ঔষধ বানায় কি দিয়ে?

ঔষধ বানায় কি দিয়ে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

প্রায় সব রোগই যেমন প্রাকৃতিক কোন না কোন কারনে হয় তেমনি প্রায় সব রোগের ঔষধই প্রকৃতিতে আছে। বেশীরভাগ রোগ শরীরে জীবাণু সংক্রমণের জন্য হয়। তাই শরীরে জীবাণু ধ্বংস কারী এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে সংক্রমণ ভালো করা হয়। শরীরে হরমোন কমে গেলে রোগ হয়। শরীরে হরমোন প্রয়োগ করে তাই চিকিৎসা করা হয়। নানান কারনে রক্তের প্রেসার বেড়ে হাইপারটেনশন রোগ হয়। এন্টিহাইপারটেনসিভ ড্রাগ দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমানো হয়। নানান কারনে শরীরে জ্বর হয়, শরীর ব্যাথা হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর কমানো হয়, ব্যথা কমানো হয় । এমন হাজারো সমস্যার আছে হাজারো ঔষধ । সবারই মনের একটা ইচ্ছা আছে ‘আমি যদি সব রোগের ঔষধ জানতে পারতাম।’ ডাক্তারগণ অনেক রোগের কারণ জানতে পেরেছেন, যেগুলি আবিষ্কার হয়েছে। আবার বেশ কিছু রোগের কারণ এখোনো আবিষ্কার হয় নি। এইগুলিকে বলা হয় ইডিওপ্যাথিক রোগ। অনেক রোগের ডায়াগনোসিস ডাক্তারগণ করতে পারেন। কিন্তু সব রোগের চিকিৎসা করতে পারেন না। কারন কিছু কিছু রোগের ঔষধ এখনো আবিস্কার হয় নাই। হলেও কিছু কিছু ঔষধের ক্ষেত্রে ভেজাল ঢুকে গেছে। চিকিৎসার জন্য যেমন ভালো ডাক্তার চাই, তেমনি ভালো ঔষধেরও প্রয়োজন। সবাই চায় হাতের কাছেই যদি ভালো ঔষধ পাওয়া যেতো।
Continue reading “ঔষধ বানায় কি দিয়ে?”

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা

জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জীবনে প্রায় সবারই জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। জ্বর কিন্তু কোন রোগের নাম নয়। জ্বর হলো রোগের একটি লক্ষণ। যে পর্যন্ত কি রোগের লক্ষণ হিসাবে জ্বর হয়েছে তা জানা না গেছে সে পর্যন্ত রোগীকে পাইরেক্সিয়া অব আননোন অরিজিন হিসাবে চিহ্নিত করে রুগীকে ইনভেস্টিগেশন করে জ্বরের কারন নির্নয় করা হয়। সাধারণত শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশন হওয়ার কারনে জ্বর হয়। ইনফেকশন থেকে ইনফ্লামেশন হয়। ইনফ্লামেশন স্থানে শরীর গরমকারী কেমিকেল মেডিয়েটর তৈরি হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শরীর গরম হয়। যাকে বলা হয় জ্বর। যারা ডাক্তার নন তারা সাধারণত রুগীর কপালে ডান হাতের তালু রেখে গরম অনুভুত হলে জ্বর বলে থাকেন। মায়েরা সন্তানের পেটে হাতের তালু রেখে বলেন যে তার সন্তানের জ্বর হয়েছে। আসলে হাত দিয়ে জ্বর দেখতে হলে হাতের আংলের পিঠের দিক রাখতে হবে কপালে। হাতের তালুয় সঠিক তাপমাত্রা অনুভুত হয় না। তাপমাত্রা সঠিক নির্নয় করার জন্য থার্মোমিটার প্রয়োজন। থার্মোমিটার বড়দের মুখে এবং বাচ্চাদের মলদ্বারে থার্মোমিটার রাখলে তাপমাত্রা বা জ্বর সঠিক মাপা হয়।
Continue reading “জ্বরের নানান কারন ও তার পরীক্ষা”

টিউমার ও ক্যান্সার

টিউমার ও ক্যান্সার
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

রুগীরা শরীরের কোথাও বল আকারে ফুলে উঠলে টিউমার মনে করে। টিউমার কথাটা এসেছে টিউমর থেকে। যার অর্থ ফুলে উঠা। আগের দিনে গলার থায়রয়েড গ্লান্ড বড় হয়ে গেলে গ্রামের মানুষ বলতো ঘ্যাগ। ডাক্তাররা বলেন গলগণ্ড রোগ। ইংরেজিতে বলা হয় গয়টার। খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব হলে সাধারণত গলগণ্ড রোগ হয়। এই গলগণ্ড রোগকেও এখন রুগীরা টিউমার মনে করে। শরীরের কোথাও জীবাণু আক্রান্ত হলে সেখানকার লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থি রিয়েকশন করে বড় হয়ে যায়। রুগীরা এটাকেও টিউমার মনে করে। আসলে ফুলে উঠলে বা চাক্কা হলেই টিউমার না। টিউমার হলো বিশেষ ধরনের রোগ। টিউমারের ডাক্তারি ভাষার উপযুক্ত শব্দ হলো নিউপ্লাজম।
Continue reading “টিউমার ও ক্যান্সার”

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা

ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
এম ফিল (প্যাথলজি)

অনেকেই এমন একটা প্রশ্ন করেন “রক্তে ক্যান্সার হয়েছে কিনা কি পরীক্ষা করলে ধরা পরবে?” রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া হলে শরীর দেখে বুঝা মুস্কিল। তাই অনেকে এমন প্রশ্ন করেন। ব্লাড ক্যান্সার হলে শরীরে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা অনেক রোগের উপসর্গের সাথে মিল আছে। তাই ব্লাড ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন উপসর্গ নেই। যেমন, শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়া, জ্বর হওয়া, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, হাড়ের ভিতর ব্যথা করা, চামড়ায় রক্তকক্ষরণ হয়ে জখমের মতো দাগ হওয়া, ইত্যাদি। এইসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগেও আছে। এইসব লক্ষণ থাকলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। অনেক পরীক্ষা করা যায়। তবে কিছু করতে না পারলেও শুধু রক্তের ডিসি বা ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট (অব ডাব্লিওবিসি) পরীক্ষাটি করতে পারলে ব্লাড ক্যান্সার ধরা যাবে। একটি কাঁচের স্লাইডে এক ফোটা রক্ত নিয়ে আরেক স্লাইড দিয়ে ঘষা দিয়ে ব্লাড ফিল্ম তৈরি করা হয়। মাত্র এক Continue reading “ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরীক্ষা”

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?

দুধে এন্টিবায়োটিক না মিশালেও কি দুধে এন্টিবায়োটিক থাকতে পারে?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

পারে। কয়েকপ্রকার এন্টিবায়োটিক আছে যেগুলি গাভীর মাংসে ইঞ্জেকশন করা হলে সেগুলি গাভীর দুধের সাথে বের হয়। তাই এই দুধ ল্যাবে পরীক্ষা করালে দুধে এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।

ফার্মে পাস্তুরিত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করে দুধ প্যাকেট করা হয়। পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা দেখা হয় কিনা আমার জানা নেই। যদি তা না হয়, তবে হাজার হাজার মানুষের শরীরে ডাক্তার ছাড়াই এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। আর তারা হয়ে পরছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট।
১৫/৭/২০১৯ ইং

ডাক্তার ও ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসার পার্থক্য

ডাক্তার ও ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসার পার্থক্য
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজকাল মাঝে মাঝে পত্রিকাতে খবর দেখা যায় যে, মাত্র এইট বা এসএসসি পাস করে এমবিবিএস, এফসিপিএস, এফআর সিএস, এমডি, এমএস ইত্যাদি বড় বড় ডিগ্রী লাগিয়ে বড় বড় ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বা হাসপাতালে ভুয়া ডাক্তার দীর্ঘদিন Continue reading “ডাক্তার ও ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসার পার্থক্য”

রক্তের কি পরীক্ষা করলে কিডনির অবস্থা জানা যায়?

রক্তের কি পরীক্ষা করলে কিডনির অবস্থা জানা যায়?
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজকাল অনেকেই কিডনি নিয়ে চিন্তিত। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে কিডনি খারাপ হয়ে মরে যাওয়ার সংবাদ শুনেই এমনটি হচ্ছে। অনেকে কোমড়ে ব্যাথা অনুভব হওয়াতেই মনে Continue reading “রক্তের কি পরীক্ষা করলে কিডনির অবস্থা জানা যায়?”

রুগীর দালাল ও ঠকবাজ

রুগীর দালাল ও ঠকবাজ
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দালাল ও চিটারের (ঠকবাজ) মধ্যে পার্থক্য আছে। গ্রাম থেকে রুগী আসেন শহরে ডাক্তার দেখাতে বা হাসপাতালের সেবা নিতে। তারা শহরের
Continue reading “রুগীর দালাল ও ঠকবাজ”

বাংলাদেশে বিরাজমান বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি

বাংলাদেশে বিরাজমান বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাংলাদেশের সাধারণ রুগীরা যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে তার কয়েকটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছি।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসা:
আয়ুর্বেদ হলো ভারতবর্ষের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের এক অঙ্গ। প্রায় ৫,০০০ বছর পূর্বে ভারতবর্ষেরই মাটিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির উৎপত্তি হয়। এটি এমনই এক চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে রোগ নিরাময়ের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রতি বেশী জোর দেওয়া হয়। আয়ুর্বেদ চিকিত্‍সা বলতে ভেষজ বা উদ্ভিদের মাধ্যমে যে চিকিত্‍সা দেয়া হয়। বেদশাস্ত্রের একটি ভাগ – অথর্ববেদ এর যে অংশে চিকিৎসা বিদ্যা বর্ণিত আছে তা-ই আয়ুর্বেদ। আদি যুগে গাছপালার মাধ্যমেই মানুষের রোগের চিকিৎসা করা হতো। এই চিকিত্‍সা বর্তমানে ‘হারবাল চিকিত্‍সা’ তথা ‘অলটারনেটিভ মেডিসিন ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এটা ঔষধের বিকল্প ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত হিসেবে বিশ্বে এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এই চিকিত্‍সা বেশী প্রচলিত। এই বিদ্যার উপর সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসককে কবিরাজ বলা হয়। যেমন – কবিরাজ যোগেশ চন্দ্র ঘোষ।

ইউনানী চিকিৎসা:
ইউনানী শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ইউনান থেকে, যা হিপোক্রিটিস-এর জন্মস্থানের নাম।
ইউনানী হলো এক ধরনের ঐতিহ্যগত (traditional) চিকিৎসা পদ্ধতি, যা গ্রিক, মুসলমান এবং স্পেনীয়দের (আরব-স্প্যানিশ) মধ্যে বেশি বিকাশ লাভ করে। এটা গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস এবং রোমান চিকিৎসক গ্যালেন-এর শিক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং আরব ও ফার্সি চিকিৎসক যেমন, আল রাযী, ইবনে সিনা এবং ইবনে আন নাফীস দ্বারা একটি সম্প্রসারিত এবং বিকশিত চিকিৎসা ব্যবস্থা ।

বাংলাদেশের ট্রেডিশনাল মেডিসিনের মুসলিম চিকিৎসকগণ সাধারণত ইউনানি পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ঔষধের ফার্মেসীতে ইউনানি ঔষধালয় লিখা থাকে। এই বিদ্যার সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসককে হাকিম বলা হয়। যেমন, হাকিম হাফিজুর রহমান।

আগেরদিনের ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বই পুস্তকের শেষের দিকে ইউনানি চিকিৎসার সাধারণ ঔষধের নাম লিখা থাকতো। সস্তা ও পার্শপ্রতিক্রিয়া কম বলে অথবা নাই বলে গরীব ও ধার্মিক রুগীরা অনেকেই ইউনানি দাওয়াখানায় যায় চিকিৎসা নিতে।

হোমিওপ্যাথি:

হোমিওপ্যাথি হলো জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান উদ্ভাবিত (১৭৯৬) এক চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিও কথাটার অর্থ হলো একই রকম। আর প্যাথি কথাটার অর্থ হলো রোগ। এই চিকিৎসা পদ্ধতির মূলনীতি হচ্ছে- কোনো একজন সুস্থ ব্যাক্তির শরীরে যে ওষুধ প্রয়োগ করলে তার মধ্যে যে লক্ষণ দেখা দেয়, ঐ একই ওষুধ সেই লক্ষনের ন্যায় অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরে প্রয়োগ করলে তা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অসুখের লক্ষণ নিরাময়ের কাজ করে। অর্থাৎ কোন একটি ঔষধ সুস্থ একজন লোক সেবন করলে যদি তার শরীরে জ্বর হয় তবে জ্বরের রুগীকে ঐ ঔষধ সেবন করালে তার জ্বর কমে যাবে। হ্যানিম্যানের প্রস্তাবিত এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।

সাধারণত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করার জন্য একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যকে ক্রমাগত লঘূকরণ করা হয় অ্যালকোহল অথবা পতিত জলে (ডিস্টিল্ড ওয়াটার) দ্রবীভূত করে। হোমিও চিকিৎসকদের বিশ্বাস, এই লঘূকরণ এতবার করা হয়ে থাকে যে শেষ পর্যন্ত এই মিশ্রণে প্রাথমিক দ্রব্যের অণু পরমাণুও অবশিষ্ট থাকে না, ঔষধটি শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে কার্যকরী হয়।

মোটামুটি সস্তা পদ্ধতির কারনে বেশ কিছু রুগী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকে।

আধুনিক এলোপ্যাথি চিকিৎসা:

চিকিৎসা বিজ্ঞান বা চিকিৎসা শাস্ত্র হল রোগ উপশমের বিজ্ঞান কলা বা শৈলী। মানব শরীর এবং মানব স্বাস্থ্য ভালো রাখার উদ্দেশ্যে রোগ নিরাময় ও রোগ প্রতিষেধক বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধ্যয়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অধ্যয়ন, গৱেষণা, এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদ্যার ব্যবহার করে লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ঔষধ বা শল্য চিকিৎসার দ্বারা রোগ নিরাময় করার চেষ্টা করা হয়। ঔষধ বা শল্য চিকিৎসা ছাড়াও মনোচিকিৎসা, কৃত্রিম অঙ্গসংস্থাপন, আণবিক রশ্মির প্রয়োগ, বিভিন্ন বাহ্যিক উপায় (যেমন, স্প্লিণ্ট এবং ট্রাকশন),জৈবিক সামগ্রি (রক্ত, অণু জীব ইত্যাদি), শক্তি্র অন্যান্য উৎস (বিদ্যুৎ, চুম্বক, অতি-শব্দ) ইত্যাদিরও প্রয়োগ করা হয়।

চিকিৎসাবিদ্যা অনেকগুলো শাখায় বিভক্ত। এগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। প্রাথমিক বা বেসিক, প্যারাক্লিনিক্যাল এবং ক্লিনিক্যাল। বেসিক শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে এনাটমী বা অঙ্গংস্থানতত্ত্ব, ফিজিওলজি বা শারীরতত্ত্ব, বায়োকেমিস্ট্রি বা প্রাণরসায়ন ইত্যাদি। প্যারাক্লিনিক্যাল শাখার মধ্যে অণুজীববিদ্যা, রোগতত্ত্ব বা প্যাথোলজি, ভেষজতত্ত্ব বা ফার্মাকোলজি অন্যতম। ক্লিনিক্যাল হলো প্রায়োগিক চিকিৎসাবিদ্যা। এর প্রধান দুটি শাখা হলো, মেডিসিন এবং শল্যচিকিৎসা বা সার্জারি। আরও আছে ধাত্রী ও স্ত্রীরোগবিদ্যা, শিশুরোগবিদ্যা বা পেডিয়াট্রিক্স, মনোরোগবিদ্যা বা সাইকিয়াট্রি, ইমেজিং ও রেডিওলোজি ইত্যাদি। এগুলোর সবগুলোরই আবার বহু বিশেষায়িত্ব শাখা রয়েছে। এই পদ্ধতির চিকিৎসায় গবেষণালব্ধ ঔষধ ফার্মাসিটিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত হয়। মানুষের শরীরে প্রয়োগের পূর্বে প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করে নিরাপদ কিনা তা জেনে নেয়া হয়। এই পদ্ধতির ঔষধকে হোমিওপ্যাথির জনক হ্যানিম্যান এলোপ্যাথি আখ্যা দেন। এলো মানে বিপরীত। অর্থাৎ এই পদ্ধতির ঔষধে উপসর্গের বিপরীত কাজ করে। যেমন, রোগে জ্বর হয়, প্যারাসিটামল সেবন করলে জ্বর কমে। তাই, এটা এলোপ্যাথি।

বাংলাদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষার মূল ক্ষেত্র মেডিকেল কলেজ। প্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি অনেকগুলো মেডিকেল কলেজে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রি ভর্তি হয়ে থাকেন। পাঁচবছর মেয়াদি পড়াশোনা শেষে স্নাতক হিসেবে এম বি বি এস ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর একবছর শিক্ষানবিশ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। শিক্ষানবিশি শেষে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল এণ্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’এর রেজিস্টার্ড ডাক্তার হিসেবে চর্চা করতে পারেন। আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যায় এম বি বি এস সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসকগণ ডাক্তার হিসাবে পরিচিত হন।

অনুমোদনহীন চিকিৎসা:
বাংলাদেশের গ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু ভিত্তিহীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে অজ্ঞ লোকগণ চিকিৎসা দেন এবং চিকিৎসা নেন। এটা বাংলাদেশের চিকিৎসা সেকটরে এক বিরাট সমস্যা। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই অযথা টাকা ও সময় দুইটিই অপচয় করে। শেষে তারা আধুনিক ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেয়ার আর সুযোগ পায় না। অজ্ঞতা ও অপশিক্ষার সুযোগ নিয়ে অর্থলিপ্সুরা তাদেরকে ঠকিয়ে থাকে। ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, তেল পড়া, প্রলেপ, মালিশ, ক্ষত চিকিৎসা, সাপে কাটার বিষ নামানো, বাত খসানো, দাঁতের পোকা খসানো, জিনের আসর করা, ঝাড়ুপেটা করা, জন্ডিসের মালা পরা, কপালে জন্ডিসের সেক দিয়ে পুড়ে দেয়া, হাড়ে গুল দেয়া, শিংগা লাগানো, পায়ড়া (পারদ) খাওয়া, ভরম ধরা, বর্মাদুষ্ট ভার করা ইত্যাদি অপচিকিৎসার উদাহরণ।

বাংলাদেশে সরকারি ভাবে অনুমোদিত মুল চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি হলো হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদী, ইউনানি ও এলোপ্যাথি। এইসব পদ্ধতিতে চিকিৎসাদানকারী চিকিৎসকগণকে যথাক্রমে ডাক্তার, কবিরাজ, হাকিম ও ডাক্তার বলা হয়। চিকিৎসা পদ্ধতি ও চিকিৎসকদের ধরন জানা থাকলে সুচিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে।


তারিখ : ২১/৩/২০১৯ ইং
স্থান: ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ – ময়মনসিংহ জার্নি

বাংলাদেশের এলোপ্যাথি চিকিৎসক ও চিকিৎসার ধরন

বাংলাদেশের এলোপ্যাথি চিকিৎসক ও চিকিৎসার ধরন
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাংলাদেশে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির ডাক্তার বা চিকিৎসক হবার নূনতম ডিগ্রী হলো এমবিবিএস অথবা বিডিএস পাস Continue reading “বাংলাদেশের এলোপ্যাথি চিকিৎসক ও চিকিৎসার ধরন”