একই টিউমার ভিন্ন ভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষা

একই টিউমার ভিন্ন ভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষা

(স্বাস্থ্য কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

রোগীর শরীর থেকে টিউমার অপারেশন করে সার্জনগণ ফেলে দেন না । অলবডি সার্জন নামে কিছু অল্প বিদ্যার ডাক্তার অথবা অডাক্তার আছে তারা অপারেশন করে টিউমার কাটতে পারে। শোনা যায় তারা অপারেশন করে টিউমার ডাস্টবিনে ফেলে দেয় । কোনভাবেই টিউমার কেটে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া যাবে না। টিউমারটা হিস্টোপ্যাথলজিকেল পরীক্ষা করে দেখতে হবে এটা কোন ধরনের টিউমার। জানার বিষয় হলো এটা ক্যান্সার কি না । ক্যান্সার কি না জানতে হলে হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করাতে হবে প্যাথলজি ল্যাব থেকে । এই পরীক্ষাকে সাধারনত বায়োপ্সি পরীক্ষা বলে অনেকে । পরীক্ষা করে যদি ক্যান্সার পাওয়া যায় তবে শরীরে আরও কোথাও ক্যান্সারের ছিটাফোটা আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে বের করতে হবে । তারপর ক্যান্সারের চিকিৎসা দিতে হবে । অপারেশন করে যে জিনিসটা বের করা হয় তার সম্পূর্ণ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে জমা দিতে হবে । প্যাথলজির ডাক্তার তিনি এ বিষয়ে দক্ষ । তিনিই বেছে বেছে এখান থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করবেন । অনেকে পরীক্ষার ফি কমানোর জন্য টিউমার থেকে সামান্য একটু অংশ কেটে ল্যাবে জমা দেন । এটা বিরাট ভুল কাজ । কারন, এমন হতে পারে, যে অংশটুকু কেটে নিয়েছেন তা হয়ত টিউমারের উপরের আবরন পর্দা নয়ত নষ্ট হওয়া অংশ । কাজেই এই অংশ পরীক্ষা করলে ক্যান্সার নাই আসতে পারে।  আবার কেউ কেউ আছেন কোন একটা ল্যাবের পরীক্ষায় আত্ববিশ্বাস না থাকলে টিউমারকে খন্ড খন্ড করে ভিন্ন ভিন্ন ল্যাব থেকে পরীক্ষা করান । এটাও একটা ভুল কাজ । টিউমারের একেক অংশে একেক রকম মাইক্রোস্কোপিক ফিচার থাকতে পারে । তাই, একেক ল্যাব একেকভাবে রিপোর্ট দিবে । বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যে ল্যাব বেশী নির্ভরযোগ্য মনে হয় সেল্যাবে সম্পূর্ণ টিস্যু জমা দেয়া । সেল্যাবের প্যাথলজিস্ট সব অংশের নমুনা পরীক্ষা করে দেখে একটা ফাইনাল ডায়াগনোসিস লেখে দেবেন । কোন সার্জন যদি রিপোর্টের প্রতি দ্বিমত পোষন করেন তবে তিনি পরীক্ষায় ব্যবহৃত কাঁচের স্লাইড, মোমের ব্লক ও অবশিষ্ট টিস্যু ফেরত চেয়ে প্যাথলজিস্টকে চিঠি লিখতে পারেন অন্য আরো বেশী অভিজ্ঞ প্যাথলজিস্টকে দিয়ে রিপোর্ট রিভিও করানোর জন্য । মানুষের জ্ঞান সবার সমান না । প্যাথলজিষ্টও মানুষ । তাই প্যাথলজিস্টদের সবার জ্ঞান সমান না । তাই, যে কেউ ডায়াগনোসিস ভুল করতে পারেন । ভালো মানুষ ইচ্ছে করে ভুল করেন না ।

 

 

একটা উদাহরন দেয়া যেতে পারে । স্ত্রীরোগ সার্জন ওভারীর টিউমার কেটে বের করে রোগীর স্বামীর হাতে দিয়ে বললেন “বায়োপ্সি পরীক্ষা করে নিয়ে আসুন অমুক ল্যাব থ্যেকে।“ রাস্তায় দেখা হলো এক টাউট লোকের সাথে। সে কুবুদ্ধি দিল “একটা ল্যাবে পরীক্ষা করতে না দিয়ে কয়েকটা ল্যাবে টিউমার ভাগ করে দেন । দেখুন কোন ল্যাব কেমন রিপোর্ট দেয়।“ কথা মতো টিউমারটাকে ৪ টুকরা করে ৪ টা  নাম করা ল্যাবে জমা দেয়া হল। প্রথম ল্যাব রিপোর্ট দিল ‘এডেনোমা।‘ দ্বিতীয় ল্যাব রিপোর্ট দিল ‘ফাইব্রোমা।‘ তৃতীয় ল্যাব রিপোর্ট দিল ‘লাইপোমা।‘  চতুর্থ ল্যাব রিপোর্ট দিল ‘স্কিন টিস্যু।‘ রোগীর স্বামী সবগুলো রিপোর্ট সংগ্রহ করে প্রথম ল্যাবের প্যাথলজিস্ট-এর কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেন “আপনারা একই টিউমারের রিপোর্ট একেক জন একেকটা দিলেন। আপনারা সবাই ভুয়া রিপোর্ট দেন।“

– আপনি একটা টিউমারকে ৪ ভাগ করেছেন। চারটা ভাগে চার রকম জিনিস ছিল। একই টিউমারে বিভিন্ন রকম টিস্যু থাকলে তাকে বলা হয় ‘টেরাটোমা।‘  আপনার রোগীর টেরাটোমা হয়েছে । সম্পুর্ন টিউমার এক ল্যাবে দিলে সব অংশ মিলিয়ে রিপোর্ট দেয়া হত টেরাটোমা।
– তাহলে একটা ল্যাবে পরীক্ষা করালে আমার খরচ হতো ্‌০০০ টাকা। আর আমি ৪ ল্যাবে খরচ করেছি ৪,০০০ টাকা। এতগুলো টাকা খরচ করে সঠিক রেজাল্ট পেলাম না।
(বোকারা তাই করে)

 

৩০/৫/২০১৭ খ্রি।

পড়ে কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (4 votes, average: 4.50 out of 5)
Loading...

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ দেখার জন্য ক্লিক করুন

http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.