তার চাই, তেমনি ভালো ঔষধেরও প্রয়োজন। সবাই চায় হাতের কাছেই যদি ভালো ঔষধ পাওয়া যেতো।
Continue reading “ঔষধ বানায় কি দিয়ে?”

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জীবনে প্রায় সবারই জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। জ্বর কিন্তু কোন রোগের নাম নয়। জ্বর হলো রোগের একটি লক্ষণ। যে পর্যন্ত কি রোগের লক্ষণ হিসাবে জ্বর হয়েছে তা জানা না গেছে সে পর্যন্ত রোগীকে পাইরেক্সিয়া অব আননোন অরিজিন হিসাবে চিহ্নিত করে রুগীকে ইনভেস্টিগেশন করে জ্বরের কারন নির্নয় করা হয়। সাধারণত শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশন হওয়ার কারনে জ্বর হয়। ইনফেকশন থেকে ইনফ্লামেশন হয়। ইনফ্লামেশন স্থানে শরীর গরমকারী কেমিকেল মেডিয়েটর তৈরি হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শরীর গরম হয়। যাকে বলা হয় জ্বর। যারা ডাক্তার নন তারা সাধারণত রুগীর কপালে ডান হাতের তালু রেখে গরম অনুভুত হলে জ্বর বলে থাকেন। মায়েরা সন্তানের পেটে হাতের তালু রেখে বলেন যে তার সন্তানের জ্বর হয়েছে। আসলে হাত দিয়ে জ্বর দেখতে হলে হাতের আংলের পিঠের দিক রাখতে হবে কপালে। হাতের তালুয় সঠিক তাপমাত্রা অনুভুত হয় না। তাপমাত্রা সঠিক নির্নয় করার জন্য থার্মোমিটার প্রয়োজন। থার্মোমিটার বড়দের মুখে এবং বাচ্চাদের মলদ্বারে থার্মোমিটার রাখলে তাপমাত্রা বা জ্বর সঠিক মাপা হয়।
Continue reading “জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা”

টিউমার ও ক্যান্সার

টিউমার ও ক্যান্সার
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

রুগীরা শরীরের কোথাও বল আকারে ফুলে উঠলে টিউমার মনে করে। টিউমার কথাটা এসেছে টিউমর থেকে। যার অর্থ ফুলে উঠা। আগের দিনে গলার থায়রয়েড গ্লান্ড বড় হয়ে গেলে গ্রামের মানুষ বলতো ঘ্যাগ। ডাক্তাররা বলেন গলগণ্ড রোগ। ইংরেজিতে বলা হয় গয়টার। খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব হলে সাধারণত গলগণ্ড রোগ হয়। এই গলগণ্ড রোগকেও এখন রুগীরা টিউমার মনে করে। শরীরের কোথাও জীবাণু আক্রান্ত হলে সেখানকার লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থি রিয়েকশন করে বড় হয়ে যায়। রুগীরা এটাকেও টিউমার মনে করে। আসলে ফুলে উঠলে বা চাক্কা হলেই টিউমার না। টিউমার হলো বিশেষ ধরনের রোগ। টিউমারের ডাক্তারি ভাষার উপযুক্ত শব্দ হলো নিউপ্লাজম।
Continue reading “টিউমার ও ক্যান্সার”

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
এম ফিল (প্যাথলজি)

অনেকেই এমন একটা প্রশ্ন করেন “রক্তে ক্যান্সার হয়েছে কিনা কি পরীক্ষা করলে ধরা পরবে?” রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া হলে শরীর দেখে বুঝা মুস্কিল। তাই অনেকে এমন প্রশ্ন করেন। ব্লাড ক্যান্সার হলে শরীরে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা অনেক রোগের উপসর্গের সাথে মিল আছে। তাই ব্লাড ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন উপসর্গ নেই। যেমন, শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়া, জ্বর হওয়া, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, হাড়ের ভিতর ব্যথা করা, চামড়ায় রক্তকক্ষরণ হয়ে জখমের মতো দাগ হওয়া, ইত্যাদি। এইসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগেও আছে। এইসব লক্ষণ থাকলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। অনেক পরীক্ষা করা যায়। তবে কিছু করতে না পারলেও শুধু রক্তের ডিসি বা ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট (অব ডাব্লিওবিসি) পরীক্ষাটি করতে পারলে ব্লাড ক্যান্সার ধরা যাবে। একটি কাঁচের স্লাইডে এক ফোটা রক্ত নিয়ে আরেক স্লাইড দিয়ে ঘষা দিয়ে ব্লাড ফিল্ম তৈরি করা হয়। মাত্র এক Continue reading “ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা”

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

পারে। কয়েকপ্রকার এন্টিবায়োটিক আছে যেগুলি গাভীর মাংসে ইঞ্জেকশন করা হলে সেগুলি গাভীর দুধের সাথে বের হয়। তাই এই দুধ ল্যাবে পরীক্ষা করালে দুধে এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।

ফার্মে পাস্তুরিত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করে দুধ প্যাকেট করা হয়। পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা দেখা হয় কিনা আমার জানা নেই। যদি তা না হয়, তবে হাজার হাজার মানুষের শরীরে ডাক্তার ছাড়াই এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। আর তারা হয়ে পরছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট।
১৫/৭/২০১৯ ইং